Categories
উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ পাতার উপকারিতা ভেষজ উদ্ভিদের উপকারিতা

পাথরকুচি পাতার উপকারিতা

পাথরকুচি পাতার উপকারিতা: চিকিৎসার ক্ষেত্রে যেসব ঔষধি গাছ প্রাচীনকাল থেকে ব্যবহার হয়ে আসছে তার মধ্যে পাথরকুচি অন্যতম। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, পাথরকুচি পাতা কিডনি রোগসহ বিভিন্ন রোগের বিশেষ উপকারে আসে। চলুন জেনে নিই পাথরকুচি পাতার ঔষধি গুণাগুণ সম্পর্কে।

পাথরকুচি পাতার উপকারিতা (kalanchoe pinnata benefits) :

 কিডনির পাথর অপসারণ:

পাথরকুচি পাতা কিডনি এবং গলগণ্ডের পাথর অপসারণ করতে সাহায্য করে।

পেট ফাঁপা:

অনেক সময় দেখা যায় পেট ফুলে গেছে, প্রস্রাব আটকে আছে। সে ক্ষেত্রে একটু চিনির সাথে এক বা দুই চা-চামচ পাথরকুচির পাতার রস গরম করে পানির সঙ্গে মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যাবে।

আরো পড়ুন: কারিপাতার উপকারিতা

মৃগী:

মৃগী রোগাক্রান্ত সময়ে পাথরকুচির পাতার রস ২-১০ ফোঁটা করে মুখে দিতে হবে। একটু পেটে গেলেই রোগের উপশম হবে।

শিশুদের পেট ব্যথায়:

শিশুর পেটব্যথা হলে, ৩০-৬০ ফোঁটা পাথরকুচির পাতার রস পেটে মালিশ করলে ব্যথার উপশম হয়।

ত্বকের যত্ন:

পাথরকুচি পাতায় প্রচুর পরিমাণে পানি থাকে যা ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। সাথে সাথেই এর মধ্যে জ্বালাপোড়া কমানোর ক্ষমতা থাকে।

কাটাছেঁড়ায়:

টাটকা পাতা পরিমাণ মত হালকা তাপে গরম করে কাটা বা থেতলে যাওয়া স্থানে সেক দিলে আরাম পাওয়া যায়।

পাইলস:

পাথরকুচি পাতার রসের সাথে গোল মরিচ মিশিয়ে পান করলে পাইলস্ ও অর্শ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

জন্ডিস নিরাময়ে:

লিভারের যেকোনো সমস্যা থেকে রক্ষা করতে তাজা পাথরকুচি পাতা ও এর জুস অনেক উপকারী।

শরীর জ্বালাপোড়া:

দু-চামচ পাথরকুচি পাতার রস, আধা কাপ গরম পানিতে মিশিয়ে দুবেলা খেলে উপশম হয়।

আরো পড়ুন:বেল পাতার উপকারিতা

উচ্চ রক্তচাপ:

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে এবং মূত্রথলির সমস্যা থেকে পাথরকুচি পাতা মুক্তি দেয়।।

কলেরা, ডাইরিয়া বা রক্ত আমাশয়:

তিন মিলিলিটার পাথরকুচি পাতার জুসের সাথে ৩ গ্রাম জিরা এবং ৬ গ্রাম ঘি মিশিয়ে কয়েক দিন খেলে এসব রোগ থেকে উপকার পাওয়া যায়।

পোকা কামড়:

বিষাক্ত পোকায় কামড়ালে এই পাতার রস আগুনে সেঁকে লাগালে উপকার পাওয়া যায়।

উচ্চ রক্তচাপ:

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে এবং মুত্রথলির সমস্যা থেকে পাথরকুচি পাতা মুক্তি দেয়।

আরো পড়ুন: পুদিনা পাতার উপকারিতা

সর্দি:

সর্দি পুরান হয়ে গেছে, সেই ক্ষেত্রে এটি বিশেষ উপকারী। পাথরকুচি পাতা রস করে সেটাকে একটু গরম করতে হবে এবং গরম অবস্থায় তার সাথে একটু সোহাগার খৈ মেশাতে হবে। তিন চা-চামচের সাথে ২৫০ মিলিগ্রাম যেন হয়। তা থেকে দুই চা চামচ নিয়ে সকালে ও বিকালে দুবার খেলে পুরান সর্দি সেরে যাবে এবং সর্বদা কাশি থেকে রেহাই পাওয়া যাবে।

Categories
উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ পাতার উপকারিতা

বেল পাতার উপকারিতা

বেল পাতার উপকারিতা: গোলগাল একটি ফল। কাঁচা থাকতে সবুজ আর পাকলেই হলদে। শক্ত খোসার এই ফলটি শারীরিক বিভিন্ন রোগের দাওয়াই হিসেবে বিবেচিত।

বেলে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন পুষ্টিগুণ। তবে জানেন কি? বেল ফলের মতো এর পাতা ও খুব উপকারী।

বেল পাতার উপকারিতা:

যে নারীরা স্তন্যপান করান, তাদের শরীরে দুধের উৎপাদন বাড়াতে বেল পাতার রস খুব উপকারী।

পেট ব্যথা, গ্যাস, ডায়রিয়া এবং পেট খারাপের সমস্যা থেকেও মুক্তি দেয়। কারো এ ধরনের সমস্যা থাকলে সপ্তাহে দুই থেকে তিনটি বেল পাতার রস খেলে মুক্তি মিলবে।

বেল পাতার রস রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমায়। সেই সঙ্গে নানা রোগ প্রতিরোধ করে।

শরীরের ইনসুলিন এবং গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে বেল পাতার রস। এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী।

আরো পড়ুন: পুদিনা পাতার উপকারিতা

মধু ও গোল মরিচের সঙ্গে বেল পাতার রস মিশিয়ে খেলে জন্ডিস দ্রুত ভালো হয়।

হাত ও পা ফুলে গেলে বেল পাতার রস মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খেলে খুব দ্রুত ভালো হয়ে যায়।

ভিটামিন সি-এর অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়ে থাকে। বেল পাতার রস খেলে এ ধরনের রোগ থেকে মুক্তি মিলবে।

বেলের শরবৎ শরীর ঠাণ্ডা করে প্রচণ্ড গরমে নাক থেকে রক্তপাত হলে এই ফলের শরবত ওষুধ হিসেবে খাওয়ানো হয়।

বেলে ল্যাকসটেভি বৈশিষ্ট্যি রয়েছে যার ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য, পেটে ব্যথা বা হজমের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

বেলে বিটা-ক্যারোটনি থাকে যা যকৃতকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

আরো পড়ুন: থানকুনি পাতার উপকারিতা

ভটিামনি সি-এর পরিপূরক হওয়ায় এটি শরীরের অনাক্রম্যতাও বাড়ায়। কিডনির স্বাস্থ্যের জন্যও বেল বেশ র্কাযকরী ফল।

পিরিয়ডের সময় বেশি রক্তপাত হলে বেলপাতা খেলে উপকার হয়।

Categories
উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ পাতার উপকারিতা

পুদিনা পাতার উপকারিতা – জানা জরুরি

পুদিনা পাতার উপকারিতা: গ্রীস্মকালে পুদিনা পাতা বাজারে খুব দেখা যায়। খাবার যেমনি সুস্বাদু করে তুলে, তেমনি আবার এর অনেক ঔষধি গুণও রয়েছে। আদি-অনাদিকাল থেকেই এর গুণ নিয়ে চর্চা হয়েছে এবং বইয়ে এর বিষয়ে লেখাও আছে।

পুদিনা পাতার উপকারিতা:

শ্বাসের কষ্টে উপকারী

শ্বাস কষ্ট রোগীদের জন্য পুদিনা পাতা এক আশীর্বাদের মতই বলা চলে। পুদিনা পাতা ঠান্ডা হয়, তাই শ্বাস প্রণালী পরিষ্কার করে। তবে মনে রাখবেন অত্যাধিক মাত্রায় পুদিনা পাতা খাবেন না।

সর্দি-কাশির থেকে রেহাই দেয়

ঠান্ডা লেগেছে, শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে, নাক বন্ধ? পুদিনা ব্যবহার করুন। তাই তো আপনার সকল ভেপো-রাব পুদিনার ফ্লেভারে আসে। পুদিনা পাতা ঠান্ডা হয়, তাই শ্বাস প্রণালী পরিষ্কার করে।

 মাথা ব্যথার উপচার

পুদিনা পাতার শীতলতা মাথা ব্যথা চটকরে ভালো করে দেই। ‘হিলিং ফুডস’ বইয়ের মতে পুদিনা পাতা মাথা ব্যথায় উপকার দেয়। যেকোনো পুদিনা বেস তেল মাথায় লাগালে অনেকটা আরাম পাওয়া যায়।

মুখের স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো

মুখের দুর্গন্ধ? মুখে সেই গন্ধ নিয়ে তো কোথাও কোনো মিটিং বা সাক্ষাৎকারে দেখা করতে পারবেন না। তাই পুদিনা পাতা বা এই পাতার স্বাদের কোনো চিউইং গাম চীবলে আপনার মুখের দুর্গন্ধ হ্রাস পায়ে। সাথেই এই মুখের দাগও পরিষ্কার করে দন্ত স্বাস্থ্য ভালো করে দেয়।

আরো পড়ুন: শাহী দানার উপকারিতা

এছাড়াও পুদিনা পাতার অনেক গুণ, যেমন ওজন কম করা, ত্বকের জন্য ভালো, উত্তম এন্টিসেপটিক. তাই এবার চাটনি খান বা পুদিনা পাতার স্মুদি, খাবারে পুদিনা পাতা নিশ্চই যোগ করুন। তথ্যসূত্র এনডিটিভি বাংলা।

পুদিনার আরো কিছু উপকারিতা:

  • গরমে ত্বকের জ্বালাপোড়া ও ফুসকুরি সমস্যায় কয়েকটি পুদিনার পাতা চটকে গোসলের জলতে মিশিয়ে স্নান করলে ভালো কাজ হয়।
  • মুখের দুর্গন্ধ দুর করতে পুদিনা পাতা জলের সাথে মিশিয়ে কুলি করুন।উপকার পাবেন।
  • পুদিনা পাতা হজম শক্তি বাড়ায়,মুখের অরুচি ও গ্যাসের সমস্যা দুর করে, কর্মক্ষমতা বৃদ্বি করে ও শরীর ঠান্ডা রাখে।
  • পুদিনা পাতার চা শরীরের ব্যাথা দুর করতে খুবই উপকারি।
  • মাইগ্রেনের ব্যাথা দুর করতে নাকের কাছে টাটকা পুদিনা পাতা ধরুন।এর গন্ধ মাথাব্যাথা সারাতে খুবই উপকারি।
  • কোন ব্যাক্তি হঠাত করে অগ্গান হয়ে গেলে তার নাকের কাছে পুদিনা পাতা ধরুন।সেন্স ফিরে আসবে।
  • অনবরত হেচকি উঠলে পুদিনা পাতার সাথে গোলমরিচ পিষে ছেকে নিয়ে রসটুকু পান করুন।কিছুক্ষনের মধ্যেই হেচকি বন্ধ হয়ে যাবে।
  • গোলাপ, পুদিনা, আমলা, বাঁধাকপি ও শশার নির্যাস একসঙ্গে মিশিয়ে টোনার তৈরি করে মুখে লাগালে তা ত্বককে মসৃণ করে তোলে।
  • পুদিনাপাতা পুড়িয়ে ছাই দিয়ে মাজন বানিয়ে দাত মাজলে মাড়ি থাকবে সুস্থ, দাত হবে শক্ত ও মজবুত।
  • দীর্ঘদিন রোগে ভুগলে বা কোষ্ঠ্যকাঠিন্য থাকলে অনেক সময় অরুচি হয়।এক্ষেত্রে পুদিনা পাতার রস ২ চা চামচ,কাগজি লেবুর রস ৮-১০ ফোটা,লবণ হালকা গরম জলতে মিশিয়ে সকাল বিকাল ২ বেলা খান।এভাবে ৪-৫ দিন খেলে অরুচি দুর হয়ে যাবে।
আরো পড়ুন: থানকুনি পাতার উপকারিতা
  • তাত্ক্ষনিকভাবে ক্লান্তি দুর করতে পুদিনা পাতার রস ও লেবুর রস মিশিয়ে পান করুন। ক্লান্তি নিমিষেই দুর হয়ে যাবে।
  • কফ দুর করতে পুদিনা পাতার রস,তুলসী পাতার রস,আদার রস ও মধু একসাথে মিশিয়ে খান। পুরোনো কফ দুর করতেও এই মিশ্রণ অতুলনীয়।
  • সুস্থ হার্টের জন্য পুদিনা পাতা অনেক উপকারী। এটি রক্তে কলেস্টরেল জমতে বাধা প্রদান করে। ফলে হার্ট থাকে সুস্থ।
  • যেকোনো কারনে পেটে গ্যাস জমে গেলে পুদিনা পাতা কার্যকরী ভুমিকা পালন করে। পুদিনার রস ২ চা চামচ, সামান্য লবন, কাগজী লেবুর রস ৮/১০ ফোঁটা, হালকা গরম জলর সাথে মিশিয়ে সারাদিন ২-৩ বার খেলে পেটে গ্যাস ভাব কমে আসে।
  • পুদিনা পাতার রস উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত পুদিনা পাতার রস খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে থাকে।
  • মেয়েদের অনিয়মিত পিরিয়ডের যন্ত্রণা থেকে সেরে ওঠার জন্য পুদিনা পাতা বেশ উপকারী।
  • যাদের হজমশক্তি কম তারা পুদিনার শরবত ও চাটনি খেলে উপকার পাবেন।
  • পাতলা পায়খানা হলে পুদিনাপাতা বেশ উপকারী।
  • হঠাত্‍ সানস্ট্রোক করলে পুদিনার শরবত খেলে উপকার পাবেন।
  • পুদিনাপাতার সালাদ খেলে পেটে গ্যাস হয় না হজম হয়।
  • পুদিনা মেয়েদের রক্তশূন্যতা পূরণ করে।
  • মায়ের বুকে দুধ বাড়ে।
  • মাইগ্রেন বা আধকপালে মাথা ধরায় পুদিনাপাতা বেটে মাথায় লাগালে মাথাব্যথা ভালো হয়।
  • যাদের বুক ধড়ফড় করে তারা পুদিনাপাতা খেলে উপকার হবে। সূত্র:ডি.আই.ই
আরো পড়ুন: কারিপাতার উপকারিতা

Photo Credit: Pixabay

Categories
উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ পাতার উপকারিতা

থানকুনি পাতার উপকারিতা – জানা জরুরি

থানকুনি পাতার উপকারিতা: থানকুনি আদামনি, ঢোলামানি, থুলকুড়ি, মানামনি, ধূলাবেগুন, আদাগুণগুণি ইত্যাদি নামে পরিচিত। আয়ুর্বেদের মতে থানকুনি রসায়ন গুণসম্পন্ন। আয়ুর্বেদে এটি ত্বাষ্ট্র নামে পরিচিত। থানকুনি পাতায় রয়েছে অ্যামাইনো এসিড, বিটা ক্যারোটিন, ফ্যাটি এসিড ও ফাইটোকেমিকাল। জেনে নিন থানকুনি পাতার ৯ টি জাদুকরী উপকারিতা।

আসুন জেনে নেই থানকুনি পাতার উপকারিতা:

১. বেগুন/পেঁপের সাথে থানকুনি পাতা মিশিয়ে রান্না করে এক মাস খেলে হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়।

২. থানকুনি পাতার রস ১ চামচ ও শিউলি পাতার রস ১ চামচ মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে খেলে জ্বর প্রতিরোধ করবে।

৩. অল্প পরিমাণ আম গাছের ছাল, আনারসের কচি পাতা ১টি, কাঁচা হলুদের রস, ৪/৫ টি থানকুনি গাছের শিকড়সহ ভালো করে ধুয়ে একত্রে বেটে রস করে খালি পেটে খেলে পেটের অসুখ ভালো হয়। ছোট বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এটা বেশি কার্যকর।

৪. আধা কেজি দুধে ২৫০ গ্রাম মিশ্রি ও ১৭৫ গ্রাম থানকুনি পাতার রস একত্রে মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে ১ সপ্তাহ খেলে গ্যাস্ট্রিক ভালো হয়।

৫. ২ চামচ থানকুনির রস সামান্য চিনিসহ খেলে সঙ্গে সঙ্গে খুসখুসে কাশিতে উপকার পাওয়া যায়। ১ সপ্তাহ খেলে পুরোপুরি ভালো হয়ে যাবে।

৬. প্রতিদিন সকালে খালিপেটে ৪ চা চামচ থানকুনি পাতার রস ও ১ চা চামচ মধু মিশিয়ে ৭ দিন খেলে রক্তদূষণ দূর হয়।

আরো পড়ুন: ঘি এর উপকারিতা

৭. যেসব বাচ্চা কথা বলতে দেরি করে অথবা অস্পষ্ট, সে ক্ষেত্রে ১ চামচ করে থানকুনি পাতার রস গরম করে ঠাণ্ডা হলে ২০/২৫ ফোঁটা মধু মিশিয়ে ঠাণ্ডা দুধের সাথে কিছুদিন খাওয়ালে উপকার পাওয়া যায়।

৮. প্রতিদিন সকালে ৫/৭টি থানকুনি পাতা চিবিয়ে ৭ দিন খেলে আমাশয় ভালো হয়। থানকুনি পাতা বেটে পাতার রসের সাথে চিনি মিশিয়ে দুই চামচ দিনে দুই বার খেলে আমাশয় ভালো হয়।

৯. থানকুনি পাতা বেটে গরম ভাতের সাথে খেলে পেটব্যথা ভালো হয়।

১০. প্রতিদিন সকালে থানকুনির রস ১ চামচ, ৫/৬ ফোঁটা হলুদের রস সামান্য চিনি ও মধুসহ ১ মাস খেলে লিভারের সমস্যা ভালো হয়।

১১. যদি মুখ মলিন হয়, লাবণ্যতা কমে যায় তবে ৫-৬ চা চামচ থানকুনি পাতার রস দুধ দিয়ে খেতে হবে। নিয়মিত করলে উপকার পাবেন।

১২. কোথাও থেঁতলে গেলে থানকুনি গাছ বেটে অল্প গরম করে আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে প্রলেপ দিলে উপকার পাবেন।

আরো পড়ুন: তালমাখনার উপকারিতা

১৩. থানকুনি পাতা বেটে ঘিয়ের সঙ্গে জ্বাল দিয়ে ঠাণ্ডা করে তা ক্ষত স্থানে লাগালে উপকার পাওয়া যায়।

১৪. অপুষ্টি ও ভিটামিনের অভাবে চুল পড়ে গেলে পুষ্টিকর ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবারের পাশাপাশি ৫-৬ চা চামচ থানকুনি পাতার রস দুধের সঙ্গে মিশিয়ে খেতে হবে।

১৫. ২ চামচ থানকুনি পাতার রসের সঙ্গে অল্প করে চিনি মিশিয়ে খেলে সঙ্গে সঙ্গে কাশি কমে যায়। আর যদি এক সপ্তাহ খেতে পারেন, তাহলে তো কথাই নেই। সেক্ষেত্রে কাশির কোনও চিহ্নই থাকবে না।

১৬. মলের সঙ্গে শ্লেষ্মা গেলে, মল পরিষ্কারভাবে না হলে, পেটে গ্যাস হলে, কোনো কোনো সময় মাথা ধরা এসব ক্ষেত্রে ৩-৪ চা চামচ থানকুনি পাতার গরম রস ও সমপরিমাণ গরুর কাঁচা দুধ মিশিয়ে খেতে হবে। নিয়মিত খেলে উপকার পাবেন।

১৭. ঠাণ্ডায় নাক বন্ধ হলে, সর্দি হলে থানকুনির শিকড় ও ডাটার মিহি গুঁড়ার নস্যি নিলে উপকার পাওয়া যায়।

আরো পড়ুন: মৌরির উপকারিতা

Photo Credit: Pixabay     

সূত্র :অনলাইন

Categories
উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ পাতার উপকারিতা

কারিপাতার উপকারিতা – জানা জরুরি

কারিপাতার উপকারিতা: অনেকেই খাবারে মসলা হিসেবে কারি পাতা ব্যবহার করেন। নিম পাতার মতো দেখতে এ পাতা মিষ্টি নিম কিংবা বারসুঙ্গা নামেও পরিচিত। এর পাতা ভারতীয় উপমহাদেশে অনেক ধরনের রান্নায় ব্যবহার করা হয়। প্রায়শই ঝোল জাতীয় রান্নায় ব্যবহার করা হয় বলে সাধারণত একে ‘কারি পাতা’ বলা হয়।

কারিপাতার উপকারিতা:

চুল পড়া কমায়:

প্রতিদিন সকালে খালিপেটে এক গ্লাস পানি পানের কয়েক মিনিট পরে টাটকা কয়েকটা কারিপাতা চিবিয়ে খান। এর আধঘণ্টা পর সকালের নাস্তা করুন। কারিপাতা ভিটামিন সি, ফসফরাস, আয়রন, ক্যালসিয়াম ও নিকোটিনিক অ্যাসিডে সমৃদ্ধ। এই পাতা এভাবে নিয়মিত খেলে চুল পড়া কমবে।

আরো পড়ুন: ঘি এর উপকারিতা

হজম ক্ষমতা বাড়ায়:

খালি পেটে কারিপাতা খেলে হজমশক্তি বাড়ে। এই পাতা হজমে সাহায্যকারী এনজাইমকে উদ্দীপিত করে ও ভালো রাখে অন্ত্র। আর হজম হলেই কোষ্ঠকাঠিন্য কমবে।

মর্নিং সিকনেস, বমিভাব কমায়:

কারিপাতা মর্নিং সিকনেস, বমি বমি ভাব কমাতে সাহায্য করে।

অতিরিক্ত ওজন কমায়:

কাঁচাকারি পাতা চিবোলে ওজন কমে, হজমশক্তি বাড়ে, ডিটক্সিফিকেশন হয় ও ভাল কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ে।

আরো পড়ুন: তালমাখনার উপকারিতা

দৃষ্টিশক্তি বাড়ে:

কারিপাতা বিভিন্ন রান্নায় ব্যবহার করতে পারেন। এটি দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে, ওজন হ্রাস করতে এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

Categories
উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ পাতার উপকারিতা ভেষজ উদ্ভিদের উপকারিতা

কালমেঘ পাতার উপকারিতা – Jana Joruri

কালমেঘ পাতার উপকারিতা: কালমেঘ একটি ভেষজ উদ্ভিদ। কালমেঘের গড় উচ্চতা ১ মিটার। অল্প পরিমাণে বিক্ষিপ্ত গুচ্ছে ফুল ফোটে। দেড় থেকে দু মিটার লম্বা হয়ে থাকে। শিকড় ব্যতীত কালমেঘ গাছটির সব অংশ ঔষধের কাজে লাগে। কালমেঘের স্বাদ অত্যন্ত  তেতো ও পুষ্টিকর। এটি মানবদেহের  রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা  বৃদ্ধি করে। জ্বর, কৃমি, আমাশয়, সাধারণ শারীরিক দুর্বলতা দূর করে। কালমেঘের বিভিন্ন ধরনের উপকারিতা রয়েছে তা এখন আমরা জানব।

কালমেঘ পাতার উপকারিতা :

জ্বর, সর্দি, কাশি :

কালমেঘ পাতা বিভিন্ন ধরনের রোগ সারাতে সাহায্য করে। তার ভেতর জ্বর, সর্দি, কাশি, গলা ব্যাথা, গলা বসে যাওয়া, ইত্যাদি ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার হয়ে থাকে। কালমেঘের পাতার রস যেকোন রকম ঠান্ডা লাগা জনিত রোগ খুব তাড়াতাতিড় সারিয়ে তুলতে সাহায্য করে।

আর্থারাইটিস ও গাউট :

কালমেষ পাতা আর্থা্রাইটিস ও গাউট এর ওষুধ হিসেবে ও ব্যবহৃত হয়। ১৫-২০ টি কালমেঘ পাতা বেটে রস করে প্রতিদিন খেলে আর্থারাইটিস বা গাউট এর সমস্যা থেকে আপনি চিরতরে মুক্তি পাবেন।

লিভার :

কালমেঘের পাতায় লিভারের সমস্ত রকমের রোগ নিরাময় হয়ে থাকে। লিভার কোন কারণে খারাপ হয়ে থাকলে কালমেঘের পাতা এর পরিশোধক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। আমাদের খাদ্যাভাস বা ফল ও সবজিতে ব্যবহৃত পেস্টিসাইড এর কারণে লিভার খারাপ হয়। এই সমস্যার সমাধান পেতে হলে কালমেষের পাতা নিয়মিত সেবন করতে হবে।

ক্যান্সার নিরাময়ের ক্ষেত্রে অত্যন্ত্য উপকারী হচ্ছে কালমেঘ। কালমেঘের ঔষধি গুণ আমাদের শরীরে ক্যান্সার এর কোষ বৃদ্ধি রোধ করতে সাহায্য করে থাকে। এটি ক্যান্সার এর  ঔষুধ হিসেবে ও ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

ডায়াবেটিস :

কালমেঘ পাতা ডায়াবেটিস এর  গুরুত্বপূন্য ওষুধ। এটি আমাদের শরীরের ব্লাড সুগার এর পরিমাণ কম রাখতে সাহায্য করে থাকে। এটি সেবনে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে।

আরো পড়ুন: পেয়ারার পাতার উপকারিতা

কালমেঘ পাতার ভেষজ গুণ:


ক্রিমি:

  1. কালমেঘের পাতার রস ৩০/৩৫ ফোটার
  2. সঙ্গে ,৩০/৩৫ ফোটা কাঁচা হলুদের রস
  3. একসঙ্গে মিশিয়ে অল্প চিনি দিয়ে সকালে ও বিকেলে খাওয়াতে হয়।
  4. ক্রিমি দূর হবে।

রক্ত আমাশয়:

  1. কালমেঘ পাতার রস ১৫ ফোটা
  2. তার সঙ্গে ১৫০ মিলিগ্রাম মেথিচূর্ণ মিশিয়ে
  3. সকালে ও বিকেলে ২ দিন খেলেই রক্ত আমাশয় সেরে যাই।

দূষিত জ্বরে:

  1. কালমেঘ পাতার রস ১৫/২০ ফোটা
  2. তার সঙ্গে অল্প জল মিশিয়ে
  3. সারাদিনে ২/৩ বার করে ৩ দিন খাওয়াতে হবে।
  4. তাহলে শরীরের দূষিত জ্বর জ্বালা অবশ্যই কমবে
  5. রোগী অবশ্যই সম্পূর্ণভাবে আরোগ্যের পথে যাবে।

পচা ক্ষতে:

শরীরের কোনো জায়গায় ঘা হয়ে পচতে থাকলে কালমেঘ পাতা সিদ্ধ করে সেই জল দিয়ে ক্ষতস্থান পরিষ্কার করতে হয়। সারাদিনে ২/৩ বার করা ভালো। পচা ক্ষত অবশ্যই দূর হবে।

আরো পড়ুন: পান পাতার উপকারিতা
Categories
উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ পাতার উপকারিতা

পান পাতার উপকারিতা – Jana Joruri

পান পাতার উপকারিতা: পান পাতা কে না চেনে? পান পাতা খুবই সাধারণ ও রোজকার জীবনে ব্যবহৃত একটি পাতা, কিন্তু এই পানের গুণ যে এতটাই বেশি এর জুড়ি মেলা ভার। ভারতবর্ষ ও চীন মিলিয়ে এই পান পাতা প্রায় ১০০ ধরণের চাষ হয়। পান পাতায় রয়েছে এমন কিছু উপাদান যা ডায়বেটিস, দাঁতের সমস্যা ও ক্যান্সারের বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে শরীরকে সুস্থ রাখতে পারে।

আসুন বিস্তারিত ভাবে দেখে নেওয়া যাক পানের উপকারিতা সম্পর্কে:

পান পাতার পুষ্টিগুন:

প্রতি ১০০ গ্রাম পান পাতায়
পুষ্টি পুষ্টিগত মান (%)
জল ৮৫-৯০%
প্রোটিন ৩-৩.৫%
ফ্যাট ০.৪-১.০%
মিনারেল ২.৩- ৩.৩%
ফাইবার ২.৩%
ক্লোরোফিল ০.০১-.২৫%
কার্বোহাইড্রেট ০.৫-৬.১০%
নিকোটিনিক অ্যাসিড ০.৬৩- ০.৮৯ মিলিগ্রাম
ভিটামিন সি ০.০০৫- .০১%
ভিটামিন এ ১.৯-২.৯ মিলিগ্রাম
থায়ামিন ১০- ৭০ মাইক্রো গ্রাম
রাইবোফ্ল্যাভিন ১.৯- ৩০ মাইক্রো গ্রাম
ট্যানিন ০.১- ১.৩%
নাইট্রোজেন ২.০- ৭.০%
ফসফরাস .০৫-০.৬%
পটাসিয়াম ১.১- ৪.৬%
ক্যালসিয়াম ০.২- ০.৫%
আয়রন ০.০০৫- .০০৭%
আয়োডিন ৩.৫৪ মাইক্রো গ্রাম
এসেনশিয়াল অয়েল ০.০৮- ০.২%
 ক্যালোরি ২২ ক্যালোরি 

পান পাতার উপকারিতা:


সর্দি ও কাশি সারাতে:

নানা পৌরাণিক ঔষধি তথ্যে পাওয়া গিয়েছে যে সর্দি ও ঠান্ডা লেগে নাক বন্ধ হয়ে গেলে সর্ষের তেলে পান পাতা চুবিয়ে রেখে তা গরম করে বুকে মালিশ করলে ফুসফুসে বসে যাওয়া কফ নিয়ন্ত্রণ করা যায় । এছাড়া পান পাতার রস মধুর সাথে মিশিয়ে বাচ্চাদের খাওয়ালে তরল কফ একেবারে কমে । ব্রঙ্কাইটিস মেটাতেও এই পান পাতা উপকারী। পান পাতা দিয়ে তৈরী এসেনশিয়াল অয়েল এক্ষেত্রে সমান ভূমিকা পালন করে থাকে ।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ:

লাল রঙের পান পাতা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমাতে দারুন উপকারী। এতে রয়েছে ট্যানিন নামে এক সক্রিয় মলিকিউল যাতে অ্যান্টি-ডায়াবেটিক উপাদান থাকে। এছাড়া পান পাতায় থাকা অ্যালকালয়েড রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে তা অন্ত্রে শোষণ করতে সাহায্য করে । পান পাতায় রয়েছে নানা ধরণের পলিফেলন যা অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর এবং অগ্নাশয়ের কোষগুলিকে বর্জ্য পদার্থ মুক্ত করতে সাহায্য করে। এছাড়া আমাদের ভারতবর্ষে অনেকেরই প্রতিদিন পান খাওয়ার অভ্যেস থাকে। দেখা গিয়েছে যে এদের ক্ষেত্রে ডায়াবেটিসের মাত্রা বেশ নিয়ন্ত্রণে থাকে

দাঁতের স্বাস্থ্যের জন্যে:

ঠিক যেমন শরীরে ট্যাটু করা হয়, তেমনি দক্ষিণ পূর্ব এশিয়াতে দাঁত লাল করা একটি প্রথা। এর ফলে দাঁতের নানারকমের সংক্রমণ ও পীড়া দূর করা যায় । পান পাতা চিবোলে খুব প্রাকৃতিক উপায় দ্বারা দাঁত লাল করা যায়। পান পাতায়  রয়েছে ক্যাটেকোলামাইন যা মুখের ক্যান্সার রোধ করে

হজম ক্ষমতা বাড়াতে:

খাওয়া দাওয়া হয়ে গেলে অনেকেই পান খেয়ে থাকে যার মূল উদ্দেশ্য হল খাবার হজম করা। পান পাতায় থাকা বিভিন্ন অ্যান্টি -মাইক্রোবিয়াল উপাদান  যা অম্বল, গ্যাস ও কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে। ফলে হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এক্ষেত্রে পান পাতার উপকারিতা অনস্বীকার্য ।

আরো পড়ুন: পেয়ারার পাতার উপকারিতা

ক্ষুধাভাব বাড়ায়:

হজম ক্ষমতা বাড়লে ও কোষ্ঠকাঠিন্য  কমে গেলে স্বাভাবিক ভাবেই খাওয়ার ইচ্ছে শক্তি ও খাবারের প্রতি ভালোবাসা বেড়ে যাবে। ফলে সারাদিন ধরে যে পেট ভাড়, পেট জ্বালা বা অম্বল গ্যাসের সমস্যা সেগুলি কেটে যায়।          

মুখের আলসার কমাতে:

পান পাতায় রয়েছে অ্যান্টি-ফাঙ্গাল ও অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল উপাদান যা দাঁত ও মাড়ি সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। এর ফলে মুখে আলসার বা ঘা হলে কমে যায় । শুধু তাই নয়, আলসারের ফলে যে মুখে দুর্গন্ধ হয়ে থাকে তা পান পাতার সাহায্যে দূর করা যায় কারণ পান পাতা দারুন একটি প্রাকৃতিক মাউথ ফ্রেশনারের মত কাজ করে। পানের রস ও গরম জলের সাহায্যে রোজ কুলকুচি করলে মাড়ির রক্তপাত সমস্যা দূর হয় ।

শরীরের দুর্গন্ধ দূর করে:

শরীরের দুর্গন্ধ দূর করতে পানের উপকারিতা অনেকটাই বলা যেতে পারে। এই পাতা শরীরের    দুর্গন্ধ দূর করা সুগন্ধি অর্থাৎ ডিওড্রেন্টের কাজ করতে পারে। প্রতিদিন স্নান করার আগে জলে পান পাতা চুবিয়ে সেই জল দিয়ে স্নান করুন। দেখবেন স্বাভাবিকভাবেই শরীরের দুর্গন্ধ ও ঘামের গন্ধ দূর হয়ে যাবে । মহিলাদের মাসিক হলে যে শরীরের গন্ধ হয় সেটিও কমে যায়।

ক্যান্সার রোধ করে:

পান পাতায় রয়েছে প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, অ্যান্টি-মিউটাজেনিক ও অ্যান্টি-ক্যান্সার উপাদান যা ক্যান্সার রোধ করতে সক্ষম বলে জানা গেছে । এমনকি, যাদের ধূমপান করার নেশা থাকে, তারা পান পাতার সাহায্যে এই নেশা ছাড়াতে পারেন।

ওজন কমাতে সাহায্য করে:

খাওয়ার পর পান পাতা খেলে হজম শক্তি বাড়ে ও বিপাক ক্রিয়া বৃদ্ধি পায়। এর ফলে আপনার পেট পরিষ্কার থাকে যা ওজন কমানোর জন্যে খুবই প্রয়োজনীয়। এছাড়া পান পাতার রস আপনার অতিরিক্ত ক্ষুধাভাব কমিয়ে সঠিক মাত্রায় খাবার গ্রহণ করার ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এতে অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ করা থেকে আপনি নিজেকে দূরে রাখতে পারেন ।

গ্যাস্ট্রিক কমাতে সাহায্য করে:

গ্যাস্ট্রিক বা পেটের আলসার কমাতে পানের উপকারিতা অনেক । অম্বল, গ্যাস বা কোষ্টকাঠিন্য জাতীয় সমস্যা যত রোধ করা যাবে, ততই আপনার গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূরে থাকবে। পান পাতার অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ব্যাক্টিরিয়াল উপাদান গ্যাস্ট্রিক কমাতে ওষুধের মত কাজ করে।

কেটে যাওয়া বা ঘা কমাতে:

শরীরে কোথাও কেটে গেলে বা ঘা হলে অনেক সময় তা ঠিক হতে সময় লাগে। বিশেষ করে যাদের ডায়বেটিস আছে তাদের ক্ষেত্রে এটি বেশি দেখা যায়। পান পাতা এই ক্ষেত্রে দারুন ভূমিকা নেয় ।

ব্রণ দূর করে ( পান পাতার উপকারিতা ):

পান পাতায় থাকা অ্যান্টি-ফাঙ্গাল ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান ব্রণ বা ব্রণ হওয়ার ফলে ত্বকে যে দাগ ছোপ পড়ে সেটি সহজে সারিয়ে তুলে ত্বককে কোমল ও মোলায়েম করে তুলতে সাহায্য করে । ভাল ফল পেতে হলে এই পাতার রসে একটু মধু ও দই মিশিয়ে রোজ লাগিয়ে ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। খুব শীঘ্রই ফল পাবেন।

পান পাতার ব্যবহার:

এই পাতা নানারকম ভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

  • এই পাতা ব্যবহার করার সব থেকে সহজ উপায় হল তা কাঁচা অবস্থায় অল্প সুপুরি ও চুনের সাথে চিবিয়ে খাওয়া। অর্থাৎ প্রত্যেক দিন খাওয়ার পর একবার করে যদি এটি খেতে পারেন, তাহলে সব রকম দিক থেকে পান পাতার গুনাগুণ আপনি বুঝতে পারবেন।
  • পুজোর সময় পান পাতা ব্যবহার করার রীতি বহু বছর ধরে চলে আসছে। বাজারে আপনি অনায়াসে এই পান পাতা কিনতে পারবেন।
  • স্নান করার আগে অল্প গরম জলে কয়েকটি পান পাতা ভিজিয়ে রেখে সেই জল দিয়ে স্নান করলে প্রাকৃতিক সুগন্ধির মতো ব্যবহার করতে পারবেন। এর ফলে ঘামের দুর্গন্ধ দূর হয়ে যাবে।
  • পান পাতার রস একটুখানি লবঙ্গ বা লেবুর সাথে মিশিয়ে দাঁত মাজলে নানারকম দাঁতের ও মাড়ির সমস্যা দূর হয়ে যাবে।
  •  গরম জলে পান পাতার রস মিশিয়ে গার্গেল করলে গলা ব্যাথা দূর হয়।
  • পান পাতার রস, মধু ও দই এর সাথে মিশিয়ে মুখে লাগালে ত্বক পরিষ্কার হয়।

পান পাতার অপকারিতা:

আপনি যখন পান পাতা চিবিয়ে খান তখন তার থেকে ক্যাটেকোলামাইন বলে একটি কেমিক্যাল নিঃস্বরণ হয় যা চুন ও সুপুরির সাথে মিশে নানা রকমের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া করে
নিচে দেখে নিন কি কি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়ে থাকে:

আরো পড়ুন: শিউলি পাতার উপকারিতা
  • পান পাতায় থাকা সাইকো অ্যাকটিভ উপাদান যা আপনার কেন্দ্রীয় স্নায়তন্ত্র বা সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেমকে( Central nervous system) ক্ষতি করতে পারে ।
  • অতিরিক্ত পান পাতা খেলে মুখে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ।
  • গর্ভাবস্থায় বা শিশুদের বেড়ে ওঠার সময় পান পাতা বিশেষ ভাবে ক্ষতিকারক বলে প্রমাণিত হয়েছে।
  •  পান পাতা খাওয়ার নেশা হয়ে গেলে হঠাৎ করে পান পাতা ছাড়লে নানারকমের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায় ।

তবে যাই হোক না কেন, নির্দিষ্ট ও সঠিকভাবে ব্যবহার করলে পান পাতার উপকারিতা আপনি নিশ্চয়ই বুঝতে পাবেন। সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকেও এর প্রয়োজন প্রচুর। অল্প পরিমানে খেলে বরং আপনার দাঁত, ত্বক, স্বাস্থ্য ইত্যাদির উপকারই হবে। তাই পানের গুণ সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান থাকা জরুরি। তবে প্রতিদিন খাওয়ার আগে একবার আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নিতে ভুলবেন না।

আরো পড়ুন: কুলেখাড়া পাতার উপকারিতা

আমাদের এই পোস্ট কেমন লাগলো তা অবশ্যই জানান কমেন্টের মাধ্যমে। সঙ্গে পান পাতা সম্পর্কে আরো কিছু তথ্য জানা থাকলে সেটিও আমাদের জানান।

Categories
উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ পাতার উপকারিতা

শিউলি পাতার উপকারিতা

শিউলি পাতার উপকারিতা: শিউলি ফুল প্রত্যেক মানুষের কাছে খুব প্রিয়। বিশেষত, বাঙালির কাছে তো খুবই প্রিয়।শিউলি গাছ ও পাতার মধ্যে আছে বহু গুণাগুণ। যা, আমাদের শারীরিক উপকারে লাগে।

জেনে নিই শিউলি পাতার উপকারিতা সম্পর্কে :

কাশি কমায়:

  • শিউলি পাতার স্বাদ খুবই তিতকুটে হয়ে থাকে।
  • এ পাতার রস সেবনে কাশির সমস্যা কমে।

বাতের ব্যথা সারায়:

  • অনেকেরই বাতের ব্যথা রয়েছে।
  • তারা প্রতিদিন সকালে এক কাপ পানিতে দুটি শিউলি পাতা ও দুটি তুলসি পাতা ফুটিয়ে ছেঁকে পান করতে পারেন।
  • এতে উপকার মিলবে।
আরো পড়ুন: পেয়ারার পাতার উপকারিতা

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে:

  • গবেষণা অনুযায়ী, রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধে কাজ করে শিউলি পাতার রস।
  • এই পাতায় রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটারি উপাদান।
  • এই দুটি উপাদান রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।

ঠান্ডাজনিত সমস্যা কমায়:

  • ঠান্ডাজনিত সমস্যায় ভুগলে খেতে পারেন শিউলি পাতার রস।
  • নিয়মিত ২ চামচ পরিমাণ পাতার রস হালকা গরম খেলে এই সমস্যায় উপকার পাবেন।

কৃমির সমস্যা দূর করে:

  • কৃমির সমস্যা সমাধানে দারুণ কাজ করে শিউলি পাতা।
  • এছাড়া এই গাছের ছাল চূর্ণ করে সকালে ও বিকালে গরম পানিতে মিশিয়ে খেলে দেহের বাড়তি মেদও কমে।

শিউলিপ্রেমী হলেও, এর পাতার উপকারিতা সম্পর্কে হয়তো তেমন জানা ছিল না আপনার। এখন থেকে তবে উপকারী এই পাতা কাজে লাগান।

আরো পড়ুন: কুলেখাড়া পাতার উপকারিতা
Categories
উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ পাতার উপকারিতা

পেয়ারা পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা

আসসালামু আলাইকুম। আজকে আমরা জানবো পেয়ারা পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা নিয়ে।

বেশিরভাগ মানুষই পেয়ারা খেতে পচ্ছন্দ করেন, পেয়ারায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে, তবে পেয়ারার পাতার মধ্যেও যে লুকিয়ে আছে অনেক গুণাগুণ তা কি আমরা সবাই জানি।

চলুন জেনে নিই, পেয়ারা পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা:

পেয়ারার পাতার উপকারিতা :

পেটের সমস্যা দূর করে:

পেয়ারা পাতার মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধকারী উপাদান আছে যেগুলি পেটের মধ্যে আরো শক্তিশালী করে তোলে এর ফলে জীবাণু বৃদ্ধি পায় না। যার ফলে আমাদের মাঝে মধ্যে পেটের নানা সমস্যা যেমন – ডায়রিয়া, বদহজম কিংবা হজমে গোলমাল ইত্যাদি আর দেখা দেয় না।

ক্যান্সার প্রতিরোধ করে:

পেয়ারা পাতার মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যেগুলি স্তন ক্যান্সার, জরায়ু ক্যান্সার এমনকি মুখের ক্যান্সারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই। একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে জরায়ুর মধ্যে ক্যান্সার বৃদ্ধির জন্য যা দায়ী সেটিকে প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে পেয়ারা পাতার রস।

সর্দি কাশি সারিয়ে তোলে:

আবহাওয়া পরিবর্তনের সময় আমরা অনেকেই খুশখুশে কাশি কিংবা সর্দিতে ভুগে থাকি।

পেয়ারা পাতার রস খেলে সেই সকল সমস্যাগুলো দূর হয়ে যায় কারণেই পাতার মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি আয়রন যেগুলি মিউকাস ক্ষরণে প্রতিরোধ করে।

আরো পড়ুন: কুলেখাড়া পাতার উপকারিতা
 মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া:

যাদের মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া সমস্যা রয়েছে সেই সকল ব্যক্তিরা পেয়ারা পাতা চিবিয়ে খান তাহলে অনেকটাই আরাম পাবেন এবং মুখের যাবতীয় সমস্যাগুলি দূর হয়ে যাবে।

 চুল পড়া বন্ধ:

স্নান করার ঠিক ঘন্টাখানেক আগে পেয়ারা পাতার রস গরম জলে ফুটিয়ে চুলের মধ্যে লাগালে চুল পড়া সমস্যা অনেকটাই কমে যায়। এমনকি খুশকির সমস্যাও দূর হয়ে যায়।

নতুন চুল গজাতে যেভাবে ব্যবহার করবেন পেয়ার পাতা:
  • একটি পাত্রে পানি নিয়ে তাতে বেশ কয়েকটা পেয়ারা পাতা দিন।
  • ২০ মিনিট ধরে ওই পানি ফুটিয়ে নিন ৷
  • পানি ফুটে গেলে পেয়ারা পাতার কাৎ তৈরি হবে ৷
  • ঠাণ্ডা করে তা চুলে ও স্কাল্পে লাগিয়ে নিন ৷
  • দুই থেকে তিন ঘণ্টা মাথায় রাখুন ৷
  • রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে পেয়ারার কাৎ মাথায় মাখলে কার্যকরী ফল পাওয়া যাবে।
মস্তিষ্ক কে সুস্থ রাখে:

পেয়ারা পাতার মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি৩ এবং বি৬ যা আমাদের মস্তিষ্কের জন্য একটি অপরিহার্য উপাদান।

নিয়মিত পেয়ারা পাতার রস খাওয়া হলে মস্তিষ্কের মধ্যে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায় এবং আমাদের মনঃসংযোগ আরো ভালো হতে শুরু করে।

ব্রণ দূর করে:
  • যারা ব্রণের সমস্যায় ভুগে থাকেন তাদের জন্য পেয়ারা পাতা ভীষণ উপকারী।
  • কারণ এই পাতার মধ্যে থাকা ভিটামিন সি কমিয়ে দিতে সাহায্য করে এবং শুধু তাই নয় মুখের যাবতীয় কালচে কালচে দাগ বা ছোপ গুলোকেও দূর করে দেয়।
  • এটি লাগাবার নিয়ম হলো পেয়ারা পাতা ভালো করে পিষে সেই রস ওই আক্রান্ত স্থানের উপর প্রলেপ করুন।
  • দেখবেন কিছুদিনের মধ্যেই আপনার এই সমস্ত সমস্যাগুলি দূর হয়ে গেছে।
আরো পড়ুন: লবঙ্গের উপকারিতা ও অপকারিতা

পেয়ারা পাতার চায়ের উপকারিতা:

দাঁত ব্যথা:‌

পেয়ারা পাতার চা দাঁত ব্যথা, মাড়ি ফুলে যাওয়ার মতো রোগ সারাতে পারে। পাতা বাটা পেস্ট করে দাঁত মাজলেও উপকার পাবেন।

ওজন হ্রাস:‌ 

মানবদেহের জটিল শ্বেতসারকে ঝরাতে সাহায্য করে পেয়ারা পাতায় থাকা পুষ্টি উপাদান। তাই পেয়ারা পাতার রস বা চা খেতে পারেন।

ডায়াবেটিস (পেয়ারা পাতার চায়ের উপকারিতা):

পেয়ারা পাতাকে ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় ব্যবহার করা যায়।

খাওয়াদাওয়ার পর পেয়ারা পাতার চা খেলে রক্তের দু‌ই ‌ধরনের সুগার- সুক্রোজ এবং মেলাটোজ যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণে থাকে।

কোলেস্টেরল:‌

একটি গবেষণায় দেখা গেছে, পেয়ারা পাতার চা আট সপ্তাহ খেলে শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

ডায়রিয়া:

 এই রোগের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়াকে নির্মূল করার ক্ষমতা রাখে পেয়ার পাতার চা। সাধারণ পেটের ব্যথা কমাতেও এটা অতুলনীয়।

আরো পড়ুন: গ্রীন টি এর উপকারিতা

পেয়ারা পাতার অপকারিতা:

পেয়ারা পাতার উপকারিতা,পেয়ারা পাতা,
পেয়ারা পাতা
ব্যাকটেরিয়া:

পেয়ারার চামড়া ফাটা বা ক্ষতিগ্রস্থ থাকে তবে তাতে ব্যাক্টেরিয়ার দ্বারা সংক্রামিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তাই পেয়ারা উপরের চামড়া ফেলে দিয়ে খাওয়া বযাক্টেরিয়ার উপদ্রব থেকে রেহাই দিতে পারে।

পেট ফাপা:

পেয়ারা একটি উচ্চ ফ্রুক্টোজ সমৃধ ফল। অধিক পরিমাণে পেয়ারা খেলে এর খনিজ এই উপাদানটি আমাদের এবং সাথে কিছু ব্যাক্টেরিয়া মিলে পেটে গ্যাস উতপন্ন করে এবং পেট ফাপা অনুভূত হয়।

সুগার বৃদ্ধি:

অধিক পেয়ারা খেলে আপনার ব্লাড সুগার বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

ডাইরিয়া এবং পেটের পীড়া:

উচ্চ মাত্রার ফ্রুক্টজ হজম করতে না পারার কারনে অনেক সময় ডাইরিয়া এবং পেটব্যাথা হতে পারে।

এই ছিলো পেয়ারা পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা ভালো লাগলে ,অবশ্যই লাইক কমেন্ট শেয়ার করবেন।

Photo by parvej alam on Unsplash

সূত্র: অনলাইন