Categories
ইসলামিক নাম মা ও শিশুর যত্ন লাইফ স্টাইল

ব দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম অর্থসহ

আসসালামু আলাইকুম ,আজকে আমরা জানবো ব দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম অর্থসহ।

আমরা সব সময় চাই একটা সুন্দর নাম।এ নামে সবাই ডাকবে।তাই বাড়ীতে নতুন অতিথি আসার পর সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়ে একটা সুন্দর নাম খোঁজার জন্য।নাম রাখতে আমাদের অবশ্যই কিছ বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে তা হলো নামটির যেনো একটি সুন্দর অর্থ থাকে,ইসলামিক অর্থবহ হয়। অবশ্যই একটি সুন্দর অর্থ মানুষের জীবনের উপর প্রভাব ফেলে।আমরা আলোচনা করবো ব দিয়ে ছেলেদের কিছু ইসলামিক নাম অর্থসহ।

চলুন জেনে নিই, ব দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম অর্থসহঃ

বখতিয়ার পরিদ – বাংলা অর্থ – সৌভাগ্যবান অনুপম

বখতিয়ার ফতেহ – বাংলা অর্থ – সৌভাগ্যবান বিজয়ী
বখতিয়ার ফাতিন – বাংলা অর্থ – সৌভাগ্যবান সুন্দর
বখতিয়ার ফাহিম – বাংলা অর্থ – সৌভাগ্যবান বুদ্ধিমান
বখতিয়ার আশিক – বাংলা অর্থ – সৌভাগ্যবান প্রেমিক
বখতিয়ার আনিস – বাংলা অর্থ – সৌভাগ্যবান বন্ধু

বখতিয়ার আমজাদ – বাংলা অর্থ – সৌভাগ্যবান সম্মানিত
বখতিয়ার আমের – বাংলা অর্থ – সৌভাগ্যবান সম্মানিত
বখতিয়ার আসেফ – বাংলা অর্থ – সৌভাগ্যবান যোগ্য ব্যক্তি
বখতিয়ার আশহাব – বাংলা অর্থ – সৌভাগ্যবান বীর
আবরার মোহসেন – বাংলা অর্থ – ন্যায়বান উপকারী

বখতিয়ার আসলাম – বাংলা অর্থ – সৌভাগ্যবান নিরাপদ
বখতিয়ার আজিম – বাংলা অর্থ – সৌভাগ্যবান শক্তিশালী
বখতিয়ার আবিদ – বাংলা অর্থ – সৌভাগ্যবান এবাদতকারী
বখতিয়ার আদিল – বাংলা অর্থ – সৌভাগ্যবান ন্যায়পরায়ণ
বখতিয়ার আখতাব – বাংলা অর্থ – সৌভাগ্যবান বক্তা
বখতিয়ার আকরাম – বাংলা অর্থ – সৌভাগ্যবান দানশীল
বখতিয়ার আহবাব – বাংলা অর্থ – সৌভাগ্যবান বন্ধু

বশীর শাহরিয়ার – বাংলা অর্থ – সুসংবাদ বহনকারী রাজা
বশীর মনসুর – বাংলা অর্থ – সুসংবাদ বহনকারী বিজয়ী
বশীর হামিম – বাংলা অর্থ – সুসংবাদ বহনকারী বন্ধু
বশীর হাবিব – বাংলা অর্থ – সুসংবাদ বহনকারী প্রিয় বন্ধু
বশীর আশহাব – বাংলা অর্থ – সুসংবাদ বহনকারী বীর

ব দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম অর্থসহ:

বশীর আনজুম – বাংলা অর্থ – সুসংবাদ বহনকারী তারা
বশীর আখতাব – বাংলা অর্থ – সুসংবাদ বহনকারী বক্তা
বশীর আহবাব – বাংলা অর্থ – সুসংবাদ বহনকারী বন্ধু
বখতিয়ার রফিক – বাংলা অর্থ – সৌভাগ্যবান বন্ধু
বখতিয়ার নাফিস – বাংলা অর্থ – সৌভাগ্যবান উত্তম

বখতিয়ার নাদিম – বাংলা অর্থ – সৌভাগ্যবান সাথী
বখতিয়ার মনসুর – বাংলা অর্থ – সৌভাগ্যবান বিজয়ী
বখতিয়ার মুইজ – বাংলা অর্থ – সৌভাগ্যবান সম্মানিত
বখতিয়ার মুস্তাফিজ – বাংলা অর্থ – সৌভাগ্যবান উপকৃত
বখতিয়ার গালিব – বাংলা অর্থ – সৌভাগ্যবান বিজয়ী
বখতিয়ার মাহবুব – বাংলা অর্থ – সৌভাগ্যবান প্রিয়

বখতিয়ার মুহিব – বাংলা অর্থ – সৌভাগ্যবান প্রেমিক
আবরার নাসির – বাংলা অর্থ – ন্যায়বান সাহায্যকারী
বখতিয়ার মাদীহ – বাংলা অর্থ – সৌভাগ্যবান মধর্মযোদ্ধা
বখতিয়ার মাশুক – বাংলা অর্থ – সৌভাগ্যবান প্রেমাস্পদ
বখতিয়ার মুজিদ – বাংলা অর্থ – সৌভাগ্যবান আবিষ্কারক
বখতিয়ার খলিল – বাংলা অর্থ – সৌভাগ্যবান বন্ধু
বখতিয়ার করিম – বাংলা অর্থ – সৌভাগ্যবান দয়ালু

বখতিয়ার জলিল – বাংলা অর্থ – সৌভাগ্যবান মহান
বিজয় – বাংলা অর্থ – জয়
বখতিয়ার হামিম – বাংলা অর্থ – সৌভাগ্যবান বন্ধু
বখতিয়ার হামিদ – বাংলা অর্থ – সৌভাগ্যবান বন্ধু
বখতিয়ার হাসিন – বাংলা অর্থ – সৌভাগ্যবান সুন্দর
বখতিয়ার গালিব – বাংলা অর্থ – সৌভাগ্যবান বিজয়ী

B দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম অর্থসহঃ

Burhanuddin (বোরহানুদ্দীন) দ্বীনের রক্ষক
Burhan (বোরহান) প্রমান
Boy Arabic Bashir Anjum (বশীর আনজুম) সুসংবাদবহনকারী তারা
Bodrul Hasan (বদরুল হাসান) সুন্দর বসন্তকাল
Bazlul Haque (বজলুল হক) প্রকৃত সাহায্যকারী
Baten (বাতেন) প্রচ্ছন্ন

Bashratul Hasan (বাশরাতুল হাসান) ইসলামের বসন্তকাল
Bashiruddin (বশীরুদ্দীন) দ্বীনের পরহেজগার
Bashir Shahriyar (বশির শাহরিয়ার) সুসংবাদবহনকারী রাজা
Bashir Hamim (বশীর হামিম) সুসংবাদবহনকারী বন্ধু

Bashir Habib (বশীর হাবীব) সুসংবাদবহনকারী বন্ধু
Bashir Ashhab (বশীর আশহাব) সুসংবাদবহনকারী বীর
Bashir Akhtab (বশীর আখতাব) সুসংবাদবহনকারী বক্তা
Bashir Ahbab (বশীর আহবাব) সুসংবাদবহনকারী নেতা

Bashir (বাশীর) সুসংবাদ বহনকারী
Barkat (বরকত) সৌভাগ্য
Baqi (বাকী) চিরস্থায়ী
Bakhtiyar Wadud (বখতিয়ার ওয়াদুদ) সৌভাগ্যবান বন্ধু
Bakhtiyar Rafiq (বখতিয়ার রফিক) সৌভাগ্যবান বন্ধু

Bakhtiyar Nafis (বখতিয়ার নাফিস) সৌভাগ্যবান উত্তম
Bakhtiyar Nadim (বখতিয়ার নাদিম) সৌভাগ্যবান সাথী
Bakhtiyar Mustafiz (বখতিয়ার মুস্তাফা) সৌভাগ্যবান উপকৃত
Bakhtiyar Muiz (বখতিয়ার মুইজ) সৌভাগ্যবান সম্মানিত
Bakhtiyar Muhib (বখতিয়ার মুহিব) সৌভাগ্যবান প্রেমিক

Bakhtiyar Mashuq (বখতিয়ার মাশুক) সৌভাগ্যবান প্রেমাস্পদ
Bakhtiyar Mansur (বখতিয়ার মনসুর) সৌভাগ্যবান বিজয়ী
Bakhtiyar Mahbub (বখতিয়ার মাহবুব) সৌভাগ্যবান প্রিয়
Bakhtiyar Khalil (বখতিয়ার খলিল) সৌভাগ্যবান বন্ধু

bakhtiyar Karim (বখতিয়ার করিম) সৌভাগ্যবান দয়ালু
Bakhtiyar Jalil (বখতিয়ার জলিল) সৌভাগ্যবান মহান
Bakhtiyar Hasin (বখতিয়ার হাসিন) সৌভাগ্যবান সুন্দর
Bakhtiyar Hamim (বখতিয়ার হামিম) সৌভাগ্যবান বন্ধু
Bakhtiyar Hamid (বখতিয়ার হামিদ) সৌভাগ্যবান প্রশংসাকারী

Bakhtiyar Galib (বখতিয়ার গালিব) সৌভাগ্যবান বিজয়ী
Bakhtiyar Fatin (বখতিয়ার ফাতিন) সৌভাগ্যবান সুন্দর
Bakhtiyar Fateh (বখতিয়ার ফাতেহ) সৌভাগ্যবান বিজয়ী
Bakhtiyar Farid (বখতিয়ার ফরিদ) সৌভাগ্যবান আনুপম
Bakhtiyar Fahim (বখতিয়ার ফাহিম) সৌভাগ্যবান বুদ্ধিমান

B দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম:

Bakhtiyar Azim (বখতিয়ার আজিম) সৌভাগ্যবান শক্তিশালী
Bakhtiyar Aslam (বখতিয়ার আসলাম) সৌভাগ্যবান নিরাপদ
Bakhtiyar Ashiq (বখতিয়ার আশিক) সৌভাগ্যবান প্রেমিক
Bakhtiyar Ashhab (বখতিয়ার আশহাব) সৌভাগ্যবান বীর
Bakhtiyar Asef (বখতিয়ার আসেফ) সৌভাগ্যবান যোগ্য ব্যক্তি

Bakhtiyar Anis (বখতিয়ার আনিস) সৌভাগ্যবান বন্ধু
Bakhtiyar Amjad (বখতিয়ার আমজাদ) সৌভাগ্যবান সম্মানিত
Bakhtiyar Akram (বখতিয়ার আকরাম) সৌভাগ্যবান দানশীল
Bakhtiyar Akhtab (বখতিয়ার আখতাব) সৌভাগ্যবান বক্তা

Bakhtiyar Ahbab (বখতিয়ার আহবাব) সৌভাগ্যবান বন্ধু

Bakhtiyar Adil (বখতিয়ার আদিল) সৌভাগ্যবান ন্যায়পরায়ন
Bakhtiyar Abid (বখতিয়ার আবিদ) সৌভাগ্যবান ইবাদতকারী
Bahauddin (বাহাউদ্দীন) দ্বীনের একজন বিশিষ্ট্য ব্যক্তি
Baharul Islam (বাহারুল ইসলাম) সুন্দর আনন্দ
Badruddin (বদরুদ্দীন) দ্বীনের চাঁদ
Ba-ar (বা-র) নেককার

আরো পড়ুন: ই দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম অর্থসহ

আশা করি,এখন আর নাম খোঁজার ঝামেলা পোহাতে হবেনা।ব দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম এর সুন্দর সুন্দর অর্থ সব এক নজরে দেখে নিতে পারবেন।

Photo Credit: TwitterFacebook And Pixabay

Categories
মা ও শিশুর যত্ন স্বাস্থ্য

ছোট্ট শিশুর ত্বকের যত্নে কয়েকটি টিপস

আজকালকার দিনের মায়েরা তাঁদের ছোট মেয়েদের ত্বক নিয়েও যথেষ্ট সচেতন। তাঁরা তাঁদের সোনামণিকে ছোটবেলা থেকেই সুন্দরী করে রাখতে চায়। এখন বড়দের পাশাপাশি বাচ্চাদের ফ্যাশনের অন্ত নেই। তাই লেটেস্ট ডিজাইনের পোশাক পরিয়ে, মেয়েকে পরীর মতো সাজাতে প্রত্যেক মা ই চায়। এখানে বাচ্চাদের পোশাক নিয়ে কথা হবে না। কথা হবে বাচ্চাদের ত্বক নিয়ে।

বড়দের চেয়ে বাচ্চাদের ত্বক অনেক বেশী সংবেদনশীল তাই প্রয়োজন কিছু বাড়তি যত্ন। আবহওয়ার তারতম্যের সাথে মানিয়ে নেবার ক্ষমতাও তাদের সীমিত। একটু এদিক সেদিক হলেই ত্বক হয়ে যেতে পারে শুষ্ক বা দেখা দিতে পারে র্যা শ। আর এসব নিয়ে মায়েদের টেনশনেরও শেষ নেই। সেই সব মায়েদের জন্যে কিছু টিপস।

খুব হালকা গরম জল দিয়ে বাচ্চার ত্বক পরিষ্কার করা সব থেকে উত্তম। সাবান ত্বক শুষ্ক করে ফেলে তাই গন্ধহীন কোন বাথ ওয়েল জলে যোগকরে বাচ্চাকে স্নান করান তাহলে বাচ্চার ত্বক নরম থাকবে। যেসব সাবানে প্রচুর ফেনা সৃষ্টি হয় সেসব সাবান ব্যবহার না করাই ভাল। কারন, তা বাচ্চার ত্বক থেকে ন্যাচারাল ওয়েল শুষে নেয়। তাছাড়া অ্যান্টি ব্যাক্টেরিয়াল বা সুগন্ধীযুক্ত সাবান ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।

স্নান করার পর বাচ্চার শরীর ভাল করে মুছে ফেলতে হবে যাতে কোথাও জল না থাকে। তারপর একটা ভাল মানের মশ্চারাইজার সারা গায়ে আলতো করে লাগিয়ে দিন। সোনামনির ত্বক যদি খুব শুষ্ক বা ত্বকের যদি কোন সমস্যা থাকে যেমন একজিমা তাহলে সাবান পুরোপুরি বাদ দিতে হবে। সেক্ষেত্রে শুধু মশ্চারাইজার লাগান।

শীতকালে প্রতিদিন স্নান করানোর প্রয়োজন নেই।কারন, শীত এমনিতেই মুখের আর্দ্রতা কেড়ে নিয়ে ত্বক শুষ্ক করে তোলে তাই প্রয়োজন হলে দিনে দুই তিন বার মশ্চারাইজার লাগাতে পারেন। ত্বক আমাদের শরীরে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে কিন্তু বাচ্চাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডায় এই নিয়ন্ত্রন প্রক্রিয়া ভেংগে পড়ে। তাই গরমে হালকা ঢিলেঢালা সুতী বা সিন্থেটিক/সুতী কাপড় পরানো উচিৎ। আর শীতে কোন গরম কাপড় যেমন উলের তৈরী কিছু পরালে তার নিচে সুতীর কিছু পরিয়ে নিতে হবে না হলে বাচ্চার চুলকানী হতে পারে। খুব ঠান্ডায় বাচ্চাদের হাত বা পায়ের পাতা নীলাভ দেখায় তবে এটা কোন বড় সমস্যা নয়। অনাবৃত জায়গা গুলো ঢেকেদিন তাহলেই দেখবেন নীলাভ ভাব চলে যাবে।

গরমের দিনে সোনামনি কে নিয়ে বাইরে যাবার আগে আরামদায়ক কিছু পরিয়ে নিন সাথে টুপি, সানগ্লাস নিতে ভুলবেন না। অল্প পরিমানে সানস্ক্রিন SPF-15 আনাবৃত অংশ যেমন মুখ, পায়েরপাতা, হাতে লাগিয়ে দিন।

Categories
মা ও শিশুর যত্ন লাইফ স্টাইল স্বাস্থ্য

বয়স অনুযায়ী শিশুর ওজন ও উচ্চতা কত হওয়া উচিত?

আপনার সদ্যজাত শিশুর কোনও কিছুই আপনার নজর এড়ায় না৷ আপনার শিশু রোগা বা মোটা হয়ে গেল কি না তা নিয়ে আপনি সবসময় চিন্তিত৷ কিন্তু চিকিতসকদের মতে রোগা বা মোটা দেখে শিশু সুস্থ কি না তা বোঝা যায় না৷ তবে শিশুর ওজন ঠিক আছে কি না তা নজরে রাখা প্রয়োজন৷ আপনি বাড়িতেও খেয়াল রাখতে পারেন সেই দিকে৷

আপনার জন্য একটি তালিকা দেওয়া হল৷ এই তালিকা দেখে শতাংশ বের করুন। শিশুর আদর্শ ওজনকে ১০০ শতাংশ ধরে ঐকিক নিয়মে যে কেউ শতাংশ বের করতে পারবেন। শিশুর ওজন আদর্শ ওজনের ৮০ শতাংশের কম হলে তাকে মোটামুটি অপুষ্টি বলে আর ৬০ শতাংশের কম হলে মারাত্মক অপুষ্টি বলে ধরে নিতে হবে।

 বয়স অনুযায়ী শিশুর গড় ওজন:

বয়স অনুযায়ী শিশুর ওজন ও উচ্চতা কত হওয়া উচিত
বয়স অনুযায়ী শিশুর ওজন

এছাড়াও অনেক কিছুর উপর ভিত্তি করেই শিশুর ওজন এবং উচ্চতার তারতম্য হতে পারে। তবে বয়সভেদে শিশুর যে স্বাভাবিক ওজন ও উচ্চতার একটি বিশেষ পরিমাপক রয়েছে তা প্রত্যেক বাবা-মায়ের জেনে রাখা জরুরি। কারণ, এ থেকেই বুঝবেন আপনার শিশু ঠিকমতো বেড়ে উঠছে কিনা। তাকে ডাক্তারের কাছে নেওয়া প্রয়োজন কিনা।

আরো পড়ুনঃ শিশুদের পড়ানোর কৌশল 

প্রথম বছর:

শিশুর জন্মের পর কয়েকদিনে তার ওজন প্রায় ১৫ শতাংশ কমে যায়। এটি স্বাভাবিক। এর পরেই আবার ৭-১০ দিনে শিশুর ওজন পুনরায় আগের মতো হয়ে যায় এবং তারপর থেকে গড়ে প্রায় প্রতিদিন ২৫ গ্রাম করে তিন মাস পর্যন্ত বাড়তে থাকে। এছাড়া বৈজ্ঞানিকভাবে শিশুর প্রথম বছরকে চার মাসের তিনটি অধ্যায়ে ভাগ করে ওজন বাড়ার একটি সূত্র রয়েছে। সূত্রটি নিচে দেওয়া হলো-

প্রথম চার মাস- জন্ম ওজন + (বয়স মাসের সংখ্যা x ০.৮

দ্বিতীয় চার মাস- জন্ম ওজন + (বয়স মাসের সংখ্যা x ০.৭)

তৃতীয় চার মাস- জন্ম ওজন + (বয়স মাসের সংখ্যা x ০.৬)

সর্বোপরি শিশু তার পাঁচ মাস বয়সে জন্ম ওজনের দ্বিগুন এবং এক বছর বয়সে জন্ম ওজনের তিনগুন ওজন স্বাভাবিকভাবে গ্রহন করবে।

এরপর থেকে শিশুর খাবার, জীনগত বৈশিষ্ট্য অনুপাতে শিশুর ওজনের তারতম্য লক্ষ্য করা যায়।

আরো পড়ুনঃ শিশুদের উচ্চতা বৃদ্ধির  খাবার গুলো

শিশুর উচ্চতা:

জন্মকালীন সময়ে শিশু ৫০ সেন্টিমিটার বা ২০ ইঞ্চি পর্যন্ত হতে পারে। ৬ মাসের মধ্যে স্বাভাবিক অনুপাতে এই উচ্চতা ৬৮ সেন্টিমিটার বা ২৭ ইঞ্চি পর্যন্ত হতে পারে। এরপর বছরভেদে এই উচ্চতার স্বাভাবিক মাত্রা হলো-

এক বছর- ৭৫ সেন্টিমিটার বা ৩০ ইঞ্চি,

দুই বছর- ৮৫ সেন্টিমিটার বা ৩৪ ইঞ্চি,

তিন বছর- ৯৫ সেন্টিমিটার বা ৩৭ ইঞ্চি,

চার বছর- ১০০ সেন্টিমিটার বা ৩৯ ইঞ্চি।

এরপর আট বছর পর্যন্ত শিশুর উচ্চতা সাধারণত গড়ে ৫.৫ সেন্টিমিটার বা দুই ইঞ্চি করে বৃদ্ধি পায়। ওজনের মতো উচ্চতার ক্ষেত্রেও শিশুর খাবার, পুষ্টি, জিনগত বৈশিষ্ট্য ইত্যাদি পরিমাপক হিসাবে কাজ করতে পারে।

Categories
অন্যান্য নারী মা ও শিশুর যত্ন স্বাস্থ্য

৩০ বছরের উর্ধ্বে গর্ভবতী হতে গেলে যে জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে

চিকিৎসকেরা মনে করেন যে, গর্ভবতী হওয়ার সঠিক সময় হল ২৫ থেকে ৩০ বছর।কিন্তু ৩০ বছরের উর্ধ্বে গর্ভবতী হতে গেলে বিভিন্ন জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে মেয়েদের শরীরে।

আসুন আজ জেনে নিন বেশি বয়সে গর্ভবতী হতে গেলে কি ধরনের শারীরিক জটিলতার পরিস্থিতি তৈরি হয়:

  • বন্ধ্যাত্ব এবং গর্ভধারণে দেরি:

ত্রিশের কোঠায় পা দিতে না দিতেই কিছু মহিলার প্রেগনেন্সির ক্ষেত্রে শুরু হয়ে যায় নানাবিধ সমস্যা। তখন বছরের পর বছর সময় লেগে যায় গর্ভধারণের জন্য। এই সময়ে নারী শরীরের পরিপক্কতায় সঙ্গে ডিম্বস্ফোটন আরো অনিশ্চিত হয়ে ওঠে। এর ফলে নারী শরিরে দেখা যেতে পারে বন্ধ্যাত্ব।

  •  পি ম্যাচুয়েড ডেলিভারির আশঙ্কা:

অধিক বয়সে গর্ভবতী হলে সেই মহিলাদের ক্ষেত্রে প্রিম্যাচিওর ডেলিভারির আশঙ্কা সবথেকে বেশি থাকে। এর ফলে শিশুর শারীরিক এবং মানসিক দিক থেকে দুর্বল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়।

  • বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি: 

৩০ বছরের উর্ধ্বে  শরীরে থাইরয়েড,ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, স্থূলতার মতো নানা ধরনের সমস্যা বাসা বাঁধতে থাকে। এর ফলে বেশি বয়সে প্রেগনেন্সির পরিকল্পনা করলে তা ক্ষতিকর হতে পারি মা এবং শিশুর উভয়ের ক্ষেত্রেই ।

  • বাচ্চা হবার সময় উচ্চ ঝুঁকি:

বেশি বয়সে বাচ্চা হবার সময় অনেক সময় মৃত শিশুর জন্ম দেবার ঝুঁকি বেড়ে যায়। বয়স বাড়ার সাথে সাথে সম্ভবত ডিম্বাণু গুলোর গুণমান কমে যাওয়ার কারণে এই রকম সমস্যা দেখা যায় নারী দেহে। কোন কোন ক্ষেত্রে শিশুকে বাঁচানো গেলেও মা কে বাঁচানো যায় না। বেশি বয়সে গর্ভধারণ এক্ষেত্রে কিছু ঝুঁকি থেকেই যায়।

  •  সিজারের ঝুঁকি বাড়ে:

ত্রিশের কোঠায় গর্ভধারণের সময় খুব সাধারন সমস্যা যেমন জরায়ুর মুখ সঠিকভাবে না খোলা, শিশুর নড়াচড়া সঠিকভাবে না হওয়া, বাচ্চা প্রসব হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রণা না থাকার ফলে সিজার করার প্রয়োজন হয়।

  •  মিসক্যারেজ হওয়ার ঝুঁকি: 

বহু গবেষণায় দেখা গেছে যে বেশি বয়সের মায়েদের ক্রোমোজোমের সমস্যার কারণে ভ্রুন নষ্ট হয়ে যাবার ঝুঁকি থেকে যায়।

Categories
টিপস মা ও শিশুর যত্ন শিক্ষা

শিশুদের পড়ানোর কৌশল – বাচ্চাদের মায়ের পড়ানোর টিপস

আমাদের মায়েদের প্রতিদিনের কাজের মধ্যে একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল বাচ্চাদের পড়াতে বসানো। শুধু যে একটি নির্দিষ্ট রুটিন মাফিক আপনার বাচ্চাকে পড়াতে বসালেই আপনার বাচ্চা ঠিকমতো এমনটা নয়। আপনাকেও এমন কোন ভালো উপায় খুঁজে বের করতে হবে যাতে আপনার বাচ্চা পড়তে বসতে আগ্রহী হয়ে ওঠে ও তার পড়ার সময়টুকু বাচ্চা সম্পূর্ণভাবে উপভোগ করে।

শিশুদের পড়ানোর কৌশল – বাচ্চাদের মায়ের পড়ানোর টিপস গুলোঃ

শিশুদের পড়ানোর একটি নির্দিষ্ট রুটিন তৈরি করুন:

আপনার বাচ্চাকে পড়াতে বসানোর জন্য প্রথমে যা করতে হবে তা হল একটি নির্দিষ্ট সময়সূচী অনুসরণ করা। তবে মনে রাখবেন টাইম টেবিলটা হবে আপনার শিশু কখন পড়তে বসতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে তার উপর নির্ভর করে। আপনি যদি আপনার সময় অনুযায়ী আপনার বাচ্চার পড়ার সময় বাছাই করেন এতে আপনার বাচ্চার পড়ার প্রতি আগ্রহ কমতে থাকবে।

শিশুদের প্রশংসা করুন:

আপনার বাচ্চার পড়ার গতি ও মনোযোগ উভয়ই বাড়াতে তাকে তার পড়ার ভালো ফলাফলের জন্য প্রশংসা করুন। সে কোন বিষয়ে ভালো অগ্রগতি দেখালে হাততালি দিয়ে আনন্দ প্রকাশ করুন।

শিশুদের সাথে আপনিও পড়ুন:

বাচ্চারা একা একা পড়ার থেকে সাথী নিয়ে পড়তে বেশী পছন্দ করে। আর তাই বাচ্চাকে পড়াতে বসিয়ে আপনি চুপচাপ না থেকে বাচ্চার সাথে সাথে পড়ুন।
এতে আপনার বাচ্চা দ্রুত পড়া আয়ত্ব করতে পারবে।

পড়ার ফাঁকে ফাঁকে শিশুদের সাথে খেলুন:

পড়া যাতে একঘেঁয়েমি কোন ব্যাপারে পরিণত না হয় তা নিশ্চিত করতে বাচ্চার সাথে পড়ার ফাঁকে ফাঁকে খেলায় অংশগ্রহণ করুন। হতে পারে সেটা পড়া বিষয়কই কোন খেলা, যার মাধ্যমে বাচ্চা খেলতেও পারবে আবার সাথে পড়াও হবে।

শিশুদের বার বার প্রশ্ন করুন

বাচ্চার জানার আগ্রহ বাড়িয়ে তুলতে পড়ার ফাঁকে তাকে জানা বিষয়ে বার বার প্রশ্ন করুন। আর আপনার বাচ্চা যদি প্রশ্নের ঠিক ঠিক উত্তর দেয় তাহলে তার প্রশ্নের উত্তরের বিপরীতে ভালোবাসা আর আদর দিন।

শিশুদের পড়াতে বসানোর জায়গা বিস্তৃত করুন:

আপনার বাচ্চার পড়ার জায়গা শুধু একটি নির্দিষ্ট ঘরে না রেখে একটু বিস্তৃত করুন। যেমন টেবিল চেয়ারে একটানা না পড়িয়ে বিছানায় বসাতে পারেন, মেঝেতে বসাতে পারেন কিংবা বারান্দায়। এতে স্থান পরিবর্তন হওয়ার সাথে সাথে বাচ্চার পড়ার একঘেঁয়েমি কেটে যাবে।

পড়ানো শেষে শিশুদের খেতে দিন তার পছন্দের কোন খাবার:

প্রতিদিনের পড়ানোর শেষে সারপ্রাইজ হিসেবে আপনার সোনামণিকে দিতে পারেন তার পছন্দের কোন খাবার। দেখবেন এই উপায়ে আপনার বাচ্চার পড়াও হবে সাথে খাওয়াও হবে।

বাচ্চাকে সময় পেলে তার ছুটির দিনগুলোতে শিক্ষণীয় ভিডিও গেম দেখান, যেখানে বাচ্চার মজা করে পড়া লেখা করছে, কবিতা পাঠ করছে, টিচাররা বাচ্চাদের সাথে মজা করছে তাদের অনেক কিছু শিখাচ্ছে এমন ভিডিও দেখলে বাচ্চারা খুব আগ্রহ বোধ করে তাদের পড়ালেখা ঠিক মতো করতে।

Categories
মা ও শিশুর যত্ন লাইফ স্টাইল স্বাস্থ্য

শিশুদের উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য সাহায্য করে এই খাবারগুলো

কটা নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত মানুষের শরীরের বৃদ্ধি ঘটে এবং উচ্চতাও বাড়ে। অনেক ক্ষেত্রে বংশগত বৈশিষ্ট্যের উপরও নির্ভর করে উচ্চতা। তবে অনেক মা-বাবা চিন্তায় থাকেন সন্তানের উচ্চতা নিয়ে। উচ্চতা ঠিক মতো বৃদ্ধি পাওয়ার ক্ষেত্রে সঠিক খাওয়া-দাওয়ার ভূমিকাও রয়েছে অনেক। তবে টিভির লোভনীয় বিজ্ঞাপনের খাবারগুলো নয়। সন্তানকে খাওয়াতে হবে তড়তাজা শাকসবজি।

সাধারণত ছেলেদের উচ্চতা সর্বোচ্চ ২৫ বছর পর্যন্ত আর মেয়েদের উচ্চতা সর্বোচ্চ ২১ বছর পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। এই সময়ের মধ্যে যদি দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় কয়েকটি বিশেষ খাবার রাখা যায় তাহলে সন্তানের শরীরের উচ্চতা বৃদ্ধির গতি ত্বরান্বিত হবে।

এবার জেনে নেওয়া যাক কোন খাবারগুলো শিশুর শরীর বৃদ্ধি ও উচ্চতা বাড়াতে বিশেষভাবে সাহায্য করে…

মটরশুঁটি:

মটরশুঁটিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, মিনারেল, ফাইবার, লুটেইন ও প্রোটিন যা শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে সহায়ক এবং উচ্চতা বাড়াতে সাহায্য করে। তবে শুকনা মটরশুঁটিতে এসব উপাদান থাকে না। তাই তাজা অবস্থায় বেশি বেশি খাওয়া প্রয়োজন।

বাঁধাকপি:

বাঁধাকপিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, মিনারেল, আয়রন, প্রোটিন ও ফাইবার যা উচ্চতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করার পাশাপাশি ক্যান্সার প্রতিরোধ করে থাকে। তাই শিশুর খাবারে বাঁধাকপি রাখার চেষ্টা করুন।

ঢেঁড়স:

যে সবজিগুলো উচ্চতা বৃদ্ধিতে সহায়ক, তার মধ্যে ঢেঁড়স অন্যতম। ঢেঁড়সে রয়েছে ভিটামিন, মিনারেল, কার্বোহাইড্রেট, পানি ও ফাইবার যা গ্রোথ হরমোনের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে উচ্চতা বাড়াতে সহায়তা করে

শালগম:

শালগম অনেকেরই পছন্দের সবজির তালিকায় রয়েছে। শিশুকে শালগম খাওয়াতে পারলে তা শিশুর উচ্চতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে। শালগমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, মিনারেল, ফাইবার, প্রোটিন, এবং ফ্যাট। এই উপাদানগুলো উচ্চতা বৃদ্ধিতে সহায়ক।

পালংশাক:

ভিটামিন, ফাইবার ও মিনারেল প্রচুর পরিমাণে আছে পালংশাকে। আর এই উপাদানগুলো উচ্চতা বৃদ্ধি করে থাকে। তাই নিয়মিত পালংশাক খেলে অল্প কিছু দিনের মধ্যে উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে

সয়াবিন:

সয়াবিনে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন যা টিস্যু ও হাড়ের গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতিদিন শিশুকে যদি ৫০ গ্রাম সয়াবিন খাওয়ানো যায়, তাহলে শিশুর উচ্চতা কয়েক ইঞ্চি বেড়ে পাবে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই!

ব্রোকলি:

উচ্চতা বৃদ্ধিতে ব্রোকলির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ! অনেকে সামান্য তিক্ত স্বাদের কারণে ব্রোকলি তেমন একটা পছন্দ করেন না। কিন্তু এতে রয়েছে ভিটামিন সি, আয়রন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ফাইবার যা উচ্চতা বাড়াতে সাহায্য করে

Categories
মা ও শিশুর যত্ন রোগ ও প্রতিরোধ রোগ প্রতিরোধ রোগের লক্ষণ স্বাস্থ্য

শিশুদের কৃমি লক্ষণ এবং ঘরোয়া উপায়ে প্রতিকার

একাধিক গবেষণা থেকে জানা যায়, প্রায় ৮৫ শতাংশ মানুষের পেটে কৃমি থাকে। তবে কৃমির মাত্রা বেড়ে গেলেই শরীরে সমস্যা সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত কৃমির কারণে শরীরে রক্তাল্পতা এবং আয়রন ডেফিশিয়েন্সির আশঙ্কা অনেকটাই বেড়ে যায়। এমন কি শরীরে রক্তের পরিমাণ কমতে কমতে অ্যানিমিয়া হতে পারে এবং স্মৃতিভ্রম হওয়ার আশঙ্কাও সৃষ্টি করতে পারে এই কৃমি থেকে। আবার শিশুদেরকে অমনোযোগী করে তুলে কৃমি। আর কৃমির সমস্যা থাকলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় শিশুর শরীরের বৃদ্ধি প্রক্রিয়াও।

শিশুরা কৃমিতে বেশি আক্রান্ত হয়। মাঝে মধ্যেই পেটে ব্যথা এবং হঠাৎ হঠাৎ মাথার যন্ত্রণায় ভোগে শিশুরা। আবার পর্যাপ্ত ঘুমানোর পরও অল্পতেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে। এসবের কারণ হতে পারে কৃমি। এসব সম্পর্কে ধারণা না থাকায় অনেক সময় অভিভাবকরা চিন্তায় পড়েন। তাই আসুন কৃমির কয়েকটি উপসর্গ সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক…

  1. সন্তান ঘুমালে যদি মুখ থেকে লালা পড়ে, তখন বুঝে নিবেন সন্তানের শরীরে কৃমি বাসা বাঁধছে।
  2. মিষ্টি জাতীয় খাদ্য খাওয়ার ইচ্ছা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়াও কৃমি হওয়ার লক্ষণ
  3. শরীরে কৃমি থাকলে আঘাত না লাগা সত্ত্বেও মাড়ি থেকে রক্তপাত ঘটে।
  4. কৃমির কারণে সামান্য পরিশ্রমেই ক্লান্ত হয়ে যায়।
  5. ত্বকে ঘন ঘন র‌্যাশ বা চুলকুনির সমস্যা তৈরি হয় কৃমি থেকে।
  6. খাওয়ার ব্যাপারে অনিহা বা খিদে না পাওয়ার কারণও কৃমি
  7.  হাত-পা ব্যথা বা দুর্বল বোধ করাও কৃমির জন্য হতে পারে

মার্কিন চিকিৎসক আব্রাম বেরের মতে, খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন ও নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কৃমির সমস্যা সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এবার সে সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক…

কাঁচা হলুদ:

কাঁচা হলুদ আমাদের শরীরে অ্যান্টিবায়োটিকের কাজ করে। কৃমির সমস্যার সমাধানে এটি অত্যন্ত কার্যকরী একটি উপাদান। তাই শিশুকে অল্প অল্প করে কাঁচা হলুদ খেতে দিন।

কাঁচা রসুন:

কাঁচা রসুনে প্রায় ২০ ধরনের ব্যাকটেরিয়া এবং ৬০ ধরনের ফাঙ্গাস মেরে ফেলার ক্ষমতা রয়েছে। তাই শিশুকে নিয়মিত কাঁচা রসুনের কুচি খাওয়ানোর অভ্যাস করুন। উপকার পাবেন।

আদা:

আদা হজমের সমস্ত রকমের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকরী একটি উপাদান! হজমের সমস্যা, অ্যাসিডিটি, পেটে ইনফেকশন ইত্যাদি দূর করতে আদার জুড়ি মেলা ভার! শিশুকে সামান্য পরিমাণে কাঁচা আদার রস খালি পেটে খাওয়াতে পারলে কৃমির সমস্যায় দ্রুত ফল পাবেন।

পেঁপে:

পেটের সমস্যা দূর করতে পেঁপে অত্যন্ত কার্যকরী একটি উপাদান। যে কোন ধরনের কৃমি সমস্যায় পেঁপের বীজ দুর্দান্ত কার্যকর! কৃমির সমস্যায় দ্রুত ফল পেতে পেঁপে এবং মধু মিশিয়ে শিশুকে খাওয়াতে পারেন।

শশার বীজ:

ফিতাকৃমির সমস্যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে শশার বীজ অত্যন্ত কার্যকর! শশার বীজকে শুকিয়ে গুঁড়া করে প্রতিদিন এক চামচ করে খাওয়াতে পারলে কৃমির সমস্যায় দ্রুত ফল পাওয়া সম্ভব।

উল্লেখিত উপায়গুলো কার্যকর হলেও শিশুকে এগুলোর কোনটি একটানা বেশি দিন খাওয়ানো উচিত নয়। সমস্যা বেশি মনে হলে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

Categories
মা ও শিশুর যত্ন লাইফ স্টাইল স্বাস্থ্য

শিশুর মস্তিষ্কে বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ঘটে মা না বাবার জিনে?

শিশুর মস্তিষ্কে বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ঘটে মা না বাবার জিনে?

বিশ্বের প্রতিটি বুদ্ধিদীপ্ত মানুষের বুদ্ধিমত্তার নেপথ্যে কার অবদান থাকে? মা না বাবার? এ নিয়ে ঝগড়া-তর্ক-বিতর্ক চলতেই থাকে! কারও মত বাবার, কারও মায়ের, কেউ কেউ দু পক্ষেরই সঙ্গ দেন! কিন্তু আসল সত্যিটা কী? গবেষণা বলেছে, একজন শিশুর বুদ্ধিমত্তা নির্ভর করে তার মায়ের জিনের ওপর! সেখানে বাবার জিনের কোনও ভূমিকা নেই।

মায়ের জিন থেকেই শিশুর মস্তিষ্কে বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ঘটে। দীর্ঘ বিতর্ক ও সমীক্ষা শেষে এই রায় দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ডিম্বাণুতে তার উপস্থিতি একজোড়া। কিন্তু শুক্রাণুতে মাত্র একটি এক্স ক্রোমোজোম থাকে।

জিন বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, শুধুমাত্র এক্স ক্রোমোজোমই বহন করে বুদ্ধিদীপ্ত জিন। শুধু তাই নয়, সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, বাবার থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জ্ঞান সম্পর্কীয় উন্নত আচরণ যুক্ত জিন নিজে থেকেই অকেজো হয়ে যায়। এই কারণে শিশুমনে বুদ্ধির বিকাশ ঘটার পিছনে একমাত্র প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করে তার মায়ের থেকে পাওয়া জিন।

পরীক্ষাগারে ইঁদুরের শরীরে অতিরিক্ত পরিমাণে মায়ের জিন প্রবেশ করিয়ে দেখা গেছে, মাথা ও মস্তিষ্কের আকারে বৃদ্ধি ঘটলেও তাদের শরীরের বাকি অংশ তুলনায় ছোট হয়। অন্যদিকে, বাবার জিনের পরিমাণ বেশি থাকলে শরীর বড় হলেও মাথা ও মগজ ছোট হয়।

১৪ থেকে ২২ বছর বয়সী ১২,৬৮৬ জন তরুণের ওপর করা সমীক্ষায় দেখা গেছে, মায়ের আইকিউ’র ওপরই নির্ভর করে সন্তানের বুদ্ধিমত্তার দৌড়। তবে গবেষণায় এ-ও দেখা গেছে, মানুষের বুদ্ধি শুধুমাত্র উত্তরাধিকার বা জিন সূত্রে প্রাপ্ত হয় না। শিশু বেড়ে ওঠার সময় জিনের প্রভাব যদি ৪০% থেকে ৬০% হয়, তবে বাড়ন্ত বয়সে পারিপার্শ্বিক পরিবেশও সমানভাবে তার বুদ্ধি ও আচরণের ওপর প্রভাব ফেলে।

‘আন্ডারস্টছান্ডিং মাদারস জেনেটিকস’ নামের সমীক্ষায় দেখা যায়, মায়ের সঙ্গ, ছোঁয়া, আবেগও শিশুর আইকিউ উন্নত করে! মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০০ জন শিশুর ওপর একটি পরীক্ষা করা হয়। সেখানে দেখা যায়, যে সন্তানেরা মায়ের বেশি ঘনিষ্ঠ, মায়ের সঙ্গে বেশি সময় কাটায় তারা মাত্র দু’বছর বয়সেই, বয়সের তুলনায় কঠিন ও জটিল কোনও খেলা যেমন ‘পাজল’-এর সমাধান খুব সহজেই করে ফেলছে!

ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় দেখা গেছে, মায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা শিশুর মস্তিষ্ক উন্নত করে। পাশাপাশি মায়ের ঘনিষ্ঠ শিশুরা কম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। সূত্র: ইন্ডিপেন্ডেন্ট

Categories
নারী মা ও শিশুর যত্ন স্বাস্থ্য

আপনি কি সিজার ডেলিভারি সম্পর্কে জানেন -কতবার সিজার করা নিরাপদ?

আপনি কি সিজার ডেলিভারি সম্পর্কে জানেন -কতবার সিজার করা নিরাপদ?

স্বাভাবিক ডেলিভারি ঝুঁকিপূর্ণ হলে মা ও শিশুর সুস্থতার স্বার্থে সিজারিয়ান পদ্ধতিতে ডেলিভারির প্রয়োজন হয়। সিজারিয়ান করানো খুব সাধারণ বিষয় হলেও এটা একটা বড় অপারেশন তাই এর নিজস্ব কিছু ঝুঁকি থাকে।

 

মা ও শিশু স্বাস্থ্য বিষয়ক সাইট প্যারেন্টস ফেরারিল্যান্ড এক প্রতিবেদনে সিজারের কারণ ও ঝুঁকি সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছে।

সিজার করার কারণ

•    নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পরও যদি প্রসব ব্যথা শুরু না হয়

•    কোনো কারণে শিশুর স্বাস্থ্যের অবনতি হলে

•    প্রসব ব্যথা ৮-১২ ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পরেও যদি প্রসবের উন্নতি না হয়

•    গর্ভফুলের অবস্থান জরায়ুর মুখে থাকলে

•    প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়ে মা ও শিশুর জীবনের ঝুঁকি থাকলে

•    গর্ভের শিশুটি যদি অস্বাভাবিক অবস্থানে থাকে

•    প্রথম এক বা দুটি শিশুর জন্ম যদি এই পদ্ধতিতে হয়ে থাকে।

সিজার ডেলিভারির ঝুঁকি

•    একাধিকবার সিজারের কারণে মায়ের ইউটেরাইন ইনফেকশনের ঝুঁকি বাড়ে

•    শিশুর জন্মের পরও ব্লিডিং হলে অনেক ক্ষেত্রে গর্ভ অপসারণ করে ফেলতে হয় একে হিস্টেরেক্টমি বলে
•    হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ে
•    অচেতন অবস্থা সৃষ্টি করতে যেসব ড্রাগ ব্যবহার করা হয় সেগুলো অনেক সময় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে
•    অপারেশনের পর প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে
•    স্বাভাবিক ডেলিভারিতে অক্ষম হওয়ায় মানসিক অবসাদ হতে পারে
•    আর্থিক দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে
•    প্রতিবার সিজারিয়ানে আগেরবারের চেয়ে বেশি সময় লাগতে পারে
•    বেশ কয়েকবার সিজার করা হলে ক্ষতের কারণে অপারেশনের সময় ঘণ্টা ছাড়িয়ে যেতে পারে
•    এভাবে প্রতিটি সিজারিয়ানের সঙ্গে মায়ের জীবনে ঝুঁকি বাড়তে থাকে

•    শিশুরও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যা হতে পারে
•    শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে বা শিশু দুর্বল হয়।

স্কটিশ বিজ্ঞানীদের করা সমীক্ষা থেকে জানা গেছে, সিজারিয়ান পদ্ধতিতে জন্ম নেওয়া শিশুদের স্কুলের পারফরম্যান্স স্বাভাবিকভাবে জন্ম নেওয়া বাচ্চাদের চেয়ে খারাপ হয়৷ এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে যে, অপারেশন করে বাচ্চা বের করা হয় মায়ের প্রসব ব্যথা হওয়ার আগে, অর্থাৎ বাচ্চার মস্তিষ্ক পরিপূর্ণ হওয়ার আগেই৷

গর্ভাবস্থায় কোনো জটিল সমস্যা যদি সৃষ্টি না হয় তাহলে ভ্যাজাইনাল বার্থ বা নরমাল ডেলিভারি নিরাপদ। নরমাল ডেলিভারি শুধু বর্তমান গর্ভাবস্থার জন্যই ভালো নয় বরং পরবর্তীতে গর্ভধারণের জন্যও ভালো।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, তিন বারের বেশি সিজার করা যাবে না