Categories
কৃষি চাষ পদ্ধতি

কুমড়া চাষ পদ্ধতি

কুমড়া চাষ পদ্ধতি: ঘরের চালে এ সবজি ফলানো হয় বলে এটি চাল কুমড়া নামে পরিচিত। তবে চাল কুমড়া শুধু চালে নয় ইহা জমিতে মাচায় চাষ করলে ফলন বেশি হয়।

কুমড়ার জাত:

আমাদের দেশে একটি উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবন হয়েছে যা বার মাসই চাষ করা যায়। নাম তার বারি চাল কুমড়া-১।  জুপিটার, ইউনিক, ভেনাস, পানডা, সুমাইয়া, বাসন্তী, নিরালা, মনি, দেব-১২০৩, মাধবী ইত্যাদি অন্যতম।

মাটি:

প্রায় সব ধরনের মাটিতে চাল কুমড়া চাষ করা যায়। তবে চাল কুমড়া চাষের জন্য দো-আঁশ ও এটেল দো-আঁশ মাটি উত্তম।

বপনের সময়:

সারা বছরই চাল কুমড়ার চাষ করা যায়। তবে ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত বীজ বোনার উপযুক্ত সময়।

বীজের পরিমাণ:

প্রতি শতাংশ জমিতে প্রায় ১৫-২০ গ্রাম বীজের দরকার হয়।

আরো পড়ুন: ফুলকপি চাষ পদ্ধতি

জমি তৈরি :

চাল কুমড়া যদি বসতবাড়িতে করতে চান সেক্ষেত্রে ঘরের কোণে মাদা তৈরি করে তাতে ৩-৪টি বীজ বপন করতে হবে।

এবং চারা গজালে ও একটু বড় হলে বাঁশের কঞ্চি বা পাট কাঠি চারার গোড়ায় পুঁতে দিয়ে চারাগুলো চালায় তুলে দিতে হবে। আর জমিতে চাষ করলে জমি ভাল করে ৩-৪টি চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করে নিতে হবে।

বীজ বপন:

তারপর জমিতে মাদা তৈরি করে ৪-৫টি বীজ বপণ করতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে জমিতে যেন বৃষ্টির বা বন্যার পানি জমে না থাকে।

এরপর ২.৫ ফুট চওড়া ২ ফুট গভীর গর্ত তৈরি করতে হবে। ২ থেকে ২.৫০ মিটার দূরে দূরে মাদা তৈরি করে বীজ বুনতে হবে।

কুমড়ার সার প্রয়োগ পদ্ধতি:

ইউরিয়া ১০-১২ কেজি

টিএসপি ৮-১০ কেজি

মিউরেট অব পটাশ ৩-৫ কেজি

জিপসাম ৩ কেজি

জিংক অক্সাইড ১০০-১৫০ গ্রাম

জৈব সার যত দেওয়া যায় তত ভাল। (শতাংশ অনুযায়ী)

ইউরিয়া সার ছাড়া অন্যান্য সব সার বীজ বোনার ৫-৭ দিন আগে জমি তৈরি করার সময় মাদার মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে।

আরো পড়ুন: তরমুজ চাষ পদ্ধতি

পরিচর্যার নিয়ম(কুমড়া চাষ পদ্ধতি):

প্রত্যেক মাদায় সুস্থ সবল ২-৩ চারা রেখে বাকি চারা তুলে ফেলতে হবে।

নিয়মিত বিশেষ করে গাছের গোড়ার আগাছাগুলো পরিষ্কার ও গোড়ার মাটি কুপিয়ে আলগা করে দিতে হবে।

জমির মাটিতে রস না থাকলে সেচ দিতে হবে।

বর্ষার পানি নিকাশের জন্য নালার ব্যবস্থা করতে হবে। গাছ বড় হওয়ার সাথে সাথে মাচা তৈরি করে দিতে হবে।

পোকমাকড় দমন:

চাল কুমড়া গাছে বিভিন্ন পোকার আক্রমন হয়। এসকল পোকার মধ্যে মাছি পোকা সবচেয়ে ক্ষতিকর। মাছি পোকার আক্রমনে চালকুমড়ার ফলন মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হয়।

এই পোকা প্রথমে চাল কুমড়ার ফুলের মধ্যে ডিম পাড়ে, পরবর্তীতে ডিম থেকে কীড়া বের হয়ে ফলের ভেতর খেয়ে ফল নষ্ট করে ফেলে। এপোকার জন্য ফলন নষ্ট হয় ৫০-৬০ ভাগ।

তাই আমাদের কঠোরভাবে মাছি পোকা দমন করতে হবে। এই পোকা দমন করার প্রথম উপায় হচ্ছে-

পোকা দেখা মাত্র মেরে ফেলা।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন চাষাবাদ করা। এ পোকা মারার ফাঁদ তৈরি করা এবং বিষটোপ ব্যবহার করা।

ফসল সংগ্রহ:

চাল কুমড়া গাছ লাগানোর ৬০-৭০ দিনের মধ্যে ফল দেওয়া শুরু করে।

চাল কুমড়া সবজি হিসেবে খেতে হলে সবুজ হুল যুক্ত ৪০০-৬০০ গ্রাম হলে তুলতে হবে।

মোরব্বা বা বড়ি দেওয়ার জন্য পরিপক্ক করে ১২০-১৩০ দিন পর তুলতে হবে।

আরো পড়ুন: টমেটো চাষ পদ্ধতি
Categories
কৃষি চাষ পদ্ধতি

ফুলকপি চাষ পদ্ধতি

ফুলকপি চাষ পদ্ধতি: শীতের জনপ্রিয় সবজি  ফুলকপি। তরকারি বা কারি ও স্যুপ তৈরি করে, বড়া ভেজে ফুলকপি খাওয়া হয়।এ দেশের প্রায় সর্বত্র ফুলকপির চাষ হয়। তবে টাঙ্গাইল জেলা আগাম জাতের ফুলকপি চাষের জন্য বিখ্যাত।

জেনে নিন, ফুলকপি চাষ পদ্ধতি:

মাটি:

ফুলকপি চাষের জন্য সুনিকাশযুক্ত উর্বর দোয়াশ ও এটেল মাটি সবচেয়ে ভাল।

ফুলকপির জাতের নাম:


এ দেশে এখন ফুলকপির পঞ্চাশটিরও বেশি জাত পাওয়া যাচ্ছে। শীতকালেই আগাম, মধ্যম ও নাবী মৌসুমে বিভিন্ন জাতের ফুলকপি আবাদ করা যায়। এ ছাড়া গ্রীষ্মকালে চাষের উপযোগী জাতও আছে।

ফুলকপির আগাম জাত:

অগ্রাহনী, আর্লিস্নোবল, সুপার স্নোবল, ট্রপিক্যাল স্নো-৫৫, সামার ডায়মণ্ড এফ ১, স্নো কুইন এফ ১, হিট মাস্টার  ও হাইব্রিড জাত। এসব জাতের বীজ শ্রাবণ ও ভাদ্র মাসে বুনতে হয়।

ফুলকপির মধ্যম আগাম জাত:

পৌষালী, রাক্ষুসী, স্নোবল এক্স, স্নোবল ওয়াই, হোয়াইট টপ, স্নো ওয়েভ, বিগটপ, বিগশট, মোনালিসা এফ ১, চন্ড্রিমা ৬০ এফ ১ ইত্যাদি। ভাদ্র ও আশ্বিন মাস হলো এসব জাতের বীজ বোনার উপযুক্ত সময়।

ফুলকপির নাবী জাত

মাঘী বেনারসি, ইউনিক স্নোবল, হোয়াইট মাউন্টেন, ক্রিস্টমাস, এরফার্ট ও হাইব্রিড জাত। এসব জাতের বীজ বোনার উপযুক্ত সময় হলো আশ্বিন-কার্তিক মাস।

ফুলকপি চারা তৈরি:

ফুলকপি চারা তৈরি
https://janajoruri.com/

ফুলকপির চারা বীজতলায় উৎপাদন করে জমিতে লাগানো হয়। বীজতলার আকার ১ মিটার পাশে ও লম্বায় ৩ মিটার হওয়া উচিত। সমপরিমাণ বালি, মাটি ও জৈবসার মিশিয়ে ঝুরাঝুরা করে বীজতলা তৈরি করতে হয়।

দ্বিতীয় বীজতলায় চারা রোপণের আগে ৭/৮ দিন পূর্বে প্রতি বীজতলায় ১০০ গ্রাম ইউরিয়া, ১৫০ গ্রাম টিএসপি ও ১০০ গ্রাম এমওপি সার ভালভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। পরে চারা ঠিকমত না বাড়লে প্রতি বীজতলায় প্রায় ১০০ গ্রাম পরিমাণ ইউরিয়া সার ছিটিয়ে দেয়া ভাল।

ফুলকপির চারা রোপণ:

বীজ গজানোর ১০-১২ দিন পর গজানো চারা দ্বিতীয় বীজতলায় স্থানান্তর করতে হয়। চারায় ৫-৬টি পাতা হলেই তা রোপণের উপযুক্ত হয়।

সাধারণত ৩০-৩৫ দিন বয়সের চারা রোণ করা হয়। সারি থেকে সারির দূরত্ব দেয়া লাগে ৬০ সেন্টিমিটার বা ২ ফুট এবং প্রতি সারিতে চারা থেকে চারার দূরত্ব দিতে হবে ৪৫ সেন্টিমিটার বা দেড় ফুট। চারা রোপণের সময় সতর্ক থাকতে হবে যেন শিকড় মুচড়ে বা বেঁকে না যায়।

এতে চারার মাটিতে প্রতিষ্ঠা পেতে দেরী হয় ও বৃদ্ধি কমে যায়।

আরো পড়ুন: তরমুজ চাষ পদ্ধতি

ফুলকপির সারের পরিমাণ:

সারের নাম সারের পরিমাণ/প্রতি শতকে প্রতি হেক্টরে
  ইউরিয়া ১.০-১.২ কেজি ২৫০-৩০০ কেজি
  টি এস পি ০.৬-০.৮ কেজি ১৫০-২০০  কেজি
  এমওপি ০.৮-১.০ কেজি ২০০-২৫০ কেজি
  বোরাক্স ২৮-৪০ গ্রাম ৭.০-১০.০ কেজি
  গোবর ৬০-৮০ কেজি ১৫-২০ টন

ফুলকপির সার প্রয়োগ পদ্ধতি:

জমি তৈরির সময় অর্ধেক গোবর সার, পুরো টিএসপি, অর্ধেক এমওপি এবং বোরন সার প্রয়োগ করতে হবে। বাকি অর্ধেক গোবর সার চারা রোপণের ১ সপ্তাহ আগে মাদায় দিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। এরপর চারা রোপণ করে সেচ দিতে হবে।

ইউরিয়া এবং বাকি অর্ধেক এমওপি ও বোরন সার ৩ কিসি-তে প্রয়োগ করতে হবে। প্রথম কিসি-র সার দিতে হবে চারা রোপণের ৮-১০ দিন পর, দ্বিতীয় কিসি-র সার দিতে হবে চারা রোপণের ৩০ দিন পর এবং শেষ কিসি-র সার দিতে হবে ৫০ দিন পর।

তবে পুরো বোরাক্স বা বোরন সার জমি তৈরির সময় দিয়ে দিলেও অসুবিধে নেই। আর সে সময় দিতে না পারলে পরবর্তীতে ১ম ও ২য় কিস-ও সার দেয়ার সময় প্রতি ১০ লিটার পানিতে ১০-১৫ গ্রাম বোরিক পাউডার গুলে পাতায় স্পে করে দেয়া যায়। তবে সকালে শিশির ভেজা পাতায় যেন দানা সার না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

সেচ ও আগাছা ব্যবস্থাপনা :

সার দেয়ার পরপরই সেচ দিতে হবে। এ ছাড়া জমি শুকিয়ে গেলে সেচ দিতে হবে। জমিতে পানি বেশি সময় ধরে যেন জমে না থাকে সেটাও খেয়াল করতে হবে। সার দেয়ার আগে মাটির আস্তর ভেঙে দিয়ে নিড়ানি দিয়ে আগাছা পরিষ্কার করে দিতে হবে।

বিশেষ পরিচর্যা(ফুলকপি চাষ পদ্ধতি):

ফুলকপি গাছের সারি মাঝে সার দেয়ার পর সারির মাঝখানের মাটি তুলে দুপাশ থেকে গাছের গোড়ায় টেনে দেয়া যায়। এতে সেচ ও নিকাশের সুবিধা হয়।

তবে ফুলকপির ফুল সাদা রাখার জন্য কচি অবস্থায় চারদিক থেকে পাতা টেনে বেঁধে ফুল ঢেকে দিতে হবে। সূর্যের আলো সরাসরি ফুলে পড়লে ফুলের রঙ তথা ফুলকপির রঙ হলুদাভ হয়ে যাবে।

ফুলকপির রোগ ও প্রতিকার:


ফুলকপির লেদা পোকা:

লেদা পোকা,
লেদা পোকা

পোকা গাছের কচি পাতা, ডগা ও পাতা খেয়ে নষ্ট করে।

লেদা পোকা প্রতিকার:

  • পোকার ডিম ও লেদা হাত দারা বাছাই করা।
  • ফুলকপি চাষের জমি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা।
  • পোকার আক্রমণ বেশি হলে অনিমোদিত কীটনাশক ব্যবহার করা। যেমন- সাইপারমেথ্রিন ( রিপকট/ কট/রেলোথ্রিন ) ১ মিলি/ লিটার পানি অথবা ক্যারাটে ১ মিলি/ লিটার পানিতে দিয়ে স্প্রে করতে হবে।

ফুলকপির কাটুই পোকা:

কাটুই পোকা
কাটুই পোকা

কাটুইপোকার কীড়া চারা গাছের গোড়া কেটে দেয়।

কাটুই পোকা প্রতিকার:

  • জমিতে সন্ধ্যার পর বিষটোপ ব্যবহার করতে হবে অর্থাৎ (১ কেজি চালের কুঁড়া বা গমের ভূসির সাথে ২০ গ্রাম সেভিন নামক কীটনাশক পানি বা চিটাগুড়ের সাথে ব্যবহার)।
  • জমিতে চাষের সময় দানাদার কীটনাশক ব্যবহারকরতে হবে। যেমন-ডায়াজিনন ১৩ কেজি/ হেক্টর অথবা কার্বোফুরান ১০ কেজি/ হেক্টর দিতে হবে।
  • এছাড়াও ক্লোরপাইরিফস ( ডার্সবান/ লর্সবান ) ২ লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।
আরো পড়ুন: টমেটো চাষ পদ্ধতি

ফুলকপির জাবপোকা:

জাব পোকা
জাব পোকা

জাবপোকা গাছের পাতা ও কচি ডগার রস শুষে খায়।

জাবপোকা প্রতিকার:

  • ফুলকপি চাষের জমি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা।
  • জৈব বালাইনাশক ব্যবহার। যেমন- নিম পাতার রস, আতা গাছের পাতার রস, সাবানের গুড়া পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করা যায়।
  • আক্রমণ বেশি হলে অনুমোদিত কীটনাশক দিতে হবে। যেমন-ইমিডাক্লোপ্রিড ( টিডো /ইমিটাফ ) ০.৫ মিলি/লিটার পানি অথবা সবিক্রন ১ মিলি/লিটার পানিতে দিয়ে স্প্রে করতে হবে।

ফুলকপির গোড়া পচা রোগ:

লক্ষণ:

  • আক্রান্ত চারার গোড়ার চারদিকে পানিভেজা দাগ দেখা যায় ।
  • ক্রমণের দুইদিনের মধ্যে চারা গাছটি ঢলে পড়ে ও আক্রান্ত অংশে তুলারমতো সাদামাইসেলিয়াম দেখা যায় ও অনেক সময় সরিষার মত ছত্রাকের অনুবীজ পাওয়া যায়।
  • শিকড় পচে যায়, চারা নেতিয়ে পড়ে গাছ মারা যায় ।
  • স্যাতস্যাতে মাটি ও মাটির উপরিভাগ শক্ত হলে রোগের প্রকোপ বাড়ে ।
  • রোগটি মাটিবাহিত বিধায় মাটি, আক্রান্ত চারা ও পানির মাধ্যমে বিস্তার লাভ করে ।
  • চারা টান দিলে সহজে মাটিথেকে উঠে আসে।

গোড়া পচা রোগ প্রতিকার:

  • পরিমিত সেচ ও পর্যাপ্ত জৈব সার প্রদান করা ও পানি নিস্কাশনের ভালো ব্যবস্থা রাখা।
  • সরিষার খৈল প্রতি হেক্ট্ররে ৩০০ কেজি হারে প্রয়োগ করতে হবে।
  • প্রতি লিটার পানিতে ইপ্রোডিয়ন বা কার্বেন্ডাজিম গ্রুপের ছত্রাকনাশক যেমন: রোভরাল ২ গ্রাম বা অটোস্টিন ১ গ্রাম হারে মিশিয়ে স্প্রে করে মাটিসহ ভিজিয়ে দিতে হবে। অথবা
  • প্রতি লিটার পানিতে কপার অক্সিকোরাইড ৪গ্রাম /১ লিটার পানি + স্ট্রেপ্টোমাইসিন ১ গ্রাম/১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে ৭ দিন পর পর ২ বার স্প্রে করতে হবে।
  • ম্যানকোজেব + কার্বেণ্ডাজিম ( কম্প্যানিয়ন ) বা ম্যানকোজেব ( ইণ্ডোফিল এম ৪৫) ২ গ্রাম/ লিটার পানিতে দিয়ে গাছের গোড়ায় স্প্রে করতে হবে।

ফুলকপির কার্ড বা মাথা পচা রোগ:

ফুলকপির কার্ড বা মাথা পচা রোগ,ফুলকপি
ফুলকপির কার্ড বা মাথা পচা রোগ

লক্ষণ:

  • ফুলকপির কার্ডে প্রথমে বাদামি রঙের গোলাকৃতি দাগ দেখা যায়। পরবর্তীতে একাধিক দাগ মিশে বড় দাগের সৃষ্টি করে।
  • ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে কার্ডে দ্রুত পচন ধরে নষ্ট হয়ে যায়।
  • আক্রান্ত কার্ড বা মাথা থেকে খুব কম পুষ্পমঞ্জরি বের হয়। ফলে এটি খাওয়ার অযোগ্য হয়ে যায়।
আরো পড়ুন: বরবটি চাষ পদ্ধতি

ফুলকপির কার্ড বা মাথা পচা রোগ প্রতিকার:

  • সুস্থ গাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করতে হবে।
  • বীজ বপনের আগে প্রোভ্যাক্স বা কার্বেনডাজিম বা নইন প্রতি কেজি বীজে ২ গ্রাম হারে দিয়ে বীজ শোধন করতে হবে।
  • ইপ্রোডিয়ন এবং কার্বেনডাজিম ছত্রাকনাশক প্রতিটি পৃথক পৃথকভাবে ০.২% হারে মিশিয়ে ১০-১২ দিন পর পর স্প্রে করতে হবে। তবে মনে রাখতে হবে,ওষুধ প্রয়োগের ৫ দিন পর পর্যন্ত ফসল তোলা যাবে না।

ফসল তোলা ও ফলন:

সাদা রঙ ও আঁটো সাঁটো থাকতে থাকতেই ফুলকপি তুলে ফেলা উচিত। মাথা ঢিলা ও রঙ হলদে ভাব ধরলে দাম কমে যায়। একর প্রতি ফলন ১৫-২৫ টন, হেক্টরে ৩৫-৬০ টন।

আরো পড়ুন: ফুলকপির উপকারিতা ও অপকারিতা
এই ছিলো ফুলকপি চাষ পদ্ধতি  ভালো লাগলে ,অবশ্যই লাইক কমেন্ট শেয়ার করবেন।

Photo Credit: Pixabay

সূত্র : অনলাইন

Categories
কৃষি চাষ পদ্ধতি

তরমুজ চাষ পদ্ধতি

তরমুজ চাষ পদ্ধতি: তরমুজ একটি সুস্বাদু এবং গরমের সময়  অত্যন্ত তৃপ্তিদায়ক ও তৃষ্ণা নিবারক একটি ফল। আমাদের দেশে যেসব উন্নতমানের তরমুজ পাওয়া যায় তা দেশের বাইরে থেকে আমদানিকৃত সংকর জাতের বীজ থেকে চাষ করা হয়ে থাকে।

তরমুজ চাষ পদ্ধতি:

জমি তৈরি:

প্রয়োজনমতো চাষ ও মই দিয়ে জমি তৈরি করতে হবে। জমি তৈরির পর মাদা প্রস্তুত করতে হবে। মাদাতে সার প্রয়োগ করে চারা লাগানো উচিত।
তরমুজ ক্ষেত

বীজ বপন সময়:

বাংলাদেশে ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত আবহাওয়া তরমুজ চাষের উপযোগী। বীজ বোনার জন্য ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম পক্ষ সর্বোত্তম।

রোপণ পদ্ধতি:

তৈরি চারা
উদাহরণ: তৈরি চারা

সাধারণত মাদায় সরাসরি বীজ বপন পদ্ধতি প্রচলিত থাকলেও চারা তৈরি করে মাদাতে চারা রোপণ করাই উত্তম।

বীজ বপন:

সাধারণত প্রতি মাদায় ৪-৫টি বীজ বপন করা হয়। বপনের ৮-১০ দিন আগে মাদা তৈরি করে মাটিতে সার মিশাতে হয়। দু মিটার দূরে দূরে সারি করে প্রতি সারিতে দু মিটার অন্তর মাদা করতে হয়। প্রতি মাদা ৫০ সেমি. প্রশস্ত ও ৩০ সেমি. গভীর হওয়া বাঞ্চনীয়। চারা গজানোর পর প্রতি মাদায় দুটি করে চারা রেখে বাকিগুলো তুলে ফেলতে হবে।

আরো পড়ুন: টমেটো চাষ পদ্ধতি

চারা রোপণ:

বীজ বপণের চেয়ে তরমুজ চাষের জন্য চারা রোপণ করা উত্তম। এতে বীজের অপচয় কম হয়। চারা তৈরির জন্য ছোট ছোট পলিথিনের ব্যাগে বালি ও পচা গোবর সার ভর্তি করে প্রতি ব্যাগে একটি করে বীজ বপন করা হয়। ৩০-৩৫ দিন বয়সের ৫-৬ পাতাবিশিষ্ট একটি চারা মাদায় রোপণ করা হয়।

বীজের পরিমাণ:

প্রতি একরে ৩৫০-৪০০ গ্রাম বীজের প্রয়োজন হয়।

তরমুজ চাষে সারের পরিমান:


একর প্রতি সারের পরিমান

জমি তৈরি সময় সারের পরিমান:

গোবর/কম্পোস্ট ৮ টন সব

টিএসপি ৪০ কেজি সব

মুক্তাপ্লাস (জিংক সালফেট) ৫ কেজি সব

ম্যাগপ্লাস (ম্যাগনেসিয়াম সালফেট) ৯-১০ কেজি সব

হেসালফ (৮০% সালফার) ৩ কেজি সব

কার্বোফুরান/ফিপ্রোনিল জাতীয় দানাদার ১০-১২ কেজি সব

পরবর্তী তরমুজ চাষে সারের পরিমান:

১ম বার– (চারা রোপণের ১০-১৫ দিন পর)- ইউরিয়া- ৪০ কেজি- এমপি ৩২ কেজি
২য় বার– (প্রথম ফুল ফোটার সময়)- ইউরিয়া- ২৫ কেজি- এমপি ৩২ কেজি
৩য় বার– (ফল ধারণের সময়)- ইউরিয়া- ২৫ কেজি- এমপি ৩২ কেজি
৪র্থ বার– (ফল ধারণের ১৫-২০ দিন পর)- ইউরিয়া- ২৫ কেজি- এমপি ৩২ কেজি

বীজের অঙ্কুরোদগম:

শীতকালে খুব ঠাণ্ডা থাকলে বীজ ১২ ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রেখে গোবরের মাদার ভেতরে কিংবা মাটির পাত্রে রক্ষিত বালির ভেতরে রেখে দিলে ২-৩ দিনের মধ্যে বীজ অঙ্কুরিত হয়। বীজের অঙ্কুর দেখা দিলেই বীজ তলায় অথবা মাদায় স্থানান্তর করা ভালো।

অন্তর্বর্তীকালীন পরিচর্যা:

শুকনো মৌসুমে সেচ দেয়া খুব প্রয়োজন। গাছের গোড়ায় যাতে পানি জমে না থাকে সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। প্রতিটি গাছে ৩-৪টির বেশি ফল রাখতে নেই। গাছের শাখার মাঝামাঝি গিটে যে ফল হয় সেটি রাখতে হয়। চারটি শাখায় চারটি ফলই যথেষ্ট। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে ৩০টি পাতার জন্য মাত্র একটি ফল রাখা উচিত।

আরো পড়ুন: বরবটি চাষ পদ্ধতি

পরাগায়ন:

সকালবেলা স্ত্রী ও পুরুষ ফুল ফোটার সাথে সাথে স্ত্রী ফুলকে পুরুষ ফুল দিয়ে পরাগায়িত করে দিলে ফলন ভালো হয়।

তরমুজের পোকামাকড় ও রোগবালাই দমন:


পাতার বিটল পোকা:

প্রথম দিকে পোকাগুলোর সংখ্যা যখন কম থাকে তখন পোকা ডিম ও বাচ্চা ধরে নষ্ট করে ফেলতে হবে। পোকার সংখ্যা বেশি হলে রিপকর্ড ১০ইসি/  রিজেন্ট ৫০ এসসি ০১ মিলি/লিটার মাত্রায় অথবা মিপসিন ৭৫ ডব্লিউপি ২.৫গ্রাম/লিটার বা হেক্লেম ৫ এসজি ১০ গ্রাম/১০লিটার মাত্রায় যেকোন একটি   ৫-৭ দিন পরপর স্প্রে করতে হবে।

জাব পোকা:

জাব পোকা
জাব পোকা
এ পোকা গাছের কচি কাণ্ড, ডগা ও পাতার রস শুষে খেয়ে ক্ষতি করে। এ পোকা দমনের জন্য হেমিডর অথবা প্রিমিডর (ইমিডাক্লোপ্রিড) ৭০ ডব্লিউজি ০২গ্রাম/১০লিটার অথবা  নোভাস্টার (বাইফেনথ্রিন+এবামেকটিন) ৫৬ ইসি/টলস্টার ২.৫ ইসি ০২ মিলি/লিটার স্প্রে করতে হবে।

ফল ছিদ্রকারী পোকা:

ফল ছিদ্রকারী পোকা,তরমুজ চাষ,তরমুজ
ফল ছিদ্রকারী পোকা
স্ত্রী পোকা ফলের খোসার নিচে ডিম পাড়ে। ডিম ফুটে কীড়াগুলো বের হয়ে ফল খেয়ে নষ্ট করে ফেলে এবং ফলগুলো সাধারণত পচে যায়। এ পোকা দমনের জন্য রিপকর্ড/রিজেন্ট/হেক্লেম স্প্রে করতে হবে। ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করা যেতে পারে।

লাল মাকড়/হলুদ মাকড়:

লাল মাকড় হলুদ মাকড়
লাল মাকড় / হলুদ মাকড়
চেনার উপায় : এরা দেখতে অতি ক্ষুদ্র। পাতার নীচে থাকে।
ক্ষতির ধরণ : পাতার রস চুষে খায়। পাতা কুঁচকে শুকিয়ে যায়। পরে পাতা ঝড়ে পরে। কুশির বৃদ্ধি থেমে যায়।
আক্রমণের পর্যায় : বাড়ন্ত পর্যায়
ফসলের যে অংশে আক্রমণ করে : পাতা

দমন ব্যবস্থা : 

১। সালফার জাতীয় বালাইনাশক (যেমন হেসালফ ৮০% ডিএফ, কুমুলাস ৮০% ডিএফ, ম্যাক সালফার ৮০ ডব্লিউপি, থিয়োভিট ৮০ ডব্লিউজি প্রতি লিটার পানিতে ২গ্রাম হারে মিশিয়ে) ১০ দিন পরপর ২-৩ বার স্প্রে করুন।
২। ইন্ট্রাপিড ১০এসসি/ নোভাস্টার ৫৬ইসি প্রতি লিটার পানিতে ০২মিলি হারে মিশিয়ে ৭-১০ দিন পর পর স্প্রে করতে হবে। অথবা পাইমেট্রজিন/ মিথাইল আইসোপ্রোকার্ব/ এবামেকটিন জাতীয় মাকড়নাশক স্প্রে করতে হবে।

থ্রিপস:

চেনার উপায় : এরা দেখতে অতি ক্ষুদ্র। পাতার উপরে থাকে।
ক্ষতির ধরণ : পাতার রস চুষে খায়। পাতা কুঁচকে শুকিয়ে যায়। পরে পাতা ঝড়ে পরে। কুশির বৃদ্ধি থেমে যায়।
আক্রমণের পর্যায় : বাড়ন্ত পর্যায়
ফসলের যে অংশে আক্রমণ করে পাতা

দমন ব্যবস্থা:

ইন্ট্রাপিড ১০এসসি/ নোভাস্টার ৫৬ইসি প্রতি লিটার পানিতে ০২মিলি হারে মিশিয়ে ৭-১০ দিন পর পর স্প্রে করতে হবে। অথবা পাইমেট্রজিন/ মিথাইল আইসোপ্রোকার্ব/ এবামেকটিন জাতীয় মাকড়নাশক স্প্রে করতে হবে।

আরো পড়ুন: পিয়াজ চাষ পদ্ধতি

কাণ্ড পঁচা রোগ:

এ রোগের আক্রমণে তরমুজ গাছের গোড়ার কাছের কাণ্ড পঁচে গাছ মরে যায়। প্রতিকারের জন্য ৪ গ্রাম হেমেনকোজেব অথবা একরোবেট এমজেড+ডিফেন্স ৩৫এসসি ০১মিলি/ লিটার পানিতে মিশিয়ে ৫-৭ দিন পর পর গাছে স্প্রে করতে হবে।
অথবা কোগার (এজক্সিস্ট্রবিন+সিপ্রোকোনাজল) ২৮ এসসি ০১মিলি/ লিটার পানিতে মিশিয়ে ৫-৭ দিন পর পর গাছে স্প্রে করতে হবে।

ফিউজেরিয়াম উইল্ট রোগ:

এ রোগের আক্রমণে গাছ ঢলে পড়ে মারা যায়। পানি নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা করা হলে এ রোগের প্রকোপ কম থাকে। রোগাক্রান্ত গাছ তুলে পুড়িয়ে ফেলতে হবে।

ফসল সংগ্রহ:

জাত ও আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে তরমুজ পাকে। সাধারণত ফল পাকতে বীজ বোনার পর থেকে ৮০-১১০ দিন সময় লাগে। তরমুজের ফল পাকার সঠিক সময় নির্নয় করা একটু কঠিন। কারণ অধিকাংশ ফলে পাকার সময় কোনো বাহ্যিক লক্ষণ দেখা যায় না। তবে নীচের লক্ষণগুলো দেখে তরমুজ পাকা কি না তা অনেকটা অনুমান করা যায়।
ফলের বোঁটার সঙ্গে যে আকর্শি থাকে তা শুকিয়ে বাদামি রং হয়।
খোসার উপরে সূক্ষ লোমগুলো মরে পড়ে গিয়ে তরমুজের খোসা চকচকে হয়।
তরমুজের যে অংশটি মাটির ওপর লেগে থাকে তা সবুজ থেকে উজ্জল হলুদ রংঙের হয়ে ওঠে।
তরমুজের শাঁস লাল টকটকে হয়।
আঙ্গুল দিয়ে টোকা দিলে যদি ড্যাব ড্যাব শব্দ হয় তবে বুঝতে হবে যে ফল পরিপক্কতা লাভ করেছে। অপরিপক্ব ফলের বেলায় শব্দ হবে অনেকটা ধাতবীয়।

ফলন:

সযত্নে চাষ করলে ভালো জাতের তরমুজ থেকে প্রতি হেক্টরে ৫০-৬০ টন ফলন পাওয়া যায়।
এই ছিলো তরমুজ চাষ পদ্ধতি  ভালো লাগলে ,অবশ্যই লাইক কমেন্ট শেয়ার করবেন।

Photo Credit: Pixabay

সূত্র : অনলাইন

Categories
কৃষি চাষ পদ্ধতি

টমেটো চাষ পদ্ধতি

টমেটো চাষ পদ্ধতি: টমেটো পুষ্টি গুণে ভরা এক ধরনের সালাদ সবজি। ভিটামিন এ এবং ভিটামিন সি-র অন্যতম উৎসও বটে। এছাড়া এতে আছে বেটা কেরোটিন নামক এক প্রকার ভিটামিন যা রাতকানা রোগ থেকে রক্ষা করে। আরো আছে আমিষ, শর্করা, খনিজ পদার্থ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান। ভেষজ গুণসমৃদ্ধ টমেটোতে ক্যান্সার প্রতিরোধী উপাদান রয়েছে। দৈনিক একটি করে টমেটো খেলে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা শতকরা ৬০ ভাগ কমে যায়।

টমেটো চাষ পদ্ধতি:

বীজতলা তৈরির সময়:

শীতকালীন টমেটো চাষের জন্য কার্তিকের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে তৃতীয় সপ্তাহ (অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ থেকে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ ) পর্যন্ত বীজতলায় বপনের উপযুক্ত সময়।

রোপণের সময় ও চাষ পদ্ধতি:

প্রায় সব ধরনের মাটিতেই টমেটো চাষ করা যায়। তবে বেলে দোঁ-আশ মাটি সবচেয়ে উপযোগী। কার্তিকের শেষ সপ্তাহ থেকে অগ্রহায়ণের প্রথম সপ্তাহ (নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ) চারা লাগানোর উপযুক্ত সময়।

তবে অগ্রহায়ণের মাঝামাঝি পর্যন্ত- ২০-২৫ দিনের চারা লাগানো যায়। জমি চাষ সম্পন্ন হলে ভূমি হতে ১০-১৫ সেমি উঁচু বেড তৈরি করে বেডের চারপাশে ড্রেনের ব্যবস্থা রাখতে হয়। চারা লাগানোর সঙ্গে সঙ্গে পানি দিতে হবে। সারি থেকে সারির দূরত্ব হবে ৫০ সেমি এবং চারা হতে চারার দূরত্ব হবে ৫০ সেমি।

 টমেটো জাত:


আগাম জাত– এসব জাত শীতকালেই হয়, তবে আগাম ফলে। আগাম জাতসমূহের বীজ বপন করা হয় জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসে। আগাম জাতসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল বারি টমেটো ৪, বারি টমেটো ৫, রোমা ভিএফ, রোমারিও, টিপু সুলতান, গ্রেট পেলে, ডেল্টা এফ ১, উন্নয়ন এফ ১, পুষারুবী, নিউ রূপালী এফ ১ ইত্যাদি।

আরো পড়ুনঃ বরবটি চাষ পদ্ধতি

ভরা মৌসুমী জাত– শীতকালে স্বাভাবিক সময়েই এসব জাতের গাছে ফল ধরে। সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে বীজ বুনে অক্টোবর-নভেম্বরে এসব জাতের টমেটোর চারা রোপণ করা হয়। অধিকাংশ জাতই শীতকালে ফলে।

এসব জাতের মধ্য থেকে মানিক, রতন, বারি টমেটো ৩, বারি টমেটো ৬, বারি টমেটো ৭, বারি টমেটো ৯, বাহার, মহুয়া ইত্যাদি জাতকে বেছে নেয়া যেতে পারে।

নাবি শীত মৌসুমী জাত- এসব জাতের বীজ বুনতে হয় জানুয়ারিতে, ফল পাওয়া যায় মার্চ-এপ্রিল পর্যন্ত। বাহার, রোমা ভিএফ, রাজা, সুরক্ষা ইত্যাদি জাত নাবি চাষের জন্য ভাল।

সারা বছর চাষের উপযোগি জাত:

বছরের যে কোন সময় টমেটোর বীজ বুনলে চারা ও  সেসব চারা লাগালে গাছ হয় সত্য, এমনকি সেসব গাছে ফুলও আসে। কিন’ সব জাতের গাছে ফল ধরে না। এজন্য সারা বছর চাষের উপযোগি জাত  যেমন বারি টমেটো ৬ (চৈতী) চাষ করা যায়।

বীজের পরিমাণ:

বীজতলায় বীজ বপনের ক্ষেত্রে শতাংশ জমি প্রতি ১ গ্রাম (২০০ গ্রাম/হেক্টর) বীজ লাগে। তবে জাত ভেদে বীজের পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে।

মূল জমি তৈরি:

জমি ভালভাবে চাষ দিয়ে বেড তৈরি করে নিতে হবে।

সারের পরিমাণ ও প্রয়োগ:

টমেটো গাছ মাটি থেকে প্রচুর পরিমাণ খাদ্য উৎপাদন গ্রহণ করে। বৃদ্ধির প্রাথমিক পর্যায়ে খাদ্যের অভাব হলে গাছ দ্রুত বাড়ে না এবং পরবর্তী পর্যায়ে খাদ্যের ঘাটতি ফলণ অনেক কমিয়ে দেয়।

মাটি পরীক্ষা করে জমির চাহিদা অনুযায়ী সার প্রয়োগ করাই সবচেয়ে ভাল। তবে গড়পড়তায় টমেটো চাষের জন্য প্রতি শতাংশ জমিতে যে সারের দরকার হয় তা হলোঃ

সার প্রয়োগ পদ্ধতি:

ইউরিয়া ও এমওপি সার ব্যতীত বাকি সব সার মূলজমি তৈরির সময় প্রয়োগ করতে হবে এবং মাটির সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে ফেলতে হবে। তবে দস্তা ও টিএসপি এক সাথে প্রয়োগ করা উচিত নয়।

ইউরিয়া ও এমওপি সার সমান তিন ভাগে ভাগ করে তিনবারে উপরি প্রয়োগ করতে হবে। প্রথম ভাগ চারা রোপণের ১০-১৫ দিন পর, দ্বিতীয় ভাগ চারা রোপণের ২৫-৩০ দিন পর, তৃতীয় ভাগ চারা রোপণের ৪০-৪৫ দিন পর উপরি প্রয়োগ করতে হবে।

টমেটো চারা রোপন পদ্ধতি ( টমেটো চাষ পদ্ধতি):

চারার বয়স ২৫-৩০ দিন অথবা ৪-৬ পাতা হলে মূল জমিতে রোপণ করতে হবে।বীজতলা থেকে চারা অত্যন্ত যতœ সহকারে তুলতে হবে যাতে চারা শিকড় ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। এ জন্য চারা তোলার আগে বীজতলার মাটি ভিজিয়ে নিতে হবে।

চারা রোপণের আগে উপড়ে তোলা চারাগাছটির গোড়া (শিকড়) ২% ইউরিয়া +২% বোরিক এসিড দ্রবণে ডুবিয়ে নিলে চারা গাছটি তাৎক্ষণিকভাবে খাবার পায়। ফলে পাতা হলুদ বা বিবর্ণ হবে না।

আরো পড়ুনঃ পিয়াজ চাষ পদ্ধতি

প্রথমে ১ মিটার চওড়া বেড তৈরি করে নিতে হবে। প্রতি বেডে দুই লাইন করে চারা রোপণ করতে হবে। লাইন থেকে লাইনের দূরত্ব হবে ৬০ সেমি. এবং প্রতি লাইনে চারা থেকে চারা ৬০ সেমি. দূরত্বে লাগাতে হবে।

একটি বেডে দুই লাইনে টমেটোর চারা রোপণ করার ক্ষেত্রে চারাগুলো ত্রিভূজ আকৃতিতে লাগাতে হবে।বিকেলের পড়ন্ত রোদে চারা রোপণ করাই উত্তম এবং লাগানোর পর গোড়ায় হালকা সেচ প্রদান করতে হবে।

সেচ ও নিষ্কাশন:

চারা রোপণের ৩-৪ দিন পর পর্যন্ত হালকা সেচ ও পরে প্রতি কিস্তিতে সার উপরি প্রয়োগের পর জমিতে সেচ দিতে হয়। গ্রীষ্ম মৌসুমে টমেটো চাষের জন্য ঘন ঘন সেচের প্রয়োজন হয়। বর্ষা মৌসুমে তেমন একটা সেচের প্রয়োজন হয় না। টমেটো গাছ জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না।

সেচ অথবা বৃষ্টির অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য নালা পরিমিতি চওড়া (৩০-৪০ সেন্টিমিটার) এবং এক দিকে সামান্য ঢালু হওয়া দরকার।

সেচ দেওয়ার সময় খেয়াল রাখতে হবে, সেচের পানি কখনোই যেন বেডের উপর উঠে না আসে। নালাতে সেচ দিতে হবে, নালা থেকে শোষণের মাধ্যমে বেড ও গাছ পানি সংগ্রহ করতে হবে।

আচ্ছাদনের ব্যবস্থা:

সূর্যের প্রখরতা থেকে চারা গাছকে বাঁচানোর জন্য ছায়াদানের ব্যবস্থা করতে হবে।

মালচিং:

প্রতিটি সেচের পরে মাটির উপরি ভাগের চটা বা চাকামাটি ভেঙে দিতে হবে যাতে মাটিতে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করতে পারে।

আগাছা দমন:

টমেটোর জমিতে প্রয়োজনীয় নিড়ানি দিয়ে আগাছামুক্ত রাখতে হবে।

টমেটো গাছের পরিচর্যা:

#   প্রথম ফুলের গোছার ঠিক নিচের কুশিটি ছাড়া নিচের সব পার্শ্বকুশি ছেঁেট দিতে হবে।

#   বাউনিয়া দেয়া-গাছে বাঁশের খুঁটি দিয়ে ঠেকনা দিতে হবে।

আরো পড়ুনঃ ক্যাপসিকাম চাষ পদ্ধতি

ফসল তোলা:

#    ফলের নিচে ফুল ঝরে যাওয়ার পর যে দাগ থাকে ঐ স্থান থেকে লালচে ভাব শুরু হলেই বাজারজাতকরণের জন্য ফল সংগ্রহ করতে হবে। এতে ফল অনেকদিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়।

#    অপরিপক্ব অবস্থায় ফল তুলে হরমোন প্রয়োগে ফল পাকানো হলে ফলের স্বাভাবিক স্বাদ ও পুষ্টিগুণ নষ্ট হয় এবং ফলনও কম হয়। তাই এভাবে ফলন সংগ্রহ ও পাকানো মোটেই সমীচিন নয়।

মেয়াদ:

১০০-১৪০ দিন।

ফলন:

জাত ভেদে ফলন ১৫-৫০ টন/একর হয়। মৌসুম, জাত, আবহাওয়া এবং পরিচর্যা অনুযায়ী প্রতি একর জমিতে ৫০ টনের বেশি টমেটো পাওয়া সম্ভব।

Photo Credit: Pixabay

সূত্র : অনলাইন

Categories
কৃষি চাষ পদ্ধতি

বরবটি চাষ পদ্ধতি

বরবটি চাষ পদ্ধতি: আমাদের দেশে বরবটি একটি জনপ্রিয় সবজি। এই সবজি বর্তমানে বার মাস কালই পাওয়া যায়। আমাদের দেশের কৃষকেরা উন্নত জাতের বরবটি চাষ করে যেমন তাদের চাহিদা মিটাতে পারেন, তেমনি আবার বাজারে বিক্রয় করে আর্থিক ভাবে লাভবান হতে পারে।

বরবটি চাষ পদ্ধতি:

প্রয়োজনীয় জলবায়ু:

অপেক্ষাকৃত উচ্চ তাপমাত্রায় বরবটি ভালো জন্মে।তবে খুব শীতে বরবটির চাষ বেশী ভাল হয় না।কারন শীতকালে বরবটি গাছের বৃদ্ধি কম হয় ও ফল কম ধরে।বরবটি উষ্ণ ও অবউষ্ণ অঞ্চলের ফসল।

মাটি:

প্রায় সব ধরনের মাটিতে বরবটি সব সময় চাষ করা যায়। তবে দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ  মাটিতে বরবটির চাষের জন্য বেশি উপযোগী।

আরো পড়ুনঃ পিয়াজ চাষ পদ্ধতি

বরবটির জাত:

বরবটির চাষ করলে ভাল জাত দেখে চাষ করতে হবে। বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরণের বরবটির জাত রয়েছে। যেমন- বিএইউ বরবটি-১ , কেগর নাইটি, চীনা বরবটি, ফেলন, লালবেনী, ঘৃত কুমারী, গ্রীন লং, তকি, বনলতা ইত্যাদি। তবে কেগরনাটকী নামে একটি উন্নত জাতের বরবটি অনেক দিন পর্যন্ত আমাদের দেশে চাষ হয়ে আসছে। কেগরনাটকী জাতটি পৌষ এবং মাঘ মাস ছাড়া সারা বছরই চাষ করা যায়। বরবটির উল্লেখযোগ্য জাতের মধ্যে কেগরনাটকী ও লাল বেণী জাতের ফলন সবচেয়ে বেশি।

চাষের সময়:

বরবটির বীজ বপনের উপযুক্ত সময় হলো ফেব্রয়ারী থেকে জুলাই মাস। শীতকালে বরবটির বীজ বোনা উচিৎ নয়।

জমি তৈরি :

বরবটি চাষের জন্য জমি হতে হবে আগাছা মুক্ত ও ঝুরঝুরে মাটি। এর জন্য জমি ভালোভাবে কয়েক বার চাষ দিতে হবে। জমি পরিষ্কার করে ৪ থেকে ৫৬ টি চাষ ও মই দিয়ে ভালভাবে জমি তৈরি করতে হবে।

আরো পড়ুনঃ ক্যাপসিকাম চাষ পদ্ধতি

 বীজ বপন:

  • তারপর মাটির উপরে বেড ও মাদায়  তৈরি করে প্রত্যেক মাদায় ৪-৫ টি বীজ বপন করতে হবে।
  • বীজ বপনের সময় খেয়াল রাখতে হবে সারি হতে সারির দূরত্ব হতে হবে ২-৩ হাত এবং মাদা হতে  মাদার দূরত্ব হতে হবে ১/২ হাত।
  • একই সময় পলিব্যাগে কিছু চারা তৈরি করে রাখলে যেসব জায়গায় বীজ গজাবে না সেসব ফাঁকা জায়গায় পলিব্যাগে চারা রোপণ করে পূরণ করা যাবে।
  • প্রতি হেক্টর জমিতে ১০ কেজি (শতকে ৪০ গ্রাম) বীজ লাগে।

সার প্রয়োগ পদ্ধতি:

  • জৈব সার বরবটি গাছের জন্য খুবই ভাল সার।
  • অল্প সময়ে অধিক ফলন পেতে হলে অন্যান্য সারও দিতে হবে পরিমাণমতো।
  • যেমন-টিএসপি, এমওপি ও ইউরিয়া।
  • এসব সার প্রয়োগের পর জমিতে সেচ দিতে হবে।
  • তবে মনে রাখবেন বরবটি চাষে ইউরিয়া সার কম লাগে।
  • এছাড়াও আপনি গোবর সার, জিপসাম সার, জিংক সালফেট সার ও বোরক্স সার দিতে পারেন।
  • ইউরিয়া সার বেশি দিলে গাছ ঝোপালো হয় ও ফলন কম হয়।

 সেচ পানি নিষ্কাশন:

জমিতে পানির যাতে অভাব না হয় সেজন্য প্রয়োজন অনুসারে  শুকনার সময় সেচ দিতে হবে।

নালার মধ্যে পানি ঢুকিয়ে সেচ দিলে গাছের শিকড় সে পানি টেনে নিতে পারে।

 আগাছা ও নিড়ানি:

বৃষ্টির পানি যাতে আটকে না থাকে সেজন্য নালার আগাছা পরিষ্কার করে দিতে হবে।

রোগ-বালাই:

বরবটি গাছে বিভিন্ন ধরনের পোকার আক্রমন দেখা যায়।

আরো পড়ুনঃ কমলা চাষ পদ্ধতি

বরবটি রোগ: জাব পোকা, বিছা পোকা, মাজরা পোকা ইত্যাদি।

এসকল পোকা বরবটি গাছের কচিপাতা, কাণ্ড, ফুল ও ফলের ক্ষতি করে থাকে।

দমন: পোকাগুলো দমন করার জন্য বাজারে বিভিন্ন ধরণের উন্নত মানের কীটনাশক ঔষধ পাওয়া যায়। এছাড়াও বরবটি গাছের বিভিন্ন ধরনের রোগ হতে পারে। যেমন- এনথ্রাকনোজ রোগ, পাতায় দাগ রোগ, গাছের শিকড় ও গোড়া পচা রোগ ইত্যাদি। এসব রোগ দমন করার জন্যও বাজারে বিভিন্ন ছত্রাকনাশক পাওয়া যায়।

Categories
কৃষি চাষ পদ্ধতি

পিয়াজ চাষ পদ্ধতি

পিয়াজ চাষ পদ্ধতি: বাঙ্গালীর খাদ্য তালিকায় পিয়াজ একটি অবিচ্ছেদ্য উপাদান। পরিমানের দিক দিয়ে পিয়াজ বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ মসলা। পিয়াজ সাধারনত মসলা হিসাবে ব্যবহৃত হলেও সবজি ও সালাদ হিসাবেও পিয়াজের ব্যবহার সব দেশেই প্রচলিত আছে।

পিয়াজ চাষ পদ্ধতি:

পরিচিতি: 

বাংলা নামঃ পিয়াজ
ইংরেজী নামঃ Onion
বৈজ্ঞানিক নামঃ Allium cepa
পরিবারঃ Amaryllidaceae

জাত:


এলাকাভেদে বিভিন্ন স্থানীয় জাত যেমন তাহেরপুরী, ফরিদপুর ভাতি, ঝিটকা, কৈলাসনগর উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট বারি পেঁয়াজ-১ নামে একটি শীতকালীন পেঁয়াজের জাত উদ্ভাবন করেছে। এছাড়াও বারি পেঁয়াজ-২ ও বারি পেঁয়াজ-৩ নামে খরিপ মৌসুমের দুটি জাত উদ্ভাবন করেছে। বারি পেঁয়াজ-২ ও ৩ খরিপ মৌসুমে অর্থাৎ গ্রীস্মকালেও চাষের উপযোগী

মাটি ও আবহাওয়া:

পেঁয়াজকে সাধারণত ঠান্ডা জলবায়ু উপযোগী ফসল বলে বর্ণনা করা হয়। উর্বর মাটি এবং সেচ ও নিষ্কাশন সুবিধাযুক্ত জমিতে পেঁয়াজ চাষ করতে হয়। ১৫-২৫ সেঃ তাপমাত্রা পেঁয়াজের জন্য সর্বাপেক্ষা উপযোগী। উচ্চ তাপমাত্রায় জন্মানো পেঁয়াজে ঝাঁঝ বেশি হয়। অধিক এঁটেল মাটিতে পেঁয়াজের চাষ করা যায় না। দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ মাটি পেঁয়াজ চাষের জন্য উত্তম।

জমি তৈরি ও চারা রোপণ:

জমি ৪-৫ টি গভীর চাষ ও মই দিয়ে আগাছা বেছে, মাটির ঢেলা ভেঙ্গে মাটি ঝুরঝুরা ও সমতল করে চাষের জন্য উত্তমরূপে তৈরি করতে হবে। ১৫ সে.মি. দূরে দূরে লাইন টেনে লাইনে ১০ সে.মি. দূরত্বে চারা রোপণ করতে হবে। দুইটি বেডের মাঝখানে পানি সেচ ও নিষ্কাশনের সুবিধার জন্য ৫০ সে.মি. প্রশস্থ নালা রাখতে হবে।

রোপন পদ্ধতি ও সময়:


পেঁয়াজ তিনটি পদ্ধতিতে চাষ করা যায়। যেমনঃ

১) শল্ক কন্দ রোপন করে। প্রতি হেক্টর জমিতে দেশী জাতের চারা তৈরী করে তা রোপন করতে হলে ৩-৪ কেজি ভাল বীজ প্রয়োজ্‌ন। অপরদিকে সরাসরি জমিতে বীজ বুনে পেঁয়াজ চাষে হেক্টরপ্রতি ৬-৭ কেজি বীজের প্রয়োজন। আকার ভেদে হেক্টর প্রতি ১২০০-১৫০০ কেজি শল্ক কন্দ দরকার হয়।

২) সরাসরি বীজ বুনে। এক্ষেত্রে ৬-৮ কেজি বীজ দরকার হয়।

৩) বীজতলায় বীজ বুনে চারা উত্তোলন করে তা রোপন করে। বীজ হতে চারা তৈরি করে রোপন করলে অধিক ফলন হয় এবং কৃষকগণ অর্থনৈতিকভাবে বেশি লাভবান হন। এ পদ্ধতিতে অক্টোবর মাসে বীজ তলায় বীজ বপন করতে হয়। বপন পদ্ধতি অনুসরণ করলে এ সময়েই কন্দ বা বীজ সরাসরি জমিতে বুনতে হবে।

বীজতলা তৈরি:


সাধারণত বীজতলা ১৫-২০ সে.মি. উচু এবং বীজতলা ৩ x ১ মি. আকারের হতে হবে। প্রতি বীজ তলায় ২৫-৩০ গ্রাম হিসাবে বীজ বুনতে হয়। প্রতি হেক্টর জমিতে চারা উৎপাদনের জন্য ৩ x ১ মি. আকারের ১২০-১৩০টি বীজতলার প্রয়োজন হবে। বীজতলার মাটি প্রতি ১ ভাগ ফরমালডিহাইডের সাথে ৫০ ভাগ পানি মিশিয়ে শোধন করে নিলে ভাল হয়।

বীজতলায় চারা উঁইপোকা ও পিপঁড়া দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা থাকে। এদের আক্রমন প্রতিরোধ করার জন্য ফুরাডন ৫ কেজি বীজতলায় ছিটিয়ে একটি হালকা সেচ দিতে হবে। বীজতলায় চারা ড্যাম্পিং অফ রোগগ্রস্ত হতে পারে। এর থেকে রক্ষা করার জন্য ২৫-৩০ গ্রাম ডাইথেন এম-৪৫ ঔষধ ১০ লিটার পানির সাথে মিশিয়ে বীজতলার মাটিতে ছিটিয়ে দিতে হবে (বীজ বপনের কিছু পূর্বে)।

আরো পড়ুনঃ ক্যাপসিকাম চাষ পদ্ধতি

বপনের বীজ অল্পক্ষণের জন্য ভিজিয়ে এবং সামান্য ঘষে (আস্তে আস্তে) নিতে হবে। বীজ বপনের আগে ১ ভাগ বীজের সাথে ৯ ভাগ শুকনা ছাই অথবা ঝুরঝুরা মাটি মিশিয়ে নিতে হবে। বীজতলার বীজ সমানভাবে ছিটিয়ে হাত আচরা অথবা হাতের সাহায্যে ঝুরঝুরা মাটি দিয়ে ০.৫-১.০ সেঃমিঃ গভীরে বীজ ঢেকে দিতে হবে। বীজ যদি বেশি মাটির নিচে বোনা বা বপন করা হয় তবে কম পরিমানে গজাবে বা গজাতে অসুবিধা হবে।

বীজতলায় মাটিতে রস কম থাকলে হালকা সেচ দিতে হবে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে। শীত মৌসুমে সকালে কুয়াশার পানি পাতার উপর হলে সে পানি একটি কাঠি বা দড়ির সাহায্যে মাটিতে ফেলে দিলে চারাগুলো এই পানি ব্যবহার করে পানির চাহিদা পূরন করতে পারে।

বীজ বপন ও চারা রোপণ সময়:


শীতকালীন জাতগুলোর বীজ মধ্য সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর মাসে বীজতলায় বপন করতে হয় এবং অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ থেকে নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত ৪০-৫০ দিন বয়সের চারা ক্ষেতে রোপণ করতে হয়।
গ্রীস্মকালীন জাতগুলো যেমন বারি পেয়াজ ২ ও ৩ আগাম চাষ করতে হলে মধ্য ফেব্রুয়ারী থেকে মার্চের ১ম সপ্তাহ পর্যন্ত বীজ বপন করতে হয় এবং এপ্রিল মাসে ৪০-৫০ দিন বয়সের চারা মাঠে রোপণ করা যায়।

গ্রীষ্মকালীন জাতগুলো নাবি চাষ করতে হলে জুলাই মাসে বীজতলায় বীজ বপন করতে হয় এবং মধ্য আগস্ট থেকে মধ্য সেপ্টেম্বর মাসে ৪০-৫০ দিন বয়সের চারা মাঠে রোপণ করতে হয়। গ্রীস্মকালীন জাতগুলোর জন্য বীজ বপন থেকে ফসল উত্তোলন পর্যন্ত প্রায় ৯৫-১১০ দিন এবং শীতকালীন জাতগুলোর জন্য ১৩০-১৪০ দিন সময় লাগে।

এ সময়ে বীজ বপন ও চারা রোপনের সময় অত্যধিক বৃষ্টি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য পলিথিন/চাঁটাই ব্যবহার করা যেতে পারে।

সার প্রয়োগ:


পেঁয়াজের জমিতে নিম্নরূপ পরিমাণ সার প্রয়োগ করতে হয়।
সার মোট পরিমাণ* (হেক্টর প্রতি) শেষ চাষের সময় দেয় পরবর্তী পরিচর্যা হিসাবে দেয়
(২০ দিন পর)
গোবর ১০ টন সব –
ইউরিয়া ২৫০ কেজি ১৬৭ কেজি ৮৩ কেজি
টিএসপি ২৭৫ কেজি সব –
এমপি ১৫০ কেজি সব –
জিপসাম ১১০ কেজি সব –
জিংক অক্সাইড ৩.০ কেজি সব –
সুএঃ গ্রীস্মকালীন বারি পেঁয়াজ ২ ও ৩ এর উৎপাদন পদ্ধতি, মসলা গবেষনা কেন্দ্র, বারি, জয়দেবপুর।
* মাটির উর্বরতাভেদে সার ও তার পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে।

পরিচর্যা (পিয়াজ চাষ পদ্ধতি):


পেঁয়াজের জমিতে মাটির প্রয়োজনীয় রস না থাকলে প্রতি ১০-১৫ দিন অন্তর পানি সেচ প্রয়োজন। সেচ প্রদানের পর মাটি দৃঢ় হয়ে গেলে তা নিড়ানি দিয়ে ভালভাবে দৃঢ়তা ভেঙ্গে দিয়ে ঝুরঝুরা করে দিতে হবে। তাতে কন্দের বৃদ্ধি ভাল হবে। নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার করতে হবে। তবে ভাল ফলনের জন্য পেঁয়াজের বেডে কচুরিপানা দিয়ে মালচ প্রদান করা যেতে পারে। এতে জমিতে সেচ কম লাগে।

আরো পড়ুনঃ কমলা চাষ পদ্ধতি

গাছের গোড়া সব সময় ঝুরঝুরে মাটি দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। পেঁয়াজের কন্দ উৎপাদনের ক্ষেত্রে ফুলের কলি দৃষ্টিগোচর হওয়া মাত্রই তা ভেঙ্গে দিতে হবে। পেঁয়াজ জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না। সুতরাং পেঁয়াজের জমিতে পানি নিকাশনের ব্যবস্থা থাকতে হবে।

পিয়াজ তোলার ১৫ দিন পূর্ব থেকে সেচ বন্ধ রাখতে হবে। আগাছা দেখা যাওয়ার সাথে সাথে নিড়ানি দিয়ে আগাছা উপড়িয়ে ফেলতে হবে। আগাছা নিড়ানো, পিয়াজের গোড়ার মাটি একটু আলগা ঝুরঝুরা করার কাজ একই সাথে করতে হবে।

রোগ ও পোকা দমন:


পিয়াজে গোড়া পচা রোগ:

পাতা পূর্ণতা প্রপ্তির আগেই ডগার দিক থেকে শুকাতে থাকে এবং ঝিমিয়ে পড়ে। শিকড় পচে যায়, গোলাপী বর্ণ ধারন করে এগুলোর আক্রমন যাতে না হয় সেরূপ ব্যবস্থা আগে থেকেই নিতে হবে।

রোগ প্রতিরোধি জাত লাগাতে হবে। প্রয়োজনবোধে ৩.৫ কেজি ডাইথেন এম-৪৫ ঔষধ ১০০০ লিটার পানির সাথে মিশিয়ে এক হেক্টর জমিতে স্প্রে করতে হবে।

পারপল ব্লচ:

আক্রান্ত গাছের পাতা ও পুষ্পদন্ডে কেন্দ্রে গোলাপী রং যুক্ত ছোট ছোট বসে যাওয়া সাদাটে দাগ দেখা যায়। দাগের চারদিকের কিনারা লালচে বলয়যুক্ত। আক্রান্ত পাতা কুঁকড়ে যায়, হলুদ হয়ে শুকিয়ে যায়। গুদামে কন্দের পচন দেখা যায়।

থাইরাম বা ক্যাপটেন ২ গ্রাম/কেজি দিয়ে বীজ শোধন, এবং গাছে ম্যানকোজেব বা জিনেব ২.৫ গ্রাম/লিটার দ্বারা ৭-১০ দিন অন্তর অন্তর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।

এছাড়াও পিয়াজে থ্রিপস ও জাব পোকার আক্রমন দেখা দিতে পারে। এগুলোর আক্রমন প্রতিহত করার জন্য ম্যালাথিয়ন-৫৭ ইসি- ১.১২ লিটার বা ফাইফানল- ৫৭ ইসি- ১.৭ লিটার বা এনথিয়ন – ২৫ ইসি-১.১২ লিটার ১০০০ লিটার পানির সাথে মিশিয়ে এক হেক্টর জমিতে স্প্রে করতে হবে (যেকোন একটি ঔষধ নির্দিষ্ট পরিমানে)।

পিয়াজের কিছু সংখ্যক গাছ ফুল উৎপাদন করে। কলি দেখা মাত্র ফুলের ডাটা ভেঙ্গে দিতে হবে। তবে বীজের জন্য পিয়াজ চাষ করলে ফুলের কলি ভাঙ্গা যাবেনা।

ফসল সংগ্রহ:


পেঁয়াজ উত্তোলনের ১মাস পূর্বে জমিতে সেচ দেওয়া বন্ধ রাখতে হবে। চারা থেকে কন্দের পরিপক্কতা পর্যন্ত পেঁয়াজ এর মাত্র ৫০-৭০ দিন সময় লাগে এবং বাল্ব থেকে বাল্ব পরিপক্ক হতে ১১০-১২০ দিন সময় লাগে। উজ্জ্বল রৌদ্রযুক্ত দিনে পেঁয়াজ উত্তোলন করলে সংরক্ষণ ভাল হয়। পেঁয়াজ গাছ পরিপক্ব হলে পাতা ক্রমান্বয়ে হলুদ হয়ে হেলে পড়ে। জমির প্রায় ৭০-৮০% গাছের এ অবস্থা হলে পেঁয়াজ তোলার উপযোগী হয়। বীজ বপন থেকে ফসল উত্তোলন পর্যন্ত প্রায় ৯৫-১১০ দিন সময় লাগে। পেঁয়াজ উঠানোর পর মূল ও পাতা কেটে বায়ু চলাচল যুক্ত ঠান্ডা ও ছায়াময় স্থানে ২-৩ দিন রাখতে হবে। এরপর বাছাই ও গ্রেডিং করার পর বাঁশের মাচা বা পাকা মেঝেতে সংরক্ষণ করা যায়।

আরো পড়ুনঃ মুলা চাষ পদ্ধতি

ফলন:

গ্রীস্মকালীন পেঁয়াজ (বারি পেঁয়াজ-২ ও ৩) ফলন হেক্টরপ্রতি ১০-১৩ টন এবং দেশী জাতের পেঁয়াজের ফলন ১২-১৬ টন হয়ে থাকে।(পিয়াজ চাষ পদ্ধতি)

Categories
কৃষি চাষ পদ্ধতি

ক্যাপসিকাম চাষ পদ্ধতি

ক্যাপসিকাম চাষ পদ্ধতি: মিষ্টি মরিচ আমাদের দেশীয় প্রচলিত সবজি না হলেও অতি সম্প্রতি এর চাষ এ দেশে প্রসারিত হচ্ছে বিশেষ করে বড় বড় শহরের আশপাশে সীমিত পরিসরে কৃষকরা এর চাষ করে থাকে, যা অভিজাত হোটেল ও বিভিন্ন সুপার মার্কেটে বিক্রি হয়ে থাকে। মিষ্টি মরিচের রপ্তানি সম্ভাবনাও প্রচুর। নিচে দেওয়া হলো চাষাবাদ ও উৎপাদন কলাকৌশল|

ক্যাপসিকাম চাষ পদ্ধতি:

জলবায়ু ও মাটি:

ক্যাপসিকাম উৎপাদনের জন্য ১৬০-২৫০সে. তাপমাত্রা ও শুষ্ক পরিবেশ সবচেয়ে উপযোগী। রাতের তাপমাত্রা ১৬০- ২১০সে. এর কম বা বেশি হলে গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়, ফুল ঝরে পড়ে, ফলন ও মান কমে যায়, কোন কোন ক্ষেত্রে একেবারেই ফলন হয় না।

মাটি:

সুনিষ্কাশিত দো-আঁশ বা বেলে দো-আঁশ মাটি মিষ্টি মরিচ চাষের জন্য উত্তম। মিষ্টি মরিচ খরা এবং জলাবদ্ধতা কোনোটিই সহ্য করতে পারে না। মিষ্টি মরিচের জন্য মাটির অম্ল ক্ষারত্ব ৫.৫-৭.০ এর মধ্যে হওয়া বাঞ্ছনীয়।

জাত:

আমাদের দেশে আবাদকৃত জাতগুলোর মধ্যে প্রধান হচ্ছে–

California Wonder, Tender Bell (F1)এবং Yolow Wonder ইত্যাদি । প্রতি বছর এগুলোর বীজ আমদানি করতে হয়। তবে আমাদের দেশে California Wonder এর বীজ উৎপাদন করার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।

জীবন কাল:

জাত ও মৌসুমভেদে মিষ্টি মরিচের জীবনকাল ১২০ থেকে ১৪০ দিন পর্যন্ত হয়ে থাকে।

বীজ বপনের সময়:

অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাস।

বীজের মাত্রা:

প্রতি হেক্টরে ৩০ হাজার চারার জন্য প্রায় ২৩০ গ্রাম বীজের প্রয়োজন হয়।

চারা উৎপাদন:


  • প্রথমে বীজগুলো ১২ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে।
  • উঁচু বীজতলায় মাটি মিহি করে ১০x২ সে.মি. দূরে দূরে বীজ বপন করে হালকা মাটি দিয়ে ঢেকে দিতে হবে।
  • বীজতলায় প্রয়োজনানুসারে ঝাঝরি দিয়ে হালকাভাবে সেচ দিতে হবে।
  • বীজ গজাতে ৩-৪ দিন সময় লাগে।
  • বীজ বপনের ৭-১০দিন পর চারা ৩-৪ পাতা বিশিষ্ট হলে ৯-১২ সে.মি. আকারের পলি ব্যাগে স্থানান্তর করতে হবে।
  • পটিং মিডিয়াতে ৩:১:১ অনুপাতে যথাক্রমে মাটি, কম্পোস্ট এবং বালি মিশাতে হবে।
  • পরে পলিব্যাগ ছায়াযুক্ত স্থানে স্থানান্তর করতে হবে, যাতে প্রখর সূর্যালোকে এবং ঝড় বৃষ্টি আঘাত হানতে না পারে। উল্লেখ্য যে, অক্টোবর মাস হচ্ছে বীজ বপনের উত্তম সময়।
আরো পড়ুনঃ কমলা চাষ পদ্ধতি

জমি তৈরি:

ভালো ভাবে চাষ ও মই দিয়ে জমি তৈরি করতে হবে যাতে জমিতে বড় বড় ঢিলা এবং আগাছা না থাকে।

সার প্রয়োগ:


মিষ্টি মরিচ চাষে প্রতি শতাংশে

গোবর ৪০ কেজি

ইউরিয়া ১ কেজি

টিএসপি ১.৪ কেজি

এমপি ১ কেজি

জিপসাম ৪৫০ গ্রাম

জিংক অক্সাইড ২০

জমি তৈরির সময় অর্ধেক গোবর সার প্রয়োগ করতে হবে। বাকি অর্ধেক গোবর, টিএসপি, জিংক অক্সাইড, জিপসাম, ১/৩ ভাগ এমপি এবং ১/৩ ভাগ ইউরিয়া চারা রোপণের গর্তে প্রয়োগ করতে হবে। বাকি ২/৩ ভাগ ইউরিয়া এবং এমপি পরবর্তীতে দুই ভাগ করে চারা লাগানোর যথাক্রমে ২৫ এবং ৫০ দিন পর প্রয়োগ করতে হবে।

আরো পড়ুনঃ মুলা চাষ পদ্ধতি

চারা রোপণ:


চারার রোপণ দূরত্ব জাতভেদে ভিন্নতর হয়। সাধারণত ৩০ দিন বয়সের চারা ৪৫x৪৫ সে. মি. দূরত্বে রোপণ করা হয়। মাঠে চারা লাগানোর জন্য বেড তৈরি করতে হবে। প্রতিটি বেড প্রস্থে ৭৫ সে. মি. হতে হবে এবং লম্বায় দুটি সারিতে ২০টি চারা সংকোলনের জন্য ৯ মিটার বেড হবে। দু’টি সারির মাঝখানে ৩০ সে. মি. ড্রেন করতে হবে। চারা পড়ন্ত বিকেলে রোপণ করা উত্তম । চারা রোপণের পর গাছের গোড়ায় পানি দিতে হবে। প্রতিদিন মাঠ পরিদর্শন করতে হবে। যদি কোনো চারা মারা যায় তাহলে ওই জায়গায় পুনরায় চারা রোপণ করতে হবে। নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ হতে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত রাতের তাপমাত্রা অনেক কমে যায় এ সময় গাছের দৈহিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয় । কাজেই গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য পলিথিন ছাউনিতে গাছ লাগালে রাতে ভেতরের তাপমাত্রা বাইর অপেক্ষা বেশি থাকে এবং গাছের দৈহিক বৃদ্ধি স্বাভাবিক হয়।

অন্যান্য পরিচর্যা:


মিষ্টি মরিচ খরা ও জলাবদ্ধাতা কোনোটিই সহ্য করতে পারে না। (ক্যাপসিকাম চাষ পদ্ধতি) জমিতে প্রয়োজন মতো সেচ দিতে হবে। আবার অতিরিক্ত সেচ দিলে ঢলে পড়া রোগ দেখা দিতে পারে। অতিরিক্ত বৃষ্টির ফলে যাতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি না হয় সে জন্য সুষ্ঠু  নিকাশ ব্যবস্থা করতে হবে। কোনো কোনো জাতে ফল ধরা অবস্থায় খুঁটি দিতে হয় যাতে গাছ ফলের ভারে হেলে না পড়ে। আগাছানাশক বা হাত দিয়ে অথবা নিড়ানি দিয়ে প্রয়োজনীয় আগাছা দমন করতে হবে।

আরো পড়ুনঃ করলা চাষ পদ্ধতি
Categories
কৃষি চাষ পদ্ধতি

কমলা চাষ পদ্ধতি

কমলা চাষ পদ্ধতি: যথেষ্ট বৃষ্টিপাত হয় এমন আর্দ্র ও উঁচু পাহাড়ি অঞ্চলে কমলার চাষ ভালো হয়। উঁচু, উর্বর, গভীর সুনিষ্কাশিত এবং মৃদু অম্লভাবাপন্ন বেলে দোআঁশ মাটিতে ভালো হয়। প্রখর সূর্যকিরণ ও উচ্চ তাপমাত্রায় গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। বছরে দেড়শ থেকে আড়াইশ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত, ২৫ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস গড় তাপমাত্রা এবং আংশিক ছায়াযুক্ত স্থান এর জন্য উপযোগী। মাটির অম্ল-ক্ষারত্বের মান ৫.৫ থেকে ৬.০।

কমলা চাষ পদ্ধতি:

জাত: খাসিয়া ও বারি-১

বংশবিস্তার:


বীজ থেকে জাইগোটিক চারা দুর্বল এক্ষেত্রে মাতৃগাছের গুণাগুণ বজায় থাকে না এবং ফল ধরতে প্রায় ৪-৫ বছর লাগে। চারাগুলো সবল ও মাতৃগাছের গুণাগুণ বজায় থাকে এবং ভাইরাস মুক্ত হয়। গাছে ফল ধরতে ৪-৫ বছর লাগে।

অঙ্গাজ:

ভিনিয়ার/ক্লেফট গ্রাফটিং এবং টি-বাডিং চারা থেকে ২-৩ বছরের মধ্যেই ফল আসে।

আরো পড়ুনঃ মুলা চাষ পদ্ধতি

চারা রোপণের সময়:

বর্ষার শুরুতে অর্থাৎ মে-জুন মাসে চারা রোপণ করতে হয়। তবে সেচের সুবিধা থাকলে যে কোনো সময় চারা রোপণ করা যায়।

মাদা তৈরি ও রোপণ:

সমতল জমিতে বর্গাকার, আয়তকার এবং পাহাড়ি জমিতে কন্টুর পদ্ধতিতে মাদা তৈরি করে চারা রোপণ করতে হবে। ৪ মিটার × ৪ মিটার দূরত্বে রোপণ করা যায়। মাদার গর্তের আকার ৬০×৬০×৬০ সেন্টিমিটার। প্রতি মাদায় ১০ কেজি গোবর, ২০০ গ্রাম করে ইউরিয়া, টিএসপি ও এমওপি এবং ৫০০ গ্রাম চুন দিতে হবে। চারা রোপণের ১৫ থেকে ২০ দিন আগে সার প্রয়োগ করতে হবে।

সার ব্যবস্থাপনা:

মাদা প্রতি সার সুপারিশমালা
গোবর  ১০ কেজি
ইউরিয়া ২০০ গ্রাম
টিএসপি ২০০ গ্রাম
এমওপি ২০০ গ্রাম এবং
চুন    ৫০০ গ্রাম চুন দিতে হবে।
উল্লেখ্য যে, চারা রোপণের ১৫ থেকে ২০ দিন আগে সার প্রয়োগ করতে হবে।

সেচ :

আরো পড়ুনঃ করলা চাষ পদ্ধতি

খরা মৌসুমে বয়স্ক গাছে ২ থেকে ৩টি সেচ দিতে হবে। ফল পরিপক্ব হওয়ার সময় সেচ দিলে আকারে বড় ও রসযুক্ত হয়। গাছের গোড়ায় পানি জমলে মাটিবাহিত রোগ হতে পারে।

পরিচর্যা:

আগাছা গাছের বেশ ক্ষতি করে। এছাড়া গাছের শিকড়গুলো মাটির উপরিস্তরে থাকে সেজন্য গভীরভাবে নিড়ানি না দেয়া ভালো। গাছ লাগানোর পর ফল ধরার আগ পর্যন্ত ধীরে ধীরে ডাল ছেঁটে গাছকে নির্দিষ্ট আকারে রাখতে হবে। ডাল ছাঁটাইয়ের পর কাটা অংশে বর্দোপেস্ট দিতে হবে। দুটি পাত্রে ৭০ গ্রাম তুঁতে ও ১৪০ গ্রাম চুন আলাদাভাবে মিশ্রণ করে এক লিটার পানির সঙ্গে মিশিয়ে বর্দোপেস্ট তৈরি করতে হবে।

ফল সংগ্রহ ও ফলন:

কমলা পরিপক্ব হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রঙ বদলাতে শুরু করে। ভালোভাবে পাকার পর ফল সংগ্রহ করলে মিষ্টি হয়। পূর্ণ বয়স্ক কমলাগাছ প্রতি বছর গড়ে ৩০০ থেকে ৪০০টি ফল দেয়। বেশি বয়স্ক গাছ এক হাজার থেকে দেড় হাজার ফল দিতে পারে। একটি গাছ সাধারণত ৫০ থেকে ৭০ বছর পর্যন্ত ফল দিয়ে থাকে।

আরো পড়ুনঃ গাজর চাষ পদ্ধতি
Categories
কৃষি চাষ পদ্ধতি

মুলা চাষ পদ্ধতি

মুলা চাষ পদ্ধতি: মূলা শীতকালের অন্যতম প্রধান সবজি। মূলা সকল শ্রেণীর মানুষের পছন্দের সবজি। মূলা সালাদ, ভাজি ও অন্যান্য তরকারির সাথে ব্যবহার করে খাওয়ার প্রচলন রয়েছে আমাদের সমাজে। মুলার পাতা অনেকেই শাক হিসেবে খেতে বেশি পছন্দ করে থাকেন। মূলার পাতার শাক বেশ পুষ্টিকর।

মুলা চাষ পদ্ধতি:

উন্নত জাত:

বারি মূলা-১, বারি মূলা-২, বারি মূলা-৩, বারি মূলা-৪ ইত্যাদি রবি মৌসুমে চাষ উপযোগী ।

বপনের সময়:

আশ্বিন- কার্তিক (মধ্য সেপ্টেম্বর – মধ্য নভেম্বর) উপযুক্ত সময় ।

চাষপদ্ধতি:

  • মাটির প্রকার ভেদে ৪-৬ টি চাষ ও মই দিতে হবে ।
  • প্রথম চাষ গভীর হওয়া দরকার ।
  • বেড ও নালা পদ্ধতিতে গাজর চাষ করুন।
  • এতে সেচ ও নিষ্কাশন  সুবিধাজনক, পরিচর্যা সহজ,   এবং সেচের পানির  অপচয় কম হয়।
  • সার শেষ চাষের সময় প্রয়োগ করতে হবে।
  • সরাসরি বীজ বুনলে, লাইন থেকে লাইন ১৫ ইঞ্চি এবং চারা থেকে চারা ১১ ইঞ্চি  দূরে লাগাতে হবে ।
আরো পড়ুনঃ করলা চাষ পদ্ধতি

বীজের পরিমান:

জাত ভেদে শতক প্রতি ৪০-৫০ গ্রাম ।

সার ব্যবস্থাপনাঃ

সারের নাম শতক প্রতি সার
ইউরিয়া ০.২ কেজি
টিএসপি ১ কেজি
পটাশ ৪০০ গ্রাম
বোরিক এসিড ৪০ গ্রাম
গোবর বা কম্পোস্ট ৪০-৫০ কেজি

 

শেষ চাষের সময় সবটুকু গোবর বা কম্পোস্ট সার ও টিএসপি এবং ইউরিয়া ও পটাশ সারের অর্ধেক জমিতে সমানভাবে ছিটিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। বাকি ইউরিয়া ও পটাশ সার সমান অংশে যথাক্রমে বীজ বপনের তৃতীয় ও পঞ্চম সপ্তাহে ২ কিস্তিতে প্রয়োগ করতে হবে।

পোকামাকড়:


  • ফ্লি বিটল পোকাদমনে কারটাপ জাতীয় কীটনাশক (যেমন কেয়ার ৫০ এসপি অথবা সানটাপ ৫০এসপি অথবা ফরাটাপ ২০মিলিলিটার) প্রতি ১০লিটার পানিতে  মিশিয়ে প্রতি ৫ শতকে স্প্রে করতে হবে ১০-১২ দিন পরপর ২/৩ বার।
  • জাব পোকা দমনে ইমিডাক্লোরোপ্রিড জাতীয় কীটনাশক (যেমন এডমায়ার অথবা টিডো ৭-১০ মিলিলিটার / ২মুখ) ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে প্রতি ৫ শতকে স্প্রে করতে হবে ১০ দিন পরপর ২/৩ বার। ঔষধ স্প্রে করায় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
  • মূলার বিছা পোকা দমনে এমামেক্টীন বেনজোয়েট জাতীয় কীটনাশক ( যেমন প্রোক্লেইম ১০ গ্রাম) অথবা সাইপারমেথ্রিন জাতীয় কীটনাশক (যেমন-রিপকর্ড ১০ তরল অথবা  সিমবুশ ১০ তরল  ২০ মিলিলিটার / ৪ মুখ)  প্রতি ১০ লিটার পানিতে  মিশিয়ে প্রতি ৫ শতকে স্প্রে করতে হবে ১০ দিন পরপর ২ বার স্প্রে করতে হবে।
আরো পড়ুনঃ গাজর চাষ পদ্ধতি

রোগবালাই:


  • মূলার পাতার দাগ রোগ দমনে কার্বেন্ডাজিম জাতীয় ছত্রাকনাশক (যেমন- নোইন অথবা এইমকোজিম ২০গ্রাম) অথবা সালফার জাতীয় ছত্রাকনাশক (যেমন- কুমুলাস ৪০গ্রাম অথবা গেইভেট ২০গ্রাম) প্রতি ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে প্রতি ৫ শতকে ১২-১৫দিন পরপর ২-৩বার ভালভাবে স্প্রে করতে হবে।
  • মুলার গ্রে মোল্ড রোগ দমনের জন্য কপারঅক্সিক্লোরাইট জাতীয় ছত্রাকনাশক (যেমন- ডিলাইট ৫০ ডব্লিউপি অথবা গোল্ডটন ৫০ ডব্লিউপি ২০ গ্রাম)  প্রতি ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে প্রতি ৫ শতকে  ১২-১৫ দিন পর পর ২-৩ বার ভালভাবে স্প্রে করতে হবে।
  • মুলার মোজাইক রোগ দমনে জমিতে সাদা মাছি দেখা গেলে (বাহক পোকা) ইমিডাক্লোরোপ্রিড জাতীয়  কীটনাশক (যেমন এডমায়ার অথবা টিডো ১০ মি.লি. ২ মুখ ) ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে প্রতি ৫ শতকে স্প্রে করতে হবে। সকাল বেলা গাছে ছাই ছিটিয়ে দিলে এই পোকা গাছ থেকে পড়ে যাবে।

সতর্কতা:

বালাইনাশক/ কীটনাশক ব্যবহারের আগে বোতল বা প্যাকেটের গায়ের লেবেল ভালো করে পড়ুন এবং নির্দেশাবলি মেনে চলুন। ব্যবহারের সময় নিরাপত্তা পোষাক পরিধান করুন। ব্যবহারের সময় ধূমপান এবং পানাহার করা যাবেনা। বালাইনাশক ছিটানো জমির পানি যাতে মুক্ত জলাশয়ে না মেশে তা লক্ষ্য রাখুন। বালাইনাশক প্রয়োগ করা জমির ফসল  কমপক্ষে সাত থেকে ১৫দিন পর বাজারজাত করুন।

সেচ (মুলা চাষ পদ্ধতি):

জমিতে রসের অভাব হলে সেচ দিতে হবে ও পানি নিকাশের ব্যবস্থা রাখতে হবে। সেচের পর চটা ভেঙ্গে দিতে হবে। শীত ও খরার সময় জমিতে ১৫ দিন পরপর সেচ দিতে হবে। ফুল আসার সময় এবং ফল বড় হওয়ার সময় জমিতে পরিমান মত আদ্রতা রাখতে হবে ।

আগাছা:

ফসল বোনার ২৫-৩০দিনের মধ্যে আগাছা বাছাই করতে হবে।সেচ দেয়ার আগে আগাছা বাছাই করতে হবে।

আবহাওয়া দুর্যোগ:

অতিবৃষ্টির কারনে জমিতে পানি বেশি জমে গেলে নালা তৈরি করে তাড়াতাড়ি পানি সরানোর ব্যবস্থা নিতে হবে। জমির পানি বের করার জন্য নালা তৈরি ও মেরামত করে রাখুন ।

আরো পড়ুনঃ পালং শাক চাষ পদ্ধতি

ফলন:

জাতভেদে শতক প্রতি ফলন ২৫০-৩০০ কেজি।

সংরক্ষন:

ফসল তুলে ধুয়ে আকার অনুসারে বাছাই করে নিন। ঠাণ্ডা / শীতল স্থানে সংরক্ষন করতে হবে।

Photo Credit: Youtube

সূত্র : অনলাইন

Categories
কৃষি চাষ পদ্ধতি

করলা চাষ পদ্ধতি

করলা চাষ পদ্ধতি: করলা একটি রুচিকর ও পুষ্টিকর গ্রীষ্মকালীন সবজি। করলায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন, যা হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সাহায্য করে। এতে আছে যথেষ্ট পরিমাণে বিটা ক্যারোটিন। এ বিটা ক্যারোটিন চোখের দৃষ্টি ভালো রাখে এবং চোখের নানা সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে।

করলা চাষ পদ্ধতি:

মাটি :


জল জমেনা এ ধরনের প্রায় সব রকমের মাটিতেই করলার চাষ করা যায়। তবে জৈব পদার্থযুক্ত দো-আঁশ ও বেলে দো-আঁশ মাটি করলা চাষের জন্য বেশি উপযোগী।

জলবায়ু :


বাংলাদেশের আবহাওয়া করলা চাষের জন্য উপযোগী। উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ায় করলা ভালো জন্মে। তবে ফুল আসার সময় অত্যাধিক বৃষ্টিপাতে ফল ধরা ব্যাহত হয়।

জাত :


বাংলাদেশে করলার বেশ কয়েকটি উচ্চফলনশীল জাত রয়েছে।

করলা-১: বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট কৃর্তক উদ্ভাবিত বারি করলা-১ একটি উচ্চফলনশীল জাত। এ জাতের একটি গাছে ২০-৩০টি করলা ধরে। হেক্টরপ্রতি ফলন প্রায় ৩০ টন।

বিএডিসির গজ: বিএডিসির গজ করলা নামের রয়েছে একটি উচ্চফলনশীল করলার জাত। এ জাতের একটি গাছে ১৫-২০টি ফল ধরে। হেক্টরপ্রতি ফলন প্রায় ২৫ টন।

এসব ছাড়াও করলার আছে বেশ কয়েকটি হাইব্রিড জাত। যেমন : বুলবুলি, টিয়া, প্যারট, কাকলি, তাজ-৮৮, গ্রিনস্টার, গৌরব, প্রাইড-১, প্রাইড-২, গ্রিন রকেট, হীরক, মানিক, জয়, রাজা, প্রাচী ইত্যাদি।

জমি তৈরি :

৪ থেকে ৫টি চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করে করলার জন্য জমি তৈরি করতে হবে।

বেড ও মাদা তৈরি :

মই দিয়ে জমি সমান করার পর ১ মিটার চওড়া করে বেড তৈরি করে তার মধ্যে ৩০ সেমি চওড়া করে নালা কাটতে হবে। জমি যতটুকু লম্বা তত টুকু লম্বা বেড তৈরি করতে হবে।

আরো পড়ুনঃ আদা চাষ পদ্ধতি

খুব বেশি লম্বা হলে জমি খ- করা যেতে পারে। করলার জন্য ১.৫ মিটার দূরে দূরে মাদা তৈরি করতে হবে। প্রতিটি মাদার সাইজ হবে দৈর্ঘ্যে, প্রস্থে ও গভীরতায় ৩০ সেমি। বীজ বপনের ৭ থেকে ১০ দিন আগে মাদায় পচা গোবর ও মাদার মাটির সঙ্গে সার মিশিয়ে দিতে হবে।

করলা বীজ:


বীজের পরিমাণ: সাধারণত প্রতি শতকে করলা চাষের জন্য ১৫ থেকে ২০ গ্রাম এবং প্রতি হেক্টরে ৩-৪ কেজি বীজের প্রয়োজন হয়।

বীজ বপনের সময়: করলার বীজ বপনের উপযুক্ত সময় হলো ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস। তবে আগাম ফসলের জন্য ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে করলার বীজ বপন করা যায়।

বীজ বপন: করলার বীজের ত্বক শক্ত ও পুরু। তাই দ্রুত অঙ্কুরোদগমের জন্য বপনের আগে ৪৮ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে।

প্রতিটি মাদায় ৩-৪টি করে বীজ ২ থেকে ৩ সেমি গভীরতায় বপন করে ঝুরঝুরে মাটি দিয়ে ঢেকে দিতে হবে।

সেচ ও নিকাশ:

করলার জমিতে রসের অভাব হলে দুই বেডে মাঝখানের নালা দিয়ে সেচ দিতে হবে। বৃষ্টিপাতের কারণে জমিতে পানি জমার সঙ্গে সঙ্গে তা দ্রুত নিকাশের ব্যবস্থা করতে হবে।

অন্তর্বর্তীকালীন পরিচর্যা :

  1. করলা গাছ বড় না হওয়া পর্যন্ত আগাছা দমন করতে হবে।
  2. প্রতি মাদায় ২টি করে চারা রেখে বাকি চারাগুলো তুলে ফেলতে হবে।
  3. করলার চারা ১০-১৫ সেমি লম্বা হলে গাছের গোড়ার কাছাকাছি মাটিতে বাঁশের কঞ্চি বা কাঠি পুঁতে একদিকে কাত করে বেঁধে দিতে হবে।
  4. এরপর গাছ ৫০ সেন্টিমিটারের মতো লম্বা হলে ১.৫ মিটার উঁচু করে মাচা তৈরি করে দিতে হবে।
  5. এছাড়া মাঝে মধ্যে মাটি কুপিয়ে আলগা করে গাছের গোড়ায় মাটি দিয়ে উঁচু করে দিতে হবে এবং জমিতে আর্দ্রতা রক্ষায় করলা গাছের গোড়ায় জাবড়া দিতে হবে।

পোকা দমন (করলা চাষ পদ্ধতি):


করলা গাছে তেমন বেশি পোকা-মাকড়ের আক্রমণ দেখা যায় না। তবে ফলের মাছি পোকা, লাল কুমড়া বিটল ও কাঁঠালে পোকার আক্রমণ হতে পারে।

আরো পড়ুনঃ গাজর চাষ পদ্ধতি

ফলের মাছি পোকা:

স্ত্রী মাছি পোকা কচি ফলের গায়ে ২-৫টি ডিম পাড়ে। ডিম ফুটে পোকার কিড়াগুলো আক্রান্ত ফলে ভেতর ঢুকে এবং ফলের শাঁস খায়। আক্রান্ত ফল অকালে ঝরে পড়ে।

পোকা দমন:

  1. আক্রান্ত ফল কিড়াসহ সংগ্রহ করে মাটির গভীরে পুঁতে ফেলতে হবে।
  2. বিষটোপ ও ফেরোমোন ফাঁদ ব্যবহার করতে হবে।
  3. একটি মাটির পাত্রে ১০০ গ্রাম থেতলানো মিষ্টি কুমড়ার সঙ্গে ০.২৫ গ্রাম সেভিন ৮৫ ডাবিস্নউপি মিশিয়ে বিষটোপ তৈরি করতে হবে।
  4. বিষটোপ ৩-৪ দিন পর পর পরিবর্তন করতে হবে।
  5. আক্রমণ বেশি হলে রিপকর্ড বা সিমবুশ ২০ ইসি প্রতিলিটার পানির সঙ্গে ১ মিলি হারে মিশিয়ে ১৫ দিন অন্তর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।

লাল কুমড়া বিটল:

পূর্ণ বয়স্ক পোকা পাতা ও ফল খেয়ে ফেলে।

পোকা দমন:

  1. এ পোকা দমনের জন্য জমি সর্বদা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
  2. হাত দিয়ে পোকা সংগ্রহ করে মেরে ফেলতে হবে।
  3. এছাড়া জমিতে সুমিথিয়ন বা ফলিথিয়ন জাতীয় কীটনাশক প্রতি লিটার পানিতে ১ মিলি হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।

প্রতিকার:

রোগ দেখা দিলে প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম থিয়োভিট মিশিয়ে ১০-১৫ দিন অন্তর স্প্র্রে করতে হবে।

ডাউনি মিলডিউ:

পাতার ওপর ছোট ছোট হলুদ দাগ পড়ে। পাতা ঝলসে ও কুচকে যায়। পাতার নিচে গোলাপি দাগ দেখা যায়।

প্রতিকার:

রোগ দেখা দিলে প্রতি লিটার পানির সঙ্গে ২ গ্রাম ডাইথেন এম-৪৫ মিশিয়ে গাছ ভালোভাবে ভিজিয়ে স্প্র্রে করতে হবে।

আরো পড়ুনঃ পালং শাক চাষ পদ্ধতি

ফসল সংগ্রহ:

বীজ বপনের ৫০-৬০ দিন পর গাছে ফল ধরে। ফল ধরার ১২-১৫ দিন পর করলা সংগ্রহ করতে হয়।

ফলন:

ভালোভাবে যত্ন নিলে হেক্টরপ্রতি ১২-১৫ টন পর্যন্ত করলার ফলন পাওয়া যায়