Categories
উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ ফলের উপকারিতা

বরই এর উপকারিতা

আসসালামু আলাইকুম, আজকে আমরা জানবো বরই এর উপকারিতা নিয়ে।

বরই  শীতে ধরে। বরই গোলাকার, আকারে ছোট, কমবেশী ২.৫ সেন্টিমিটার। ফল পাকলে রঙ হলুদ থেকে লাল বর্ণ হয়। কাচা ও পাকা উভয় খাওয়া হয়। স্বাদ টক ও কাঁচামিঠা জাতীয়।

বরই এর পুষ্টিগুণ:

প্রতি ১০০ গ্রাম খাবার উপযোগী বরইয়ে রয়েছে

  • খাদ্যশক্তি ৭৯ কিলোক্যালরি
  • শর্করা ২০.২৩ গ্রাম
  • চর্বি ০.২ গ্রাম
  • আমিষ ১.২ গ্রাম
  • জলীয় অংশ ৭৭.৮৬ গ্রাম
  • ভিটামিন এ ৪০ আইইউ
  • থায়ামিন ০.০২ মিলিগ্রাম
  • রিবোফ্লাভিন ০.০৪ মিলিগ্রাম
  • নিয়াসিন ০.৯ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন বি৬ ০.০৮১ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন সি ৬৯ মিলিগ্রাম
  • ক্যালসিয়াম ২১ মিলিগ্রাম
  • আয়রন ০.৪৮ মিলিগ্রাম
  • ম্যাগনেসিয়াম ১০ মিলিগ্রাম
  • ম্যাংগানিজ ০.০৮৪ মিলিগ্রাম
  • ফসফরাস ২৩ মিলিগ্রাম
  • পটাশিয়াম ২৫০ মিলিগ্রাম
  • সোডিয়াম ৩ মিলিগ্রাম
  • জিংক ০.০৫ মিলিগ্রাম।

আরো পড়ুন: কাঠ লিচুর উপকারিতা

বরই এর উপকারিতা:

ক্যান্সার প্রতিরোধ:

বরই এর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান বিদ্যমান, যারা টিউমারের উপর সাইটোটক্সিক প্রভাব বিস্তার করে। যার ফলে শরীরে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

রক্ত পরিশুদ্ধি:

শুকনো বরই এর মধ্যে স্যাপোনিন, অ্যাল্কালয়েড এবং ট্রাইটারপেনয়েড উপাদান থাকে যারা রক্ত পরিশুদ্ধ করে এবং হজম প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে।

দুশ্চিন্তা:

এরা অবসাদ এবং দুশ্চিন্তা দুর করে।

আরো পড়ুন: এপ্রিকট ফলের উপকারিতা

দুশ্চিন্তা বা অনিদ্রা:

বরই এর শক্তিশালী কেমিক্যালগুলো অনিদ্রা এবং দুশ্চিন্তা কমিয়ে আনতে সাহায্য করে।

রোগ প্রতিরোধ:

এর ভিটামিন সি, এ, বি২, ফাইটোকেমিক্যাল ইত্যাদি পাওয়া যায় যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

লিভারের সুরক্ষা:

বরই এর মধ্যে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় এটি লিভারকে সুরক্ষা প্রদান করে।

হাড় মজবুত :

এই ফলে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন ইত্যাদি সহ আরো অনেক ভিটামিন ও মিনারেল পাওয়া যায় যা হাড় শক্ত ও মজবুত করতে সাহায্য করে।

রক্ত সঞ্চালন:

আয়রন ও ফসফরাস শরীরে রক্ত উৎপাদন এবং রক্ত সঞ্চালনের প্রক্রিয়া বৃদ্ধি করে।

আরো পড়ুন: মাল্টার উপকারিতা

এছাড়াও বিভিন্ন দেশে পেটের সমস্যা দূর করতে, মাংসপেশি শক্তিশালী করতে এই ফলের ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

সূত্র: সময় টিভি | Photo by Youbute

Categories
উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ ফলের উপকারিতা

এপ্রিকট ফলের উপকারিতা

আসসালামু আলাইকুম, আজকে আমরা জানবো এপ্রিকট ফলের উপকারিতা নিয়ে।

এপ্রিকট (Apricot), বাংলায় একে খুবানি বলা হয়। হলদে-কমলা রংয়ের এই ফলটি দেখতে যেমন সুন্দর তেমন উচ্চ পুষ্টিমান সম্পন্ন।  এটি প্রধানত চীনে উৎপন্ন হত।

এপ্রিকট ফলের পুষ্টিগুণ:

এপ্রিকটে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন, প্রোটিন ও উপকারী ফ্যাট ভিটামিন-বি২ভিটামিন-বি৩ভিটামিন-এ এবং ভিটামিন-সি রয়েছে।

জেনে নেয়া যাক, এপ্রিকট ফলের উপকারিতা:

দৃষ্টি ক্ষমতা বাড়ায়:

এপ্রিকটে বিদ্যমান করোটিনয়েডস ও জেন্থফিল বয়সের সাথে সম্পর্কিত চক্ষু রোগ প্রতিরোধে কাজ করে। আবার এর ভিটামিন এ চোখের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে।

হজম শক্তি বৃদ্ধি করে:

নিয়মিত এপ্রিকট আপনাকে এহেন সমস্যা থেকে পরিত্রাণ দিবে। এর উচ্চ ফাইবার আপনার হজমে সহায়তা করবে। সেই সাথে কোষ্ঠকাঠিন্য ও পেটের ফাঁপা ভাব দূর করবে।

আরো পড়ুন: কদবেলের উপকারিতা

হৃৎপিণ্ডের সুস্থতা:

অ্যাপ্রিকট শরীরের ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল কমায় ও হৃৎপিণ্ডকে সুরক্ষিত রাখে। একই সাথে, এটা শরীরে উপকারি কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ায়।

হাড়ের গঠনে সাহায্য করে:

এপ্রিকট ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ। হাড়ে ক্যালসিয়াম সঠিক শোষণে  সহায়তা করে পটাসিয়াম। এপ্রিকটে পাওয়া যাবে এই পুষ্টি উপাদানটিও। এটি আপনার হাড়ের কাঠামো শক্তিশালী করবে এবং হাড় ক্ষয় রোধ করবে।

গর্ভকালীন পুষ্টিচাহিদা পূরণে:

গর্ভকালীন সময়ে মা ও শিশুর সুস্থ্যতার জন্য বাড়ে যায় পুষ্টিচাহিদা। তাই এ সময়ে প্রয়োজন পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহন।এপ্রিকট একটি উচ্চ পুষ্টিসম্পন্ন ফল।

ত্বকের পরিচর্যায়:

এপ্রিকটে আছে ভিটামিন ই ও সি,যা সুস্থ ত্বকের জন্য প্রয়োজনীয়।

আরো পড়ুন: গুড়ের উপকারিতা

Photo by Maša Žekš on Unsplash

Categories
অন্যান্য উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ ফলের উপকারিতা ফলের উপকারী ফলের গুনাগুন

মাল্টার উপকারিতা

ছবিঃ Unsplash

মাল্টা খুবই জনপ্রিয় এবং সহজলভ্য ফল।ভিটামিন সি এর আরেক উৎস। সারাবছর এই ফল পাওয়া যায়।ভিটামিন সি ছাড়াও  রয়েছে আরও অনেক উপকারিতা। যা।আমাদের জানা প্রয়োজন।মাল্টা এর রয়েছে নানা ধরনের গুনাগুন।
চলুন তাহলে জেনে নিই,

মাল্টার উপকারিতা।

আরও পড়ুন, আমের উপকারিতা ও অপকারিতা

১।
মাল্টা সর্দি, নাক বন্ধ থাকা, টনসিলের সমস্যা, গলাব্যথা, জ্বর জ্বর ভাব, হাঁচি-কাশি, মাথাব্যথা, ঠান্ডাজনিত দুর্বলতা-এজাতীয় সমস্যাগুলো দূর করে মাল্টা ।

২।
মাল্টা পাকস্থলীকে সুস্থ রাখে। নিয়মিত কমলা খাওয়ার অভ্যাস পাকস্থলীর আলসার ও কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে সুরক্ষা দেবে। পাকস্থলীকে সুস্থ রাখে।

৩।
মাল্টা ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ ফল যা এন্টি অক্সিডেন্ট সমুহের উৎস। এটি ত্বকে সজীবতা বজায় রাখে এবং ত্বকের বলি রেখা প্রতিরোধ করে লাবণ্য ধরে রাখে।

৪।
মাল্টা ইনফেকশন প্রতিরোধে সহায়তা করে। এটি প্রদাহ জনিত রোগ সারিয়ে তোলে।

৫।
মাল্টা দাঁত, চুল, ত্বক, নখের পুষ্টি জোগায়। এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত মাল্টা খায় তাদের দাঁতের রোগ অনেক কম হয়।

আরও পড়ুন,চিরতার উপকারিতা ও অপকারিতা

৬।
জিহবায় ঘা, ঠোঁটের ঘা, জ্বরের সময় জ্বর ঠোসাসহ ত্বক, জিহবার অনেক রোগ ভালো করে। নিয়মিত মাল্টা খেলে দেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়।

৭।
মাল্টার ভিটামিন সি উপাদান আমাদের শরীরে ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। এটি আমাদের শরীরের কোলন ক্যান্সার ও ব্রেস্ট ক্যান্সারের অন্যতম প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে।

৮।
প্রতিদিন একটি করে কমলা খাওয়ার অভ্যাস আপনার দৃষ্টিশক্তিকে ভাল রাখে। কারণ, কমলায় রয়েছে ভিটামিন এ,সি ও পটাসিয়াম। এ ভিটামিনগুলো আপনার দৃষ্টিশক্তির জন্য বেশ উপকারী।

৯।
মাল্টার জুসকে ভিটামিন সি এর সবচেয়ে কার্যকর উৎস বলে মনে করা হয়। মাল্টাকে ভিটামিন সি ট্যাবলেট সিহেবেও গ্রহণ করা যায়।

১০।
এছাড়াও চোখে ঘা, দেহে যে কোনো ঘা, কাটা, সেলাইজনিত ত্বককে ভালো হতে প্রয়োজন পর্যাপ্ত ভিটামিন-সি। আর মাল্টায় আপনি পাচ্ছেন পর্যাপ্ত ভিটামিন-সি। তাই এসব রোগ সারাতে মাল্টার জুড়ি নেই।

১১।
যাদের রক্তে চর্বির পরিমাণ বেশি তাদের রক্তের চর্বির পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে মাল্টা।

১২।
প্রবীণ, গর্ভবতী নারী, মাতৃদুগ্ধদানকারী মহিলাদের নিয়মিত মাল্টা খাওয়া উচিত, কারণ এতে দেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যায়।

আরও পড়ুন,ক্যাপসিকামের উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ এবং স্বাস্থ্যকর রেসিপি

আশা করি,মাল্টার উপকারিতা সম্পর্কে জেনে আপনেরা উপকৃত হবেন এবং বেশি বেশি মাল্টার জুস খাবেন।

সূত্রঃঃ অনলাইন

Categories
উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ ফলের উপকারিতা ফলের উপকারী ফলের গুনাগুন

আঁশফল বা কাঠ লিচুর উপকারিতা

আঁশফল বা কাঠলিচু একপ্রকার লিচু জাতীয় সুস্বাদু ফল। এটি লংগান বা আঁশফল নামেও পরিচিত। এর গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Dimocarpus longan, যা ক্রান্তীয় অঞ্চলের বৃক্ষ। এর রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণ এবং উপকারিতা। আজকে আমরা জানবো,আঁশফল বা কাঠ লিচুর উপকারিতা সম্পর্কে।

আঁশফল বা কাঠ লিচুর পুষ্টিগুণঃ

১।খনিজ উপাদান
২।শর্করা
৩।ভিটামিন সি
৪। ৭২ ভাগ পানি
৫। ১০৯ কিলোক্যালোরি শক্তি,
৬। ভিটামিন সি
৭। ক্যালসিয়াম

আরও পড়ুন,চিরতার উপকারিতা ও অপকারিতা

আঁশফল বা কাঠ লিচুর উপকারিতাঃ

১। আঁশফলের শুকানো শাঁস ভেষজ ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। যেমন- এটি পাকস্থলীর প্রদাহে, অনিদ্রা দূর করতে ও বিষের প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

২।এর পাতা অ্যালার্জি, ক্যান্সার, ডায়াবেটিস ও কার্ডিওভাসকুলার রোগ নিরাময়ের জন্য ব্যবহার করা যায়।

৩।এই ফল উদারাময় নিবারক ও কৃমিনাশকে দারুণ কার্যকর।

৪।অনেকে এই ফলকে বলকারক হিসেবে মনে করে

৫।শারীরিক দুর্বলতা তাড়াতে অতুলনীয়। অবসাদ দূর করতেও এর দারুণ সুনাম।

৬।হৃদযন্ত্র সুরক্ষা এবং সক্রিয় রাখতে আঁশফল উপকারী ভূমিকা পালন করে। স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে আঁশফল খাওয়া উচিত।

আরও পড়ুন,গোলাপ ফুলের উপকারিতা

৭।পেটের অসুখ দূর করতেও এতে থাকা আঁশ উপকারী।

৮। আঁশফলে থাকা লৌহ দেহের ক্ষয়পূরণে সহায়ক। দেহের মাংসপেশির ক্ষয় রোধ করতে আশফল খুবই উপকারী।

৯।কোনো ধরনের ফ্যাট না থাকায় ওজন কমাতেও এ ফল সাহায্য করে।

১০।আঁশফলের ভিটামিন ‘সি’ নানা ধরনের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রোগ প্রতিরোধে দেহকে শক্তিশালী করে তোলে।

আরও পড়ুন,কাঁচা মরিচের উপকারিতা ও অপকারিতা

আশা করি,আঁশফল বা কাঠ লিচুর উপকারিতা সম্পর্কে জেনে আপনেরা উপকৃত হবেন এবং বাস্তব জীবনে প্রয়োগ ঘটাবেন।

Categories
উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ ফলের উপকারিতা ফলের উপকারী ফলের গুনাগুন

কিউই ফলের উপকারিতা

আসসালামু আলাইকুম, কিউই সত্যিই একটি উপকারী ফল যা প্রায়শই যার রয়েছে বিভিন্ন গুনা গুণ। ফলের বাটি, সালাদ কিংবা স্মুদি তৈরীতে ব্যবহৃত হয়।এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়াতে সাধারণত এই ফলের চাষ হয়ে। কিন্তু এই ফল মূলত চিন দেশের ফল।

আজকে আমরা জানবো, কিউই ফলের উপকারিতা:

কিউই ফলের পুষ্টিগুণঃ

১। কার্বোহাইড্রেট
২। প্রোটিন
৩। ফ্যাট
৪। ফাইবার
৫ ক্যালোরি শক্তি।

আরও পড়ুন,পিচ ফলের উপকারিতা

কিউই ফলের উপকারিতাঃ

১।কিউইতে ফাইবার থাকার কারণে এটি হজমে সাহায্য করে।

২।হাপানি রোগের জন্য মোক্ষম ওষুধ হল কিউই ফল।

৩।কিউই ফল ঘুমবর্ধক হিসেবে কাজ করে।

৪।কিডনিতে পাথর জমা থেকে রক্ষা পেতে খান কিউই ফল।

আরও পড়ুন,কামরাঙ্গা ফলের উপকারিতা

৫।কিউই-তে ভিটামিন-সি ও অ্য়ান্টি অক্সিডেন্ট ত্বককে রোদ, দূষণ এবং বার্ধক্য় বিলম্ব করে।

৬।কিউই ফলে ভিটামিন-এ ও ফাইটোক্য়ামিক্য়াল চোখের ছানি ও অন্যান্য চোখের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।

৭।কিউইতে ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ থাকে যা শরীরে রক্ত সঞ্চালনাকে ঠিক রাখে এবং হাড় ও দাঁতকে মজবুত করে।

৮।প্রতিদিন ৩টি করে কিউই ফল খেলে, এর মধ্যে থাকা বায়োঅ্যাক্টিভ রক্ত চাপ কমাতে সাহায্য করে।

৯।ডায়বেটিস রোগীদের জন্য এটি একটি আদর্শ ফল। কারণ, এটি লো গ্লাইসেমিক হওয়ায় সুগার কন্ট্রোল করে।

আরও পড়ুন,আমের উপকারিতা ও অপকারিতা

আশা করি,কিউই ফলের উপকারিতা সম্পর্কে জেনে আপনেরা উপকৃত হবেন এবং বাস্তব জীবনে প্রয়োগ ঘটাবেন।

 

Categories
উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ ফলের উপকারিতা ফলের উপকারী ফলের গুনাগুন

পিচ ফলের উপকারিতা

আসসালামু আলাইকুম,পিচ ফলের সাথে আমরা অনেকে পরিচিত। অনেকে আবার পরিচিত নয়।কিন্তু পিচ খুবই উপকারি ফল।এর রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণ। পিচ ফলের উপকারিতা সম্পর্কে আমাদের জানা দরকার।

চলুন তাহলে জেনে নিই,পিচ ফলের উপকারিতা।

পিচ ফলের পুষ্টিগুণঃ

১। ভিটামিন ‘এ’, বেটা-ক্যারোটিন
২।ভিটামিন ‘সি’র
৩।ভিটামিন ‘কে’
৪। থিয়ামিন
৫।রিবোফ্ল্যাভিন
৬। নিয়াসিন
৭। ভিটামিন বি-৬
৮। ফোলেট আর প্যান্টোথেনিক এসিড।

আরো পড়ুন: শিমের উপকারিতা ও অপকারিতা

পিচ ফলের উপকারিতাঃ

১।পিচ বিটা ক্যারোটিনে ভরপুর। এই বিটা ক্যারোটিন দৃষ্টিশক্তি ভাল রাখার অন্যতম উপাদান।

২।একটা পিচের মধ্যে ৬৮ ক্যালরি থাকার পাশাপাশি ফ্যাটের পরিমাণ শূন্য। তাই প্রতিদিন ডায়েটে পিচ রাখলে তা ওজন কমাতেও সাহায্য করে।

৩।প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট থাকার কারণে অনেক ক্রনিক সমস্যা ও ক্যানসারের প্রকোপ দূরে রাখতে পারে পিচ।

৪।পিচের মধ্যে থাকা পটাশিয়াম কিডনি ও ব্লাডার পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।

৫।প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি থাকার কারণে ত্বকের ডার্ক সার্কল ও বলিরেখা দূর করতে সাহায্য করে পিচ। অনেক কসমেটিকসেও পিচ ব্যবহার করা হয়।

৬।হবু মায়ের স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে পিচ খুবই উপকারী। শিশুর হাড়, দাঁত, ত্বক, পেশি আর রক্তবাহী শিরা-উপশিরার স্বাস্থ্যকর গঠনে ভূমিকা রাখে ভিটামিন ‘সি’।

আরো পড়ুন: কলমি শাকের উপকারিতা

৭।দেহকে আয়রন শুষে নিতে সহায়তা করে পিচ। আর তা গর্ভাবস্থায় খুবই জরুরি। এর পটাসিয়াম পেশির অনাকাঙ্ক্ষিত সংকোচন প্রতিরোধ করে।

৮।পিচের ম্যাগনেসিয়াম আপনার মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা প্রশমিত করতে পারে।

৯।পিচ ফল ফোলেটের অন্যতম উৎকৃষ্ট উৎস যা মস্তিষ্কের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

১০।নিয়মিত পিচ ফল খেলে হার্টের সমস্যা এড়াতে পারবেন। এটি উচ্চ রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।

১১।ভিটামিন এবং মিনারেলে পরিপূর্ণ এই ফল শরীর ডিটক্স করতে এবং ত্বক ভালো রাখতে সাহায্য করে। পরীক্ষায় দেখা গেছে, পিচের মধ্যে উপস্থিত ভিটামিন এ, সি এবং ই ও সেলেনিয়াম, এগুলো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ডিটক্সিফিকেশন হিসেবে কাজ করে।

১২।পিচ অ্যালার্জির লক্ষণ হ্রাস করতে পারে। যখন আপনার দেহ কোনও অ্যালার্জেনের সংস্পর্শে আসে তখন এটি হিস্টামিনস অথবা প্রতিরোধ ব্যবস্থা দ্বারা তৈরি রাসায়নিক মুক্ত করে।

আরো পড়ুন: ওলের উপকারিতা

আশা করি,পিচ ফলের  উপকারিতা সম্পর্কে জেনে আপনেরা উপকৃত হবেন এবং বাস্তব জীবনে প্রয়োগ ঘটাবেন।

 

Image by Couleur from Pixabay 

Categories
উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ ফলের উপকারিতা লাইফ স্টাইল

ডালিম, আনার ও বেদানার খোসার উপকারিতা

আসসালামু আলাইকুম, বেদানা বা ডালিমের ইংরেজি নাম pomegranate। বৈজ্ঞানিক নাম Punica granatum। বেদানা, আনার বা ডালিম এক রকমেরই ফল। বাংলাদেশের অনেক স্থানে এটি বেদানা নামেও।এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধের জাদুকরী গুনাগুন।আমরা অনেকে এই খোসা ফেলে দিই। তাই ডালিম, আনার ও বেদানার খোসার উপকারিতা সম্পর্কে আমাদের জানা দরকার।

চলুন জেনে নিই, ডালিম, আনার ও বেদানার বেদানার খোসার উপকারিতা।

ডালিম, আনার ও বেদানার খোসার পুষ্টিগুণঃ

১।অ্যামাইনো অ্যাসিড
২। ফলিক অ্যাসিড, পটাশিয়াম
৩।অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসহ ভিটামিন এ, সি, ই
৪। ৭৮ ভাগ পানি
৫।১.৫ ভাগ আমিষ
৬।০.১ ভাগ স্নেহ
৭। ৫.১ ভাগ আঁশ
৮। রাইবোফ্লাভিন
৯। ০.৩ মিলিগ্রাম নায়াসিন

ডালিম, আনার ও বেদানার খোসার উপকারিতা:

কাশি বা গলাব্যথার জন্যঃ

কাশি বা গলাব্যথা হলে বেদানার খোসা থেকে তৈরি পাউডার গরমজলে ফুটিয়ে গারগেল করলে আরাম পাওয়া যায়।

ব্রনের সমস্যা দূর করার জন্যঃ

বেদেনার খোসা শুকিয়ে সেদ্ধ করে ঠান্ডা হওয়ার পর বেঁটে মুখে মাখলে ব্রনর সমস্যা দূর হয়।

কোলেস্টেরল লেভেল ঠিক রাখতেঃ

বেদানার খেসা থেকে পাওয়া অ্যান্টিঅক্সিডাইটিস আমাদের শরীরের কোলেস্টেরল লেবেল ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

মুখের দূরগন্ধ দূর করতেঃ

বেদানার খোসা থেকে তৈরি পাউডার এক গ্লাস জলে মিশিয়ে কুলকুচি করলে দাঁতের সমস্যা এবং মুখের দুর্গন্ধের সমস্যা দূর হয়।

ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতেঃ

বেদেনার খোসা শুকিয়ে তার পাউডার বানিয়ে গোলাপ জলের সাথে মিশিয়ে মুখে মাখলে ত্বক উজ্জ্বল হয়।

হার্ট ভাল রাখেঃ

বেদানার খেসায় উপস্থিতি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হার্টের পক্ষে ক্ষতিকর উপাদানগুলি শরীর থেকে বের করে দেয়। ফলে হার্টের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা কমে।

শরীরের বয়স কমায়ঃ

শরীরের বয়সকে ধরে রাখতে বেদানার খোসা দারুনভাবে সাহায্য করে। আসলে এতে উপস্থিত বিশেষ কিছু উপাদান কোষের বংশবৃদ্ধিতে ঘটায়।

শরীরকে টক্সিন মুক্ত করেঃ

বেদানার খোসায় উপস্থিত অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরে উপস্থিত নানা ক্ষতিকর টক্সিনকে বাইরে বের করে আনে। অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কর্মক্ষমতা একদিকে যেমন বৃদ্ধি পায়।

খুশকি কমায়ঃ

বেদানার খোসার পাইডার, গরম নারকেল তেলে মিশিয়ে কম করে ১৫ মিনিট স্কাল্পে মাসাজ করুন। কয়েকদিন এমনটা করলেই দেখবেন খুশকি একেবারে কমে যাবে।

আশা করি, ডালিম, আনার ও বেদানার খোসার উপকারিতা সম্পর্কে জেনে আপনেরা উপকৃত হবেন এবং বাস্তব জীবনে প্রয়োগ ঘটাবেন।

Image by Steve Buissinne from Pixabay 

Categories
উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ ফলের উপকারিতা ফলের উপকারী ফলের গুনাগুন

আমের উপকারিতা ও অপকারিতা

আসসালামু আলাইকুম, আমরা সবাই জানি আম হচ্ছে ফলের রাজা।এইটি গ্রীষ্মকালীন ফল।আমের রয়েছে অনেক উপকারিতা। তাই আজকে আমরা জানবো, আমের উপকারিতা ও অপকারিতা নিয়ে।

আমের উপকারিতা ও অপকারিতা:

আমের উপকারিতাঃ

কোলেস্টেরল কমাতেঃ

আম রক্তে ক্ষতিকারক কোলেস্টেলের মাত্রা কমায়। ডায়াবেটিসের সঙ্গে লড়াই করে। ক্যানসার কোষকে মেরে ফেলতে সাহায্য করে।

দেহকে সুরক্ষা দেয়ঃ

আমে রয়েছে উচ্চ পরিমাণ প্রোটিন যা জীবাণু থেকে দেহকে সুরক্ষা দেয়।

আরো পড়ুন: ড্রাগন ফলের উপকারিতা
ত্বকের ক্লিনজার হিসেবেঃ

ক্লিনজার হিসেবে ত্বকের উপরিভাগে কাঁচা এবং পাকা আম ব্যবহার করা যায়। আম লোমকূপ পরিষ্কার করে এবং ব্রণ দূর করে। বার্ধক্যের ছাপ রোধে আমের রস বেশ কার্যকরী। কাঁচা আমের রস, রোদে পোড়া দাগ দূর করতে সাহায্য করে।

দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতেঃ

আমে রয়েছে ভিটামিন এ, যা দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে। চোখের চারপাশের শুষ্কভাবও দূর করে।

ওজন কমাতেঃ

ওজন কমাতে চাইলে কাঁচা আম খেতে পারেন। এটি পাকা আমের থেকে অনেক ভালো। কেননা পাকা আমে শর্করার পরিমাণ বেশি থাকে।

দেহের শক্তি বাড়াতেঃ

কাঁচা আম দেহের শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, দুপুরে খাওয়ার পর কাঁচা আম খেলে বিকেলের তন্দ্রাভাব কাটে।

লিভারের সমস্যা সমাধানেঃ

লিভারের সমস্যায় কাঁচা আম খাওয়া উপকারী। এটি বাইল এসিড নিঃসরণ বাড়ায় এবং অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়াকে পরিষ্কার করে।

রক্ত তৈরিতেঃ

দেহে নতুন রক্ত তৈরি করতে সাহায্য করে আম।

খনিজ পদার্থের উৎস হিসেবেঃ

খনিজ পদার্থ আয়রনের ভালো উৎস আম। অ্যানিমিয়া আক্রান্ত রোগীদের জন্য ভালো ওষুধ হিসেবে কাজ করে আম।

আয়রনের ঘাটতি পূরণেঃ

সন্তানসম্ভবা নারী এবং মেনোপোজ হওয়া নারীর আয়রনের ঘাটতি পূরণে আম বেশি উপকারী।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতেঃ

কাঁচা আম কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার জন্য খেতে পারেন। কাঁচা আম মধু দিয়ে খাওয়া পেটের কষাভাব দূর করতে সাহায্য করে।

সোডিয়ামের ঘাটতি পূরণেঃ

আয়রন ও সোডিয়ামের ঘাটতি পূরণে বেশ কার্যকরী আম।

আরো পড়ুন: আপেল এর উপকারিতা
দাঁতের জন্যঃ

কাঁচা আম মাড়ির জন্য ভালো। দাঁতের ক্ষয় এবং রক্তপাত রোধ করে। এটি রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়।

পাকা আমের অপকারিতা:

পরিমিত পাকা আম খেলে যেমন উপকার হয় ঠিক তেমনি অতিরিক্ত পরিমাণে পাকা আম খেলে তার অপকারিতাও রয়েছে। আসুন জেনে নেই, বেশি পরিমাণে পাকা আম খেলে কি হয়?

শরীরে গ্লুকোজ মাত্রা বৃদ্ধি করে:

বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা বলে থাকেন পাকা আম খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো কিন্তু বেশি মাত্রায় পাকা আম খেলে রক্তে গ্লুকজের পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে পারে ।

তাই বেশি পরিমাণে পাকা আম খাওয়া মোটেও স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো ফল নিয়ে আসবে না।

উচ্চমাত্রায় চিনি থাকার কারণে ডাক্তাররা অনেক সময় ডায়াবেটিস রোগীদের পাকা আম খেতে নিষেধ করে থাকেন।

অ্যাজমা বা হাঁপানি বাড়িয়ে দেয়:

যাদের অ্যাজমা বা হাঁপানি রয়েছে তাদের পাকা আম খেতে নিষেধ করে থাকেন বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা। কারণ কাঁচা আম পাকাতে অসাধু ব্যবসায়ীরা ক্যালসিয়াম কার্বাইড নামক বিষাক্ত এক প্রকার ক্যামিক্যাল ব্যবহার করে থাকেন, যা অ্যালার্জি বৃদ্ধির পাশাপাশি অ্যাজমা বা হাঁপানি বাড়িয়ে দিতে পারে।

 শরীরের ওজোন বৃদ্ধি করে:

পাকা আমে অধিক মাত্রায় শর্করা থাকায় তা শরীরের ওজন বৃদ্ধি করতে পারে।

ডায়রিয়া:

পাকা আমে অধিক মাত্রায় আঁশ বা ফাইবার থাকে তাই বেশি পরিমাণে পাকা আম খেলে ডাইরিয়া বা পাতলা পায়খানা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

তাই প্রতিদিন পরিমাণমত একটি অথবা দুটি আম খাওয়াই যথেষ্ট। এতে ডাইরিয়া হওয়ার ঝুঁকি থাকবে না।

আরো পড়ুন: আলু বোখারার উপকারিতা
 কিডনি রোগীদের জন্য ক্ষতিকর:

অনেক সময় চিকিৎসকরা কিডনি রোগীকে পাকা আম খেতে নিষেধ করে থাকেন। কারণ ক্যালসিয়াম কার্বাইড দিয়ে পাকানো আম তাদের জন্য অনেক ক্ষতি ডেকে নিয়ে আসতে পারে।

কথায় আছে অতিরিক্ত কোন কিছুই ঠিক না, তাই অতিরিক্ত পাকা আম খাওয়াও উচিৎ না। পরিমিত পাকা আম খান এবং সুস্থ থাকুন।


আশা করি, আমের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জেনে আপনাদের উপকারিতা হবে।

Photo by JACQUELINE BRANDWAYN on Unsplash

Categories
অন্যান্য উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ চুলের যত্ন টিপস এন্ড ট্রিকস ত্বকের যত্ন ফলের উপকারিতা ফলের উপকারী রূপচর্চা রোগ প্রতিরোধ লাইফ স্টাইল

জয়তুন তেলের উপকারিতা

আমরা সবাই জানি, অলিভ অয়েলের ব্যবহার সুপ্রাচীন। বাংলায় যার নাম জলপাই তেল এবং আরবিতে একে জয়তুন বলা হয়। জলপাইয়ের তেল এমন একটি উপাদান, যা ত্বক ও চুল সহ অনেক কিছুতেই ব্যবহার করা হয়।জয়তুন তেলের উপকারিতা

ইসলামে বলা হয়েছেঃ

“তোমরা যায়তুনের তেল খাও এবং এর দ্বারা মালিশ কর বা শরীরে মাখ। কেননা, তা বরকতময় গাছ থেকে আসে।” (তিরমিযী, আহমদ)

চলুন জেনে নেওয়া যাক, জয়তুন তেলের উপকারিতা:

ত্বকের অ্যান্টিএইজিং হিসেবেঃ

জলপাই তেল ত্বকের যত্নে দারুণ কার্যকরী। জলপাইয়ের তেল ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে ও ত্বকে ময়লা জমতে দেয় না। ত্বক ফেটে গেলে তা সারিয়ে তুলতে জলপাই তেল বেশ কার্যকরী। জলপাই তেল ব্যবহারে ত্বকের বলিরেখা কমায়। এর অ্যান্টিএইজিং উপাদান ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে কাজ করে।

এলার্জি অথনা চুলকানি কমাতেঃ

এ ছাড়া যাদের ত্বকে চুলকানির সমস্যা রয়েছে তারা নির্দ্বিধায় এই তেল ব্যবহার করতে পারেন।

ত্বকের যত্নেঃ

জলপাই তেল ত্বকের অতিরিক্ত শুষ্কতা কমায় ও ত্বকের ছোপ ছোপ দাগ দূর করে। ফলে ত্বক হয় কোমল এবং মসৃণ।

কোলেস্টেরল সমস্যা দূর করতেঃ

তেল রক্তের কোলেস্টোরেল দূর করে রক্তে উচ্চারক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। তাই রক্তের কোলেস্টেরল দূর করতে চাইলে জয়তুন তেল খাওয়া আবশ্যক।গবেষকরা ২.৫ কোটি (25 million) লোকজনের উপর গবেষণা করে দেখিয়েছেন, প্রতিদিন ২ চামচ Extra Virgin Olive Oil যাইতুন তেল ১ সপ্তাহ ধরে খেলে, ক্ষতিকর এলডিএল (LDL) কোলেস্টেরল কমায় এবং উপকারী এইচডিএল (HDL) কোলেস্টেরল বাড়ায়।

ভিটামিন অভাব রোধ করতেঃ

জয়তুনে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ই।ভিটামিন এর অভাব পূরণ করতে চাইলে জয়তুন খাওয়া আবশ্যক।
জয়তুনে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আশ বা ফাইবার। তাই যদি বাতের ব্যাথা কমাতে চান নিয়মিত জয়তুন খাওয়া আবশ্যক।

আরো পড়ুন: মাশরুম এর উপকারিতা

বিভিন্ন রোগের জন্যঃ

বিভিন্ন ধরণের টিউমার,দৃষ্টিভ্রম,রগ ফুলে যাওয়া,কোষ্ঠকাঠিন্য এবং দাতের ক্যাভিটি নিয়ন্ত্রণে জয়তুনের তেল অনেক উপকার করে থাকে।
ক্যান্সার দমনে খুব কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে জয়তুন।

রক্তশূন্যতা কমাতে এবং হার্টের সুরক্ষায়ঃ

রক্তশূন্যতা প্রতিরোধে খুব কার্যকরী ভুমিকা পালন করে থাকে জয়তুন।
জয়তুনে রয়েছে অলেইক এসিড যা আমাদের হার্টের সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করে থাকে।

চুলের যত্নে(জয়তুন তেলের উপকারিতা):

শুধু ত্বক নয়, জলপাই তেল মাথার ত্বকের খুশকি দূর করার জন্যও উপকারী। মাথার শুষ্ক তালু প্রাণ ফিরে পায় জলপাই তেলের গুণে। জলপাইয়ের তেল চুল পড়া কমাতে সাহায্য করে। এটি চুলের গোড়া মজবুত করে। এটা শিশুর ত্বকের জন্যও নিরাপদ।

ব্যথানাশক হিসেবেঃ

স্প্যানিশ (Spanish) গবেষকরা দেখিয়েছেন, খাবারে যাইতুন তেল ব্যবহার করলে ক্লোন ক্যান্সার (Colon cancer ) প্রতিরোধ হয়। আরও কিছু গবেষক দেখিয়েছ, এটা ব্যাথা নাশক (Pain Killer) হিসাবে কাজ করে।

সান প্রটেক্টর হিসেবেঃ

একটি ডিমের কুসুমের সঙ্গে ১ টেবিল চামচ জলপাই তেল আর ৩ ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে মুখে লাগিয়ে ১০ মিনিট পর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই মাস্ক শুষ্ক ত্বককে নরম ও কোমল করে তুলবে। সূর্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করবে। বাইরে যাওয়ার আগে জলপাই তেল দিয়ে বের হন। সান প্রটেক্টর হিসেবে এটি দারুণ কার্যকরী।

ব্রণ দূর করতেঃ

৪ টেবিল চামচ লবণের সঙ্গে ৩ টেবিল চামচ জলপাই তেল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এই পেস্ট ২ মিনিট ধরে মুখে ম্যাসাজ করুন। এভাবে এক সপ্তাহ করলে ত্বকে ব্রণের সমস্যা দূর হবে।

আরো পড়ুন: ত্বকের যত্নে  মুলতানি মাটি

অন্যান্য ব্যবহারবিধি হিসেবেঃ

এ ছাড়া ১/২ কাপ জলপাই তেল, ১/৪ কাপ ভিনেগার আর ১/৪ কাপ পানি মিশিয়ে রাতে ঘুমানোর আগে নাইট ক্রিম হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। এই প্যাক আপনার ত্বককে নরম করবে এবং ভিনেগার ত্বকে থাকা ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করবে।

কন্ডিশনার হিসেবেঃ

ত্বকের পাশাপাশি চুলের যত্নে ও সমান কার্যকরী জলপাই তেল। শ্যাম্পু করার পর হাতের তালুতে কয়েক ফোঁটা জলপাই তেল নিয়ে ভালোভাবে দুই হাতে ঘষে ফেলুন। তারপর চুলে কন্ডিশনারের বদলে লাগিয়ে ফেলুন।

আশা করি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জেনে আপনাদের উপকার হবে।এবং বাস্তব জীবনে জয়তুন তেলের উপকারিতা এর প্রয়োগ ঘটাতে পারবেন।

Photo Credit: pixabay.com

Categories
উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ ফলের উপকারিতা

আপেল সিডার ভিনেগারের উপকারিতা ও অপকারিতা

আসসালামু আলাইকুম,আজকে আমরা জানবো আপেল সিডার ভিনেগারের উপকারিতা ও অপকারিতা নিয়ে।

আপেল সিডার  ভিনের নিয়ে আমাদের সবারই কম বেশি ধারণা রয়েছে।আপেল সিডার ভিনেগার বা সিডার ভিনেগার হল ভেজানো আপেলের রস থেকে তৈরি ভিনেগার এবং এইটি সালাদ ড্রেসিংস, মেরিনেডস, ভিনেগারাইটস, ফুড প্রিজারভেটিভস এবং সসগুলিতে ব্যবহৃত হয়। এটি আপেল পিষে তৈরি করা হয়, তারপরে রস বার করা হয়।

আপেল সিডার ভিনেগারের পুষ্টিগুণঃ

১।আপেল সিডার ভিনেগার ৯৪% পানি,
২।১% কার্বোহাইড্রেট
৩। কোনও ফ্যাট বা প্রোটিন নেই।

আপেল সিডার ভিনেগারের উপকারিতাঃ

১।রান্নার কাজেঃ

রান্নায় ব্যবহৃত হয় আপেল সিডার ভিনেগার।মাংসের স্টেককে আরো সুস্বাদু করতে এটি জনপ্রিয় উপাদান। এটি মাংসে চমৎকার মিষ্টি এবং টক স্বাদ তৈরি করে।

২।স্বাস্থ্যের জন্যঃ

আপেল সিডার ভিনিগারের ক্ষেত্রে আপেলের রসে ইস্ট ও ব্যাকটিরিয়া মিশিয়ে তাকে প্রস্তুত করা হয়। স্বাস্থ্যকর নানা কারণে এই ভিনিগারকে ডায়েটে রাখার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরাও।ভিনেগার ব্যাকটিরিয়া মারতে সক্ষম বলে ডায়রিয়া সমস্যায় বিশেষ উপকারী। এক-দু’ চা চামচ ভিনেগার এক গ্লাস গরম পানিতে মিশিয়ে খেলে উপকার মিলবে।

৩।ডায়বেটিস রোগীর জন্যঃ

ডায়াবেটিসের সমস্যায় এই ভিনেগার উপকারী। মূলত ইনসুলিন তৈরি করতে না পারা বা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্টের কারণেই রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়ে। খাওয়ার আধ ঘণ্টা আগে এক গ্লাস পানিতে এক চামচ আপেল সিডার মিশিয়ে খেলে রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকে।

আরো পড়ুন: মাজু ফলের উপকারিতা ও অপকারিতা

৪।গলাব্যথার জন্যঃ

গলাব্যথার ক্ষেত্রে আধ কাপ ঈষদুষ্ণ পানিতে দু’চামচ আপেল সিডার ভিনেগার ও মধু মিশিয়ে গার্গল করলে আরাম পাবেন অনেকটা।

৫।হজমের সমস্যার দূর করার জন্যঃ

হজমের সমস্যাতে মেটাতেও এই ভিনেগার খুব কার্যকর। গরম পানিতে এক চামচ আপেল সিডার ভিনেগারে বদহজম থেকে মুক্তি মেলে সহজেই।

৬।চুলের যত্নে 

শ্যাম্পু করার পর চুল ধুয়ে নিন আপেল সিডার ভিনেগার মেশানো পানি দিয়ে। কন্ডিশনারের সমান উপকার পাবেন। চুল নরম হবে, ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতির জন্য খুশকির সমস্যাও কমবে দ্রুত।

৭। কোলেস্টেরল এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতেঃ

খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে ও ভাল কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে আপেল সিডার ভিনেগার খুবই উপকারী। রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়লে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে।

আপেল সিডার ভিনেগার কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।

৮।ক্ষতস্থান পরিষ্কার করার জন্যঃ

নখের ছত্রাক, আঁচিল, উকুন, কানের ইনফেকশন উপশম করতেও এ ভিনেগার ব্যবহার করা যায়। কয়েক হাজার বছর আগে ক্ষতস্থান পরিষ্কার করার জন্য ভিনেগার ব্যবহার করা হয়।

৯।খাবার সংরক্ষণ করার জন্য 

খাবার সংরক্ষণ করতেও ব্যবহার করা হয় ভিনেগার। এতে খাবারে ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাক জন্মায় না। প্রাকৃতিকভাবে খাবার সংরক্ষণ করতে চাইলে ব্যবহার করতে পারেন আপেল সিডার ভিনেগার।

১০।ব্রণ দূর করার জন্যঃ

ব্রণসহ ত্বকে ব্যাকটেরিয়াজনিত বিভিন্ন সমস্যা নিরসনে এ ভিনেগার খুব কাজের। (আপেল সিডার ভিনেগারের উপকারিতা ও অপকারিতা )

১১।শেভিং লোশন হিসেবেঃ

ছেলেরা এটিকে আফটার শেভ হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। সমপরিমাণ পানি এবং অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার নিয়ে বোতলে ভরে রাখুন। শেভ করার পর দিন।

১২।ত্বকের যত্নেঃ

প্রতিদিন ত্বকে একে ব্যবহার করলে ত্বকে কোন মরা কোষ থাকে না, ত্বক উজ্জ্বল হয়, বলিরেখা দূর করে, স্কিনের PH-এর সমতা রক্ষা করে, লোমকূপ ছোট করে, মুখে ব্যাকটেরিয়ার প্রকোপ কমে যায়।

১৩।ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতেঃ

আপেল সিডার ভিনেগার ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়- বিভিন্ন গবেষণায় প্রায়শই এমন দাবি করা হয়ে থাকে।

আরো পড়ুন: তরমুজের উপকারিতা ও অপকারিতা

১৪।কিট পতঙ্গ ধমনেেঃ

আপেল সিডার ভিনেগার ঘরের কিট পতঙ্গ মারার ফাঁদ হিসেবে খুব সহজে ব্যবহার করা যায়। একটি কাপে আপেল সিডার ভিনেগার ঢালুন এবং তাতে কয়েক ফোটা বাসন পরিস্কার করার সাবান মিশিয়ে দিন। এরপর এটাতে পোকা পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই মারা যাবে।

১৫।ফলমূল ফরমালিন মুক্ত করতেঃ

কিনে আনা ফলমূলে কীটনাশক পদার্থ থাকতে পারে। এছাড়া ফরমালিনের মতো বিষাক্ত পদার্থও থাকতে পারে। এজন্য অনেকে এসব ফলমূল বা শাক-সবজি বিষমুক্ত করতে আপেল সিডার ভিনেগার দিয়ে ধৌত করে।

১৬।খুশকি দূর করতেঃ

হালকা পানি ও ভিনেগার মিশিয়ে তা দিয়ে মাথা মাসাজ করলে খুশকি কমার সম্ভাবণা রয়েছে।

১৭।মশা মাছি দূর করার জন্যঃ

দুইভাগের একভাগে পানি এবং এক ভাগে আপেল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে সারা ঘরে স্প্রে করলে মশা মাছি দূরে থাকবে।

১৯।গলা পরিষ্কার করার জন্যঃ

গলার স্বর ভেঙ্গে গেলে তা ঠিক করতে আপেল সিডার ভিনেগারের ব্যবহার একটি জনপ্রিয় ঘরোয়া পদ্ধতি।

আপেল সিডার ভিনেগারের অপকারিতাঃ

১।বুকজ্বালা ও এসিডিটির সমস্যা তৈরি করে:

খুব বেশি পরিমাণ ভিনেগার খেলে গলা জ্বলতে পারে। অ্যাপল সাইডার ভিনেগার যেহেতু ডিটক্সিফায়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয় তাই কিছু মানুষের ক্ষেত্রে বুক জ্বালাপোড়া করা, ডায়রিয়া বা বদ হজমের সমস্যা হতে পারে।

২।দাঁতের এনামেলকে দুর্বল করে দেয়

যেহেতু অ্যাপল সাইডার ভিনেগারে উচ্চমাত্রার এসিডিক উপাদান থাকে সেহেতু এটি খুব ঘন ঘন ব্যবহার করলে দাঁতের এনামেলকে দুর্বল করে দিতে পারে

৩।খাবার হজমে অস্বাভাবিকতাঃ

পানিতে না মিশিয়ে সরাসরি ভিনেগার খাওয়া কখনোই উচিত নয়। এ ভিনেগার রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখে, এটা ঠিক।

কিন্তু অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে খাবার হজম হতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় লাগে। ফলে দেখা দিতে পারে ক্ষুধামন্দা।

আরো পড়ুন: ফিটকিরির উপকারিতা ও অপকারিতা

৪।ঔষধের মিথস্ক্রিয়া

ডায়াবেটিস ও অন্য বেশকিছু রোগের ওষুধের সঙ্গে ভিনেগার খেলে উপকারের চেয়ে অপকার বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

৩। রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা এবং হাড়ের ঘনত্ব কমায়:

অ্যাপল সাইডার ভিনেগার অতিরিক্ত সেবন করলে রক্তের পটাশিয়ামের মাত্রা কমে যায় যাকে হাইপোক্যালেমিয়া বলে এবং হাড়ের ঘনত্ব ও কমে যায়।

৬।অন্যান্য সমস্যাঃ

এছাড়াও কারো কারো ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অ্যাপল সাইডার ভিনেগার গ্রহণের ফলে বমি বমি ভাব, মাথাব্যথা, চুলকানি, মাড়িতে জ্বলুনি ও পেটেব্যথার মত সমস্যাগুলো হতে পারে।

এছাড়াও বিরল ক্ষেত্রে মুখ ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট ও ত্বক লাল হয়ে যাওয়া বা র‍্যাশের সমস্যা হতে পারে।

জেনে রাখা ভালো,

তবে দিনে বড় চামচের দু’চামচ বেশি আপেল সিডার খাবেন না, খেলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নেবেন। এ ছাড়া যখনই এই ভিনিগার খাবেন, তা অবশ্যই পানির সঙ্গে মিশিয়ে পাতলা করে ফেলতে হবে।

আশা করি আপেল সিডার ভিনেগারের উপকারিতা এবং অপকারিতা সম্পর্কে জেনে সবার বাস্তব জীবনে প্রয়োগ ঘটাতে সুবিধা হবে।