Categories
উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ ভেষজ উদ্ভিদের উপকারিতা

জামের বিচির উপকারিতা

জামের বিচির উপকারিতা: বর্ষাকালে জাম প্রচুর পাওয়া যায়। এই ফলের উপকারিতা সকলের হয়তো জানা নেই। ডায়াবেটিসের কারনে অগ্ন্যাশয়ে যে প্রভাব পড়ে, তা এড়াতে একটি কার্যকর প্রাকৃতিক ঔষধ হলো জাম ফল।

শুধু ফলটিই নয়, এর বিচি শুকিয়ে, গুড়ো করে দিনে দু’বার পানি দিয়ে খেলে তাও দারুন কার্যকরী।জামের বিচি গুড়া শর্করাযুক্ত বহুমূত্র রোগে ব্যবহৃত হয়।

পাকস্থলী, প্লীহা ও যকৃতের শক্তি বৃদ্ধি করে এবং রক্ত ও পিত্তের প্রকোপ প্রশমিত করে। উদরাময়, আমাশয়, অর্শ, বমি ও বমিভাব নির্বারণ করে। এছাড়া হজমকারক, দাঁতের গোড়া ও মাড়ির শক্তি বৃদ্ধি করে।

জামের বিচির উপকারিতা:

ডায়াবেটিস রোগ:

রোগপ্রতিকারে জাম ডায়াবেটিসে ডায়াবেটিস রোগী, যাদের হাইব্লাডপ্রেসার নাই, এক্ষেত্রে ১ চা চামচ পরিমাণ সদ্য সংগ্রহকৃত জামের বিচি গুড়া সকাল–সন্ধ্যায় সেবন করলে রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকে।

মাথার ঘা:

মাথায় ঘা হয়ে যাদের চুল পড়ে যাচ্ছে এমন অবস্থায় পাকা জামের বিচি ছাড়িয়ে রস  ও মজ্জা দিয়ে মাথায় লেপ দিলে ১০–১৫ দিনের মধ্যেই ঘা শুকিয়ে যায় এবং মাথায় নতুন চুল গজায়।

রক্ত আমাশয়:

জামের পাতার রস ৩ চা–চামচ পরিমাণ তাতে সমপরিমাণ ছাগীর দুধ মিশিয়ে সকাল–সন্ধ্যায় খালি পেটে সেবন করালে ৫–৭ দিনের মধ্যে রক্ত আমাশয় বন্ধ হয়ে যায়।

আরো পড়ুন: তুলসী পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা

রক্তাতি :

জামের কচি পাতার রস ৩ চা–চামচ, আমলকীর কচি পাতার রস ৩ চা–চামচ, ছাগীর দুধ ৩ চা–চামচ এবং মধু ২ চা–চামচ একত্রে মিশ্রিত করে সকাল–সন্ধ্যায় খালি পেটে সেবন করলে ১–২ দিনের মধ্যেই উপকার দর্শে।

বমি ভাব দূর:

পিত্ত–বিকৃতজনিত কারণে যখন বমি হতে থাকে, সে সময় ২ – ১ টি কচি জাম পাতা কুচি কুচি করে ১ কাপ পানিতে সিদ্ধ করে অর্ধেক করে তাতে ১ চা–চামচ মধু মিশিয়ে সেবন করালে বমি বন্ধ হয় এবং বমি বমি ভাব দূর হয়।

শুক্রতারল্যে:

জামের পুরোনো আঁটি এবং আমের পুরোনো আঁটির শাঁস সমান পরিমাণ নিয়ে চূর্ণ করে সংরক্ষণ করুন। এই চূর্ণ মিহিনগুঁড়ো করতে হবে। ঐ চূর্ণ সকালে ২ চা–চামচ এবং সন্ধ্যায় ২ চা–চামচ নিয়মিত ১৫ দিন সেবন করলেই বীর্য গাঢ় হয় এবং রতিশক্তি বেড়ে যায়।

দাঁত নড়া ও মাড়ির দুর্বলতায়:

জামের ছাল দাঁত নড়া এবং মাড়ির দুর্বলতায়  পরিমাণমত নিয়ে ৩ গুণ পানিতে ভিজিয়ে সিদ্ধ করে অর্ধেক হলে ঐ পানির দ্বারা গড়গড়া করলে ৫–৭ দিনেই উপকার পাওয়া যায়।

দাঁতের গোড়া নরম হলে:

জামের পাতা শুকিয়ে মিহিন গুঁড়ো করে সেই গুঁড়ো দিয়ে সকাল–বিকাল দাঁত মাজলে দাঁতের গোড়া শক্ত হয়।

আরো পড়ুন: সর্পগন্ধা গাছের উপকারিতা

রক্তরোধ:

জাম পাতা  হাত–পা কেটে বা ছিঁড়ে গিয়ে রক্ত বন্ধ হচ্ছে না এমন অবস্থায়  ধুয়ে পরিষ্কার করে রস বের করে কাটা স্থানে লাগালে রক্ত পড়া বন্ধ হয়|

দুষ্টক্ষতে:

শরীরের কোন স্থানে ক্ষত হয়ে গর্ত হলে এবং ঐ ক্ষতস্থানের ঘা সহজে শুকাচ্ছে না এমন অবস্থায় জামের ছাল চূর্ণ করে মিহিন চালনীতে চেলে ঐ গুঁড়ো ক্ষতস্থানে ছিটিয়ে দিতে হবে দিনে ২ বার। এভাবে ৫–৭ দিন লাগালেই উপকার পাওয়া যায়।

যকৃতের দুর্বলতায়:

যকৃতের কার্যক্ষমতা বাড়াতে জামের সির্কা ৩ চা – চামচ পরিমাণ প্রতিদিন ৩ বেলা আহারের পর পর ১৫ দিন সেবন করলে উপকার পাওয়া যায়।

আরো পড়ুন: চিরতার উপকারিতা ও অপকারিতা

পাকস্থলীর দুর্বলতায়:

পাকস্থলীর দুর্বলতার কারণে যাদের খাবার ঠিকমত হজম হচ্ছে না, এক্ষেত্রে ১টি পিঁয়াজ কুচি এবং অর্ধেক আদা কুচি আধা কাপ জামের সির্কায় আধা ঘণ্টা ভিজিয়ে দুপুরে এবং রাতে আহারের মাঝে খেলে খাবার ভালভাবে হজম হয়।

সাবধানতা:

শীতল প্রকৃতির মানুষ যারা অর্থাৎ অল্প ঠান্ডা বা আবহাওয়া পরিবর্তনের সাথেই সর্দি-কাশিতে ভুগতে থাকেন, তাদের ক্ষেত্রে বেশি পরিমাণ অর্থাৎ অতিরিক্ত মাত্রায় জাম না খাওয়াই উত্তম। তবে, অল্প পরিমাণ নিয়ম মেনে খেলে অসুবিধা নেই।

Image by: Pixabay

Categories
উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ ভেষজ উদ্ভিদের উপকারিতা

চিরতার উপকারিতা ও অপকারিতা

আসসালামু আলাইকুম, আজকে আমরা জানবো চিরতার উপকারিতা ও অপকারিতা নিয়ে।

চিরকালের তিতা বলে হয়তো বাংলায় এর নাম চিরতা।এ গাছের সব অংশ ই রোগ নিরাময়ে সাহায্য করে। তবে এর শেকড় সবচেয়ে বেশি কার্যকর।
চিরতা বর্ষজীবী উদ্ভিদ।এর উচ্চতা প্রায় দেড় মিটার।পাতা কমবেশি ১০ সেন্টিমিটার দীর্ঘ। পাতার অগ্ৰভাগ সূঁচালো। ফুল বৃন্তহীন এবং জোড়ায় জোড়ায় বিপরীত মুখী হয়ে ফোটে।চিরতার রসের নানান উপকারিতা রয়েছে।
চিরতা
চিরতা
স্থানীয় নাম: চিরতা
বৈজ্ঞানিক নাম: Swertia perennis

চিরতার উপকারিতা ও অপকারিতা:

চিরতার উপকারিতা:

ব্যাকটেরিয়া ভাইরাস আক্রান্ত হতে দেয় না:

আমরা জানি তেঁতো খাবার খেলে শরীর ব্যাকটেরিয়া ভাইরাস থেকে কম আক্রান্ত হয়। তার ফলে শরীর কম অসুস্থ হয়। আর চিরতার স্বাদ অত্যন্ত তেতো। তাই চিরতা পানি শরীরকে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হবার হাত থেকে বাঁচায়।

আরো পড়ুন: তুলসী পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা
জ্বরের চিকিৎসায় চিরতার ব্যবহার:

জ্বর: আকষ্মিক ঋতু পরিবর্তনে অনেকের জ্বর হয়, সেই সাথে সর্দি-কাশি বেড়ে যায়। এ অবস্থায় হাত-পা চিবোয় বা কামড়ায়।

এ অবস্থা হলে ৫-১০ গ্রাম চিরতা ৪ কাপ পানিতে সিদ্ধ করে ২ কাপ থাকতে নামিয়ে ঠাণ্ডা করতে হবে। পরে তা ছেঁকে সকালে অর্ধেক ও বিকালে অর্ধেক খেতে হবে। কয়েকদিন খেলে জ্বরের এ ভাবটা চলে যাবে।

অ্যালার্জিচিকিৎসায় চিরতার ব্যবহার:

অ্যালার্জির কারণে শরীর চুলকায়, চুলকানোর জায়গা ফুলে লাল হয়ে যায়, ত্বক থাকা থাকা হয়ে ওঠে।

আগের দিন রাতে শুকনো চিরতা ৪-৫ গ্রাম পরিমাণ এক গ্লাস (২৫০ মিলিলিটার) গরম পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। পরদিন ওটা ছেঁকে দিনের মধ্যে ২-৩ বারে খেতে হবে।

যেসব খাবার খেলে অ্যালার্জি হয় সেসব খাবার খাওয়া যাবে না।

 প্রবল হাঁপানিরর চিকিৎসায় চিরতার ব্যবহার:

অনেকের হাঁপানি সমস্যা আছে। অর্শের রক্ত পড়া বন্ধ হওয়ায় তা বেড়ে যায়। অল্প ঠাণ্ডা লাগলে বা ঋতু পরিবর্তনের সময় সর্দি-কাশি হয়ে হাঁপানির টান বেড়ে যায়।

আধা গ্রাম চিরতার গুঁড়ো ৩ ঘণ্টা অন্তর মধুসহ চেটে খেতে হবে। এতে ২-৩ দিনের মধ্যে প্রবল হাঁপানি কমে যাবে।

চুলকানির সমস্যায় চিরতার ব্যবহার:

গায়ে চুলকানি হলে ২০ গ্রাম চিরতা অল্প পানি ছিটিয়ে বেটে নিতে হবে। এরপর কড়াই বা তাওয়াতে ১০০ গ্রাম সরিষার তেল দিয়ে জ্বাল দিতে হবে।

তেল গরম হয়ে ফেনামুক্ত হলে তাতে চিরতা ছাড়তে হবে। ভালো করে ভাজা হলে নামিয়ে ছাঁকতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে চিরতা যেন পুড়ে না যায়। এ তেল চুলকানোর জায়গায় ঘষে অল্প অল্প করে মালিশ করলে দ্রুত চুলকানি সেরে যাবে।

আরো পড়ুন: সর্পগন্ধা গাছের উপকারিতা
 চুল ওঠা বন্ধ করতে চিরতার ব্যবহার:

কোনো কারণ দেখা যাচ্ছে না, অথচ রোজ মাথা থেকে প্রচুর চুল উঠছে। চুল উঠতে উঠতে ঘন কেশ পাতলা হয়ে যাচ্ছে।

এক্ষেত্রে আগের দিন রাতে এক কাপ গরম পানিতে ৫ গ্রাম চিরতা ভিজিয়ে রেখে পরদিন সেই পানি ছেঁকে তা দিয়ে মাথা ধুয়ে ফেললে চুল ওঠা কমবে।

একদিন পর পর একদিন এভাবে চিরতার পানি দিয়ে মাথা ধুতে হবে। ৩-৪ বার এভাবে ধুতে পারলে চুল ওঠা অনেক কমে যাবে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে  চিরতার ব্যবহার:

চিরতা নিয়মিতভাবে খেলে রক্তে চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকে বা কমে। চিরতা দেহে অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন উৎপাদনকে ত্বরান্বিত করে।

এক্ষেত্রে আগের দিন রাতে শুকনো চিরতা ৪-৫ গ্রাম পরিমাণ এক গ্লাস (২৫০ মিলিলিটার) গরম পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। পরদিন ওটা ছেঁকে সকালে খালি পেটে খেতে হবে।

কৃমি সারায়:

কৃমি হলে পেটের উপরের অংশ মোচড়ায়, ব্যথা করে। এক্ষেত্রে আধা গ্রাম চিরতার গুঁড়ো সকালে মধুসহ বা চিনি মিশিয়ে চেটে খেতে হবে। পরে পানি খেতে পারেন। এতে কৃমির উপদ্রব চলে যাবে।

তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে:

নিজের তারুণ্য ধরে রাখার জন্য রোজ চিরতার পানি খেতে পারেন। কারণ চিরতা রক্তকে পরিষ্কার করে। রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। যেটি তারুণ্য ধরে রাখার একটি শর্ত।

তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে:

নিজের তারুণ্য ধরে রাখার জন্য রোজ চিরতার পানি খেতে পারেন। কারণ চিরতা রক্তকে পরিষ্কার করে। রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। যেটি তারুণ্য ধরে রাখার একটি শর্ত।

আরো পড়ুন: যষ্টিমধুর উপকারিতা

চিরতার অপকারিতা:

তবে চিরতা যেহেতু ব্লাড সুগার লেবেলকে কম করে, তাই এটি ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী খাওয়া উচিত। আর চিরতা খুব তেঁতো তাই বমি হয়ে যাবার সম্ভবনা থাকে। এছাড়া চিরতার জল খুবই উপকারি সেটা দেখলেন। তাই শরীরকে সুস্থ্য রাখার জন্য এবার থেকে রোজ খান চিরতার জল।

Image by Youtube

Categories
উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ ভেষজ উদ্ভিদের উপকারিতা

সর্পগন্ধা গাছের উপকারিতা

আসসালামু আলাইকুম ,আজকে আমরা জানবো সর্পগন্ধা গাছের উপকারিতা ও ব্যবহার

সর্পগন্ধা গাছের পরিচিতি :

সর্পগন্ধা গাছের পাতা
সর্পগন্ধা গাছের পাতা

#সর্পগন্ধা একটি গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ।এ গাছ সাধারণত এক মিটার উঁচু হয়ে থাকে। পাতা সরল, লম্বাটে, অগ্রভাগ সরু উজ্জল বর্ণের হয়ে থাকে। সাধারণত প্রতিটি গিটে ৩টি করে পাতা থাকে।

গুচ্ছাবদ্ধ গোলাপী ফুল হয়। ফল প্রথমে সবুজ, পরে পাকলে বেগুনী-কালো রংয়ের হয়ে থাকে। এর মূল ধূসর বর্ণের। কাঁচা মূলের গন্ধ কাঁচা তেঁতুলের মতো। গ্রীস্মকালে ফুল ফোঁটে ও বর্ষাকালে ফল পাকে।

সর্পগন্ধা গাছ কোথায় পাওয়া যায়:

ভারতবর্ষে সর্বত্র জন্মে। বাংলাদেশেও প্রচুর জন্মে। কোথাও কোথাও চাষ করা হয়। ডিসেম্বর – জানুয়ারী মাসে মাটি খুঁড়ে শেকড় তোলা হয়।

শেকড়গুলি পানিতে ভালভাবে ধুয়ে রৌদ্রে শুকিয়ে নিয়ে তারপর ব্যবহার করা হয়। চীন দেশের পঞ্চাশটি মৌলিক ভেষজ উদ্ভিদের মধ্যে সর্পগন্ধা একটি।

সর্পগন্ধা গাছের উপকারিতা ও ব্যবহার:

১. অনিদ্রা ও উচ্চ রক্তচাপে: ২৫০-৫০০ মিলিগ্রাম মূল চূর্ণ প্রত্যহ ১-২ বার পানিসহ সেব্য। এক মাস সেবনে উপকার পাওয়া যায়।

২.উন্মাদ ও হিস্টিরিয়ায়: ২৫০-৫০০ মিলিগ্রাম মূল চূর্ণ প্রত্যহ একবার প্রয়োজনে দুই বার দুধ ও চিনিসহ সেব্য। নিয়মিত ২০-২৫ দিন সেবন করে যাওয়া আবশ্যক।

৩. এটি অত্যন্ত উত্তেজনানাশক ও নিদ্রাকারক। উপযুক্ত মাত্রায় সেবন করলে সুনিদ্রা হয় ও উন্মত্ততা হ্রাস পায়। সে কারণে উন্মাদ চিকিৎসার ক্ষেত্রে সর্পগন্ধার মূল ব্যবহৃত হয়।

৪. এর মূল বায়ুর উর্ধগতিকে দমন করে। বিষধর সাপে কামড়ালে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। এক্ষেত্রে সর্পগন্ধা বায়ুচাপ দমন করে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এর ফলে চিকিৎসকরা চিকিৎসা করার সময় পান।

৫. এ ছাড়াও মূলের নির্যাস তলপেটের ব্যথা, ডায়রিয়া, আমাশয় এবঙ জ্বরের ওষুধ হিশেবে ব্যবহৃত হয়।

রাসায়নিক উপাদান, সর্পগন্ধা মূলে ইনডোল এলকালয়েড রয়েছে যাতে রিসারপিন, ডিসারপিডিন, রেসিনামিন থাকে।

অন্যান্যের মধ্যে আজমলীন, আজমালিসিন, সার্পেন্টাইন, অলিওরেসিন, ও আনস্যাচুরেটিভ এলকোহল ইত্যাদি রয়েছে।

৬.  সর্পগন্ধা গাছের মূলের রস নিদ্রাকারক হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং উচ্চ রক্তচাপ রোধ করে।

৭. উচ্চরক্তচাপ, চোখের ছানি অপসারণে, বিষাক্ত পোকা-মাকড়ের দংশনে,মানসিক অবসাদ, বার্ধক্য জনিত রোগ থেকে মুক্তি পেতে,দৈহিক দুর্বলতা, হিস্টিরিয়া রোগে, জ্বর ও পেটের সমস্যা ইত্যাদিতে উপকার পাওয়া যায়। তবে যাদের ব্রাঙ্কাইটিস, হাঁপানি, গ্যাস্ট্রিক আলসারের সমস্যা আছে তাদের সর্পগন্ধা ব্যবহার ক্ষতিকর।

৮. সর্পগন্ধা গাছে স্টেরল, অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড, অলিক অ্যাসিড, ফিউমারিক এসিড, গ্লুকোজ, যেদিন,খনিজ লবণ,স্টার্চ ইত্যাদি পাওয়া যায় যা চিকিৎসা ক্ষেত্রে উপকারী ভূমিকা পালন করে।
৯. যে বাড়িতে সর্পগন্ধা থাকে সে বাড়িতে সাপ আসেনা। এটি একটি উপকারী উদ্ভিদ।

 

সর্পগন্ধা গাছের অপকারিতা:

তবে ব্যবহার সাপেক্ষে এটির নানান ক্ষতিকর দিক রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ ব্রঙ্কাইটিস (শ্বাসনালীর ভিতরের আবৃত প্রদাহকে ব্রঙ্কাইটিস বলে ), হাঁপানি, গ্যাসট্রিক আলসারে এর ব্যবহার বেশ ক্ষতিকর।

Categories
উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ ভেষজ উদ্ভিদের উপকারিতা

তুলসী পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা

তুলসী পাতার উপকারিতা: ওষুধের গুণে ভরা তুলসীর কদর সবার কাছে। তুলসীতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে, যা ক্যান্সার প্রতিরোধে কাজ করে। শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবেও দারুন ভূমিকা তুলসীর।

ছত্রাক ও অন্যান্য জীবাণুনাশকের কাজ করে তুলসী পাতা। তাছাড়া শীত এলে শরীরে বাড়ে নানা রোগের উৎপাত। এই উৎপাত থেকে বাঁচতে তুলসীর তুলনা হয় না। 

তুলসী পাতার উপকারিতা:

সর্দি-কাশিতে তুলসী পাতার ব্যবহার:

সর্দি-কাশিতে তুলসী পাতার ব্যবহার
https://janajoruri.com/

শিশুদের সর্দি-কাশির জন্য তুলসী পাতা মহাষৌধ ,কাশি হলে তুলসী পাতা এবং আদা একসঙ্গে পিষে মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খান। এতে উপকার পাবেন।

মাথা ব্যাথা: মাথা ব্যাথা ও শরীর ব্যাথা কমাতে তুলসী খুবই উপকারী। এর বিশেষ উপাদান মাংশপেশীর খিচুনী রোধ করতে সহায়তা করে।

বয়স রোধ করা: তুলসী পাতার ভিটামিন সি, ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস ও এসেন্সিয়াল অয়েলগুলো চমৎকার অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের হিসেবে কাজ করে; যা বয়সজনিত সমস্যা কমায়। তুলসী পাতাকে যৌবন ধরে রাখার টনিকও মনে করেন কেউ কেউ।

রোগ নিরাময় ক্ষমতা: তুলসীকে নার্ভের টনিক বলা হয় এবং এটা স্মরণশক্তি বাড়ানোর জন্য বেশ উপকারী। এটি শ্বাসনালী থেকে শ্লেষ্মাঘটিত সমস্যা দূর করে। তুলসী পাতা পাকস্থলীর ও কিডনীর স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

পোকার কামড়ে তুলসী পাতার ব্যবহার:

পোকার কামড়ে তুলসী পাতার ব্যবহার
https://janajoruri.com/

তুলসী পাতা হলো প্রোফাইল্যাক্টিভ যা, পোকামাকড় কামড় দিলে উপসম করতে সক্ষম। পোকার কামড়ে আক্রান্ত স্থানে তুলসী পাতার তাজা রস লাগিয়ে রাখলেকামড়ের ব্যথা ও জ্বলা থেকে কিছুটা মুক্তি পাওয়া যায়।

তুলসী পাতা দিয়ে রুপচর্চা:

তুলসী পাতা দিয়ে রুপচর্চা
https://janajoruri.com/

তুলসী পাতার রস ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। তুলসী পাতা বেটে সারা মুখে লাগিয়ে রাখলে ত্বক সুন্দর ও মসৃণ হয়। এছাড়াও তিল তেলের মধ্যে তুলসী পাতা ফেলে হালকা গরম করে ত্বকে লাগালে ত্বকের যেকোনো সমস্যায় বেশ উপকার পাওয়া যায়। এছাড়া ত্বকের কোনো অংশ পুড়ে গেলে তুলসীর রস এবং নারকেলের তেল ফেটিয়ে লাগালে জ্বালা কমবে এবং সেখানে কোনো দাগ থাকবে না ৷

মানসিক চাপ: তুলসীর ভিটামিন সি ও অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলো মানসিক চাপ কমাতে সহায়তা করে। এই উপাদানগুলো নার্ভকে শান্ত করে। এছাড়াও তুলসী পাতার রস শরীরের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।

নিয়মিত তুলসী পাতার রস খেলে রোগ-বালাই থাকবে অনেক দূরে। তাই সুস্থ থাকার জন্য প্রতিদিন অন্তত একটি করে তুলসী পাতা খান। আর নিয়মিত তুলসী পাতা পেতে ঘরের বারান্দা একটু আলো বাতাস আসলে সেখানে কিংবা বাড়ির উঠোনে একটি তুলসী গাছ লাগিয়ে দিতে পারেন।

তুলসী পাতার অপকারিতা:

তুলসী পাতা যতই উপকারী হোক না কেন, কিছু কিছু ক্ষেত্রে এটি এড়িয়ে চলাই ভালো। দেখে নিন ঠিক কোন কোন ক্ষেত্রে তুলসী পাতা খাওয়া উচিত নয়:

  • গর্ভাবস্থা বা স্তন্যপান করার সময়

গর্ভাবস্থার সময় বা মা হওয়ার পর স্তন্যপান করানোর সময় সামান্য তুলসী পাতা খেলে কোনো ক্ষতি হয় না, কিন্তু অতিরিক্ত তুলসী পাতা খেলে নানা রকমের জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই এই সময় তুলসী পাতা না খাওয়াই ভালো। এছাড়া অতিরিক্ত তুলসী পাতা মহিলাদের বন্ধ্যাত্বের কারণ হতে পারে । তাই নির্দিষ্ট পরিমাণে এটি ব্যবহার করা ভালো।

  • রক্তপাতের সমস্যা 

অতিরিক্ত তুলসী পাতা খেলে শরীরে রক্তের প্রবাহ অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ার ফলে শরীরের স্বাভাবিক রক্ত জমাট হওয়ার প্রবণতা নষ্ট হয়ে যায়। এর ফলে অতিরিক্ত রক্তপাতের সমস্যা দেখা দিতে পারে । বিশেষ করে কোনোরকম সার্জারি বা কাটা ছেঁড়া হলে ওই সময় তুলসী পাতা এড়িয়ে চলুন। এছাড়া সার্জারির দু সপ্তাহ আগে থেকেও তুলসী পাতা খাওয়া বন্ধ করা উচিত।

  • নিম্ন রক্তচাপ 

তুলসী পাতায় অতিরিক্ত পটাসিয়াম থাকার ফলে রক্তচাপ কমে যেতে পারে । তাই আপনার যদি নিম্ন রক্তচাপের সমস্যা থেকে থাকে, তাহলে তুলসী পাতা না খাওয়াই ভালো।

যাই হোক না কেন, তুলসী পাতার উপকারিতা সম্পর্কে কোনোরকম সন্দেহের অবকাশ থাকেনা। যখন এই তুলসী পাতায় এতখানি উপকারিতা রয়েছে, তাহলে দেরী কিসের? আজ থেকেই প্রতিদিনের জীবনে এই তুলসী পাতা ব্যবহার করা শুরু করে দিন।

Categories
উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ পাতার উপকারিতা ভেষজ উদ্ভিদের উপকারিতা

পাথরকুচি পাতার উপকারিতা

পাথরকুচি পাতার উপকারিতা: চিকিৎসার ক্ষেত্রে যেসব ঔষধি গাছ প্রাচীনকাল থেকে ব্যবহার হয়ে আসছে তার মধ্যে পাথরকুচি অন্যতম। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, পাথরকুচি পাতা কিডনি রোগসহ বিভিন্ন রোগের বিশেষ উপকারে আসে। চলুন জেনে নিই পাথরকুচি পাতার ঔষধি গুণাগুণ সম্পর্কে।

পাথরকুচি পাতার উপকারিতা (kalanchoe pinnata benefits) :

 কিডনির পাথর অপসারণ:

পাথরকুচি পাতা কিডনি এবং গলগণ্ডের পাথর অপসারণ করতে সাহায্য করে।

পেট ফাঁপা:

অনেক সময় দেখা যায় পেট ফুলে গেছে, প্রস্রাব আটকে আছে। সে ক্ষেত্রে একটু চিনির সাথে এক বা দুই চা-চামচ পাথরকুচির পাতার রস গরম করে পানির সঙ্গে মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যাবে।

আরো পড়ুন: কারিপাতার উপকারিতা

মৃগী:

মৃগী রোগাক্রান্ত সময়ে পাথরকুচির পাতার রস ২-১০ ফোঁটা করে মুখে দিতে হবে। একটু পেটে গেলেই রোগের উপশম হবে।

শিশুদের পেট ব্যথায়:

শিশুর পেটব্যথা হলে, ৩০-৬০ ফোঁটা পাথরকুচির পাতার রস পেটে মালিশ করলে ব্যথার উপশম হয়।

ত্বকের যত্ন:

পাথরকুচি পাতায় প্রচুর পরিমাণে পানি থাকে যা ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। সাথে সাথেই এর মধ্যে জ্বালাপোড়া কমানোর ক্ষমতা থাকে।

কাটাছেঁড়ায়:

টাটকা পাতা পরিমাণ মত হালকা তাপে গরম করে কাটা বা থেতলে যাওয়া স্থানে সেক দিলে আরাম পাওয়া যায়।

পাইলস:

পাথরকুচি পাতার রসের সাথে গোল মরিচ মিশিয়ে পান করলে পাইলস্ ও অর্শ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

জন্ডিস নিরাময়ে:

লিভারের যেকোনো সমস্যা থেকে রক্ষা করতে তাজা পাথরকুচি পাতা ও এর জুস অনেক উপকারী।

শরীর জ্বালাপোড়া:

দু-চামচ পাথরকুচি পাতার রস, আধা কাপ গরম পানিতে মিশিয়ে দুবেলা খেলে উপশম হয়।

আরো পড়ুন:বেল পাতার উপকারিতা

উচ্চ রক্তচাপ:

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে এবং মূত্রথলির সমস্যা থেকে পাথরকুচি পাতা মুক্তি দেয়।।

কলেরা, ডাইরিয়া বা রক্ত আমাশয়:

তিন মিলিলিটার পাথরকুচি পাতার জুসের সাথে ৩ গ্রাম জিরা এবং ৬ গ্রাম ঘি মিশিয়ে কয়েক দিন খেলে এসব রোগ থেকে উপকার পাওয়া যায়।

পোকা কামড়:

বিষাক্ত পোকায় কামড়ালে এই পাতার রস আগুনে সেঁকে লাগালে উপকার পাওয়া যায়।

উচ্চ রক্তচাপ:

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে এবং মুত্রথলির সমস্যা থেকে পাথরকুচি পাতা মুক্তি দেয়।

আরো পড়ুন: পুদিনা পাতার উপকারিতা

সর্দি:

সর্দি পুরান হয়ে গেছে, সেই ক্ষেত্রে এটি বিশেষ উপকারী। পাথরকুচি পাতা রস করে সেটাকে একটু গরম করতে হবে এবং গরম অবস্থায় তার সাথে একটু সোহাগার খৈ মেশাতে হবে। তিন চা-চামচের সাথে ২৫০ মিলিগ্রাম যেন হয়। তা থেকে দুই চা চামচ নিয়ে সকালে ও বিকালে দুবার খেলে পুরান সর্দি সেরে যাবে এবং সর্বদা কাশি থেকে রেহাই পাওয়া যাবে।

Categories
উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ ভেষজ উদ্ভিদের উপকারিতা

যষ্টিমধুর উপকারিতা

যষ্টিমধুর উপকারিতা: যষ্টিমধু একটি গাছের শিকড়। যষ্টিমধু নামকরণ করা হয়েছে তার কারণ এই গাছের শিকড় অনেকটা মধুর মত মিষ্টি। যষ্টিমধুতে রয়েছে মানব দেহের জন্য অনেক উপকারীতা যা আমাদের অনেকেরই অজানা।

জেনে নেয়া যাক যষ্টিমধুর উপকারিতা:

কাশি কমায়:

যষ্টিমধু তরল আকারে কফ বের করে দেয় এবং কাশি ভালো করতে সাহায্য করে।

টিউমার প্রতিরোধক:

যষ্টিমধুতে থাকা গ্লাইসিরাইটিনিক অ্যাসিড টিউমার সৃষ্টিকারী ‘এপস্টাইন বার ভাইরাস’ কার্যকারিতা প্রতিহত করে।

আরো পড়ুন: কালোজিরা তেলের উপকারিতা

অ্যালার্জি প্রতিরোধক:

যষ্টিমধুর গ্লাইসিরাইজিক অ্যাসিড মাস্টকোষ হতে হিস্টামিন নিঃসরণ কমিয়ে অ্যালার্জি প্রতিরোধ করে।

অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে যষ্টিমধু:

গ্লাইসিরাইজিন বিভিন্ন কঠিন রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাস বৃদ্ধি ও বংশ বিস্তার রোধ করে। এছাড়াও যষ্টিমধু রোগ সৃষ্টিকারী বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া এবং বিভিন্ন ছত্রাক প্রতিরোধ করতে পারে।

লিভার সুরক্ষায়:

যষ্টিমধুর গ্লাইসিরাইজিন বিষাক্ত পদার্থের কবল থেকে লিভারকোষ সমূহ সুরক্ষা করে।

পেটের সমস্যায়:

বুকজ্বালা, পাকস্থলীর আলসার, কোলাইটিস, গ্যাস্ট্রাইটিস, পাকস্থলীর ভেতরে প্রদাহ ও পরিপাকতন্ত্রের ওপরে প্রদাহজনিত সমস্যায় যষ্টিমধু ব্যবহার করা হয়।

আরো পড়ুন: কফির উপকারিতা

ত্বকের জন্য:

যষ্টিমধু যে ভাবেই ব্যবহার করা হোক না কেন এটি ত্বকের উপকার করে। ত্বকের ফোলা ও চুলকানি থেকে মুক্তি পেতে যষ্টিমধুর নির্যাস থেকে প্রস্তুত ওষুধ কাজে লাগে।

দাঁতের স্বাস্থ্য:

যষ্টিমধু একটি মাল্টিপারপোজ হার্ব। এটি দাঁত ও মাড়িকেও সুস্থ রাখে।

স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ:

পরিস্থিতিটাই এমন যে প্রায় সময়ই আমরা স্ট্রেস বা মানসিক চাপে আচ্ছন্ন হয়ে থাকছি। এতে যষ্টিমধু সাহায্য করতে পারে। মলিকিউলার অ্যান্ড সেলুলার এন্ডোক্রিনোলজি নামক মেডিক্যাল জার্নালের প্রতিবেদনে আছে, এটি ভীষণ ভাবে স্ট্রেস হরমোন করটিসল নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে।

শ্বাসতন্ত্রের উন্নতি:

কাশি বা কফ, গলা ব্যথা, হাঁপানি ও ব্রঙ্কাইটিস ইত্যাদি হল শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা ও তার কারণ। এই সবের  চিকিৎসায় যষ্টিমধু ব্যবহার করা যেতে পারে, এ কথা বলেছেন রিমেডিস ফর মি ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা ডাক্তার রেবেকা পার্ক।

আরো পড়ুন: টক দই এর উপকারিতা

রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি:

এতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে।

 

Categories
উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ ভেষজ উদ্ভিদের উপকারিতা

কালোজিরা তেলের উপকারিতা

কালোজিরা তেলের উপকারিতা: কালোজিরা আমাদের সকলের পরিচিত। কালোজিরা একটি মাঝারী আকৃতির মৌসুমী গাছ। এই গাছের একবার ফুল ও ফলহয়। কালোজিরার ইংরেজি নাম Fennel flower। কালোজিরার বীজ থেকে তেল পাওয়া যায়। যা আমাদের শরীরের জন্য খুব উপকারী। কালজিরার তেলে বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান বিদ্যমান আছে লিনোলিক, অলিক, স্টিয়ারিক, লিনোলিনিক,এসিড, প্রোটিন, নিজেলোন, গ্লুটামিক এসিড। এছাড়াও রয়েছে নিজেলিন, পটাসিয়াম, ফসফরাস, কেলসিয়াম, সোডিয়াম, মেগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, কপার, আয়রন,জিংক।

কালোজিরা তেলের উপকারিতা:

স্মরণ শক্তি বৃদ্ধিতে:

  • এক চা চামচ পুদিনাপাতার রস
  • কমলার রস
  • এক কাপ রঙ চায়ের সাথে
  • চা চামচ কালোজিরার তেল মিশিয়ে
  • দিনে তিনবার করে নিয়মিত খেতে হবে তাহলে ভাল ফলাফল পাওয়া যাবে।
  • এভাবে খেলে দুশ্চিন্ত দূর হবে।

মাথা ব্যাথা নিরাময়ে:

হঠাৎ মাথা ব্যথা হলে ১/২ চা চামচ কালোজিরার তেল মাথায় ভালোভাবে মালিশ করতে হবে এ

এক চা চামচ কালোজিরার তেল সমপরিমাণ মধুসহ দিনে তিনবার করে খেতে হবে।

এটা ২/৩ সপ্তাহ খেলে ভাল হবে।

এছাড়া মাথা ব্যথায় কপালের উভয় চিবুকে ও কানের চারিপাশে প্রতিদিন  ৩/৪ বার কালোজিরা তেল মালিশ করলে উপকার পাওয়া যাবে।

সর্দি সারাতে:

এক চা চামচ কালোজিরার তেল সমপরিমাণ মধু বা এক কাপ রং চায়ের সাথে মিশিয়ে দৈনিক ৩বার খেতে হবে এবং রোগ সেরে না যাওয়া পর্যন্ত মাথায় ও ঘাড়ে  মালিশ করতে হবে।

এছাড়া এক চা-চামচ কালোজিরার সাথে তিন চা-চামচ মধু ও দুই চা-চামচ তুলসী পাতার রস মিশিয়ে খেলে জ্বর, ব্যথা, সর্দি-কাশি দূর হবে।

আরো পড়ুন: শিমুলের মূলের উপকারিতা

বাতের ব্যাথা দূরীকরণে:

বাতের ব্যথা হলে সেখানে ভাল করে ধুয়ে পরিষ্কার করে তাতে কালোজিরার তেল মালিশ করতে হবে।

এক চা- চামচ কাঁচা  হলুদের রসের সাথে

সমপরিমাণ কালোজিরার তেল সমপরিমান মধু

এক কাপ রং চায়ের সাথে দৈনিক ৩বার খেতে হবে এটা ২/৩সপ্তাহ খেতে হবে।

তাহলে ভাল ফলাফল পাওয়া যাবে।

বিভিন্ন প্রকার চর্মরোগ সারাতে:

যেখানে চর্ম রোগ সেই আক্রান্ত স্থানে ভাল করে ধুয়ে পরিষ্কার করে তাতে কালোজিরার তেল মালিশ করতে হবে। এক চা চামচ কাঁচা হলুদের রসের সাথে সমপরিমাণ কালোজিরার তেল, সমপরিমান মধু বা এক কাপ রং চায়ের সাথে দৈনিক ৩বার খেতেও হবে এটা ২/৩ সপ্তাহ খেতে হবে।

হার্টের বিভিন্ন সমস্যার ক্ষেত্রে:

কালোজিরার তেল হার্টে রুগীদের জন্য অনেক উপকারি।  এক চা চামচ কালোজিরার তেল  এবং এক কাপ দুধ প্রতিদিন ২বার করে খেতে থাকলে হার্টের সমস্যা থেকে মুক্ত থাকা যাবে। সাথে কালোজিরার তেল দিয়ে বুকে নিয়মিত মালিশ করতে হবে।

ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রনে রাখতে :

কালোজিরা বা কালোজিরা তেল বহুমুত্র রোগীদের রক্তের শর্করার মাত্রা কমিয়ে দেয় এবং নিম্ন রক্তচাপকে বৃদ্ধি করে উচ্চ রক্তচাপকে হ্রাস করে।

অর্শ রোগ নিরাময়ে:

এক চা-চামচ মাখন ও সমপরিমাণ তেল তিলের তেল, এক চা-চামচ কালোজিরার তেলসহ প্রতিদিন খালি পেটে ৩/৪ সপ্তাহ খেতে হবে।

শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানি রোগ সারাতে:

প্রতিদিন কালোজিরার ভর্তা খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে। কালোজিরা হাঁপানি বা শ্বাস কষ্টজনিত সমস্যা উপশম করবে।

আরো পড়ুন: হরিতকির উপকারিতা

এছাড়া এক কাপ চা-চামচ কালোজিরার তেল, এক কাপ দুধ বা রং চায়ের সাথে দৈনিক ৩বার করে নিয়মিত খেলেও অনেক উপকার হবে।

ডায়বেটিক নিয়ন্ত্রণে:

এক কাপ চা-চামচ কালোজিরার তেল, এক কাপ রং চা বা গরম ভাতের সাথে মিশিয়ে দৈনিক ২বার করে নিয়মিত খেলে একশত ভাগ ডায়বেটিক নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

যৌন শক্তি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে:

কালিজিরা যৌন ক্ষমতা বাড়ায় এবং পুরুষত্বহীনতা থেকে মুক্তি দিতে সহায়তা করে। একচা-চামচ মাখন, এক চাচামচ জাইতুন তেল সমপরিমাণ কালোজিরার তেল ও মধুসহ দৈনিক ৩বার ৪/৫ সপ্তাহ ধরে খেলে অনেক উপকার হবে। তবে পুরানো কালোজিরা তেল স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক।

অনিয়মিত মাসিক সারাতে:

এক কাপ কাঁচা হলুদের রস বা সমপরিমাণ আতপ চাল ধোয়া পানির সাথে এক কাপ চা-চামচ কালোজিরার তেল মিশিয়ে দৈনিক ৩বার করে নিয়মিত খেতে হবে। তাহলে অনেক ভাল কাজ হবে।

মায়ের দুধ বৃদ্ধি করতে:

প্রতি রাতে শোয়ার আগে ৫-১০ গ্রাম কালিজিরা মিহি করে দুধের সাথে খেতে হবে। মাত্র ১০-১৫ দিনে দুধের প্রবাহ বেড়ে যাবে। কালিজিরা ভর্তা করে খেলেও হবে।

গ্যাষ্ট্রীক বা আমাশয় নিরাময়ে:

এক চা-চামচ তেল সমপরিমাণ মধু সহ দিনে ৩বার করে ২/৩ সপ্তাহ ধরে খেতে হবে। তাহলে গ্যাস্টিক বা আমাশয়ের জন্য আর কষ্ট পেতে হবে না।

ত্বকের আদ্রতার বাড়াতে:

শীতকালে ত্বকের আদ্রতার জন্য বডি লোশনের পরিবর্তে শুধু কালোজিরার তেল অথবা জাইতুন (অলিভওয়েল) তেল এর সাথে কালোজিরার তেল মিশিয়ে সারা শরীরে সারা শরীরে মালিশ করতে হবে।

জন্ডিস বা লিভারের বিভিন্ন সমস্যার দূরীকরণে:

এক গ্লাস ত্রিপলার শরবতের সাথে এক চা-চামচ কালোজিরার তেল দিনে ৩বার করে ৪/৫ সপ্তাহ খেতে পারেন তাহলে অনেক ভাল ফলাফল পাবেন।

আরো পড়ুন: কালিজিরার উপকারিতা 

পিঠের ব্যাথা দূর করতে:

কালোজিরার থেকে যে তেল বের করা হয় তা আমাদের দেহে বাসা বাঁধা দীর্ঘ মেয়াদী রিউমেটিক এবং পিঠে ব্যথা কমাতে বেশ সাহায্য করে। এছাড়াও সাধারণভাবে কালোজিরা খেলেও অনেক উপকার পাওয়া যাবে।

শিশুর দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধি তে:

দুই বছরের অধিক বয়সী শিশুদের কালোজিরা খাওয়ানোর অভ্যাস করলে দ্রুত শিশুর দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধি ঘটে। শিশুর মস্তিষ্কের সুস্থতা এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতেও অনেক কাজ করে কালোজিরা।

চুল পড়া বন্ধ করতে (কালোজিরা তেলের উপকারিতা ):

চুল পড়া সমস্যা অনেক বড় একটি সমস্যা।

এই ক্ষেত্রে কালিজিরা খেয়ে যেতে হবে, চুল পর্যাপ্ত পুষ্টি পাবে।

ফলে চুল পড়া বন্ধ হবে।

আরো ফল পেতে চুলের গোড়ায় এর তেল মালিশ করতে হবে।

দাঁত ব্যথা দূরীকরণে:

দাঁতে ব্যথা হলে কুসুম গরম পানিতে কালোজিরা দিয়ে কুলি করলে ব্যথা কমে যাবে।

শান্তিপূর্ণ নিদ্রার জন্য:

কালোজিরার তেল ব্যবহারে রাতভর প্রশান্তিপূর্ন নিদ্রা হবে। তাই যাদের ঘুমের সমস্যা আছে তারা কালোজিরা নিয়মিত খেতে পারেন।

 

Categories
উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ ভেষজ উদ্ভিদের উপকারিতা

অশ্বগন্ধার উপকারিতা

অশ্বগন্ধার উপকারিতা: অশ্বগন্ধা একটি ভেষজ উদ্ভিদ।অশ্বগন্ধা  গাছের পাতা সেদ্ধ করলে ঘোড়ার মূত্রের মতো গন্ধ বেরোয় বলে একে অশ্বগন্ধা বলা হয়ে থাকে।বাতের ব্যথা, অনিদ্রা থেকে বার্ধক্যজনিত সমস্যা। এ সবের নিরাময়ে অশ্বগন্ধার বিকল্প নেই।ত্বকের সমস্যাতেও দারুণ কাজ দেয় অশ্বগন্ধার ভেষজ গুণ।অশ্বগন্ধার মূল, পাতা, ফুল, ফল, ছাল, ডাল সবই ওষুধ হিসাবে ব্যবহার করা হয়।

অশ্বগন্ধার উপকারিতা

কোলেস্টেরল দূর করে:

আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে বলা হয়, অশ্বগন্ধা শরীরের খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে পেশির শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।

অনিদ্রা দূর করে:

অশ্বগন্ধা ক্লান্তি দূর করে স্নায়ুকে আরাম প্রদান করতে পারে, তা তো আগেই জানলেন। তাই ঘুমও আসে খুব তাড়াতাড়ি। বিভিন্ন গবেষণার থেকে জানা যায় যে, অশ্বগন্ধা ব্যবহার করলে মনোযোগ বৃদ্ধি পায়।

আরো পড়ুন: শাহী দানার উপকারিতা

স্ট্রেস কমায়:

অশ্বগন্ধায় উপস্থিত অ্যানজাইলটিক উপাদান থাকে বলে এটি মানসিক চাপকে কমিয়ে ফেলতে উপযোগী অর্থাৎ এই স্নায়ুতন্ত্রের ওপর কাজ করতে সক্ষম। আপনি যদি খুব ভয় পেয়ে যান কোনো কারণে তাহলে প্যানিক অ্যাট্যাক হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। তাই স্নায়ুর ওপর চাপ পড়ে, এই সমস্যা এড়াতে অশ্বগন্ধা সাহায্য করে।

যৌনক্ষমতা বাড়ায়:

প্রাচীনকাল থেকেই ছেলেদের যৌনসমস্যা দূর করতে অশ্বগন্ধা ব্যবহার করা হয়। এটি প্রমাণিত যে অশ্বগন্ধা শরীরে টেস্টোস্টেরন ও প্রোজেস্টেরনের পরিমান বাড়াতে পারে। ফলে যৌন মিলনের ইচ্ছে বাড়ে। কিছু গবেষণা থেকে জানা যায় এটি কামশক্তি, বীর্যের পরিমান ও মান বৃদ্ধি করতে সক্ষম।

ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে:

আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে অশ্বগন্ধা ক্যান্সারের প্রতিরোধক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর পাতা ও মূলের নির্যাসে উপস্থিত ফাইটোকেমিক্যালস টিউমার কোষকে ধ্বংস করতে ও সেই কোষে রক্ত সরবারহ বন্ধ করে দেয়।

কেমোথেরাপির মধ্যে দিয়ে যাদের যেতে হয়, তাদের জীবনের মানের উন্নতি ঘটাতে পারে অশ্বগন্ধা ।

ডায়াবেটিসের সমস্যা কমাতে:

অশ্বগন্ধার মূল ও পাতার নির্যাস অ্যান্টি-ডায়াবেটিক উপাদান থাকে। এই অংশের কোষে যে ফ্ল্যাভোনয়েডস থাকে তা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষদের শরীরে ইনসুলিনের পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়া ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের শরীরে লিপিডের পরিমান ঠিক রাখতে সাহায্য করে বলে জানা যায়।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়:

অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান থাকার জন্য অশ্বগন্ধা শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

থাইরয়েডের সমস্যা কমাতে:

শরীরে থাইরক্সিন হরমোনের পরিমান বাড়ায় এই অশ্বগন্ধা। হাইপোথাইরয়েডের অর্থাৎ যাদের শরীরে থাইরয়েড হরমোনের পরিমান কম থাকে তাদের এই সমস্যা দূর করতে এটি ব্যবহৃত হয়।

চোখের সমস্যা কমাতে:

চোখের স্বাস্থ্য ভালো করতে অশ্বগন্ধা ব্যবহার করা হয় বলে জানা যায়।

আরো পড়ুন: থানকুনি পাতার উপকারিতা

আর্থ্রাইটিস সারাতে:

আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে আর্থ্রাইটিস সারাতে অশ্বগন্ধা ব্যবহৃত হয়। এর ব্যথার তীব্রতা কমাতে অশ্বগন্ধার গুঁড়ো খুবই উপযোগী।

স্মৃতিশক্তি উন্নত করে:

সাধারণ মানুষের স্মৃতিশক্তি ও যাদের অ্যালজাইমারস রোগ আছে, তাদের ক্ষেত্রেও অবস্থার উন্নতি করে এই অশ্বগন্ধা।

পেশী মজবুত করে:

অশ্বগন্ধা পেশী মজবুত করতে উপযোগী যে তা প্রমাণিত। এছাড়া ব্যায়াম করলে পেশিতে চাপের সৃষ্টি হয় তা কমাতেও এটি ব্যবহৃত হয়। পেশিতে কোনো আঘাত পেলে এটি তা সারাতে কাজে লাগে।

ইনফেকশন থেকে বাঁচায়:

অশ্বগন্ধায় অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান থাকার জন্য এটি নানা ধরণের ইনফেকশন থেকে বাঁচাতে সাহায্য করে।

হার্টের ক্ষেত্রে (অশ্বগন্ধার উপকারিতা):

শরীরে রক্ত চলাচল সঠিক রেখে হার্টকে স্বাস্থ্যকর করে তোলে অশ্বগন্ধা।

শরীরের ওজন বৃদ্ধি করতে:

অনেকে মনে করেন শরীরের ওজন বৃদ্ধি করতে অশ্বগন্ধার মূলের গুঁড়ো সাহায্য করে, কিন্তু এটি এখনও প্রমানিত নয়।

আরো পড়ুন: কারিপাতার উপকারিতা

অবসাদ কমাতে:

জানা যায় অশ্বগন্ধার নির্যাস অবসাদ ও মনের উদ্বেগ কমাতে উপযোগী কারণ এটি হল অ্যাড্যাপটোজেন।

মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে:

যেহেতু অশ্বগন্ধা একটি অ্যাড্যাপটোজেন, তাই এটি মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে সক্ষম।

ত্বকের ইনফেকশন ঠিক করতে:

অশ্বগন্ধার পাতায় অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান থাকার জন্য ত্বকের ইনফেকশনকে কমাতে সাহায্য করে।

বার্ধ্যকের ছাপ দূর করতে:

আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে মনে করা হয় বার্ধ্যকের ছাপ পড়তে দেয় না অশ্বগন্ধা গাছের নির্যাস।

ক্ষত সারাতে

অশ্বগন্ধায় অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান থাকার জন্য শরীরের ক্ষত সারাতে পারে বলা হয়।

কর্টিসল লেভেল কমাতে:

অ্যাডরিনালিন গ্ল্যান্ডের কোনো সমস্যা থাকলে রক্তে কর্টিসলের পরিমান কম বেশি হয়, এই সমস্যা থেকে মুক্ত হতে অশ্বগন্ধা সাহায্য করে।

চুলকে মজবুত করতে:

আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে চুলকে ঝলমলে ও স্বাস্থ্যকর করে তুলতে অশ্বগন্ধা খুবই উপযোগী বলে মানা হয়।

আরো পড়ুন: তালমাখনার উপকারিতা

 খুশকি কমাতে(অশ্বগন্ধার উপকারিতা):

অশ্বগন্ধার গুঁড়ো দিয়ে তৈরী তেল খুশকি কমাতে অনবদ্য । তাই বেশিরভাগ খুশকি কমানোর শ্যাম্পুতে অশ্বগন্ধা থাকে।

অকালে চুল পাকা আটকাতে:

অকালে চুল পাকা আটকাতে আয়ুর্বেদ শাস্ত্র অনুযায়ী অশ্বগন্ধা গাছের নির্যাস খুবই উপকারী।

Categories
উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ ভেষজ উদ্ভিদের উপকারিতা

শাহী দানার উপকারিতা

শাহী দানার উপকারিতা: শাহী দানা,হালিম বীজ, হালিম বা আলিভ নামেও পরিচিত। শাহী দানার অনেক গুলি স্বাস্থ্য উপকার এবং পুষ্টিকর গুণাবলীতে ভরপুর।

শাহী দানার উপকারিতা:

আয়রনের উৎস:

অনেক মা বুকের দুধ বৃদ্ধি করতে চান কারণ তারা মনে করেন যে তারা বাচ্চাদের প্রয়োজনীয়তার জন্য যথেষ্ট দুধ উৎপাদন করছেন না। এটি স্তন্যদানকারী মায়েদের জন্য উপকারী, এছাড়াও এটি আয়রন সমৃদ্ধতার কারণে নার্সিং মায়েদের লাড্ডু আকারে ব্যবহার করা হয়। শরীরে আয়রন শোষণ বাড়াতে লেবুর রস (ভিট সি) সঙ্গে হালিম পানি সম্পূরক।

নিরাময় PCOD:

গার্ডেন ক্রেস বীজ PCOD নিরাময় একটি জাদুকরী প্রভাব হতে পারে।

আরো পড়ুন: থানকুনি পাতার উপকারিতা

কাশি এবং হাঁপানির প্রতিকার:

কাশি এবং গলা ব্যথার চিকিৎসায় এই শাহী দানা চিবান। একটি সক্রিয় যৌগের উপস্থিতি ফুসফুসের কার্যকারিতা উন্নত করতে সাহায্য করে বলে গার্ডেন ক্রেস বীজ খেয়ে অ্যাজমার লক্ষণগুলি হ্রাস করা যেতে পারে।

প্রোটিন ভর্তি:

হালিম বীজ বা শাহী দানা বীজ প্রোটিনের একটি চমৎকার উৎস যা ওজন কমাতে সাহায্য করে।

খালি পেটে এক গ্লাস পানির সাথে মিশ্রিত এক টেবিল চামচ যারা অতিরিক্ত ওজন কমাতে চেষ্টা করছেন তাদের জন্য খুবই উপকারী। 

বদহজম এবং কোষ্ঠকাঠিন্য :

শাহী দানা বীজ যারা প্রায়ই বদহজম এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সম্মুখীন হয় তাদের জন্য একটি আশীর্বাদ হতে পারে। বীজ খাওয়া হজম উন্নতি এবং কোষ্ঠকাঠিন্য মোকাবেলা করতে সাহায্য করে।

মাসিক চক্র নিয়ন্ত্রণ করে:

হালিম বীজের প্রচুর পরিমাণে ফাইটোকেমিক্যাল রয়েছে যা এস্ট্রোজেনের সমতুল্য, হরমোন যা মহিলা শরীরে বিভিন্ন ভূমিকা পালন করে। এই বীজের সক্রিয় উপাদানগুলি মাসিক চক্র নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। যদি আপনি ইতিমধ্যে আপনার হরমোনগুলিকে প্রভাবিত করে এমন ওষুধে থাকেন তবে আপনার খাদ্যে শাহী দানা অন্তর্ভুক্ত করার আগে আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন। এছাড়াও, অল্প বয়সী মেয়েদের এই বীজ হওয়ার আগে প্রথমে তাদের ডাক্তারের সাথে আলোচনা করা উচিত।

আরো পড়ুন: কারিপাতার উপকারিতা

ভাজা হালিম বীজ বা শাহী দানা:

  • শুকনো  শাহী দানা গুলি ভুনা করুন এবং তাদের ঠান্ডা হতে দিন।
  • তারপরে এটিকে কনটেইনারে রেখে দিন।
  • আপনি আপনার স্যুপ, সালাদ  এই বীজগুলি ছিটিয়ে দিতে পারেন।
  • সর্বদা প্রস্তাবিত সীমাতে থাকার কথা মনে রাখবেন।

হালিম জল বা শাহী দানা জল :

  • 1 গ্লাস জল নিন এবং এটিতে 1 টেবিল চামচ হালিম বীজ রাতারাতি ভিজিয়ে রাখুন।
  • পরদিন সকালে, পানিতে 1 চামচ তাজা লেবুর রস যোগ করুন এবং পান করুন।
  • এটি আপনাকে শক্তিশালী, তৃপ্ত এবং স্বাস্থ্যকর রাখবে!


সাবধানতার:

প্রস্তাবিত  সপ্তাহে দুই থেকে তিন বার অথবা আপনার পুষ্টিবিদের সুপারিশ অনুযায়ী ১ চা চামচ (৫ গ্রাম) হবে।

আরো পড়ুন: ঘি এর উপকারিতা

সূত্র : পিঙ্কভিলা, ইন্ডিয়া টাইমস

Categories
উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ ভেষজ উদ্ভিদের উপকারিতা

তালমাখনার উপকারিতা

আসসালামু আলাইকুম ,আজকে আমরা জানবো তালমাখনার উপকারিতা।

#তালমাখনা গাছ জলাভূমির ধারে জন্মে থাকে। ফুলগুলো দেখতে পাবেন উজ্জ্বল বেগুনি বা লালচে বেগুনি রঙের, মাঝে মধ্যে সাদাটে হয়। তালমাখনা পাতা, বীজ ও শিকড় ঔষধি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। চলুন জেনে নেওয়া যাক তালমাখনা কি, কোথায় পাওয়া যায় ও এর ভূমিকা।

তালমাখনা কোথায় পাবেন:

তালমাখনা গাছের ছবি
 তালমাখনা গাছের ছবি

বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা বিশেষ করে নিম্নভূমি অঞ্চলে যেখানে বছরের বেশ কিছু সময়ের জন্য পানি থাকে সেখানে পাওয়া যায়।

তালমাখনার পরিচিতি:

  1. তালমাখনার প্রচলিত নামঃ কুলেখাড়া
  2. তালমাখনার ইউনানী নামঃ তালমাখনা
  3. তালমাখনার আয়ুর্বেদিক নামঃ কোকিলাক্ষা
  4. তালমাখনার ইংরেজি নামঃ Star Thorn
  5. তালমাখনার বৈজ্ঞানিক নামঃ Hygrophyla auriculata (Sch.) Heyne
  6. তালমাখনার বৈজ্ঞানিক পরিবারঃ Acanthaceae
  7. তালমাখনা কোথায় পাওয়া যায়ঃ বাংলাদেশের বিভিন্ন নিম্নভূমি অঞ্চলে যেখানে বছরের কিছু সময়ের জন্য পানি থাকে সেখানে পাওয়া যায়।
  8. তালমাখনা রোপনের সময় ও পদ্ধতিঃ অগ্রহায়ন ও পৌষ মাসে ফুল ও ফল হয়। বীজ থেকে চারা হয়।
  9. তালমাখনার রাসায়নিক উপাদানঃ ভূ-উপরিস্থ অংশে অ্যালকালয়েড, ফাইটোস্টেরল, স্টিগমাস্টেরল, লুপিয়ল, উদ্বায়ী তেল ও হাইড্রোকার্বন; ফুলে এপিজেনিন এবং বিচিতে তেল ও এনজাইম বিদ্যমান।
  10. ব্যবহার্য অংশঃ কুলেখাড়া বীজ।

তালমাখনার উপকারিতা:

যৌবন শক্তি বৃদ্ধিতে:

তালমাখনা দেহ ও মনের প্রফুল্লতা আনে। শুধু তাই নয়, যৌবন শক্তি বৃদ্ধিতে তালমাখনার ভূমিকা ম্যাজিকের মত।

এক কথায় এটি শুক্রবর্ধক, যৌনশক্তিবর্ধক, বীর্য গাঢ়কারক ও স্বপ্নদোষ নিবারক। লিউকোরিয়া, শুক্রমেহ, যৌনদুর্বলতা ও স্নায়ুবিক দুর্বলতায় বিশেষ কার্যকর।

ডায়াবেটিসসহ যে কোনো কারণে যদি যৌনদুর্বলতা আসে তালমাখনা দিয়ে তৈরি ওষুধে তা দ্রুত দূর করা যায়। তালমাখনার পাতা ও শাখার জোসান্দা লিভার এবং কিডনির প্রতিবন্ধকতা দূর করে।

এটি কোষ্ঠ পরিষ্কারক, মূত্র ও ঘর্ম প্রবাহক। তালমাখনার পাতার প্রলেপ বাত ও সন্ধি ব্যথা উপশমে যথেষ্ট ভুমিকা রাখে।

বিশেষ ক্ষেত্রে তালমাখনার উপকারিতা:

তালমাখনা নিঃসন্দেহে হজমকারক, বায়ুনিঃসারক এবং পাকস্থলীর ব্যথা নিবা্রক।

তালমাখনা খাওয়ার সঠিক নিয়ম এবং ব্যবহার পদ্ধতি:

রোগের নামঃ সাধারণ দুর্বলতায় অথবা দেহের পুষ্টি সাধনে –

আরো পড়ুন: মৌরির উপকারিতা

ব্যবহার পদ্ধতিঃ

৩ গ্রাম তালমাখনা পাউডার ও ১ গ্রাম পরিমাণ শতমূলী পাউডার একত্রে মিশিয়ে দুধসহ প্রত্যহ সকালে খালিপেটে এবং রাত্রে শয়নকালে খাবেন।

রোগের নামঃ শুক্রমেহ ও লিউকোরিয়ায়

ব্যবহার পদ্ধতি:

৩ গ্রাম তালমাখনা পাউডার ও ১ গ্রাম পরিমাণ তেঁতুল বীজ পাউডার একত্রে মিশিয়ে দুধসহ প্রত্যহ ২ বার খাবেন।

রোগের নামঃ যৌন ও স্নায়ুবিক দুর্বলতায়

ব্যবহার পদ্ধতি:

৩ গ্রাম তালমাখনা পাউডার, ১ গ্রাম পরিমাণ অশ্বগন্ধা পাউডার ও ৩ চা চামচ মধু একত্রে মিশিয়ে প্রত্যহ ২ বার খাবেন।

এছাড়া যৌন সমস্যার জন্য আরেকটি সহজ ব্যবহার হচ্ছে ৫-৭ গ্রাম তালমাখনা ও সমপরিমাণ তালমিছরি এক গ্লাস দুধের সাথে মিশিয়ে প্রতিদিন একবার পান করুন।

এতে আপনার যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধি, বল বৃদ্ধি, বীর্য গাঢ়, বীর্য উৎপাদন বৃদ্ধি, দ্রুত বীর্যপাত রোধসহ দিন দিন যৌন আগ্রহের উন্নতি হবে। তবে তালমাখনার পরিমাণ কখনই বাড়াবেন না, বাড়ালে বদ হজম হতে পারে।

সতর্কতাঃ নির্দিষ্ট মাত্রায় অধিক পরিমান সেবন করা সমীচীন নয়। এতে পেটে গ্যাস হতে পারে।

তালমাখনার ভেষজ গুন:

তালমাখনার ছবি

তালমাখনার ঔষধীগুনের কথা বলে শেষ করা যাবেনা । এর পাতা, শিকড় ও বীজ সবই উপকারী এবং রাসায়নিক উপাদানে ভরপুর। এতে আছে এলকালয়েড্‌স, ফাইটোস্টেরোল, ও সুগন্ধের তৈলাক্ত পদার্থ।

এছাড়া আছে এনজাইম, ডাইয়াসটেস ও লিপেস। যা প্রস্রাবসহ মূত্রনালির নানা রকম রোগে উপকারী। এমনকি মূত্রনালির পাথর মুক্ত করতেও এটি বেশ সাহায্য করে থাকে।

এ সব ছাড়াও এর বীজের তেল জন্ডিস ও বাতজনিত রোগেও বেশ কার্যকরী। আপনি চাইলে এটা রান্নাতেও ব্যবহার করতে পারেন । তালমাখনার বীজ উপকারিতার দিক থেকে সব থেকে কার্যকরী।

এটি একই সাথে মিষ্টি ও তিক্ত স্বাদযুক্ত এবং বীজে রয়েছে অধিক পরিমাণে ফাইবার(তালমাখনার উপকারিতা) যা আপনার হজম বৃদ্ধিতে সহায়ক। তালমাখনার লো ফ্যাটযুক্ত বীজ ডায়াবেটিকস রোগের জন্যও অত্যন্ত উপকারী।

হার্টের পীড়া, পিত্তথলির পাথর, দুর্বলতা, গ্লডারের সমস্যা, যৌন সমস্যা এবং মানসিক অবসাদ  সমাধানে এটি আশীর্বাদ স্বরূপ।

সৌন্দর্য বিকাশেও তালমাখনার জুড়ি নেই। ত্বকে বয়সের ছাপ, মলিনতা এবং ব্রণের সমস্যা দূর করতেও আপনি রোজ তালমাখনা ব্যবহার করতে পারেন।

আরো পড়ুন: সরিষার তেলের উপকারিতা

বিঃদ্রঃ সাধারণভাবে তালমাখনা বা তালমাখনা পাউডার ভিজিয়ে শরবত তৈরী করে প্রতিদিন একবার বা কয়েক বার খেতে পারেন তবে ৫-৭ গ্রামের চেয়ে বেশি খাওয়ার দরকার নেই।

স্বাদে বৈচিত্র আনার জন্য সাথে ইসবগুলের ভুষি মিক্স করতে পারেন।

বিঃদ্রঃ কুলেখাড়া বা কুলিকারহা বা কান্তা কালিকা বা ক্ষরিক বা গোকুলকাঁটা , দীর্ঘস্থায়ি সম্ভোগে যাঁরা আগ্রহী তাঁরা শোধিত আত্মগত (আলকুশী) বীজের গুড়ো আধা চামচ এবং কুলেখাড়া বীজের গুড়ো আধা চামচ একসাথে গরম দুধে গুলে খাবেন, তাহলে এটার দ্বারা ঐ উদ্দেশ্যটা সিদ্ধ হবে।

কিন্তু এখানে একটা কথা আপনাদের জেনে রাখা দরকার যে, অনেকের ধারণা “#তালমাখনা’ হলো কুলেখাড়া বীজ-সেটা কিন্তু ঠিক নয়।

বরং বাজারে যেটা তালমাখনা বলে বিক্রি হয় ওটা আসলে পৃথক দ্রব্য,এছাড়া বাজারে যেটা কুলেখাড়া বা কোকিলাক্ষ বীজ বলে বিক্রি হয় সেটাও কুলেখাড়া বীজ নয়।

আসল কুলেখাড়া বীজের রং হবে অবিকল কোকিলের চোখের রং এর মত।

সূত্র : অনলাইন