Categories
উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ মসলার উপকারিতা

ক্যাপসিকামের উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ এবং স্বাস্থ্যকর রেসিপি

ক্যাপসিকাম হল গোলমরিচ গাছের জিনাস, এর মধ্যে বেল মরিচের মতো মিষ্টি  উপাদান  রয়েছে। এই মরিচগুলি বেগুন, আলু এবং টমেটো  মতো  নাইটশেড পরিবারের একটি অংশ।

এর উৎপত্তি হচ্ছে আমেরিকা, তবে আন্তর্জাতিক রন্ধনসম্পর্কিত এবং  বিভিন্ন রোগের  প্রাকৃতিক  প্রতিকার হিসাবে বিশ্বব্যাপী উত্পাদিত ও ব্যবহৃত হয়।

ক্যাপসিকামগুলি মিষ্টি  এবং  মাতাল স্বাদ জাতীয়., যদিও সবুজ জাতগুলি আরও তেতো স্বাদযুক্ত হয়।

ক্যাপসিকামের উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ এবং স্বাস্থ্যকর রেসিপি:

আলোচনার বিষয়:

  1. ক্যাপসিকামের ধরণ
  2. ক্যাপসিকামের পুষ্টির মান
  3. ক্যাপসিকামের সুবিধা
  4. ক্যাপসিকামের ওজন হ্রাস উপকারিতা
  5. খাবারে ক্যাপসিকাম সংযুক্ত করার সেরা উপায়

ক্যাপসিকামের ধরণ:

ক্যাপসিকাম বিভিন্ন বর্ণ এবং প্রজাতিতে আসে এবং উদ্ভিজ্জ বিভিন্ন পুষ্টি এবং গন্ধযুক্ত  হয়. ক্যাপসিকামগুলির বেশ কয়েকটি প্রচলিত ধরণের মধ্যে রয়েছে:

লাল  ক্যাপসিকাম

হলুদ ক্যাপসিকাম

হলুদ ক্যাপসিকাম
হলুদ ক্যাপসিকাম

সবুজ  ক্যাপসিকাম

কমলা  ক্যাপসিকাম

কালো  ক্যাপসিকাম 

বিভিন্ন পুষ্টিগুণ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস- এর কারণে এই রংগুলি আলাদা হয়.

লাল  ক্যাপসিকাম: রেড ক্যাপসিকামগুলিতে উদাহরণস্বরূপ, অন্য কোনও ক্যাপসিকামের তুলনায় বেশি ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট থাকে, এগুলি সর্বোচ্চ অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস সামগ্রী সহ টাইপ তৈরি করে। এতে সবুজ জাতের চেয়ে 11 গুণ বেশি বিটা ক্যারোটিন এবং দেড় গুণ বেশি ভিটামিন সি রয়েছে।

সবুজ  ক্যাপসিকাম: সবুজ ক্যাপিস্কামগুলিতে লাল, হলুদ বা কমলা জাতের তুলনায় কম চিনি থাকে। অনেকে মাঝে মধ্যে সবুজ ক্যাপসিকামের  হজমের সমস্যা কথা বলে-, এর  কারণ এই জাতটিতে  আরও অল্প পরিমানে  কার্বোহাইড্রেট থাকে যা ছোট অন্ত্রের  হজম প্রক্রিয়ায় সমস্যা করে।

ক্যাপসিকামের পুষ্টির মান:

ক্যাপসিকামের   রঙের বিভিন্নতার সাথে সাথে পুষ্টি মানের বিভিন্নতা আছে.  ক্যাপসিকামে খুব কম ফ্যাট থাকে এবং এতে ফাইবারের পাশাপাশি পানির  পরিমাণও বেশি থাকে. ক্যাপসিকামে কম পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট এবং ক্যালোরি রয়েছে এবং এটি  এটি ওজন কমানোর জন্য খুবই প্রয়জনীয় – আপনি একটি স্বাস্থ্যকর, হালকা নাশতা যদি খুজেন তবে এটি আপনার জন্য উপকারী।

পুষ্টিকর মান (1 কাপে ক্যাপসিকামের পুষ্টিগুণ )

ক্যালোরি 30 ক্যালরি

মোট কার্বোহাইড্রেট 6.9 গ্রাম

ডায়েটারি ফাইবার 2.5 গ্রাম

ফ্যাট 0.3 গ্রাম

প্রোটিন ১.৩ গ্রাম

ভিটামিন এবং খনিজ:

ক্যাপসিকামে কেবলমাত্র উচ্চ পরিমাণে ফাইবার থাকে না, এতে উচ্চ পরিমাণে মাইক্রো-পুষ্টি ও থাকে যা আপনার দেহের ক্রিয়াকলাপের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

ক্যাপসিকাম ভিটামিন সি- এর পরিমাণ অনেক বেশি যা আপনার প্রতিদিনের খাওয়ার  চাহিদার প্রায় 213% কভার করে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, ক্ষত নিরাময় এবং কোলাজেন সংশ্লেষ সহ শরীরের অনেক প্রক্রিয়া জন্য ভিটামিন সি প্রয়োজনীয়।

ভিটামিন সি ছাড়াও ক্যাপসিকাম ভিটামিন Aও থাকে, এটি আপনার প্রতিদিনের প্রস্তাবিত খাওয়ার 93% অংশ  পূরণ করে  থাকে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, প্রজনন এবং দৃষ্টি শক্তি জন্য ভিটামিন এ গুরুত্বপূর্ণ। লাল এবং কমলা রঙের  ক্যাপসিকামে বিশেষ ধরণের  ক্যারোটিনয়েড থাকে,  যা ভিটামিন এ এর অন্য একটি রূপ.

এছাড়াও ক্যাপসিকাম  প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি 6  রয়েছে .  ভিটামিন বি 6  এমন  একটি ভিটামিন যা প্রোটিন, ফ্যাট এবং শর্করা বিপাকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ  এবং ফোলেট, যা হাড়ের মজ্জার শ্বেত এবং লাল রক্তকণিকা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় বি-ভিটামিন। ক্যাপসিকামে নিয়াসিন, রিবোফ্লাভিন, থায়ামিন এবং প্যান্টোথেনিক অ্যাসিডের পরিমাণও রয়েছে।

ক্যাপসিকামের উপকারিতা:

ক্যাপসিকামে ভিটামিন, খনিজ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলির  সব গুলো উপাদান বিদ্যমান থাকে যা আমাদের কোষগুলিকে সুরক্ষা দিতে এবং আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে সহায়তা করে.  ক্যাপসিকামের আরো কিছু সুবিধা হলো:

1.চোখের স্বাস্থ্য:

আমাদের দৃষ্টি /  চোখের স্বাস্থ্যের জন্য ক্যাপসিকাম অবিশ্বাস্যভাবে উপকারী। কারণ ক্যাপসিকামে লুটেইন এবং জেক্সানথিনের পরিমাণ বেশি  থাকে , এবং এতে  দুটি ক্যারোটেনয়েড পরিমান গুনাগুন থাকে যা আমাদের চোখের  রেটিনাকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে পারে। বিভিন্ন রিপোর্ট স্টাডি করে দেখা যায় যে উচ্চ মাত্রায় ক্যারোটিনয়েডযুক্ত খাবার গ্রহণ আমাদের চোখকে ম্যাকুলার অবক্ষয় থেকে রক্ষা করতে পারে।

2.রক্তস্বল্পতা রোধ করে:

রক্তস্বল্পতা  মূলত শরীরের লৌহ কণিকা কম থাকা বুজায় – এর একটি বৈশিষ্ট্য হলো এটি আমাদের রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ কমিয়ে দেয় ফলস্বরূপ, রক্তাল্পতায় আক্রান্ত বেশিরভাগ লোকেরা সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই অলস এবং ক্লান্ত বোধ করেন.  ক্যাপসিকামে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এবং মাঝারি পরিমানে আইরন থাকে- এই দুটো খনিজ উপাদান লৌহ কণিকাকে আরো বেশি কার্যকর ভাবে কাজ করতে সহায়তা করে.

3.অবসাদ দূর করে:

ক্যাপসিকামে ম্যাগনেসিয়াম এবং ভিটামিন বি 6 উভয়ই বেশি থাকে। এই দুটি ভিটামিন নার্ভ ফাংশনের জন্য অপরিহার্য এবং উদ্বেগ দূর করতে এবং আতঙ্কের আক্রমণ প্রতিরোধে সহায়তা করে। ম্যাগনেসিয়াম  উত্তেজনাপূর্ণ পেশীগুলি    নিয়ন্ত্রণ করে আমাদের  হার্টবিট নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

4.ক্যান্সার প্রতিরোধ:

ক্যাপসিকামে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা নির্দিষ্ট ধরণের ক্যান্সার প্রতিরোধ   সহায়তা  করে. কমলা  রঙের ক্যাপসিকাম প্রস্টেট ক্যান্সার বৃদ্ধির হার 75% হ্রাস করতে  সহায়তা করে.

5.ইমিউনিটি বৃদ্দি:

ক্যাপসিকামে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে. এমনকি অন্যান্য অনেক ফলমূল এবং শাকসব্জির চেয়েও বেশি পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে. বেশি পরিমাণে ভিটামিন সি – ইমিউন সিস্টেমের জন্য উপকারী।  ক্যাপসিকামের ভিটামিন সি শ্বেত রক্ত কোষের   উৎপাদন এবং শরীরকে যেকোনো প্রকার সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করে.

6.হাড় মজবুত করণ:

ক্যাপসিকাম ম্যাঙ্গানিজ সমৃদ্ধ, একটি খনিজ যা হাড়ের কার্টিলেজ এবং হাড়ের কোলাজেন গঠনে কোফেক্টর এবং হাড়ের খনিজকরণের জন্য প্রয়োজনীয়। ক্যাপসিকামের ভিটামিন  হাড়কে শক্তিশালী করতে এবং অস্টিওপরোসিস থেকে রক্ষা করতেও ভূমিকা রাখে।

ক্যাপসিকামের ওজন হ্রাস উপকারিতা:

ক্যাপসিকামের উপাদানগুলি  ওজন হ্রাসের জন্য দুর্দান্ত. কেবলমাত্র ভিটামিন এবং খনিজ ই নয় ক্যাপসিকামগুলি ফাইবার  সমৃদ্ধ এবং জলের পরিমাণও বেশি।

ওজন এবং ওজন  হ্রাস করার জন্য মূলত ফাইবার এবং পুষ্টি সমৃদ্দ শাকসবজি এবং ফলমূল খাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ..

ক্যাপসিকামে ফাইবার এবং পানি আছে   যা  কার্যকরভাবে ক্ষুধা দমন করতে পারে এবং অত্যধিক খাদ্য গ্রহণে বাধা দেয়. ক্যাপসিকামে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি 6 থাকে।

এই ভিটামিন অনেক বিপাকীয় প্রক্রিয়া জন্য অপরিহার্য। এটি প্রোটিনগুলিকে অ্যামিনো অ্যাসিডে ভাঙ্গতে সহায়তা করে, শর্করা থেকে গ্লুকোজ সংশ্লেষণে সহায়তা করে এবং কার্যকরভাবে চর্বিগুলি ভেঙে দেয়। ভিটামিন বি 6 আপনার রক্তের গ্লুকোজ বজায় রাখতে এবং রক্তে শর্করার স্পাইকগুলি প্রতিরোধ করতে সহায়তা করতে পারে। ওজন হ্রাস করার সময় রক্তে চিনির ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।

লাল ক্যাপসিকামগুলিতে সাধারণত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং পুষ্টির পরিমাণ বেশি থাকে যা অন্যান্য জাতের তুলনায় ওজন হ্রাসে সহায়তা করে। আপনার ওজন কমানোর জন্য কোন ক্যাপ্সিকামগুলি উপকারী এই বেপারে যদি আপনি দোটানায় থাকেন তাহলে মনে রাখবেন যে -শাক সবজি যত লাল ততো  ভালো . তবে আপনার যদি ডায়াবেটিস থাকে আর আপনি যদি চিনে কম খেতে চান তাহলে সবুজ ক্যাপসিকামগুলিতে অন্যান্য জাতের তুলনায় কম চিনি থাকে ।

ক্যাপসিকামের স্বাস্থ্যকর রেসিপি:

আরো পড়ুন: ক্যাপসিকামের আচার রেসিপি

খাবারে ক্যাপসিকাম সংযুক্ত করার সেরা উপায়

বিভিন্ন বর্ণ, স্বাদ এবং বিভিন্ন উপকারের বিবেচনায়   ক্যাপসিকামকে খাবারের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রচুর উপায় রয়েছে।

ক্যাপসিকাম কারি, পিজ্জা, প্রাতঃরাশের হ্যাশ, সকালের নাশতা, পাস্তা জাতীয় রেসিপিগুলিতে ব্যবহার করা যেতে পারে। হিউমাসের শীর্ষস্থান হিসাবে স্যুপ, সালাদ বা রোস্ট করা যায় ।

ক্যাপসিকামকে আপনার ডায়েটে অন্তর্ভুক্ত করার সর্বোত্তম উপায় হল  জলে ডুবিয়া রেখে কাঁচা খাওয়া। অন্যান্য সবজি, লেবুর রস এবং শাকসব্জির পাশাপাশি ক্যাপসিকাম  রস করে  খাওয়া  যায় । এর ভিতর ভাত, কুইনোয়া, আলু বা অন্যান্য মাংস ভরাট করেও খাওয়া যায় ।

ক্যাপসিকাম উপভোগ করার আরেকটি উপায় হ’ল সস এবং ডিপস।  রোস্টিং ক্যাপসিকাম একটি সমৃদ্ধ, শাকসব্জী যা টমটোর সস এবং মুহাম্মারার মতো  ব্যবহার করা যায়।

মুহাম্মারা হ’ল একটি ভাজা লাল মরিচ, আর  আখরোটের  মিশ্রণ  যা কিনা  লেবাননে খুবই জনপ্রিয়।  আপনি সবুজ  বাদে আপনার পছন্দ মতো  যে কোনও ধরণের ক্যাপসিকাম ব্যবহার করতে পারেন -কারণ সবুজ ক্যাপসিকামটি একটু তিতা  হতে পারে।

আরো পড়ুন: ক্যাপসিকাম চাষ পদ্ধতি

সব শেষে:

ক্যাপসিকাম হ’ল একটি সবজি যা  বিভিন্ন রঙ এবং বিভিন্ন ধরণের.  ক্যাপসিকাম  ভিটামিন, খনিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস এবং ক্যাপসানথিন এবং ক্যাপসোরুবিনের মতো যৌগগুলি সমন্বিত একটি পুষ্টিকর প্রোফাইল।

ক্যাপসিকামে পাওয়া বেশ কয়েকটি প্রচলিত পুষ্টি হ’ল ভিটামিন সি, ভিটামিন এ, ভিটামিন বি 6 এবং ফোলেট . রেড ক্যাপসিকামস বিশ্বের অন্যতম ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার।

মাত্র 100 গ্রাম আপনাকে প্রতিদিনের প্রস্তাবিত খাওয়ার 213% দেয়। যদি আপনি ওজন হ্রাস করতে চান, তবে ক্যাপসিকাম আপনার প্রতিদিনের ডায়েটে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য দুর্দান্ত খাবার হতে পারে।

যেহেতু শাকসব্জিগুলিতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার এবং জল থাকে, এটি ওজন হ্রাস করতে সহায়তা করে এবং বিপাক বাড়াতে সহায়তা করে। ক্যাপসিকাম সহজেই প্রতিদিনের খাবারের সাথে সংযুক্ত করা যায়। আপনি চাইলে এটি কাঁচাও খেতে পারেন।

Image by PublicDomainPictures from Pixabay 

Categories
উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ মসলার উপকারিতা

কাঁচা মরিচের উপকারিতা ও অপকারিতা

কাঁচা মরিচ, নাম শুনলেই আমরা খেতে চাইনা ঝালের ভয়ে।অথচ এই কাঁচা মরিচের রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণ।আমাদের উচিত কাঁচা মরিচের উপকারিতা সম্পর্কে জানা।

চলুন জেনে নিই, কাঁচা মরিচের উপকারিতা ও অপকারিতা।

কাঁচা মরিচের উপকারিতা,কাঁচা লঙ্কা
কাঁচা মরিচ Photo by JD Sartain on Unsplash

কাঁচা মরিচের পুষ্টিগুণঃ

#কাঁচা মরিচে রয়েছে
১। ডায়াটারি ফাইবার
২।থিয়ামিন
৩। রাইবোফ্লবিন
৪।নিয়াসিন
৫।ফলেট
৬। আয়রন
৭।ম্যাঙ্গানিজ
৮।ফসফরাস

কাঁচা মরিচের উপকারিতাঃ

১।হজমের সমস্যায় খেতে পারেন কাঁচা মরিচ। খুব তেল-মসলার রান্নায় ঝালের পরিমাণ কমিয়ে দিন। হালকা ঝাল হজমে সাহায্য করে।

২।কাঁচা মরিচে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন এ থাকায় হাড়, দাঁত ও মিউকাস মেমব্রেনকে ভালো রাখতে সাহায্য করে।

৩।ভিটামিন সি’র পরিমাণও মরিচে বেশি থাকে। তাই ত্বক ও মুখে বলিরেখা পড়তে দেয় না।

৪।কাঁচা মরিচ অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টসমৃদ্ধ, যা শরীরকে জ্বর, সর্দি-কাশি ইত্যাদি থেকে বাঁচায়।

৫।রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ে কাঁচামরিচের হাত ধরে।

আরো পড়ুন: পেঁয়াজের উপকারিতা ও অপকারিতা

৬।কাঁচা মরিচ শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। মরিচের বীজ একাজে খুবই কার্যকর। তাই উচ্চরক্তচাপ ও কোলেস্টেরলে ভুগতে থাকা রোগীদের পাতে মরিচ রাখুন।

৭।কাঁচা মরিচে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা শরীরে জমে থাকা ক্ষতিকর টক্সিক উপাদানের সব বেরিয়ে যায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ক্যান্সার সেল জন্ম নেয়ার আশঙ্কা প্রায় থাকে না বললেই চলে।

৮।নিয়মিত দু’টি করে কাঁচা মরিচ খেলে হার্টের কোনো ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে না।

৯।এতে থাকা বেশকিছু উপকারী উপাদান একদিকে যেমন রক্তে উপস্থিত খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রাকে কমিয়ে ফেলে, তেমনি ট্রাইগ্লিসারাইড যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়, সেদিকেও খেয়াল রাখে।

১০।কোনোভাবেই যাতে ব্লাড ক্লট না হয়, তাও সুনিশ্চিত করে এই প্রাকৃতিক উপাদানটি। ফলে অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস ও হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা যায় কমে।

১১।কাঁচা মরিচে রয়েছে ক্যাপসিসিন নামক একটি উপাদান, যা ঝাল স্বাদের জন্য দায়ী। এই ক্যাপসিসিন কিন্তু শরীরের নানাবিধ উপকারেও লাগে। যেমন- এই উপাদানটি শরীরে প্রবেশ করা মাত্র মিউকাস মেমব্রেনের মধ্যে রক্তের প্রবাহ বেড়ে যায়। ফলে সাইনাস ইনফেকশনের প্রকোপ কমতে সময় লাগে না।

আরো পড়ুন: গোল মরিচের উপকারিতা

১২।প্রতিদিন অন্তত দু’টি কাঁচা মরিচ খেলে কোনো রোগই কাছে ঘেঁষতে সাহস পাবে না। কারণ এতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি, বিটা ক্যারোটিন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। যা দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে এতটাই শক্তিশালী করে তোলে যে কোনো রোগ-জীবাণুই শরীরের ক্ষতি করে উঠতে পারে না।

১৩।ভিটামিন সি ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শুধু ইমিউনিটি বাড়ায় না, সেইসঙ্গে দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটাতে এবং ত্বককে সুন্দর করে তুলতেও সাহায্য করে।

১৪।মন খারাপ হলে দ্রুত একটি কাঁচা মরিচ খেয়ে ফেলুন। দেখবেন মন-মেজাজ একেবারে চাঙ্গা হয়ে উঠবে। এই প্রাকৃতিক উপাদানটি খাওয়া মাত্র এন্ডোরফিন হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়। ফলে স্ট্রেস লেভেল তো কমেই, সেই সঙ্গে মন আনন্দে ভরে ওঠে।

১৫।কাঁচা মরিচের বিভিন্ন উপকারী উপাদান রক্তে শর্করার মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ডায়াবেটিসের মতো রোগ ধারে কাছে ঘেঁষার সুযোগই পায় না।

কাচা মরিচের অপকারিতা:

কাঁচা মরিচে ক্ষতিকারক তেমন কোনো উপাদান নেই বললেই চলে.

কাঁচা মরিছে আছে ভিটামিন এ,সি ,পটাসিয়াম এবং কিছুটা আয়রন। একটা প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের জন্য দৈনিক ৪,৭০০ মিলিগ্রামস পটাসিয়াম দরকার হয় যার ২৫৫ মিলিগ্রাম যোগান দেয় হাফ কাপ কাঁচা মরিচ থেকে।

আরো পড়ুন: দারুচিনির উপকারিতা ও অপকারিতা

এছাড়াও রয়েছে-১৮১.৯ মিলিগ্রামস ভিটামিন সি(১//২ কাপ)। আরো ১/২ কাপ কাঁচা মরিচ থেকে আমাদের দেহে যোগান দিচ্ছে ১.৫ গ্রামস প্রোটিন,০.১৫ গ্রামস ফ্যাট,৭.১ গ্রামস কার্বহাইদ্রেট এবং ১.১ গ্রামস ফাইবার।

তারপর যেমন ভিটামিন এ-যা আমাদের চুল ,শরীরের চামড়া এবং চোখে জন্য অনেক বেশী উপকার। এছাড়াও আরো অনেক উপকারিতা আছে। সুতরাং কাঁচা মরিচ খেলে আশা করি ক্ষতি হবে না।

তবে যদি পেট ব্যথা এবং গ্যাস্ট্রিক থাকলে কম খাওয়া ভালো। কারণ অতিরিক্ত ঝাল কিন্তূ surface এ কিছুটা আলসার এর প্রবণতা দেখা দিতে পারে।

আশা করি,কাঁচা মরিচের উপকারিতা সম্পর্কে জেনে উপকৃত হবেন।এবং খাওয়ার চেষ্টা করবেন।

Photo by roy zeigerman on Unsplash

Categories
উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ মসলার উপকারিতা

পেঁয়াজের উপকারিতা ও অপকারিতা

আসসালামু আলাইকুম, আজকে আমরা জানবো পেঁয়াজের উপকারিতা ও অপকারিতা নিয়ে।

পেঁয়াজ কি আমরা সবাই জানি।বলতে গেলে রান্নার কাজে পেঁয়াজ ছাড়া আমরা অচল। তবে এই পেঁয়াজ যে স্বাস্থ্যের পক্ষে কতটা উপকারি তা আমরা অনেকেই জানিনা।

প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণের সঙ্গে এতে ফাইটোকেমিক্যাল রয়েছে, যা আমাদের শরীরে নানা উপকারে আসে। পেঁয়াজ আমরা নানাভাবে খেতে পারি। তেমনই এর রয়েছে নানাবিধ গুণ

পেঁয়াজের পুষ্টিগুণঃ

১। ভিটামিন

২।মিনারেল

৩।ফাইবার

৪।ক্যালসিয়াম

৫।পটাসিয়াম

৬।সালফার

৭।ভিটামিন B এবং C থাকে।

পেঁয়াজের উপকারিতা ও অপকারিতা:

পেঁয়াজের উপকারিতা

পেঁয়াজের উপকারিতাঃ

১। সংক্রমণ রোধ করতেঃ

পেঁয়াজের কার্মিনেটিভ, অ্যান্টিমাইক্রোবায়াল, অ্যান্টিসেপ্টিক এবং অ্যান্টিবায়োটিক জাতীয় পদার্থ মজুত রয়েছে। তাই শরীরে কোথাও সংক্রমণ ঘটে থাকলে কাঁচা পেঁয়াজ একটু বেশি খান।

২। জ্বর-সর্দিতে প্রতিষেধক হিসেবেঃ

ঠান্ডা লাগার ফলে গলা ব্যথা, সর্দি-কাশি, জ্বর, অ্যালার্জি বা সামান্য গা ব্যথায় দারুণ কাজ করে। সামান্য পেঁয়াজের রসের সঙ্গে একটু মধু মিশিয়ে খান। জলদি সেরে উঠবেন।

৩। দেহের তাপমাত্র কমাতেঃ

জ্বরে দেহের তাপমাত্রা বেশি থাকলে পাতলা করে কাটা পেঁয়াজ কপালে রাখলে কিছু ক্ষণের মধ্যে তাপমাত্রা কমায়।

৪। রক্ত পড়া বন্ধ করতেঃ

গ্রীষ্মে বা শীতে অনেকের নাক থেকে রক্তপাত হয়। পেয়াজ থাকে তাড়াতাড়ি কেটে তার ঘ্রাণ নিতে থাকুন। রক্তপাত কমে যাবে বা একেবারে বন্ধ হয়ে যাবে।

৫। হজমশক্তি বাড়ায়ঃ

হজমে সমস্যা থাকলে  রোজ একটু কাঁচা পেঁয়াজ খান। পেঁয়াজ খাবার হজমের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন এনজাইম বাড়াতে সাহায্য করে। যার ফলে দ্রুত খাবার হজম হয়।

৬। ত্বকের সমস্যা মেটায়-

পোকামাকড়ের কামড় হোক, বা রোদে পোড়া ট্যান, কিংবা ব্রণ-ফুস্কুরি, এ সবের সমস্যা থাকলে সে সমস্ত জায়গায় একটু পেঁয়াজের রস লাগান। একটু কুটকুট করতে পারে, তবে দ্রুত কাজ করবে।

আরো পড়ুন: চুলের যত্নে পেঁয়াজের উপকারিতা
৭। ক্যান্সারের সঙ্গে লড়ে-

কোলন ক্যান্সারের মতো রোগের সঙ্গে লড়তে সাহায্য করে। (পেঁয়াজের উপকারিতা ও অপকারিতা)

৮। হৃদয় এবং হাড় ভালো রাখে-

হাড়ের কঠিন ব্যারাম অ্যাথেরসক্লেরোসিস এবং অস্টিওপোরোসিসের মতো রোগের সঙ্গে লড়ে। তার সঙ্গে দেহে খারাপ কোলেস্ট্রল কমায়। যার ফলে আপনার হার্ট সুস্থ থাকে।

৯। ডায়াবেটিকদের জন্য খুব ভালো-

দেহে ইনসুলিনের মাত্রা বাড়াতে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রাখতে পেঁয়াজ অত্যন্ত ভালো। যারা ডায়াবেটিক তারা চিকিত্স কের পরামর্শ নিয়ে রোজ পেঁয়াজ খান।

১০।রঙের গন্ধ দূর করে

ঘরে নতুন রং করালে এক ধরণের গন্ধ থাকে। এক টুকরা পেঁয়াজ কেটে পানিতে ডুবিয়ে নতুন রং করা ঘরের এক কোণায় রেখে দিন। পেঁয়াজ রঙের গন্ধ সম্পূর্ণ শুষে নেবে।

১১।মরিচা দূর করতেঃ

ছুরিতে প্রায় সময় মরিচা ধরে থাকে। একটি বড় পেঁয়াজ কাটুন মরিচা ধরা ছুরি দিয়ে।

একবারে সম্পূর্ণ মরিচা দূর না হলে আবারও পেঁয়াজ কাটুন।

১২।হাঁড়ি পাতিলের পোড়া দাগ দূর করতেঃ

অনেক সময় তরকারি পুড়ে হাড়ি-পাতিলে পোড়া দাগ হয়। এই দাগ দূর করতে পেঁয়াজ অনেক কার্যকরী। পেঁয়াজের রস দিয়ে পোড়া হাঁড়ি-পাতিল পরিষ্কার করুন। দেখবেন পোড়া দাগ একদম দূর হয়ে গেছে।

১৩।চুলা পরিষ্কার করতেঃ

তেল, চর্বিতে চুলা তেল চিটচিটে হয়ে যায়। এই তেল চিটচিটে ভাব দূর করে চুলা পরিষ্কার করতে পেঁয়াজের জুড়ি নেই।

পেঁয়াজের রস এবং সমপরিমাণে লবণ মিশিয়ে নিন। এটি দিয়ে চুলার দাগের ওপর ঘষুন। কিছুক্ষণ পর দেখবেন সব দাগ দূর হয়ে গেছে। (পেঁয়াজের উপকারিতা ও অপকারিতা)

আরো পড়ুন: ফর্সা ত্বকের জন্য পেয়াজ এর ব্যবহার

পেঁয়াজের অপকারিতাঃ

রান্না করে খেলে পেঁয়াজের তেমন স্বাস্থ্যঝুঁকি নাই বললেই চলে।

টানা ছয় সপ্তাহ ৪০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত পেঁয়াজ খেলে তেমন একটা ক্ষতির সম্ভাবনা নাই।

১।অতিরিক্ত পেঁয়াজ খেলে ত্বকে হালকা একজিমা বা জ্বালাপোড়া ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

২পেট খারাপ বা পেটেব্যাথার সমস্যাও দেখা দিতে পারে। অনেকের হজমে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

৩।অনেকসময় অনেক ওষুধ চলার সময় পেঁয়াজ খেলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

৪।রক্ত জমাট বাঁধতে দেরী করাতে পারে।

৫।অনেকের পেঁয়াজ খেলে এলার্জি দেখা দিতে পারে।

এইছাড়াও পেঁয়াজ রক্তে চিনির মাত্রা কমাতে সাহায্য করে বলে অনেক গবেষণায় দেখা গেছে। ডায়াবেটিস থাকলে পেঁয়াজ খাওয়ার ব্যাপারে সচতন থাকবেন।

আশা করি, পেঁয়াজের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জেনে উপকৃত হবেন বং বাস্তব জীবনে এর কিছুটা হলেও প্রয়োগ ঘটাতে পারবেন।

Image by Steve Buissinne from Pixabay

Categories
উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ মসলার উপকারিতা

গোল মরিচের উপকারিতা – গোলমরিচের গুনাগুন

গোল মরিচের উপকারিতা ও গোলমরিচের গুনাগুন: আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য গোল মরিচের উপকারিতা অনেক। তাছাড়া গোল মরিচের পুষ্টিগুণ রয়েছে প্রচুর। এটি আমাদের রান্না ঘরের খুব পরিচিত মসলা। এটি রান্নার যেমন স্বাদ বাড়ায় ঠিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অনেক অবদান রাখে। নিয়মিত তিন থেকে চারটি গোল মরিচ খেলে শরীরের অনেক সমস্যা সমাধান হবে। শরীরের অতিরিক্ত মেদ ঝরাতে গোল মরিচ খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। গোলমরিচের এমন কিছু উপাদান আছে যা আমাদের অতিরিক্ত কোলেস্টেরল কমাতে কার্যকরি ভুমিকা পালন করে। এটি খেতে একটি ঝাঁঝালো হলেও এর গুনের শেষ নেয়। এটি খেলে সর্দি-কাশি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। আর ও গোলমরিচের অসাধারণ উপকারিতা জেনে নিই।

গোলমরিচের গুনাগুন:

দেখতে ছোট হলেও গোল মরিচের পুষ্টি উপাদান অনেক। এটিতে রয়েছে প্রচুর পরিমানে প্রোটিন , ক্যালসিয়াম, আয়রন ,শর্করা ছাড়াও অনেক পুষ্টিগুণ। গোল মরিচের ভেষজ গুণ থাকায় এর চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই গোলমরিচের পুষ্টি উপাদান যেনে নিই।
প্রতি ১০০ গ্রাম গোল মরিচে আছে
উপাদান পরিমান
ক্যালসিয়াম ৮৬০ মি.গ্রাম
আয়রন ১৬.৮ মি.গ্রা
প্রোটিন ১১.৫ গ্রাম
শর্করা ৮৯.২গ্রাম
ফ্যাট ৬.৮ গ্রাম
ফসফরাস ১৯৮ মি. গ্রাম
ভিটামিন B ১ ০.০৯ মি.গ্রাম
ভিটামিন B২ ০১.৪মি.গ্রাম

আরো পড়ুন: পুদিনা পাতার উপকারিতা

গোল মরিচের উপকারিতা:

অসাধারণ গুণে গুণাননিত এই গোলমরিচ। এটিতে প্রচুর পরিমানে ক্যালসিয়াম রয়েছে। যা আমাদের দেহের হাঁড় ও হাঁত মজবুত করতে কার্যকরী ভুমিকা পালন করে। এছাড়া এটি আমাদের হাড় গঠনে কাজ করে থাকে। প্রতিদিন কয়েকটি করে গোলমরিচ খেলে শীরের নানাবিধ সমস্যা দূর হয়। তাছাড়া আর ও কিছু গোলমরিচ খাওয়ার উপকারিতা জেনে নিই।

১ বর্তমান সময়ে আমাদের কম বেশি অনেকের ঠান্ডা কাশির সমস্যা দেখা যায়। গোল মরিচ খেলে কফ-ঠান্ডাজনিত সমস্যা দূর হয়ে যায়। এটি শুধু শুধু চিবিয়ে বা ভাতের সাথে খাওয়া যায়।

২ গোল মরিচে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে। যা আমাদের উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে থাকে। আবার এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে থাকে। ফলে অনেক অসুক থেকে সুস্থ রাখে।

আরো পড়ুন: শাহী দানার উপকারিতা

৩ প্রতিদিন সকালে ২থেকে ৩তিনটি গোলমরিচ খেলে অন্ত্রের হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড নিঃসরণ বাড়িয়ে হজমে সাহায্য করে।

৪ যাদের অতিরিক্ত কোলেস্টেরল আছে তারা নিয়মিত এটি খেলে মেদ কমার সম্ভাবনা অনেক থাকে।

৫ এটি শুধু খাওয়ায় যায় তা কিন্তু নয়।এটির তেল তৈরি করে ব্যাথা ও যন্ত্রণায় লাগালে ভালো কাজ দেয়।

৬ মুখের ব্রণ দূর করতে বর্তমানে গোলমরিচ ব্যবহার করা হচ্ছে।

৭ এটিতে এমন কিছু উপাদান আছে যা ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি ব্যাহত করে, এবং ক্যান্সার প্রতিরোধে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

আরো পড়ুন: থানকুনি পাতার উপকারিতা

Photo Credit: Pixabay

সূত্র : অনলাইন

Categories
উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ মসলার উপকারিতা

মৌরির উপকারিতা – Jana Joruri

মৌরির উপকারিতা: খনিজ লবণসমৃদ্ধ একটি বীজ। খাওয়ার পর অনেকে এক চিমটি মৌরি চিবিয়ে থাকেন। অনেকের মতে, এতে মুখটা একটু স্বস্তি পায়। এই মৌরির যে গুণ মেলা, তা কিন্তু অনেকেরই জানা নেই। তামা, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, জিঙ্ক, ম্যাংগানিজ, ভিটামিন সি, আয়রন, সেলেনিয়াম আর ম্যাগনেশিয়ামের মতো খনিজ উপাদান আছে মৌরিতে। এর এই গুণাগুণ নিয়ে আজকের প্রতিবেদন।

মৌরির উপকারিতা:

দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটায়:

মৌরিতে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন এ এবং বেটা ক্যারোটিন , যা দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটানোর পাশাপাশি নানাবিধ চোখের সমস্যাকে দূরে রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এছাড়াও এর ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।  সেই সঙ্গে গ্লকোমা সম্পর্কিত নানা লক্ষণ কমাতেও সাহায্য করে। চোখের সমস্যা গ্লুকোমা দূর করতে মৌরির চা কার্যকর।

প্রস্রাবের সমস্যা দূর করে:

মৌরির চা তৈরি করে পান করা যায়। মৌরির চা নিয়মিত খেলে শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর হয়ে যায় এবং প্রস্রাবের সমস্যা দূর হয়। এটি মূত্রবর্ধক হিসেবে কাজ করে। এটি শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা দূর করতেও উপকারী।

নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ দূর করতে:

নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ হয়েছে? নিয়মিত সামান্য পরিমাণে মৌরি খান। এতে আপনার শ্বাস পরিষ্কার হবে।
আরো পড়ুন: আমড়ার উপকারিতা

ক্যানসার দূর করেঃ

মৌরির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ গুণ হচ্ছে এটি ক্যানসার প্রতিরোধে কাজ করে। ত্বক, স্তন ও পেটের ক্যানসার তৈরিতে যেসব উপাদান কাজ করে, তা ঠেকাতে পারে মৌরির প্রভাব। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে মৌরিকে ‘মঙ্গলকর’ উপাদান হিসেবে বর্ণনা করা হয়। বিভিন্ন খাবারে তাই মৌরি মসলা হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে:

ফুড সায়েন্সে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, মৌরি চিবোলে লালায় নাইট্রেটের পরিমাণ বেড়ে যায়, যা প্রাকৃতিক উপায়ে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এ ছাড়া এতে পটাশিয়াম থাকায় কোষ ও রক্তরসের জন্য দরকারি উপকরণ হিসেবে ভূমিকা রাখে। হৃৎস্পন্দনকে নিয়ন্ত্রণে রাখতেও মৌরি কার্যকর ভূমিকা রাখে। মৌরি রক্তকে  পরিষ্কার রাখতেও সাহায্য করে। এবং এটি শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বার করে শরীরকে সুস্থ রাখে।

 মাউথ ফ্রেশনার হিসেবে:

মৌরি মাউথ ফ্রেশনার হিসেবে অত্যন্ত কার্যকর। মৌরিতে এমন কিছু উপাদান থাকে যা নিজস্ব সুগন্ধের জোরে মুখ থেকে খাবারের গন্ধ (তা সে সুগন্ধ বা দুর্গন্ধ যা-ই হোক না কেন) দূর করতে সক্ষম। মৌরির এই গুণের কথা জেনেই, খাওয়ার শেষে মৌরি মুখে দেওয়ার রীতি চালু হয়েছিল।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করেঃ

মৌরির চা হজম প্রক্রিয়ার জন্য দারুণ ওষুধ। পেটের সমস্যা ও কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে মৌরির তেলের বিশেষ উপকারী গুণ আছে। গ্যাস্ট্রিক এনজাইম তৈরিতে এই মৌরি কার্যকর ভূমিকা রাখে।

সাইনাসের সমস্যা দূর করে:

দেখা গেছে মৌরি সাইনাসের সমস্যা দূর করতেও উপযোগী। কারণ এতে থাকে ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট যা সাইনাসের সমস্যাকে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। এছাড়াও হাঁপানির সমস্যা, ব্রঙ্কাইটিসের সমস্যা দূর করতেও সাহায্য করে মৌরি।

 ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য রক্ষা করে:

মৌরির বীজ আয়রন ও ডি কমপ্লেক্স ভিটামিন সমৃদ্ধ যা ত্বক ভালো রাখতে সাহায্য করে। এতে জিংক ও সেলেনিয়াম থাকে যা অকালপক্কতা দূর করে চুলকে শক্তিশালী করে, চুলের ফলিকল মসৃণ করে ও দ্রুত বড় হতে সাহায্য করে। ব্রণ দূর করার ক্ষমতা আছে মৌরির। নিয়মিত মৌরি খেলে শরীরে জিঙ্ক, ক্যালসিয়াম ও সেলেনিয়ামের মতো উপাদান যুক্ত হয়। এটি হরমোন ও অক্সিজেনের ভারসাম্য রক্ষা করে। ত্বককে ঠান্ডা করে ও ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়াও ব্রণর সমস্যা দূর করতেও সাহায্য করে।

শরীরে পানি জমার আশঙ্কা কমে:

নিয়মিত মৌরি দিয়ে বানানো চা খেলে একদিকে যেমন দেহের অন্দরে অতিরিক্ত পানি জমার সম্ভাবনা কমে, তেমনি রক্তে মিশে থাকা টক্সিক উপাদানেরা শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই রোগভোগের আশঙ্কা অনেক কমে যায়। এবার নিশ্চয় বুঝেছেন তো সুস্থভাবে বাঁচতে মৌরি খাওয়ার প্রয়োজন কতটা।
আরো পড়ুন: গাজরের উপকারিতা

অ্যাজমা ও শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা দূর করতে:

মৌরিতে আছে ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট যা সাইনাস পরিষ্কার রাখে এবং তা সাইনাসের সমস্যা দূর করতে পারে।  এবং এটি অ্যাজমার রোগীদের স্বস্তি দেয়। ব্রঙ্কাইটিস ও কফের সমস্যা দূর হয় মৌরির চা খেলে। হাঁপানির সমস্যা সমাধানেও মৌরি থেকে উপকার পাওয়া যাবে। মৌরির অন্দরে থাকা ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস ফুসফুসের কর্মক্ষমতা তো বাড়ায়ই, সেই সঙ্গে শ্বাস প্রশ্বাসের প্রক্রিয়া যাতে ঠিক মতো হয়, সেদিকে খেয়াল রাখে। ফলে শ্বাস কষ্ট এবং ব্রঙ্কাইটিসের মতো রোগের প্রকোপ কমতে সময় লাগে না। প্রসঙ্গত, কফ এবং সর্দি-কাশির প্রকোপ কমাতেও এই প্রকৃতিক উপাদানটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

স্তন্যদানকারী মায়ের জন্য:

আমরা মৌরি, জিরা, জোয়ান ইত্যাদির পানি স্তন্যদানকারী মাকে দিয়ে থাকি কারণ এটা দুধের উৎপাদন বাড়ায় ও খাওয়াতে সাহায্য করে।

ব্রণ নিয়ন্ত্রণে:

মৌরিতে রয়েছে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণ। আর এ কারণে এটি দেহের সংক্রমণের বিরুদ্ধে যেমন কাজ করে তেমন দেহের ব্রণ সমস্যাও কমায়।

 ওজন কমাতে (মৌরির উপকারিতা) :

যদি দ্রুত শরীর থেকে বাড়তি মেদ কমাতে চান তাহলে প্রতিদিন সকালে মৌরি বীজ ভেজানো পানি পান করুন। এটা বিপাকের হার বাড়ায় এবং চর্বি খরচ করতে সাহায্য করে যা ওজন কমানোর সহায়ক। তাছাড়া এটা ক্ষুধা কমাতেও ভালো কাজ করে।

পেটের চর্বি নিয়ন্ত্রণ করতে:

অনেকেরই পেটে বাড়তি চর্বি জমে যায়। এ সমস্যা দূর করতে পারে নিয়মিত মৌরি সেবন। এ জন্য প্রতিদিন সামান্য মৌরি, জিরা ও মেথির গুঁড়া একত্রিত করে উষ্ণ পানিতে মিশিয়ে পান করা যেতে পারে।

খাবারের স্বাদ বাড়াতে:

আপনার যেকোনো রান্না খাবারের স্বাদ বাড়াতে পারে মৌরি। এ জন্য আপনি মৌরি এয়ারটাইট পাত্রে সংরক্ষণ করতে পারেন। রান্নার সময় এটি যে খাবারেই দেবেন, তারই স্বাদ বেড়ে যাবে।
আরো পড়ুন: সরিষার তেলের উপকারিতা

ফোলাভাব কমায়ঃ

মৌরি মুত্রবর্ধক এবং শরীরের অতিরিক্ত তরল বের করে দিতে সাহায্য করে। এটা এনজাইমকে সক্রিয় করে হজম ক্রিয়া উন্নত করতে সাহায্য করে। তাই এটা খাবারের পরে খাওয়া উপকারী। অ্যান্টি-স্পাসমোডিক এবং অ্যান্টি-ইনফ্লামাটরি উপাদান থাকায় মৌরির চা ও পানি কোষ্ঠকাঠিন্য ও পেটের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।

Photo Credit: Pixabay

সূত্র : অনলাইন

Categories
উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ মসলার উপকারিতা

সাদা তিলের উপকারিতা – Jana Joruri

 সারা পৃথিবীর স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞরা  সাদা তিলকে সেরা পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য হিসেবে বিবেচনা করেন। এই সাদা তিলের রয়েছে অনেক গুণ ও উপকারিতা ।

আসুন জেনে নেয়া যাক সাদা তিলের উপকারিতা গুলো :

১. রক্তের উচ্চচাপ নিয়ন্ত্রণে প্রভূত কার্যকরী সাদা তিল। কারণ, এই তিলে রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম যা রক্তচাপ হ্রাস করে।

২. সাদা তিলে একাধিক প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং মিনারেলস রয়েছে। তাই প্রতিদিনের খাবারে এই উপকরণটি ব্যবহার করলে শরীরের ক্যানসার প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যায়।

৩. ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণেও অত্যন্ত কার্যকরী সাদা তিল

৪. সাদা তিলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে জিঙ্ক, ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস, যা হাড় মজবুত করে এবং অস্টিওপোরোসিসের সম্ভাবনা কমায়।

আরো পড়ুন: সাগুর উপকারিতা

৫. ফাইবার-যুক্ত হওয়ার ফলে হজম ও কোষ্ঠকাঠিন্য-সংক্রান্ত সমস্যাও দূর করে (সাদা তিলের উপকারিতা)

৬. সাদা তিলে রয়েছে কপার বা তামা যা গাঁটের ব্যথা, ফুলে যাওয়া, মাসল পেইন বা বাতের ব্যথার উপশমে কার্যকরী।

৭. তেজস্ক্রিয়তার হাত থেকে ডিএনএ-কে রক্ষা করার অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে সাদা তিলের।

৮. অনেকেই জানেন না যে, ওরাল হেলথের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ এই উপকরণ।

আরো পড়ুন: তিলের তেলের উপকারিতা

মুখের ভিতরের ব্যাকটেরিয়া নিধনের জন্য মুখের ভিতর স্প্রে করা হয় সাদা তিলের তেল।

এই পদ্ধতিকে বলা হয় অয়েল পুলিং।

Photo Credit:pixy.org

Categories
উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ মসলার উপকারিতা

দারুচিনির উপকারিতা ও অপকারিতা

দারুচিনির উপকারিতা ও অপকারিতা: দাঁরুচিনি এমন একটি মশলা যা প্রায় সব ভারতীয় দের রান্না ঘরে পাওয়া যাবে ।দাঁরুচিনি শুধু একটি মশলাই নয় এটি একটি ঔষধীও। যাতে আছে antioxidants, যা বেশ কিছু অসুখ থেকে যেমন arthritis, diabetes এমন কি মারণ রোগ ক্যান্সার এর হাত থেকে ও সুরক্ষিত রাখে। আজকের এই লেখা‌য় আমি দারুচিনীর গুনা গুন আপনাদের বলব। এখন দেখুন দাঁরুচিনি আপনার শরীরের জন্য কতটা উপকারী আর কোন কোন রোগ প্রতিরোধে দাঁরুচিনি ব্যবহার করা হয়।

জেনে নেই, দারুচিনির উপকারিতা ও অপকারিতা:

দারুচিনির উপকারিতা:


১। ওজন কমাতে সাহায্য করে:


বর্তমানে প্রতি দুই থেকে তিন জনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি একটি চিন্তার বিষয়। খাওয়া দাওয়ার বিষয়ে যথাযথ নজর না দেওয়া, সঠিক যত্নশীল না হওয়া এবং সঠিক ভাবে শ্রম তথা যোগ ব্যায়াম, প্রাণায়াম না করার জন্য এই ওজন বাড়ার সমস্যা দেখা দিতে থাকে। এমত অবস্থায় খাবারে দাঁরুচিনির ব্যবহার করলে ওই বর্ধিত ওজন জনিত সমস্যা বেশ অনেকটাই কমতে পারে। দাঁরুচিনি তে বর্তমান poly phenols একটি antioxidant যা ইন্সুলীন এর সংবেদনশীলতা কে বাড়িয়ে রক্তের glucose এর মাত্রা কে নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু আমাদের শরীর যখন সঠিক মাত্রায় ইন্সুলীন তৈরী পারে না তখনই রক্তে গ্লুকোস এর মাত্রা বেড়ে যায় এর ফলে স্থূলতা, মধুমেহ (ডায়াবেটিস্) এবং আরও কিছু রোগ এর সম্ভাবনা বেড়ে যায়। একটি পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে পলি সিস্টিক ওভারীয়াণ (poly cystic ovarian disease) অসুখ আছে, তাদের ক্ষেত্রে দাঁরুচিনি ইন্সুলীন প্রতিরোধ কে কমিয়ে ওজন বেড়ে যাওয়া কে নিয়ন্ত্রণ করে ।এ ছাড়া দাঁরুচিনির অ্যন্টি-ওবেসিটি প্রভাব স্থূলত্ব কে কম করে।

উপকরণ:

  • জল এক কাপ
  • এক চামচ দাঁরুচিনি পাওডার/ গুড়া
  • মধু এক চামচ
  • লেবুর রস এক চামচ

বানানোর পদ্ধতি:

  • প্রথমে জল কে ফোটাতে হবে। একটি কাপে দাঁরুচিনি গুড়ো বা পাওডার মধু আর লেবুর রস এক সাথে একটা মিশ্রণ তৈরী করতে হবে। এবার এই মিশ্রণে ঐ ফোটানো গরম জল মিশিয়ে একটা মিশ্রণ বানিয়ে নিতে হবে। এই মিশ্রণ পান করতে হবে।
** ভাল ফল পেতে রোজ সকালে এই মিশ্রণ পান করতে হবে।

২। আর্থারাইটিসের ব্যাথা কমায় দারুচিনি:


বয়েস বাড়ার সাথে সাথে আমাদের হাড় গুলি দুর্বল হতে থাকে, আবার কেউ কেউ আর্থারাইটিসে আক্রান্ত হন। এই আর্থারাইটিসে দাঁরুচিনি ঔষধের মত কাজ করে। দাঁরুচিনি তে আয়রণ(লৌহ), ক্যালসিয়াম, ম্যান্গানিজের মত ধাতব লবন গুলি থাকে যে গুলি এই গাঁটের যন্ত্রণায় উপশম পাওয়া যায় । একটা পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে রিউমাটয়েড আর্থারাইটিসে্ যে যন্ত্রণা ও ফোলা ভাব হয় তাতে এই দারুচিনী অনেক টা উপকার দেয়|

উপকরণ:

  • দারুচিনির তেল
  • চার ফোঁটা নারকেল তেল / সরষের তেল

বানানোর পদ্ধতি:

দারুচিনীর তেল তিন থেকে চার ফোটা নারকেল তেল বা সর্ষের তেলের সাথে মিশিয়ে হালকা গরম করে মালিশ করতে হবে। এই মিলিশের ফলে ব্যাথায়ে অনেক টা আরাম পাওয়া যায়।

৩। দারুচিনি ব্লাড সুগার আর ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে:


অনিয়মিত, অনিয়ন্ত্রণ জীবনযাত্রার জন্য আজকাল অনেকেরই ডায়াবেটিস্ তথা মধুমেয় রোগ এর শিকার হয়ে পড়ছেন। প্রাথমিক পর্যায় এই রোগ এর দিকে নজর না দিলে ভবিষ্যতে এই রোগের জন্য বিপদের আশংকা থেকে যায়। সময় এর সাথে সাথে ডায়াবেটিস্ আরো কিছু কিছু রোগের জন্ম দেয়। ডায়াবেটিস্ তথা মধুমেহ রোগী যদি খাদ্যে দারুচিনী ব্যাবহার করেন তবে এই ডায়াবেটিসের এর হাত থেকে অনেকটাই রক্ষা পাওয়া যায়। দাঁরুচিনি তে উপস্থিত আ্যন্টি আক্সিডেন্ট আক্সিডেটিস্ স্ট্রেস কে কমাতে সাহায্য করে যা নাকি ডায়াবেটিস্ এর একটি প্রধান কারণ ।
এই মশলায় উপস্থিত ফেনলীক যৌগ এবং ফ্লবনাইড যা কিনা আ্যন্টি ইন্ফ্লামেটরি আ্যন্টি ডায়াবেটিক্ এমন কি আ্যন্টি ক্যানসরএবং কার্ডিয় প্রোটেকটিভ গুণ সম্পন্ন । একটি পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে দারুচিনী রক্তের শরকরা

মাত্রা কম করে। দাঁরুচিনি তে বর্তমান পলিফেনলস্ শরীরে ইন্সুলিন ক্ষরণের মাত্রা কে বাড়ায় তাই ডায়াবেটিস্ এর আশংকা কমে

উপকরণ:

  • ছোট এক টুকরো আদা
  • দু চামচ লেবুর রস
  • এক টুকরো দারুচিনী
  • মধু এক চামচ
  • জল এক কাপ

বানানোর পদ্ধতি:

মাঝারি আঁচে জল গরম করতে হবে।আদা কে ছোট টুকরো বা ঘসে নিতে হবে। জল ফুটে উঠলে আদা গুলো দিয়ে দিতে হবে, এবার আঁচ কমিয়ে ওই মিশ্রণে দারুচিনী দিয়ে দিতে হবে, পাঁচ মিনিট ভিজিয়ে রাখতে হবে। এর পর একটা কাপে জল টা ছেকে নিতে হবে। এই জলে লেবুর রস আর মধু দিয়ে খেতে হবে।
** এই জল দিনে যে কোন সময় খাওয়া যায়।

৪। স্মরণ শক্তি বৃদ্ধিতে:


মস্তিষ্কের জন্য ও দাঁরুচিনি খুব উপকারী। দাঁরুচিনির সুগন্ধ মস্তিষ্কের কার্য ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এটি মস্তিষ্কের একটি টনিক। এটি যে শুধু মাত্র মস্তিষ্ক কে দ্রুত কাজ করতে সক্ষম করে তাই নয়, একাকীত্ব, ডিপ্রেশন ও আ্যন্গজাইটিতে ও উপকার দেয়। যারা এই দারুচিনীর তেলের ঘ্রাণ নেয় তাদের স্মরণ শক্তি বৃদ্ধি পায় । এছাড়া দারুচিনী তে বর্তমান আ্যন্টি আক্সিডেন্ট আ্যলজাইমার আর পারকিনসন্ এর মত রোগের হাত থেকেও রক্ষা করে।যখন আ্যলজাইমারে স্মৃতি শক্তি কমতে থাকে তখন অসতে আসতে শরীরে কম্পন শুরু হয়।

উপকরণ:

  • এক কাপ বা আধা কাপ জল
  • ছোট এক টুকরো দাঁরুচিনি
  • এ চামচ মধু

বানানোর পদ্ধতি:

  • জল কে ফোটাতে হবে
  • একটি পাত্রে দারুচিনী নিয়ে তাতে ওই গরম জল ঢেলে দিতে হবে
  • দশ মিনিট ভিজিয়ে রাখতে হবে যাতে দারুচিনীর সব গুনাবলী ঐ জলে বেরিয়ে আসে।
এর পর ঐ জল ছেকে তাতে মধু মিশিয়ে পান করতে হবে।

৫। সর্দি কাশি তে দারুচিনি:

দারুচিনিতে অ্যান্টি – মাইক্রবিয়াল আর অ্যান্টি ইনফ্লেমেটোরি গুন বর্তমান। এই গুণ আপনাকে সর্দি কাশি থেকে সুরক্ষা করে।

উপকরণ:

  • এক চামচ দারুচিনি গুড়ো
  • দুটো লবঙ্গর টুকরো
  • এক গ্লাস গরম জল

বানানোর পদ্ধতি:

  • দারুচিনি আর লবঙ্গর টুকরো কে জলে দিয়ে পাঁচ থেকে দশ মিনিট ফোটান আর ছেঁকে চামচ দিয়ে পান করুন

৬। রক্তসংবহনের জন্য দারুচিনির ব্যবহার:

দারুচিনি রক্ত সংবহন প্রক্রিয়া উন্নত করতে সাহায্য করে। দারুচিনি তে এই গুণ গুলো ধমনী বা হৃৎপিণ্ড জনিত কোন অসুখ থেকে বাঁচতে সাহায্য করে। উন্নত রক্ত সংবহন শরীরের ব্যাথা বোধের হ্রাস ঘটিয়ে অক্সিজেনের চলাচল বৃদ্ধি করে।

৭। কোলেস্টেরল আর হৃদয়ের জন্য দারুচিনি:


দারচিনির ব্যাবহার শরীরের হানিকারক কোলেস্টেরল কমিয়ে ভালো কোলেস্টেরল এর মাত্রা বজায় রাখে। এটা টাইপ – ২ ডায়বেটিস এর রুগীদের জন্য খুব উপকারি।

ব্যবহারের পদ্ধতি:

  • দারুচিনি মিশিয়ে চা বানিয়ে খেতে পারবেন
  • শাঁক সব্জি তে এটার ব্যাবহার করলে স্বাদ ও বাড়াবে আর স্বাস্থ্য কে ভালো রাখবে

৮। নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ:

দারচিনির ব্যাবহার শুধু মাত্র দাঁত এর ব্যাথার জন্য ভালো নয়, এটার ব্যাবহার মুখের মধ্যে যে কোন সংক্রমণ আর দুর্গন্ধ কে দূরে রাখে।

৯। হজম শক্তি বাড়ানোর জন্য দারুচিনি:

দারুচিনির অ্যান্টি – মাইক্রবিয়াল গুণ আপনার শরীর কে যেকোনো সংক্রমণ, ব্যাকটেরিয়ার আর ক্যানডিডা নামক রোগ এর সাথে লড়তে সাহায্য করে।

১০। রক্ত চাপের সময় দারুচিনির উপকারিতা:

আজ কাল উচ্চ বা নিম্ন রক্ত চাপের লক্ষণ সবার মধ্যেই দেখা যায়। দারুচিনির প্রয়োগে এই সমস্যা কমানো যেতে পারে। বিশেষ করে টাইপ ২ ডায়বেটিস এর রুগীদের জন্য খুব বেশী উপযোগী।

১১। ইনফারটিলিটী/ বনদ্ধ্যাত্ব তে দারুচিনি:

দারুচিনিতে অ্যান্টি – অক্সিডেন্ত আছে যেটা মোটা মানুষের মধ্যে অক্সিডেটীভ স্ট্রেস কে কম করতে সাহায্য করে। এর সাথে ইনফারটিলিটী/ বনদ্ধ্যাত্ব কে কম করতেও সাহায্য করে।

ত্বকের জন্য দারুচিনির উপকারিতা / Cinnamon benefits in Bengali for skin:


ত্বকের জন্য দারুচিনির উপকারিতা
ত্বকের জন্য দারুচিনির উপকারিতা
দারুচিনির শুধু মাত্র স্বাস্থ্যর জন্যই নয় বরং ত্বকের জন্য ও উপকারী। সবাই চায় যাতে তাদের ত্বক উজ্জ্বল ও মসৃণ থাকে, কারণ বায়রের সুন্দরতা তাই চোখে পরে। বিভিন্ন ক্রিম আর ওষুধের ব্যাবহার করে আপনি কিছুক্ষণের জন্যই সুন্দর দেখাতে পারবেন আর উপরন্ত যে সাইড এফফেক্তস আছে সেইগুলো তো আলাদা। তাই জন্য দারুচিনির মত প্রাকৃতিক ওষুধের ব্যাবহার করে আরও সুন্দর হতে পারেন। নিচে দেওয়া হল কিছু দারুচিনির উপকারীতা যেটার ব্যাবহার আপনার ত্বক আরও উজ্জ্বল ও মসৃণ করবে।

১। ব্রণ ও দাগের জন্য:


ধুলো, মাটি, দূষণ, ঋতু বদলানো আর উলটো পাল্টা খাওয়া দাওয়া থেকে ত্বকের নানান সমস্যা হতে পারে। যেমন ব্রণ, দাগ, ইত্যাদি। এইগুলোর ত্বকের আদ্রতা কে হারিয়ে দেয়। তখন দারুচিনির ব্যাবহার করে তার অ্যান্টি – মাইক্রবিয়াল আর অ্যান্টি ইনফ্লেমেটোরি গুন দিয়ে আপনার ত্বককে আরও উজ্জ্বল ও মসৃণ করতে সাহায্য করে।

উপকরণ:

  • এক চিমটে দারুচিনি গুড়ো
  • মধু এক চামচ

বানানোর পদ্ধতি:

  • একটু মধু আর দারুচিনি গুড়ো মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে নিন
  • এবার শোবার আগে মুখ তা ভালো করে পরিস্কার করে নিয়ে যেখানে যেখানে দাগ বা ব্রণ রয়েছে সেখানে এই পেস্ট টা লাগিয়ে সারা রাত ছেড়ে দিন
  • পরের দিন সকালে ভালো করে মুখ তা ধুয়ে নিন
  • এই পেস্ট টা একটু সময় নিয়ে কাজ করে আর দাগ বা ব্রণ থেকে মুক্ত করে
আরো পড়ুন: লবঙ্গের উপকারিতা

২। ঠোট কে আকর্ষণীও করতে দারুচিনির ব্যাবহার:


অনেক মহিলারাই চায় যে তাদের ঠোট প্রিয়াঙ্কা চোপড়া বা জ্যাকলিন ফারনানডিযের মত সুন্দর লাগে। তাহলে দারুচিনির থেকে ভালো আর কোন ঘরোয়া উপায় নেই যেটা আপনার ঠোট কে সুন্দর দেখাতে সাহায্য করে।

উপকরণ:

  • দারুচিনির ৩ থেকে ৪ তে দানটি
  • জলপাই এক কাপ  (অলিভ) এর তেল
  • একটা ছোট শিশি বা জার

বানানোর পদ্ধতি:

  • অলিভের তেল আর দারুচিনির দানটি গুলো জার এ মেশান
  • এবার এই মিশ্রন টা এক থেকে দু সপ্তাহ এই ভাবেই ছেড়ে দিন
  • জখন এটা রঙ বদলাতে শুরু করবে তখন বুঝবেন যে দারুচিনির গুণ তেল এর মধ্যে মিশছে আর এটা ব্যাবহার করার জন্য প্রস্তুত

৩। শুকনো ত্বকের জন্য দারুচিনিঃ


প্রত্যেকটা ঋতুতে ত্বক শুকনো হওয়ার অনেক কারণ। যতই আপনি তখন ক্রিম এর ব্যাবহার করে নিন কিন্তু এতে কিছু লাভ হয় না, রুক্ষ ত্বকই থাকে। এই সময় দারুচিনির ব্যাবহার রুক্ষ ত্বক থেকে আরাম পেতে সাহায্য করবে।

উপকরণ:

  • দারুচিনির গুড়ো
  • নুন
  • জলপাই তেল
  • বাদামের তেল
  • মধু

বানানোর পদ্ধতি:

এই ওপরে দেওয়া সামগ্রী গুলকে মিশিয়ে একটা স্ক্রাব তৈরি করে সপ্তাহে এক থেকে দু বার লাগান

৪। দারুচিনি আপনার ত্বক কে উজ্জ্বল আর পরিস্কার করে:


দূষণের জন্য ত্বকের উজ্জ্বলতা কমে গিয়ে আর সুন্দরতা হারিয়ে যেতে পারে। তাই জন্য দারুচিনির ব্যাবহার আপনার রং রুপকে ফিরিয়ে দিতে সাহায্য করে।

উপকরণ:

  • এক চামচ দারুচিনি গুড়ো
  • দু চামচ দই
  • একটা ছোট কলা
  • অর্ধেক লেবুর রস

বানানোর পদ্ধতি:

  • ওপরের দেওয়া সামগ্রী গুলোকে মিলিয়ে একটা পেস্ট বানান
  • তারপর এটা মুখে লাগিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট ছেড়ে দিন। শুখিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন

৫। ত্বক কে বানান তরুন (দারুচিনির উপকারিতা):


বয়সের ছাপ খুব জলদি মুখের ওপর পরে, চামড়া ঝুলে যায়, রিঙ্কেল হয়ে যায় ইত্যাদি। এইগুলো থেকে বাচতে দারুচিনির ব্যাবহার করা উচিৎ। দারুচিনি তে কোলাজেন আছে যেটা ত্বকের ইলাস্টিসিটি কে ঠিক রাখতে সাহায্য করে। আর এটার জন্য অ্যান্টি – এজিং থেকে অনেক টা উপকার করে।

উপকরণ:

  • এক চামচ দারুচিনি গুড়ো
  • এক চামচ কাচা মধু

ব্যবহারের নিয়ম:

  • দারুচিনি গুড়ো আর মধু এক সাথে মিশিয়ে মুখে লাগান
  • ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে শুকিয়ে গেলে ধুয়ে নিন উষ্ণ গরম জল দিয়ে

৬। ত্বকের সংক্রমণ ও কাটা ছেড়ার ওপর দারুচিনির ব্যাবহারঃ

অ্যান্টি – ব্যাকটেরিয়া আর অ্যান্টি – ফাঙ্গাল গুনের জন্য দারুচিনি ত্বকের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। তার সাথে এটা যেকোনো কাটা ছেড়া কে ভরতে সাহায্য করে।

চুলের জন্য দারুচিনির উপকারিতা / Cinnamon benefits in Bengali for Hair:


লম্বা আর ঘন চুলের চাহিদা সব মহিলার ই থাকে। এটা পাওয়ার জন্য সবাই নানান শ্যাম্পু আর ওষুধ এর ব্যাবহার করেন কিন্তু এর জায়গা তে একবার দারুচিনির ব্যাবহার করে দেখুন।
Cinnamon benefits for Hair,Cinnamon benefits,Cinnamon benefit,Cinnamon
Cinnamon benefits for Hair

১। চুল লম্বা করার জন্য দারুচিনির ব্যাবহার:


দারুচিনি শরীরের রক্ত সঙ্করন ক বাড়ায় আর চুলের গোঁড়া তে অক্সিজেন পৌঁছে চুল ভালো রাখতে সাহায্য করে।

উপকরণ:

  • 1 কাপ জলপাই / অলিভ তেল
  • দারুচিনি এক চামচ
  • মধু এক চামচ

বানানোর পদ্ধতি:

  • জল পাই তেল হাল্কা গরম করে একটা ছোট বাটিতে ঢালুন
  • এর মধ্যে দারুচিনি আর মধু মেশান
  • তারপর এই পেস্ট তা ব্রাশ এর ব্যাবহার করে চুলে আর চুলের গোঁড়া তে প্রয়গ করুন
  • এটা ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে তারপর শ্যাম্পু আর কন্ডিশনর ব্যাবহার করে ধুয়ে নিন

২। চুলে রং করার জন্য দারুচিনির ব্যাবহারঃ

চুল এ রং করতে চান কিন্তু ঘরোয়া উপায়ে? তাহলে সব থেকে ভালো হবে দারুচিনির ব্যাবহার। প্রথমে চুল তা ধুয়ে নিন যাতে এটা ফেসে বা ভেঙ্গে না যায়। তারপর কন্ডিশনর এর সাথে দালচিনি গুড়ো মিশিয়ে মাথায় লাগিয়ে সারা রাত শোকানোর জন্য ছেড়ে দিন। আর পরের দিন সকালে ধুয়ে নিন।

৩। দারুচিনি চুলের গোঁড়া কে পরিস্কার রাখে:


রোজ দূষণের জন্য চুল নোংরা, রুক্ষ, বেজান আর সৌন্দর্য হারাতে পারে। এই সময় একটা ঘরোয়া উপায়ের ব্যাবহার আপনার চুলের সৌন্দর্য ফেরাতে সাহায্য করবে।
আরো পড়ুন: অর্জুন গাছের উপকারিতা

উপকরণ:

  • আধা চামচ দারুচিনি গুড়ো
  • এক চামচ বেকিং সোডা
  • দু চামচ জলপাই তেল

বানানোর পদ্ধতি:

  • একটা বাটিতে এইগুলো সব মিশিয়ে একটা পেস্ট তৈরি করুন
  • এর পর চুলে হাল্কা করে লাগান আর ১৫ থেকে ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন
এটা আপনি সপ্তাহে এক বার লাগাতে পারেন।

দারুচিনির অপকারিতা:

দারুচিনির যেমন উপকারী তা আছে তেমন অপকারীতা ও আছে।
  • লিভারের সমস্যা হতে পারে
  • রক্ত কম করতে পারে
  • ত্বকের ক্ষতি করতে পারে
  • গর্ভবতী মহিলাদের সময়ের আগে প্রসব হয়ে যেতে পারে
  • নিম্ন রক্ত চাপ হতে পারে
Categories
উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ মসলার উপকারিতা

তেজপাতার উপকারিতা – তেজপাতা খাওয়ার উপকারিতা

তেজপাতার উপকারিতা: রান্নার স্বাদ বাড়াতে তেজপাতার জুড়িমেলা ভার তা কে না জানে। কিন্তু জানেন কী ডায়বেটিস কমাতেও তেজপাতা খুবই উপকারি। এছাড়াও তেজপাতার রয়েছে হাজারও গুণ।

তাহলে জেনে নিন তেজপাতার উপকারিতা সম্পর্কে:

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ:

এক গবেষণায় দেখা গেছে যে যারা দিনে দুইবার তেজপাতার গুড়ার পানীয় পান করে তাদের রক্তে শর্করার পরিমাণ কমে যায়। এই পাতাতে আছে উপকারী উপাদান যা কার্যকরী হারে ইনসুলিনকে সাহায্য করতে পারে। টাইপ টু ডায়াবেটিস ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকির আশঙ্কাও কমায় এই উপকারী পাতা।

হার্ট ভাল রাখে:

তেজ পাতায় আছে rutin এবং caffeic acid নামে আরও দুটি যৌগ। এই যৌগগুলি আপনার হৃদযন্ত্রের দেওয়ালগুলিকে শক্ত করে তুলতে এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা হ্রাস করতে সাহায্য করে।  উচ্চ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে হৃদরোগ বা স্ট্রোকের ঝুঁকি থেকে আপনাকে বাচাঁতে পারে।

আরো পড়ুন: অর্জুন গাছের উপকারিতা

সর্দি-কাশি কমাতে:

তেজপাতা সম্পর্কে আরেকটি আশ্চর্যজনক বৈশিষ্ট্য আপনার শ্বাসযন্ত্র পরিষ্কার করার তার ক্ষমতা। যদি আপনার ঠাণ্ডা কাশি হয় তবে তেজপাতা ফুটানো পানি আপনাকে সাহায্য করতে পারে এবং ব্যাকটেরিয়া থেকে পরিত্রাণ পাবেন। পানিতে ৪-৫  পাতা পরিস্কার করে ফুটিয়ে নিন। সামান্য ঠান্ডা হয়ে গেলে, তেজপাতা পানিতে একটি হালকা কাপড় ভিজিয়ে নিন এবং আপনার বুকে এটি প্রয়োগ করুন।

হজমে সাহায্য করে:

কোষ্ঠকাঠিন্য? পেট ফাপা? তবে তেজপাতা আপনার এই সমস্যা থেকে উদ্ধার পেতে সাহায্য করবে। আয়ুর্বেদ মতে তেজপাতা প্রস্রাবের মাত্রা ঠিক করে শরীরের টক্সিন সরিয়ে দেয়। এতে হজম প্রক্রিয়া সহজ হয়।

ব্যথা থেকে মুক্তি:

তেজপাতাতে প্রদাহজনক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এটা যে কোন ধরণের ব্যথা সারাতে কাজ কর। এমনকি বাতের ব্যথা থেকে মানুষকে মুক্তি দিতে পারে।  আপনার ব্যথাস্থানে তেজপাতা পেস্ট প্রয়োগ করুন এবং এটি ২০ মিনিটের জন্য বিশ্রাম দিন। এছাড়াও, মাথার ব্যথা সারাতে এই উপসাগরীয় পাতার তেল ব্যবহার একটি প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতি।

ঘামাচি দূর করা:

তেজপাতা পানিতে ভিজিয়ে রাখুন, তারপর পাটায় মিহি করে বেটে নিন। এই তেজপাতা বাটা শরীরে মেখে ঘণ্টা খানেক রাখুন। তারপর গোসল করে ফেলুন। কোন রকম সাবান ব্যবহার করবেন না। কয়েকবার ব্যবহার করলেই ঘামাচি একদম সেরে যাবে।

চোখ ওঠা উপশমে (তেজপাতা):

  • তেজপাতা পানিতে ফুটিয়ে নিন।
  • সেই পানি ঠাণ্ডা করে চোখ ধুতে ব্যবহার করুন।
  • চোখ ওঠা দ্রুত আরোগ্য হবে।
  • সকালে ও বিকালে দুই বেলা দেবেন।
আরো পড়ুন: শিউলি পাতার উপকারিতা

গলা ভাঙা দ্রুত সারাতে :

  • জলদি ভাঙা গলা ঠিক করতেও তেজপাতার বিকল্প নেই।
  • ৭ গ্রাম তেজপাতা ৪ কাপ পানিতে সিদ্ধ করে ২ কাপ করে নিন।
  • এরপর ওই পানি দিয়ে গড়গড়া করুন।
  • গলাভাঙা দ্রুত ঠিক হয়ে যাবে।

দুর্বলতা দূরে করে :

  • শারীরিকভাবে দুর্বল ও রোগা মানুষদের জন্য তেজপাতা দারুণ কার্যকরী।
  • কয়েকটা পাতা থেঁতলে করে ২ কাপ গরম পানিতে ১০-১২ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখুন।
  • এরপর ছেঁকে নিয়ে পান করুন।
  • ২ বার করে টানা ২ সপ্তাহ খেলে শরীরে শক্তিও চেহারায় লাবণ্য ফিরে পাবেন।

মাড়ির ক্ষতের চিকিৎসায় :

মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়ে? তেজপাতা শুকিয়ে গুঁড়ো করে নিন। তারপর সেটা দিয়ে নিয়মিত দাঁত মাজুন। মাড়ির ক্ষত সেরে যাবে।

অরুচি দূর করে (তেজপাতার উপকারিতা) :

তেজপাতা সিদ্ধ পানি দিয়ে নিয়মিত কুলি করুন, অরুচি ও মুখের তেতো ভাব চলে যাবে।

কিডনি সরাতে:

এক গবেষণায় দেখা যায় যে তেজপাতা আপনার শরীরের urease মাত্রা হ্রাস করতে সহায়তা করে। যখন আপনার অনেক urease থাকে, এটি কিডনি পাথর এবং অন্যান্য গ্যাস্ট্রিক সমস্যা বাড়িয়ে দেয়।

চুল বৃদ্ধি এবং খুসকি মুক্ত করে:

  • তেজপাতা চুলের ডান্ড্রফ বা খুসকি এবং চুলের ক্ষতির সঙ্গে সংগ্রাম করে।
  • চুলের যেকোনো ধরনের সমস্যা সমাধানে তেজপাতা একটি প্রাচীন প্রতিকার।
  • কারণ চুলগুলি সুন্দর-যৌগিক যৌগগুলির সঙ্গে প্যাক তৈরী করা হয়।
  • পানিতে কিছু উপসাগরীয় পাতা দিয়ে উষ্ণ করুন। আপনার স্কাল্পে এই পানি ব্যবহার করুন।
  • তারপর নিয়মত শ্যম্পু করে চুল ধুয়ে নিন।
আরো পড়ুন: পেয়ারার পাতার উপকারিতা

তেজপাতার সাবধানতা:

যদিও তেজপাতা বা বে পাতা সাধারণত নিরাপদ বলে মনে করা হয়, তবে এটি গর্ভাবস্থায় বা নার্সিংয়ের মায়েদের জন্য সুপারিশ করা হয় না যেহেতু উপসাগরীয় পাতাটি গর্ভাশয়ে সংকোচনের কারণ হতে পারে। এছাড়াও, এটি সুপারিশ করা হয় যে কোনও অপারেশনের দুই সপ্তাহ আগে উপকারী পাতা খাওয়া বন্ধ করা উচিত, বিশেষ করে যদি এটি কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়।

বেষণায় দেখা গেছে তেজপাতার নির্যাস ব্রেস্ট ক্যান্সার সেল ধ্বংসে সাহায্য করে।

Categories
উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ মসলার উপকারিতা

লবঙ্গের উপকারিতা ও অপকারিতা

আসসালামু আলাইকুম,আজকে আমরা জানবো লবঙ্গের উপকারিতা ও অপকারিতা নিয়ে।

আপনি জানেন কি লবঙ্গ শুধু রান্নার স্বাদ বাড়াতে নয় লবঙ্গ খাওয়ার উপকারিতাও প্রচুর। লবঙ্গ গাছের শুকনো ফুলের কুড়িকে আমরা লবঙ্গ হিসেবে ব্যবহার করি।

এর বৈজ্ঞানিক নাম হল সিজিজিয়াম অ্যারোম্যাটিকাম (Syzygium Aromaticum)। ঝাঁঝালো গন্ধ ও মশলাদার স্বাদের এই লবঙ্গে রয়েছে নানা রকমের ঔষধি উপাদান।

বহু যুগ ধরে নানা রকমের রোগ নিরাময় করতে এই লবঙ্গ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আজকের এই  পোস্টে আমরা আপনাকে লবঙ্গর উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে জানাবো।

চলুন জেনে নেই,লবঙ্গের উপকারিতা ও অপকারিতা

লবঙ্গের উপকারিতা:

এ্যান্টি ব্যাকটেরিয়া :

গবেষণায় দেখা গেছে লবঙ্গের মধ্যে এ্যন্টি এ্যান্টি ব্যাকটেরিয়া গুণাগুণ রয়েছে। আর এই শক্তি যে কোন ধরনের ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে দিতে পারে। তাই সংক্রমন থেকে বেঁচে থাকতে অনেকেই লবঙ্গ খেয়ে থাকেন। নিয়মিত লবঙ্গ খেলে যে কোন ধরনের ইনফেকশন থেকে বেঁচে থাকা যায়।

দাঁতের ব্যথা :

অনেকে দাঁতের ব্যথা সারাতে সাদা পাতা ব্যবহার করেন বা অন্য ঔষধ খেয়ে থাকেন। দাঁতের ব্যথা হলে কয়েকটি লবঙ্গ চিবিয়ে ব্যথা স্থানে লাগান বা অল্প পরিমাণ লবঙ্গ তেল নিয়ে দাঁতের গোড়ায় লাগান বা কয়েকটি লবঙ্গ দিয়ে চা খান। খুব সহজেই দাঁত ব্যথা ভাল হয়ে যাবে।

জ্বর নিবারণ :

  • লবঙ্গে থাকা ভিটামিন কে ও ই শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তিকে বাড়িয়ে দেয়।
  • ফলে শরীরে কোন ভাইরাস থাকতে পারে না বা আসতে পারে না।
  • তাই ভাইরাল জ্বর হলে লবঙ্গ সেবন করুন খুব তাড়াতাড়ি জ্বর ভাল হয়ে যাবে।
  • এমনকি নিয়মিত লবঙ্গ খেলে জ¦র হওয়ার সম্ভাবনাও কমে যাবে।

চোখ উঠা :

চোখ উঠলে ২-৩ টি লবঙ্গ থেঁতো করে আধা কাপ গরম পানিতে ২-৩ ঘন্টা ভিজিয়ে রেখে ছেঁকে নিয়ে এই পানি দিয়ে চোখ ধৌত করলে চোখর জ্বালাপোড়া থাকবে না এবং চোখ দিয়ে ময়লা বের হওয়া বন্ধ হয়ে যাবে। তাছাড়া চোখ লাল হওয়া, চোখে পিচুটি পড়া রোগেও এই ব্যবস্থা উপকারী।

আরো পড়ুন: কালিজিরার উপকারিতা

মাথা ব্যথা :

মাথা ব্যথা সকাল বিকাল বা রাতে যখনই হোক না কেন এবং যে প্রকারেরই মাথা ব্যথা হোক না কেন লবঙ্গ চূর্ণ করে এক গ্রামের চার ভাগের এক ভাগ অল্প গরম পানি সহ দিনে ২-৩ বার খেলে মাথা ব্যথা ভাল হয়ে যাবে। মাথা ব্যথায় লবঙ্গ বেটে কপালে দিলেও মাথা ব্যথা কমে যায়।

অতিরিক্ত পিপাসা :

কারো অতিরিক্ত পিপাসা হলে ২৫ গ্রাম লবঙ্গ ৪ লিটার পানিতে সিদ্ধ করতে হবে। ২ লিটার থাকতে নামিয়ে ছেঁকে এই পানি অল্প অল্প পরিমাণ খেলে অতিরিক্ত পিপাসা দূর হয়ে যাবে।

মাংস হজম হওয়া :

যে কোন কারণে বেশী মাংস খেয়ে ফেললে দুশ্চিন্তা না করে কয়েকটি লবঙ্গ চিবিয়ে খেয়ে ফেলুন খুব তাড়াতাড়ি মাংস হজম হয়ে যাবে।

হজমে সমস্যা :

যাদের যে কোন খাবারে বা গুরুপাক খাবারে হজমে সমস্যা রয়েছে তারা খাবারের আগে এক কাপ লবঙ্গ চা পান করুন দেখবেন খুব তাড়াতাড়ি হজম হয়ে যাবে। নিয়মিত খেলে হজম শক্তি বৃদ্ধি পাবে। আর সমস্যা থাকবে না।

লিভার শক্তিশালী করে :

লবঙ্গে থাকা এ্যান্টি অক্সিডেন্ট শরীরে প্রবেশ করে শরীরে জমে থাকা টক্সিনগুলো বা শরীরে লুকিয়ে থাকা ঘুমন্ত হত্যাকারীকে বের করে দেয়। ফলে লিভার সহ শরীরের প্রত্যেকটি অঙ্গ শক্তিশালী হয়। তাই সুস্থ থাকার জন্য নিয়মিত লবঙ্গ খাওয়া জরুরী।

সাইনাস ইনফেকশন :

নিয়মিত লবঙ্গ খেলে সাইনাসের সমস্যা কমে যাবে। সাইনাসের সমস্যা থাকলে লবঙ্গ তেলের নস্যি নিতে পারেন।

সাধারণ ঠান্ডা কাশি :

ঠান্ডা কাশি অ্যাজমা সাইনাস সব খানেই লবঙ্গ চা উপকারী। লবঙ্গ দিয়ে চা খান এই রোগ গুলো ভাল হয়ে যাবে।

ত্বকে সংক্রমণ :

ত্বকে কোন ধরনের সংক্রমণ হলেই এই জায়গায় লবঙ্গের রস লাগাতে হবে অথবা লবঙ্গ চা লাগাতে হবে। খুব তাড়াতাড়িই কষ্ট কমে যাবে।

আথ্রাইটিসে :

  • আথ্রাইটিসের যন্ত্রনা কমাতে লবঙ্গ চা উপকারী। নিয়মিত লবঙ্গ চা খেলে আথ্রাটিসের ব্যথা কমে যাবে।
  • তাছাড়া এক কাপ লবঙ্গ চা কয়েক ঘন্টা ফ্রিজে রেখে দিতে হবে।
  • তারপর বের করে ব্যথার স্থানে ঐ ঠান্ডা চা ২০ মিনিট লাগালে ব্যথা কমে যাবে।
  • শরীরের বিভিন্ন জয়েন্ট ব্যথা ও ফোলা কমাতেও এই নিয়ম কার্যকরী।
  • যে সমস্ত জয়েন্টে ব্যথা রয়েছে তার জন্য একটু বেশী পরিমাণ লবঙ্গ নিয়ে তাওয়ায় সামান্য ভেজে নিন।
  • ভেজে নেওয়া লবঙ্গগুলো গরম থাকতেই হালকা কাপড়ে পুটলি বেঁধে ব্যথার স্থানে ছেক দিন ব্যথা কমে যাবে।
আরো পড়ুন: গ্রীন টি এর উপকারিতা

গর্ভনিরোধ :

প্রতিদিন একটি করে লবঙ্গ চিবিয়ে খেলে গর্ভবতী হওয়ার আশংকা থাকে না। তাই স্ত্রীদের লবঙ্গ সেবনে সতর্ক থাকা উচিত।

সর্দি :

সর্দি রোগে লবঙ্গ বেটে নাকে ও কপালে প্রলেপ দিলে সর্দি ভাল হয়ে যায়।

অরুচি:

পিত্ত বা শ্লেষ্মার বিকৃতিতে অরুচি রোগ হয়। এই অবস্থায় লবঙ্গ অল্প ভেজে নিয়ে চূর্ণ করতে হবে। এই চূর্ণ ২৫০ মিঃ গ্রামঃ পরিমান নিয়ে সামান্য গরম পানি সহ সকাল বিকাল খেলে অরুচি দুর হয়ে যাবে।

পেট ফাঁপা( লবঙ্গের উপকারিতা ও অপকারিতা):

  • পেট ফাঁপা ও পেটে ভুটভাট শব্দ হয়।
  • লবঙ্গ  চূর্ণ ২৫০ মিঃ গ্রামঃ পরিমাণ নিয়ে সামান্য গরম পানি সহ সকাল বিকাল খেলে অরুচি দূর হয়ে যাবে।
  • সশব্দে মল ত্যাগ, পাতলা দাস্ত হলেও এই নিয়মে উপকার পাওয়া যায়।
  • পেটে বায়ু জমে আছে উর্ধ অধ কোন দিকেই যাচ্ছে না এই অবস্থায় ৩-৪ টি লবঙ্গ বেটে পানি সহ খেলে বায়ু বেরিয়ে যাবে।

গলার ক্ষত:

লবঙ্গ পুড়িয়ে ধোয়াটা মুখে টানলে গলার ক্ষত ভাল হয়ে যায়।

কফ ছাড়া কাশি:

রক্তে ইয়োসিনোফিল কণিকার সংখ্যা বা পরিমাণ বেড়ে গেলে কাশি হতে পারে।

এমতাবস্থায় দুপুর ও রাত্রে খাবারের পর ২৫০ মিঃ গ্রাম মাত্রায় সামান্য গরম পানি সহ কিছু দিন খেলে আশ্চর্যজনকভাবে ইয়োসিনোফিল কণিকার সংখ্যা বা পরিমাণ কমে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসে কাশি সেরে যায়।

বাত:

আমবাত, কটি বাত সহ বিভিন্ন প্রকার বাত রোগে লবঙ্গ তেল মালিশ করলে এবং সাথে প্রতিদিন ২ বার ২৫০ মিঃগ্রাম লবঙ্গ চূর্ণ সামান্য গরম পানি সহ খেলে উপকার পাওয়া যায়।

অজীর্ণ ও বমি ভাব :

  • খাওয়ার পর খাদ্য জীর্ণ হওয়ায় বমি বমি ভাব পেটেও সামান্য ব্যথা।
  • মুখে তিতা ভাব চলে আসে।
  • এমতাবস্থায় ২৫০ মিঃগ্রাম লবঙ্গ চূর্ণ কয়েক ফোটা পানি দিয়ে পেষ্ট বানিয়ে এই পেষ্ট সামান্য গরম পানি সহ সকাল, দুপুর ও রাতের খাবারের পর খেলে উপকার পাওয়া যায়।

প্রচন্ড ট্রেস :

যে কোন কারণে প্রচন্ড উৎকণ্ঠায় আছেন একটি লবঙ্গ মুখে দিয়ে চুষে চুষে খেয়ে ফেলুন একটু পরেই মেজাজ ফুরফুরে হয়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে লবঙ্গ চাও খেতে পারেন।

বুকে ব্যথা :

সামান্য কাশি আছে সাথে সামান্য বুকে ব্যথা। অনেকে এতে ভয় পেয়ে যায়। এমতাবস্থায় ২৫০ মি. গ্রাম লবঙ্গ গুড়া অল্প গরম পানি সহ সকাল বিকাল সেবন করুন কাশিও চলে যাবে বুকের ব্যথাও থাকবে না।

মুখের দুর্গন্ধ :

যাদের মুখে দুগন্ধ রয়েছে কয়েকটি লবঙ্গ নিয়ে চিবুতে থাকুন, মুখের দুর্গন্ধ দূর হয়ে যাবে।

ব্রণ :

তাজা লবঙ্গের গুড়া মধুর সাথে মিশিয়ে ব্রণের উপরে লাগালে ব্রণ ভালো হয়ে যায়।

মশা তাড়াতে :

লেবু কেটে এর মধ্যে লবঙ্গ লাগিয়ে ঘরের মশা থাকার যায়গাগুলোতে রেখে দিন মশা থাকবে না।

পিঁপড়া তাড়াতে :

চিনির বৈয়ামে কয়েকটি লবঙ্গ রেখে দিন বৈয়ামে পিপড়া আসবে না।

কানে সংক্রমণ :

কানে কোন সংক্রমণ বা ব্যথা হলে রাতে কয়েক ফোটা লবঙ্গ তেল কানে দিয়ে রাখুন কানের ব্যথা থাকবে না সংক্রমণও কমে যাবে।

চুল পড়া :

নিয়মিত ব্যবহারের তেলের সাথে লবঙ্গ তেল মিশিয়ে ব্যবহার করলে চুল পড়া বন্ধ হয় এবং চুলের ঘনত্ব বাড়ে।

লবঙ্গের অপকারিতা:

যেকোনো জিনিসের মত লবঙ্গও অতিরিক্ত মাত্রায় শরীরে প্রবেশ করলে তার কিছু  অপকারিতা দেখা যেতে পারে।

  • অতিরিক্ত পরিমানে লবঙ্গ খেলে তা স্বাস্থ্যের ওপর নানা রকমের সমস্যা সৃষ্টি করে যেমন রক্তপাত, নিম্ন রক্তচাপ, রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে যাওয়া, অ্যালার্জি ইত্যাদি ।
  •  গর্ভাবস্থায় বা স্তন্যপান করানোর সময় অতিরিক্ত লবঙ্গ না খাওয়াই ভালো।

তবে যাই হোক না কেন, লবঙ্গে রয়েছে নানা ঔষধি উপাদান যা স্বাস্থ্য, ত্বক ও চুলের জন্যে খুবই প্রয়োজনীয়।

সংক্রমণ থেকে শুরু করে ব্রণ সরানো পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই উপকার প্রদান করে এই লবঙ্গ।

তাই স্বল্প পরিমাণে লবঙ্গ প্রত্যেকেরই প্রতিদিন খাওয়া প্রয়োজন

আরো পড়ুন: শিমুলের মূলের উপকারিতা
Categories
উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ মসলার উপকারিতা

জাফরানের উপকারিতা

জাফরানের উপকারিতা: মসলা বাজারে সবচেয়ে দামি অব্স্থানে আছে জাফরান। নামের বাহারেও আছে স্যাফরন বা কেশর হিসেবে পরিচিত। এই মশলার ব্যাবহার চলে সুস্বাদু অনেক খাবারে। খাবারের ঘ্রাণ আর রঙ বাড়িয়ে তুলতে জাফরানের জুড়ি নেই। তবে জাফরানের কাজ শুধু ঘ্রাণ বা রঙবাহারে সীমাবদ্ধ নয় রয়েছে অসাধারণ ঔষধিগুণ। জাফরানে রয়েছে রোগ নিরাময়ে জাদুকরী ক্ষমতা। মাত্র ১ চিমটি জাফরান আপনাকে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে।

চলুন জেনে নেই, জাফরানের উপকারিতা গুলি:

জাফরানে রয়েছে পটাশিয়াম যা উচ্চ রক্ত চাপ ও হৃদপিণ্ডের সমস্যা জনিত রোগ দূর করে।

হজমে সমস্যা এবং হজম সংক্রান্ত যে কোনও ধরনের সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে জাফরান।

জাফরানের পটাশিয়াম আমাদের দেহে নতুন কোষ গঠন এবং ক্ষতিগ্রস্থ কোষ সারিয়ে তুলতে সহায়তা করে।

জাফরানের নানা উপাদান আমাদের মস্তিষ্ককে রিলাক্স করতে সহায়তা করে, এতে করে মানসিক চাপ ও বিষণ্ণতা জনিত সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়৷

মেয়েদের মাসিকের অস্বস্তিকর ব্যথা এবং মাসিক শুরুর আগের অস্বস্তি দূর করতে জাফরানের জুড়ি নেই।

নিয়মিত জাফরান সেবনে শ্বাস প্রশ্বাসের নানা ধরণের সমস্যা যেমন অ্যাজমা,পারটুসিস, কাশি এবং বসে যাওয়া কফ দূর করতে সহায়তা করে।

জাফরানের ক্রোসিন নামক উপাদানটি অতিরিক্ত জ্বর কমাতে সহায়তা করে।

জাফরানের রয়েছে অনিদ্রা সমস্যা দূর করার জাদুকরী ক্ষমতা। ঘুমোতে যাওয়ার আগে গরম দুধে সামান্য জাফরান মিশিয়ে পান করলে অনিদ্রা সমস্যা দূর হবে ।

সামান্য একটু জাফরান নিয়ে মাড়িতে ম্যাসেজ করলে মাড়ি,দাঁত এবং জিহ্বার নানা সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব৷

গবেষণায় দেখা যায় জাফরান দৃষ্টিশক্তি উন্নত করতে এবং চোখের ছানি পড়া সমস্যা প্রতিরোধে কাজ করে৷

জাফরানের অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান বাতের ব্যথা,জয়েন্টে ব্যথা,মাংসপেশির ব্যথা এবং দুর্বলতা দূর করতে অব্যর্থ ঔষুধ৷

আরো পড়ুন: পানিফলের উপকারিতা

অ্যাসিডিটির সমস্যা থেকে রেহাই দিতে পারে সামান্য একটু খানি জাফরান৷

জাফরানের  ক্যান্সার প্রতিরোধ করার ক্ষমতা আছে৷

জাফরান দেহের কলেস্টোরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইড নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে।

মস্তিস্কের গঠন উন্নত করতে জাফরানের ভূমিকা অনস্বীকার্য। জাফরান স্মৃতিশক্তি এবং চিন্তা ক্ষমতা উন্নত করে৷এছাড়াও আলজাইমার এবং পার্কিনসন রোগ থেকে দূরে রেখে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে বাঁচায়৷

কিডনি, যকৃৎ এবং মুত্রথলির রোগ থেকে মুক্তি দেয় জাফরান৷

যষ্ঠিমধু এবং দুধের সঙ্গে জাফরান মিশিয়ে মাথায় লাগালে চুল পড়া বন্ধ হয় এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে৷

পুরুষত্বহীনতা, অকাল বীর্যপাত ও লিঙ্গ উথান সমস্যা দূর করে সুস্থ যৌনজীবন দেয় জাফরান৷

টিউমারের রোধ বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে৷

ত্বকে ঔজ্বল্য বাড়ায় এবং বলিরেখা দূর করতে সহায়তা করে৷