Categories
উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ চুলের যত্ন ত্বকের যত্ন ফেসপ্যাক রূপচর্চা লাইফ স্টাইল

ই ক্যাপ ৪০০ খাওয়ার উপকারিতা

আসসালামু আলাইকুম, আজকে আমরা জানবো ই ক্যাপ ৪০০ খাওয়ার উপকারিতা।

আমাদের সকলের ভিটামিন ই এর দরকার শরীরের বিভিন্ন ঘাটতি পূরণে।এর পাশাপাশি এই ক্যাপসুলের রয়েছে অজানা অনেক গুন। ভিটামিন ই ক্যাপসুল যে কোনও ওষুধের দোকানেই পাওয়া যায়।

চলুন তাহলে জেনে নিই, ই ক্যাপ ৪০০ খাওয়ার উপকারিতা ।

নখের যত্নে:

তাই নখের পর্যাপ্ত যত্ন নেওয়াটাও জরুরি। অন্যথায় তা হলুদ হয়ে যেতে পারে, ভেঙে যেতে পারে। আর সেই কাজের জন্য ভিটামিন ই ক্যাপসুল আদর্শ।
ক্যাপসুল খুলে তার ভেতরের তেল নখ ও এর চারপাশে ভালোভাবে মাখাতে হবে।

নাইট ক্রিম:

ভিটামিন ই ক্যাপসুল তার ‘ময়েশ্চারাইজিং’ গুণের জন্য বেশ সমাদৃত। তাই ওভারনাইট ক্রিম হিসেবেও তা বেশ কার্যকর।

আরো পড়ুন: সিনকারা সিরাপ এর উপকারিতা

সিরাম হিসেবেঃ

ই ক্যাপের তেলটি সেরাম হিসেবে কাজ করবে এবং রাতভর ত্বকে আর্দ্রতা যোগাবে।

চুলের যত্নে:

ভিটামিন ই ক্যাপসুল চুল পড়া রুখতে এবং নতুন চুল গজাতে অত্যন্ত উপকারী। সাধারণত চুলে যে তেল ব্যবহার করেন তাতেই মিশিয়ে নিতে হবে ক্যাপসুলে থাকা তেল।

বলিরেখা দূর করতে:

ত্বকের বিভিন্ন বলিরেখা, কুঁচকে যাওয়া ত্বক ও অন্যান্য দাগ দূর করতেও উপকারী ভিটামিন ই ক্যাপসুল।

‘অ্যান্টি-এইজিং’ ক্রিম হিসেবেঃ

প্রচুর ‘অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে এতে যা ত্বকের রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। ত্বকে ভিটামিন ই তেল মালিশ করলে ত্বকের গঠন স্বাস্থ্যকর হয়, উজ্জলতা বাড়বে। ই ক্যাপ ৪০০ খাওয়ার উপকারিতা

আরো পড়ুন: গোলাপ ফুলের উপকারিতা

রোদপোড়া ঠেকাতে:

অল্পতেই যাদের ত্বক রোদে পুড়ে যায় তাদের জন্য ভিটামিন ই ক্যাপসুল অত্যন্ত জরুরি। এর ‘ময়েশ্চারাইজিং’ গুণ ত্বকের শুষ্কতা দূর করার মাধ্যমে রোদপোড়া থেকে সুরক্ষা দেয়।

স্ট্রেচ মার্কস দূর করেঃ

স্ট্রেচ মার্কস থাকলে সেই দাগ দূর করতে ভিটামিন-ই ক্যাপসুল খুব উপকারী। লেবুর রসের সঙ্গে ভিটামিন-ই ক্যাপসুল মিশিয়ে নিয়ে স্ট্রেচ মার্কসের মধ্যে লাগিয়ে নিন। ভাল উপকার পাবেন।

ঠোঁট ফাটা দূর করতেঃ

ঠোঁট ফাটার সমস্যায় শীতকালে সবাই ভুগে থাকেন। তাই রাতে ঘুমোতে যাবার আগে ভিটামিন-ই ক্যাপসুল লাগিয়ে নিন।

আরো পড়ুন: মরিয়ম ফুলের উপকারিতা

অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ব্যবহার করবেন যাতে কোনোরূপ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া না ঘটে।

ই ক্যাপ ৪০০ খাওয়ার উপকারিতা
Categories
অন্যান্য উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ চুলের যত্ন টিপস এন্ড ট্রিকস ত্বকের যত্ন ফলের উপকারিতা ফলের উপকারী রূপচর্চা রোগ প্রতিরোধ লাইফ স্টাইল

জয়তুন তেলের উপকারিতা

আমরা সবাই জানি, অলিভ অয়েলের ব্যবহার সুপ্রাচীন। বাংলায় যার নাম জলপাই তেল এবং আরবিতে একে জয়তুন বলা হয়। জলপাইয়ের তেল এমন একটি উপাদান, যা ত্বক ও চুল সহ অনেক কিছুতেই ব্যবহার করা হয়।জয়তুন তেলের উপকারিতা

ইসলামে বলা হয়েছেঃ

“তোমরা যায়তুনের তেল খাও এবং এর দ্বারা মালিশ কর বা শরীরে মাখ। কেননা, তা বরকতময় গাছ থেকে আসে।” (তিরমিযী, আহমদ)

চলুন জেনে নেওয়া যাক, জয়তুন তেলের উপকারিতা:

ত্বকের অ্যান্টিএইজিং হিসেবেঃ

জলপাই তেল ত্বকের যত্নে দারুণ কার্যকরী। জলপাইয়ের তেল ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে ও ত্বকে ময়লা জমতে দেয় না। ত্বক ফেটে গেলে তা সারিয়ে তুলতে জলপাই তেল বেশ কার্যকরী। জলপাই তেল ব্যবহারে ত্বকের বলিরেখা কমায়। এর অ্যান্টিএইজিং উপাদান ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে কাজ করে।

এলার্জি অথনা চুলকানি কমাতেঃ

এ ছাড়া যাদের ত্বকে চুলকানির সমস্যা রয়েছে তারা নির্দ্বিধায় এই তেল ব্যবহার করতে পারেন।

ত্বকের যত্নেঃ

জলপাই তেল ত্বকের অতিরিক্ত শুষ্কতা কমায় ও ত্বকের ছোপ ছোপ দাগ দূর করে। ফলে ত্বক হয় কোমল এবং মসৃণ।

কোলেস্টেরল সমস্যা দূর করতেঃ

তেল রক্তের কোলেস্টোরেল দূর করে রক্তে উচ্চারক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। তাই রক্তের কোলেস্টেরল দূর করতে চাইলে জয়তুন তেল খাওয়া আবশ্যক।গবেষকরা ২.৫ কোটি (25 million) লোকজনের উপর গবেষণা করে দেখিয়েছেন, প্রতিদিন ২ চামচ Extra Virgin Olive Oil যাইতুন তেল ১ সপ্তাহ ধরে খেলে, ক্ষতিকর এলডিএল (LDL) কোলেস্টেরল কমায় এবং উপকারী এইচডিএল (HDL) কোলেস্টেরল বাড়ায়।

ভিটামিন অভাব রোধ করতেঃ

জয়তুনে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ই।ভিটামিন এর অভাব পূরণ করতে চাইলে জয়তুন খাওয়া আবশ্যক।
জয়তুনে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আশ বা ফাইবার। তাই যদি বাতের ব্যাথা কমাতে চান নিয়মিত জয়তুন খাওয়া আবশ্যক।

আরো পড়ুন: মাশরুম এর উপকারিতা

বিভিন্ন রোগের জন্যঃ

বিভিন্ন ধরণের টিউমার,দৃষ্টিভ্রম,রগ ফুলে যাওয়া,কোষ্ঠকাঠিন্য এবং দাতের ক্যাভিটি নিয়ন্ত্রণে জয়তুনের তেল অনেক উপকার করে থাকে।
ক্যান্সার দমনে খুব কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে জয়তুন।

রক্তশূন্যতা কমাতে এবং হার্টের সুরক্ষায়ঃ

রক্তশূন্যতা প্রতিরোধে খুব কার্যকরী ভুমিকা পালন করে থাকে জয়তুন।
জয়তুনে রয়েছে অলেইক এসিড যা আমাদের হার্টের সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করে থাকে।

চুলের যত্নে(জয়তুন তেলের উপকারিতা):

শুধু ত্বক নয়, জলপাই তেল মাথার ত্বকের খুশকি দূর করার জন্যও উপকারী। মাথার শুষ্ক তালু প্রাণ ফিরে পায় জলপাই তেলের গুণে। জলপাইয়ের তেল চুল পড়া কমাতে সাহায্য করে। এটি চুলের গোড়া মজবুত করে। এটা শিশুর ত্বকের জন্যও নিরাপদ।

ব্যথানাশক হিসেবেঃ

স্প্যানিশ (Spanish) গবেষকরা দেখিয়েছেন, খাবারে যাইতুন তেল ব্যবহার করলে ক্লোন ক্যান্সার (Colon cancer ) প্রতিরোধ হয়। আরও কিছু গবেষক দেখিয়েছ, এটা ব্যাথা নাশক (Pain Killer) হিসাবে কাজ করে।

সান প্রটেক্টর হিসেবেঃ

একটি ডিমের কুসুমের সঙ্গে ১ টেবিল চামচ জলপাই তেল আর ৩ ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে মুখে লাগিয়ে ১০ মিনিট পর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই মাস্ক শুষ্ক ত্বককে নরম ও কোমল করে তুলবে। সূর্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করবে। বাইরে যাওয়ার আগে জলপাই তেল দিয়ে বের হন। সান প্রটেক্টর হিসেবে এটি দারুণ কার্যকরী।

ব্রণ দূর করতেঃ

৪ টেবিল চামচ লবণের সঙ্গে ৩ টেবিল চামচ জলপাই তেল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এই পেস্ট ২ মিনিট ধরে মুখে ম্যাসাজ করুন। এভাবে এক সপ্তাহ করলে ত্বকে ব্রণের সমস্যা দূর হবে।

আরো পড়ুন: ত্বকের যত্নে  মুলতানি মাটি

অন্যান্য ব্যবহারবিধি হিসেবেঃ

এ ছাড়া ১/২ কাপ জলপাই তেল, ১/৪ কাপ ভিনেগার আর ১/৪ কাপ পানি মিশিয়ে রাতে ঘুমানোর আগে নাইট ক্রিম হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। এই প্যাক আপনার ত্বককে নরম করবে এবং ভিনেগার ত্বকে থাকা ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করবে।

কন্ডিশনার হিসেবেঃ

ত্বকের পাশাপাশি চুলের যত্নে ও সমান কার্যকরী জলপাই তেল। শ্যাম্পু করার পর হাতের তালুতে কয়েক ফোঁটা জলপাই তেল নিয়ে ভালোভাবে দুই হাতে ঘষে ফেলুন। তারপর চুলে কন্ডিশনারের বদলে লাগিয়ে ফেলুন।

আশা করি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জেনে আপনাদের উপকার হবে।এবং বাস্তব জীবনে জয়তুন তেলের উপকারিতা এর প্রয়োগ ঘটাতে পারবেন।

Photo Credit: pixabay.com

Categories
চুলের যত্ন নারী রূপচর্চা

চুলের যত্নে পেঁয়াজের উপকারিতা

আসসালামু আলাইকুম, আজকে আমরা জানবো চুলের যত্নে পেঁয়াজের উপকারিতা নিয়ে।

প্রাকৃতিক ভাবে চুলকে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল করতে পেঁয়াজ অনন্য।কারণ পেঁয়াজ ত্বক ও চুলের জন্য টনিক হিসেবে কাজ করে। এতে  রয়েছে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান তা ত্বক ও চুলকে রোগের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। পেঁয়াজে ভিটামিন, মিনারেল, সালফার, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম ইত্যাদি রয়েছে প্রচুর। সালফার নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে, চুল পড়া বন্ধ করে এবং অন্যান্য অনেক প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করে। মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে।

চুলের যত্নে পেঁয়াজের উপকারিতা:

পেঁয়াজ,পেঁয়াজের অপকারিতা,চুলের যত্নে পেঁয়াজের উপকারিতা, পেঁয়াজ
পেঁয়াজ

কী ভাবে চুলে ব্যবহার করবেন পেঁয়াজ?

পেঁয়াজের রস সরাসরি ত্বকে বা মাথায় ব্যবহার করা যায়।

উপকরণ:

কয়েক টুকরো পেঁয়াজ।

পদ্ধতি:

কয়েকটি পেঁয়াজের টুকরো নিয়ে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে রস বের করে নিতে হবে। এ বার রসটা সরাসরি মাথায় ত্বকে মালিশ করতে হবে তেল মালিশ করার মতো। ৩০ মিনিট পর চুলে শ্যাম্পু করে ধুলে ফেলতে হবে।

মধুর সঙ্গে পেঁয়াজ:

উপকরণ:

পেঁয়াজের রস – আধ কাপ,

মধু –  ১ টেবিল চামচ।

পদ্ধতি:

আধ কাপ পেঁয়াজের রসের সঙ্গে ১ টেবিল চামচ মধু মেশাতে হবে। এ বার এই রস নিয়মিত খাওয়াও যায় আবার মাথায়ও লাগানো যায়।

মাথায় লাগানোর কিছু সময় পরে তা শ্যাম্পু করে ধুয়ে নিতে হবে।

 চুলের যত্নে লেবু ও পেঁয়াজের উপকারিতা:

লেবুর রস কিন্তু খুশকি দূর করতেও সহায়ক।

উপকরণ:

পেঁয়াজের রস – ৩ টেবিল চামচ,

লেবুর রস – ১ টেবিল চামচ।

পদ্ধতি:

৩ টেবিল চামচ পেঁয়াজের রসের সঙ্গে ১ টেবিল চামচ পাতিলেবুর রস মিশিয়ে মাথার ত্বকে মালিশ করতে হবে। কিছুক্ষণ পর শ্যাম্পু করে বা শুধু জলে চুল ধুয়ে নিতে হবে।

এ ভাবে নিয়মিত সপ্তাহে ৩ থেকে ৪ বার ব্যবহার করলে চুলের স্বাস্থ্যের উন্নতি হবে, উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে। মসৃণ হবে।

তেলের সাথে পেঁয়াজ:

 তেলের সাথে পেঁয়াজের রস মিশিয়ে ব্যবহার করলে এটি বেশি পরিমাণ পুষ্টির যোগান দেবে, কারণ তেলের স্বতন্ত্র গুণাগুণ রয়েছে।

উপকরণ:

  • ৩ টেবিল চামচ পেঁয়াজের রস
  • ১ টেবিল চামচ মতো নারিকেল তেল
  • অলিভ অয়েল

পদ্ধতি:

৩ টেবিল চামচ পরিমাণ পেঁয়াজের রস সংগ্রহ করুন। ১ টেবিল চামচ পরিমাণ নারিকেল তেল অথবা অলিভ অয়েল মেশান। মাথার ত্বকে ঘষে ঘষে মালিশ করুন যাতে গোড়ার গভীরে পৌছায়।