Categories
উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ ফুলের উপকারিতা

কামরাঙ্গা ফলের উপকারিতা

আসসালামু আলাইকুম, আজকে আমরা জানবো কামরাঙ্গা ফলের উপকারিতা কামরাঙ্গা -টক মিষ্টি রসালো ফল। নাম শুনলেই জিভে জল চলে আসে। ফলটি  হলুদ বা সবুজ হতে পারে . আমরা কমবেশি সবাই ফলটি খেতে ভালোবাসি।

 ইংরেজি  নাম  ক্যারাম্বোলা, এটি স্টারফ্রুট নামেও পরিচিত. যা গ্রীষ্মমন্ডলীয় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্থানীয় প্রজাতির  ফল । ফলটি সাধারণত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগর, মাইক্রোনেশিয়া, পূর্ব এশিয়ার কিছু অংশ এবং ক্যারিবীয়  অঞ্চলে   হয়। গাছটি বিশ্বের ক্রান্তীয় অঞ্চলজুড়ে চাষ করা হয়.

পর্যবেক্ষণে জানা যায় যে , যাদের   কিডনির রোগ রয়েছে তাদের জন্য এই কামরাঙ্গা   ক্ষতিকারক (বিষাক্ত) প্রভাব ফেলতে পারে। কামরাঙ্গাতে থাকা নিউরোটক্সিন পদার্থগুলি মস্তিষ্ককে প্রভাবিত করতে পারে এবং স্নায়বিক অসুস্থতা সৃষ্টি করতে পারে।

আজকে আমরা  আলোচনা করবো এই রসালো কামরাঙ্গা ফলের উপকারিতা।

কামরাঙ্গা ফল একটি অত্যন্ত স্বল্প-ক্যালোরি ফল যা  ফাইবার, ভিটামিন এ, বি এবং সি ,  জিংক, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম, সোডিয়াম, আয়রন এবং পটাসিয়ামে  সমৃদ্ধ। অধিকন্তু, এতে পলিফেনলিক যৌগ যেমন  কোরেসেটিন, গ্যালিক অ্যাসিড এবং এপিকেচিনের মতো উচ্চ পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে.

একটি মাঝারি আকারের (91-গ্রাম) কামরাঙ্গা ফলের (1) পুষ্টি উপাদান:

ফাইবার: 3 গ্রাম

প্রোটিন: 1 গ্রাম

ভিটামিন সি: আরডিআইয়ের 52%

ভিটামিন বি 5: আরডিআইয়ের 4%

ফোলেট: আরডিআইয়ের 3%

তামা: আরডিআইয়ের 6%

পটাশিয়াম: আরডিআইয়ের 3%

ম্যাগনেসিয়াম: আরডিআইয়ের 2%

আরো পড়ুন: পিচ ফলের উপকারিতা

কামরাঙ্গা ফলের মধ্যে এমন অন্যান্য উপাদান রয়েছে যা এটিকে আরও স্বাস্থ্যকর করে তোলে  :-

  1. এটি কোরেসেটিন, গ্যালিক অ্যাসিড এবং এপিকেচিন সহ স্বাস্থ্যকর উদ্ভিদ যৌগগুলির একটি দুর্দান্ত উৎস।
  2. এই যৌগগুলিতে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্য গুণাগুণ রয়েছে।
  3. কামরাঙ্গা  ফলের মধ্যে উদ্ভিদ যৌগগুলি চর্বিযুক্ত লিভারের -ঝুঁকি হ্রাস করে।
  4. লিভারের ক্যান্সার প্রতিরোধ করার  জন্য  ইঁদুরের উপর গবেষণা করা হচ্ছে। 
  5. আরো কিছু গবেষণা থেকে জানা যায় যে কামরাঙ্গা ফলের মধ্যে যে সুগার আছে তা শরীরের প্রদাহ {ইনফ্লামেশন} কমাতে সাহায্য  করে। {Inflamation একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া যা আপনার শরীরকে নিরাময় করতে এবং ক্ষতি থেকে নিজেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে।}

তবে, কামরাঙ্গা ফল নিয়ে পুরো পৃথিবী জুড়েই গবেষণের অভাব রয়েছে।

পুষ্টি ঘনত্ব এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট স্তরের কারণে কামরাঙ্গা ফলগুলি  খুবই উপকারী।  এই বিদেশী ফলটি স্বাস্থ্যের  জন্য সেরা ফলগুলির মধ্যে একটি!

1.প্রদাহ বিরোধী- Anti Infalmatory

 কামরাঙ্গা  ফলে ব্যতিক্রমী পরিমাণে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বৈশিষ্ট্য এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা ত্বকের ব্যাধিগুলি ডার্মাটাইটিসের মতো প্রতিরোধ করতে পারে। ভিটামিন সি এর উপস্থিতি শরীর থেকে টক্সিনগুলি বের করে  দেয়  এবং শরীরকে সুস্থ রাখতে  সহায়তা করে।

2.হার্ট  বান্ধব – Heart-friendly

কামরাঙ্গা  ফলটি সোডিয়াম এবং পটাসিয়াম সমৃদ্ধ যা দেহে ইলেক্ট্রোলাইট হিসাবে কাজ করে যা ফলস্বরূপ রক্তচাপ বজায় রাখতে সহায়তা করে। এই খনিজগুলি শরীরে নিয়মিত হার্টবিট  এবং স্বাস্থ্যকর রক্ত প্রবাহকেও নিশ্চিত করে

3.ওজন হ্রাস  করে – Promotes weight loss

 কামরাঙ্গা  ফলের মধ্যে নগণ্য  পরিমানে ক্যালোরি রয়েছে; অতএব, ক্ষুধা যন্ত্রণা  কমানোর জন্য  এটি একটি   সুন্দর নাস্তা  হতে পারে। তদুপরি, ফলের মধ্যে থাকা ফাইবারের উপাদানগুলি বিপাকের গতি বাড়িয়ে তুলতে সহায়তা করে যা আপনার ওজন হ্রাস করতে সহায়তা করে।  অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণের সম্ভাবনা কমিয়ে ফাইবার আপনাকে দীর্ঘক্ষণ সতেজ থাকতে সাহায্য করে।

4.রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে – Regulates blood pressure

কামরাঙ্গা  ফলের  ক্যালসিয়ামের উপস্থিতি রক্তনালী এবং ধমনীতে স্ট্রেস উপশম করে হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের মতো হার্ট সমস্যার ঝুঁকি হ্রাস করে। প্রেসার কমিয়ে রক্ত প্রবাহকে কার্যকর করে তোলে।  এতে করে দেহে তারল্যের ভারসাম্য বজায় থাকে।

আরো পড়ুন: বেদানার খোসার উপকারিতা

5.হজম শক্তি জোগায় – Boosts digestion

কামরাঙ্গা ফলের উপস্থিত ডায়েটরি ফাইবার হজমশক্তি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি পাচনতন্ত্রের মাধ্যমে  মলের চলাচলকে  নিয়ন্ত্রন  করতে পারে,   কোষ্ঠকাঠিন্য, ফোলাভাব এবং ক্র্যাম্পিংয়ের লক্ষণগুলি  থেকেও  মুক্তি দেয়।

6.ডায়াবেটিক-বান্ধব – Diabetic-friendly

কামরাঙ্গা  ফলের অ দ্রবণীয় ফাইবার খাওয়ার পরে গ্লুকোজ নিঃসরণ রোধ করতে পারে যা শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে  সাহায্য করে। এটি ডায়াবেটিস রোগীদের বা যারা এই অবস্থার ঝুঁকিতে রয়েছে তাদের জন্য আদর্শ খাবার ।

7. বিপাক উন্নতি করতে পারে – May improve metabolism

কামরাঙ্গা  ফলটি ফোলেট এবং রাইবোফ্লাভিনে সমৃদ্ধ যা আপনার বিপাককে ইতিবাচক উপায়ে পরিবর্তন  করে, যা এনজাইমেটিক এবং হরমোন সংক্রান্ত প্রক্রিয়াগুলি পুরো শরীর জুড়ে মসৃণভাবে সঞ্চালন করতে সহায়তা করে।

8.কোলেস্টেরলের মাত্রা হ্রাস করতে সহায়তা করে- Helps reduce cholesterol levels

কামরাঙ্গা  ফলের মধ্যে নগন্য ফ্যাট এবং উচ্চ মাত্রার ডায়েটি ফাইবার রয়েছে যা কোলেস্টেরলের মাত্রা পরিচালনার জন্য  খুবই দরকারি।  এর ফলে করোনারি হার্ট ডিজিজ, স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক এবং অন্যান্য রোগের ঝুঁকি হ্রাস পায়।

9.শ্বাসযন্ত্রের  উন্নতি – May improve respiratory health

কামরাঙ্গা  ফলের শীতল বৈশিষ্ট্য এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা লালা বৃদ্ধি এবং শ্লেষ্মা বা কফ উত্পাদন বাধা দেয় – এটি শ্বাস প্রশ্বাসের সংক্রমণ এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য,  গলা এবং অন্যান্য অন্তর্নিহিত স্বাস্থ্য সমস্যাগুলি হ্রাস করে।

আরো পড়ুন: ক্যাপসিকামের উপকারিতা

10.কামরাঙ্গা ফল: ত্বক এবং চুলের উপকার হয়

কামরাঙ্গা ফলটি কোরেসেটিন, গ্যালিক অ্যাসিড এবং অন্যান্য পলিফেনলিক যৌগগুলির মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলির  সমন্বয়ে  একটি পাওয়ার প্যাক –  যা অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের প্রভাবগুলিকে মোকাবেলা করতে এবং দেহের কোষগুলিকে ক্ষতিগ্রস্ত মুক্ত রেডিক্যালগুলির আক্রমনে বাধা দিয়ে , ত্বককে আরও সুস্থ এবং  আলোকিত করে তোলে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস, বি ভিটামিন এবং ভিটামিন সি- উপস্থিতির জন্য   কামরাঙ্গা  ফল চুলের বৃদ্ধির জন্যও উপকারী.

Image by Bishnu Sarangi from Pixabay 
Categories
উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ ত্বকের যত্ন ফুলের উপকারিতা ফেসপ্যাক রূপচর্চা লাইফ স্টাইল

গোলাপ ফুলের উপকারিতা

আসসালামু আলাইকুম, গোলাপকে বলা হয় ফুলের রাণী। এইটিকে আমরা সবাই ফুল হিসেবে ব্যবহার করে থাকি।কিন্তু গোলাপ ফুলের উপকারিতা অনেক, যা অবাক করার মত।

গোলাপ ফুুল আমাদের স্বাস্থ্য হতে শুরু করে, রূপচর্চায়ও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।গোলাপ খুবই উপকারি একটি ফুল।তাই আজকে আমরা জানবো, গোলাপ ফুলের উপকারিতা সম্পর্কে।

গোলাপ ফুলের উপকারিতাঃ

ওজন কমাতেঃ

গোলাপের পাপড়ির মধ্যে এমন উপাদান আছে যা মেটাবোলিজমের উন্নতি ঘটায় এবং শরীর থেকে টক্সিন বের করে দেয়। রোজ টি খেলে ওজন কমাতে সাহায্য করে।

অতিরিক্ত মেদ ঝরাতেঃ

গরম জলে টাটকা গোলাপের পাপড়ি দিন এবং জলের রঙ ফ্যাকাসে লাল হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। মিশ্রণের মধ্যে সামান্য মধু ও দারচিনির পাউডার মেশান। অতিরিক্ত মেদ ঝরাতে রোজ এই চা খান।

আরো পড়ুন: মরিয়ম ফুলের উপকারিতা

চাপ,ক্লান্তি কমায়ঃ

অবসাদ-ক্লান্তি এবং চাপ-ধকল থেকে ইনসোমনিয়া এবং অস্থিরতা-ছটফটানি হয় যা থেকে উদাসীনতা এবং অস্বস্তি বাড়ে। গোলাপের পাপড়ি এবং তার সুবাস এই সমস্যা দূর করতে পারে।

শরীরে ভালো অনুভূতি জাগায়ঃ

গরম জল বানিয়ে তার মধ্যে কয়েকটা গোলাপের পাপড়ি ছড়িয়ে দিন। গরম ভাব ফুলের সুবাস বের করে। শরীর এবং মনকে আরাম দেবার জন্য এই জল দিয়ে স্নান করুন।

অর্শের সমস্যা দূরীকরণঃ

গোলাপের পাপড়িতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ফাইবার এবং জলীয় উপাদান থাকে। এর মধ্যের উপাদান শরীর থেকে টক্সিন বের করে দিয়ে হজমে সাহায্য করে। এগুলো অর্শের রক্তপাত বন্ধ করে।

অ্যাস্ট্রিনজেন্ট হিসেবে কার্যকারিঃ

গোলাপ জল ত্বকের জ্বালা ফুসকুড়ি নিরাময় করে, ত্বকে তেলের ভারসাম্য বজায় রাখে ও তাকে নমনীয় বানায়। এটা যথোপযুক্ত অ্যাস্ট্রিনজেন্ট।

ত্বকের যত্নে গোলাপ ফুুল:

গভীর ক্লিনজার ও টোনার হিসেবে কাজ দেয়। এটা আপনাকে স্বাভাবিকভাবে কম বয়সী করে দেয়।

ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতেঃ

গোলাপের পাপড়ির মধ্যে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান থাকে। ত্বকের অস্বস্তি এবং চুলকানির উপশম করে ত্বককে আরাম করে। ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বাড়াতে রোজ গোলাপ জল দিয়ে মুখ ধোবেন।

ব্রণ নিরাময়েঃ

গোলাপ জল একটা উৎকৃষ্ট ময়েশ্চারাইজার। এর মধ্যে ফিনাইল ইথানল এবং অ্যান্টিসেপ্টিক উপাদান থাকে যা ব্রণ কমায়। গোলাপের পাপড়ির অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণ ব্রণকে শুকিয়ে দেয়।

আরো পড়ুন: জবা ফুলের উপকারিতা

অরুচি দূর করবেঃ

অরুচি দেখা দিলে গোলাপের পাপড়ি বেটে মধুর সাথে মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায় ।

পিত্তজনিত সমস্যা দূর করেঃ

অর্ধেক ফোটা গোলাপ ফুল বেটে অল্প পরিমাণ চিনির সাথে মিশিয়ে প্রতিদিন খেলে পিত্তজনিত বমন দূর হয়।

আশা করি,গোলাপ ফুলের উপকারিতা সম্পর্কে জেনে আপনেরা উপকৃত হবেন এবং বাস্তব জীবনে প্রয়োগ ঘটাবেন।

Image by Peggy Choucair from Pixabay

Categories
উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ ফুলের উপকারিতা

মরিয়ম ফুলের উপকারিতা

আসসালামু আলাইকুম,আজকে আমরা জানবো মরিয়ম ফুলের উপকারিতা ও মরিয়ম ফুল ব্যবহারের নিয়ম

মরিয়ম ফুলের উপকারিতা

মরিয়ম ফুল পরিচিতি:

মরিয়ম ফুলের ছবি gif

Source

#মরিয়ম ফুল জন্মে মরু অঞ্চলে। মধ্যপ্রাচ্য ও সাহারার বিস্তীর্ণ মরু অঞ্চলে বছরের পর বছর শুকনো গাছ মাটি আঁকড়ে থাকে। এর বৈজ্ঞানিক নাম Anastatica hierochuntica।

মরুভূমির অসহনীয় গরমের মধ্যে থাকা শুকনো এই গাছ ক্রমে নির্জীব পাথরের মতো হয়ে পড়ে। কখনো বৃষ্টির পরশ পেলে জীবন ফিরে পায় এবং এর বংশ বিস্তার ঘটে।

এই গাছের ফুলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম, দস্তা এবং লোহা। বিশেষত, ক্যালসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম একসঙ্গে পেশি সংকোচন নিয়ন্ত্রণ করে।

এর কোনো নেতিবাচক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই।

আরো পড়ুন: জবা ফুলের উপকারিতা

মরিয়ম ফুলের কাহিনী:

ফুলের নাম-“মরিয়ম ফুল”, মরু অঞ্চলের ক্ষণজন্মা উদ্ভিদ মরিয়ম ফুল, বৈজ্ঞানিক নাম- Anastatica hierochuntica ।

এই ফুলকে হযরত ঈসা (আঃ) এর মায়ের নাম নামানুসারে “মরিয়ম ফুল বা মরিয়ম বুটি”, নবী সাঃ এর কন্যা ফাতিমার নামানুসারে “ফাতিমার হাত বা হ্যান্ড অব ফাতিমা” এবং এর বৈশিষ্ট্য অনুসারে “পুনরুত্থান উদ্ভিদ” বলা হয়।

মরিয়ম ফুলের উপকারিতা – মরিয়ম ফুল ব্যবহারের নিয়ম:

মরিয়ম ফুলের ছবি
মরিয়ম ফুলের ছবি

ক) বাচ্চা জন্মের সময় ডেলিভারি পেইন উঠে তখন ফুলটিকে ডেলিভারি রুমে কোন খোলা বাসনে কুসুম গরম পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে (কুসুম গরম পানি না থাকলে ঠান্ডা পানি হলেও হবে, গরম পানি হলে বেশী ভাল)।

ভিজালে ফুলটি আস্তে আস্তে ফুটতে থাকবে এবং যার ডেলিভারি হবে তার জড়ায়ুর মুখ খুলতে থাকবে এবং ব্যাথা বাড়বে।

যতই ভিজতে থাকবে ও প্রষ্ফুটিত হতে থাকবে আল্লাহ্ তাআলার দয়ায় মরিয়ম বিবির ফুলের বরকতে বাচ্চার জন্ম খুব সহজ ভাবেই হবে।

খ) বেবী হয়ে গেলে পানি থেকে ফুলটি উঠিয়ে ফেলতে হয়।এবং এই ফুলের কাজ শেষে পানি থেকে উঠিয়ে রাখলে আবার আগের মত ছোট হয় কারন এটি একাধিক বার ব্যবহারযোগ্য।

আরো পড়ুন: চিয়া সিড এর উপকারিতা

গ) আর যারা বাচ্চা কন্সিভ করতে চান তারা শেকড় ভিজিয়ে রেখে তার পানিটা তাহাজ্জুদ নামাজের আগে এবং পরে নিয়ত করে খাবেন এবং এটি অবশ্যই ফযরের নামাজ পড়ার আগেই খেয়ে নিতে হবে।


বিদ্র: আমরা ডাক্তার না আমরা পোস্টে কোথাও বলিওনি যে ডাক্তারের কাছে যাওয়া লাগবে না । এই ফুল দিয়েই চিকিৎসা হয়ে যাবে ! আমরা আধুনিক হয়ে গেছি বলে বিশ্বাস মরে যাবে এমনতো নয় ! আপনার বিশ্বাস ও প্রয়োজন মনে হলে ফুলটি সংগ্রহ করবেন আর বিশ্বাস না হলে এড়িয়ে যান।

Photo Credit: Pixabay

সূত্র : অনলাইন # মরিয়ম ফুলের গুনাগুন

Categories
উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ ফুলের উপকারিতা

জবা ফুলের উপকারিতা

জবা ফুলের উপকারিতা: ফুল পছন্দ করে এমন মানুষ খুব কম পাওয়া যাবে। একদিকে যেমন আমাদের মন ভালো করে,অন্যদিকে ঘর সাজানো থেকে শুরু করে প্রিয়জনকে উপহার দিতে ব্যবহার হয় ওষুধি গুনাগুণের জবা ফুল। নানা রোগের প্রতিকারক হিসেবে এবং চুলের যত্নেও জবা ফুল চমৎকার কাজ করে।

আমাদের দেশে গোলাপী, সাদা, লাল, হলুদ ইত্যাদি নানা রংয়ের জবা ফুল পাওয়া যায়।বেশিরভাগ ক্ষেত্রে লাল জবা আয়ুর্বেদ ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আসুন জেনে নেই জবা ফুলের স্বাস্থ্য উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ

জবা ফুলের পুষ্টিগুণ :

১০০ গ্রাম জবা ফুলে রয়েছেঃ

  • ক্যালোরি – ৩৭
  • ফ্যাট – ০.৭ গ্রাম
  • সোডিয়াম – ৩ মিলিগ্রাম
  • পটাসিয়াম – ৯ মিলিগ্রাম
  • কার্বোহাইড্রেট – ৭ গ্রাম
  • প্রোটিন – ০.৪ গ্রাম
  • ভিটামিন এ – ৫%
  • ভিটামিন সি – ৩০%
  • আয়রন – ৪৭%

জবা ফুলের  উপকারিতা:

ক্যান্সার প্রতিরোধ করে:

জবা ফুলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট নামক উপাদানটি রয়েছে যা ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে থাকে। সাধারণত জবা ফুলের তৈরি চা বা অন্যান্য যেকোনো ভাবে জবা ফুল খেলে দেহে ক্যান্সার প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে এবং শারীরিকভাবে সুস্থ রাখে।

আরো পড়ুন: চেরি ফলের উপকারিতা

চুল কালো করে:

নারিকেল তেলের সাথে জবা ফুল মিশিয়ে চুলে ব্যবহার করলে চুল কালো হয় এবং চুলের স্বাস্থ্য রক্ষা পায়। প্রাকৃতিকভাবেই এই ফুলটি রোদের তাপে চুল ধূসর হয়ে যাওয়া থেকে বাঁচায়।

শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি করে:

অ্যান্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ জবা ফুল দেহের শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি করে এবং প্রাকৃতিক শারীরিক সুস্থতা প্রদান করে।

বয়স ধীর গতিতে বৃদ্ধি পায়:

অ্যান্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ জবা ফুল শুধু ক্যান্সার প্রতিরোধই করে না নিয়মিত এই জবা ফুল আহারে আমাদের বয়স বাড়ার প্রবণতাকে ধীর গতি সম্পন্ন করে তুলতে সহয়তা করে। ফলে এই জবা ফুল একজনকে চিরযৌবন এনে দিতে পারে।

ব্রণ উপশম:

ব্রণের সমস্যায় অনেকেই পড়ে থাকেন। বিভিন্ন ব্রণ প্রতিরোধক উপকরণেও এটি উপশম করা সম্ভব হয় না। এর জন্য প্রাকৃতিক গুণসম্পন্ন জবা ফুল অনেক উপকারী। কেননা প্রাকৃতিক অ্যান্টি ইনফ্ল্যামাটরি উপাদান এবং ভিটামিন সি সমৃদ্ধ এই জবা ফুল ব্রণের সমস্যা প্রাকৃতিকভাবেই নির্মূল করে থাকে।

হজমে সহায়তা:

জবা ফুল হজমেও সহায়তা করে থাকে। প্রতিদিন নিয়ম করে এই জবা ফুল খেলে শরীরের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করে এবং হজমক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে শারীরিকভাবে সুস্থ রাখে।

চুল পড়া বন্ধ করে:

প্রাকৃতিক গুণসম্পন্ন এই জবা ফুল চুলে বিভিন্ন পুষ্টি প্রদান করে চুল পড়া বন্ধ করে এবং চুলের স্বাস্থ্য রক্ষা করে উজ্জ্বল আর ঝলমলে করে তোলে।

স্কাল্পের চুলকানি কমায়:

  • জবা ফুলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ, সি।
  • যা স্কাল্পের চুলকানি রোধে সাহায্য করে।
  • এছাড়া স্কাল্পের যেকোনো সমস্যা রোধে জবা ফুলের বিকল্প নেই।
  • অল্প পানিতে কয়েকটি জবা ফুল সিদ্ধ করতে হবে।
  • তারপর সেই পানি ঠান্ডা হলে চুলে লাগাতে হবে।
  • এর ফলে দেখবেন স্কাল্পের চুলকানি কমে গেছে।

ঠান্ডা উপশম:

জবা ফুলে ভিটামিন সি রয়েছে। ফলে এই ভিটামিন সি সমৃদ্ধ জবা ফুল হালকা ঠান্ডা লাগা, গলা ব্যথা বা মাথাব্যথা সারিয়ে ফেলতে পারে। এর জন্য সবজি হিসেবে বা এমনিই খাওয়া যেতে পারে এই জবা ফুল।

আরো পড়ুন: চিয়া সিড এর উপকারিতা

হার্টের সমস্যা দূর করে:

জবা ফুল আমাদের শরীরের কোলেস্টরেলের মাত্রা কমিয়ে এনে হার্টের সমস্যা দূর করে।

শরীরে তরলের ভারসাম্য রক্ষা করে:

আমাদের শরীরের তরলের পরিমাণ বেশি যেগুলোর ভারসাম্য ঠিক না থাকলে বিভিন্ন অসুস্থতা দেখা দেয়। জবা ফুল শরীরের এই তরলের ভারসাম্য রক্ষা করে শরীরকে সুস্থ স্বাভাবিক রাখে।

Categories
উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ ফুলের উপকারিতা ভেষজ উদ্ভিদের উপকারিতা

কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা

আসসালামু আলাইকুম, আজকে আমরা জানবো কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা

কিসমিসের পুষ্টিগুণ অপরিসীম। কিসমিস আমাদের সকলের নিকট একটি পরিচিত নাম। কিসমিস স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। কিসমিস মূলত আঙুর ফলের শুকনো রূপ। তাই কিসমিসকে শুকনো ফলের রাজাও বলা হয়। সোনালী-বাদামী রংয়ের চুপসানো ভাঁজ হওয়া ফলটি খুবই শক্তিদায়ক।

কিসমিসে থাকা কার্বোহাইড্রেট শরীরে অতিরিক্ত শক্তির জোগান দেয়। এমনকী, কিসমিস ভেজানো পানিও শরীরের জন্য বিশেষ উপকারী!

প্রতি ১০০ গ্রাম কিসমিসে কিসমিসের গুনাগুন:

এনার্জি ৩০৪ কিলোক্যালরি

কার্বোহাইড্রেট ৭৪.৬ গ্রাম

ডায়েটরি ফাইবার ১.১ গ্রাম

ফ্যাট ০.৩ গ্রাম, প্রোটিন ১.৮ গ্রাম

ক্যালসিয়াম ৮৭ মিলিগ্রাম

আয়রন ৭.৭ মিলিগ্রাম

পটাসিয়াম ৭৮ মিলিগ্রাম

সোডিয়াম ২০.৪ মিলিগ্রাম।

জেনে নিন কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা:

দাঁত এবং মাড়ির সুরক্ষায়:

বাচ্চারা ক্যান্ডি ও চকলেট খেয়ে দাঁত ও মাড়ির ক্ষতি করে থাকে। কিন্তু এগুলির পরিবর্তে বাচ্চাদের কিসমিস খাওয়ার অভ্যাস করালে দাঁতের সুরক্ষা হবে। আবার একই স্বাদ পাওয়ার সাথে সাথে বিপুল পরিমাণ উপকারও পাবে। চিনি থাকার পাশাপাশি কিসমিসে রয়েছে ওলিনোলিক অ্যাসিড, যা মুখের ভেতরের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে বাঁধা দেয়।

দেহে শক্তি সরবরাহ করতে: 

দুর্বলতা দূরীকরণে কিসমিসের জুড়ি নেয়। দেহে শক্তি সরবরাহ করতে কিসমিসের অবদান অনেক বেশি। কিসমিসে রয়েছে চিনি, গ্লুকোজ এবং ফ্রুক্টোজ, যা তাৎক্ষণিকভাবে দেহে এনার্জি সরবরাহ করে থাকে। তাই দুর্বলতার ক্ষেত্রে কিসমিস খুবই উপকারী

কোষ্ঠকাঠিন্য দূরীকরণে: 

কিসমিসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, যা আমাদের পরিপাকক্রিয়া দ্রুত হতে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করে।

জ্বর নিরাময় করতে:

কিসমিস ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে জ্বর নিরাময় করতে সাহায্য কারে।

দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধিকরন: 

রক্তে ভিটামিন এ, এ-বিটা ক্যারোটিন এবং এ-ক্যারোটিনয়েড থাকে। কিসমিস এন্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করতে পারে। যা চোখের ফ্রি-রেডিকল দূর করতে সক্ষম। কিসমিস খেলে সহজে শরীরে বয়সের ছাপ পড়ে না। দৃষ্টি শক্তি হ্রাস ও চোখে ছানি পড়ে না। পাশাপাশি পেশী শক্তি হ্রাস পায় না। কিসমিস চোখের জন্য খুব উপকারি।

ওজন বাড়াতে:

কিসমিসে প্রচুর ফ্রুক্টোজ ও গ্লুকোজ থাকে। তাই এটি ওজন বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। যদি সঠিক নিয়মে ওজন বাড়াতে চান তবে আজই কিসমিস খেতে পারেন।

দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধিকরন: 

রক্তে ভিটামিন এ, এ-বিটা ক্যারোটিন এবং এ-ক্যারোটিনয়েড থাকে। কিসমিস এন্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করতে পারে। যা চোখের ফ্রি-রেডিকল দূর করতে সক্ষম। কিসমিস খেলে সহজে শরীরে বয়সের ছাপ পড়ে না। দৃষ্টি শক্তি হ্রাস ও চোখে ছানি পড়ে না। পাশাপাশি পেশী শক্তি হ্রাস পায় না। কিসমিস চোখের জন্য খুব উপকারি।

অ্যানিমিয়া প্রতিরোধ:

কিসমিস-এ প্রচুর পরিমাণে আয়রন আছে যা রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া কমাতে সরাসরি সাহায্য করে। এছাড়াও, ভিটামিন বি কমপ্লেক্সের অন্তর্গত বেশ কিছু ভিটামিন এতে পাওয়া যায়, যা নতুন রক্ত তৈরিতে সাহায্য করে। কিসমিস-এ কপারও থাকে যা রেড ব্লাড সেল তৈরিতে সাহায্য করে।

রক্তশূন্যতা দূর করতে:

রক্তশূন্যতার কারণে অবসাদ, শারীরিক দুর্বলতা, বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে পারে। এমনকি, বিষণ্ণতাও দেখা দিতে পারে। কিসমিসে আছে, প্রচুর পরিমাণে লৌহ উপাদান, যা রক্তশূন্যতা দূর করতে সাহায্য করে।

এসিডিটি কমাতে: 

রক্তে অধিক মাত্রায় এসিডিটি (অম্লতা) বা টক্সিসিটি (বিষ উপাদান) থাকলে, তাকে বলা হয়, এসিডোসিস। এসিডোসিসের (রক্তে অম্লাধিক্য) কারণে বাত, চর্মরোগ, হৃদরোগ ও ক্যান্সার হতে পারে। কিসমিস রক্তের এসিডিটি কমাতে সাহায্য করে।

হাড়ের সুরক্ষা: 

প্রতিদিন কিসমিস খাওয়ার অভ্যাস হাড়ের ক্ষয় এবং বাতের ব্যথা থেকে দূরে রাখবে। বর্তমানে সময়ে অনেক রুগী অস্টিওপরোসিস (হাড়ের একধরনের রোগ) আক্রান্ত হচ্ছেন। বোরন নামক খনিজ পদার্থের অভাবে এই রোগ হয়। কিশমিশে আছে প্রচুর পরিমাণ বোরন, যা অস্টিওপরোসিস রোগের প্রতিরোধক। সুতরাং পরিবারের সবাইকে কিসমিস খাওয়ার অভ্যাস করানো উচিত।

ইনফেকশনের সম্ভাবনা দূরীকরণ:

কিসমিসের মধ্যে রয়েছে পলিফেনলস এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিইনফেমেটরী উপাদান। যা কাঁটা-ছেড়া বা ক্ষত হতে ইনফেকশন হওয়ার হাত থেকে দূরে রাখে।

ক্যান্সার প্রতিরোধে:

কিসমিসের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট দেহের কোষগুলোকে ফ্রি র‌্যাডিক্যাল ড্যামেজের হাত থেকে রক্ষা করে এবং ক্যান্সারের কোষ উৎপন্ন হওয়ায় বাধা প্রদান করে।

মুখের স্বাস্থ্য রক্ষাকরন:

কিসমিসে অলিনিলীক এসিড থাকে। এটি মুখের ভিতর ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার জন্ম ব্যহত করে।

পরিপাক তন্ত্রের উপকারিতায়:

কিসমিস কোষ্ঠ্যকাঠিন্য থেকে রক্ষা করে। নিয়মিত কিসমিস খেলে হজমশক্তি ভাল থাকে। এটি গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল (মুখ থেকে পায়ু) পথ থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয়।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে:

কিসমিস শুধুমাত্র রক্তের মধ্যে থাকা বিষো উপাদান কমায় তাই না, বরং রক্তচাপও কমায়। কিসমিসে প্রধান উপাদান, পটাশিয়াম, রক্তের চাপ কমাতে সাহায্য করে। শরীরে থাকা উচ্চমাত্রার সোডিয়াম, রক্তচাপ বাড়ার প্রধান কারণ। কিসমিস শরীরের সোডিয়াম মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে।

মস্তিষ্কের জন্য উপকারি:

কিসমিসে থাকা বোরন মস্তিষ্কের জন্য খুবই উপকারি। বোরন ধ্যান বাড়াতে সহায়ক। ফলে কাজে মনোযোগ বাড়ে। এটি বাচ্চাদের পড়াশোনাতেও মনোযোগী করে তুলতে পারে।

অনিদ্রা:

অনেকের ঠিকমত ঘুম আসে না। তাদের জন্য কিসমিস অনেক উপকারি। কারন কিসমিসের মধ্যে রয়েছে প্রচুর আয়রন যা মানুষের অনিদ্রার চিকিৎসায় বিশেষভাবে উপকারী। তাই আজ থেকে কিসমিস খাওয়া শুরু করুন, দেখবেন অনেক উপকার পাবেন।

সেক্সুয়াল সমস্যা প্রতিরোধ:

আর্জিনিন যা পাওয়া যায় কিসমিসে, তা স্পার্মের চলাচলে সাহায্য করে, যেটি গর্ভধারণে সাহায্য করে।  যাদের যৌন সহনশীলতা কম, তাদেরকেও রেগুলার কিসমিস খেতে পরামর্শ দেওয়া হয়।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়:

আপনি যদি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বড়াতে চান, তবে ভেজা কিসমিস এবং তার পানি নিয়মিত খান। এর মধ্যে রয়েছে
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা রোগের সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতা বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

শরীর রাখে বিষমুক্ত:

চারিদিকের দূষণে আপনি যখন জেরবার তখন সকালে খালি পেটে ভেজানো কিসমিস খেলে শরীর বিষমুক্ত হবে।

কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়:

নিয়মিত কিসমিস খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য কমে। আপনি যদি পেটের সমস্যায় নিয়মিত ভোগেন, তাহলে প্রতিদিন সকালে খালিপেটে ভেজানো কিসমিস খান।

বশে রাখে ব্লাড প্রেসার:

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের প্রাকৃতিক পদ্ধতিগুলোর মধ্যে একটি কিসমিস। এর মধ্যে থাকা পটাসিয়াম হাই ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখে। (কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা)

রক্ত স্বল্পতা কমায়:

রক্ত স্বল্পতা কমাতে কিসমিস যথেষ্ট উপকারি। নিয়মিত খেলে এর মধ্যে থাকা আয়রন হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়ায়। এছাড়াও, এর মধ্যে আছে তামা যা রক্তে লাল রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে।

হজমশক্তি বাড়ায়:

সুস্থ থাকার জন্য ভালো হজমশক্তি জরুরি। এক্ষেত্রে কিসমিস হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। রোজ রাতে এক গ্লাস পানিতে কিসমিস ভিজিয়ে রাখুন। পরের দিন ভোরে সেই কিসমিস খান। তারপর নিজেই খেয়াল করুন ফলাফল পনেরো দিন পরেই।

জেনে নেওয়া যাক, কিসমিস ভেজানো পানি খাওয়ার নিয়ম উপকারিতা

১) গর্ভাবস্থায় কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা: কিসমিস ভেজানো পানি তাই মহিলাদের পক্ষে উপকারী। মহিলারা রক্তাল্পতায় ভোগেন। তাই চিকিৎসকরা তাঁদের কিসমিস খাওয়ার পরামর্শ দেন।

২) কিসমিস ভেজানো পানি খেলে কিডনির নানা সমস্যা থেকে দূরে থাকা যায়। লিভারও সুস্থ থাকে।

৩) কিসমিসে পটাশিয়াম থাকে, যা হার্টকে ভাল রাখে। শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলকেও দূরে রাখে কিসমিস।

৪) যাঁরা নিয়মিত পেটের ও হজমের সমস্যায় ভোগেন, তাঁদের জন্য এই টোটকা খুবই উপকারী। এতে পেট পরিষ্কার থাকে।

কিসমিস ছোট হলেও উপকারিতা অনেক। অল্প পরিমাণে নিজের রোজকার খাবারে রাখুন এবং দেখুন আপনার শরীরের ওপর এর প্রভাব।

যেভাবে কিসমিসের পানি তৈরি করবেন:

১) ২ কাপ পানি (৪০০ এমএল) ও ১৫০ গ্রাম কিসমিস লাগবে।

কিসমিসগুলোকে ভালো করে কয়েক বার ধুয়ে নিন।

এরপর একটি পাত্রে দু-কাপ পানি দিয়ে রাতভর কিসমিস ভিজিয়ে রাখুন।

সকালে ছেকে নিয়ে, সেই পানিটা হালকা গরম করে সকালে খালি পেটে খেয়ে নিন।

৩০ থেকে ৩৫ মিনিট অন্য কিছু খাবেন না।

কিসমিস যেমন উপকারি একইভাবে বেশি পরিমাণে কিসমিস খাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর। কিসমিস ফ্রুকটোজের পাশাপাশি গ্লুকোজ সমৃদ্ধ। যা ওজন বাড়িয়ে দেয়। অতিরিক্ত খেলে শ্বাসকষ্ট, বমি, ডায়রিয়ার মতো সমস্যা হতে পারে। তাই কম করে কিসমিস খান প্রতিদিন।