Categories
উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ শাক সবজির উপকারিতা

শীতের সবজির উপকারিতা ও গুনাগুন

শীতে সব রকমারী সবজির সমাহার। এই সবজির স্বাদ যেমন বেশি তেমনি এর রয়েছে নানা স্বাস্থ্যগুণও। শীতের সবজি খেলে নানা জটিল রোগ থেকে ভাল থাকা যায়। আবার এগুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ায়, যার ফলে রোগব্যাধি কাছে ঘেঁষতেও পারে না। এমনই বলছেন ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডায়েট এন্ড নিউট্রিশন কনসালটেন্ট পুষ্টিবিদ তাসনিম আশিক।

শীতের সবজির উপকারিতা ও গুনাগুন:

বাঁধাকপি:
বাঁধাকপি ভিটামিন কে এবং ভিটামিন সি-এর খুব ভালো একটি উত্‍স। সেই সঙ্গে এই সবজিতে রয়েছে প্রচুর ফাইবার। এই ফাইবার ওজন কমাতে সাহায্য করে। তবে পরিমিত তেল ব্যবহার করে তা রান্না করে খেতে হবে। ভিটামিন সি থাকায় তা এন্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং ত্বক সুন্দর রাখে। তবে যাদের ইউরিক এসিড এবং ক্রিয়েট্নিনের মাত্রা বেশি তাদের জন্য এই সবজি খেতে কিছুদিন নিষেধ করা হয়, তবে ইউরিক এসিড ও ক্রিয়েটিনিন স্বাভাবিক হয়ে গেলে অবশ্যই খেতে পারবেন।

ফুলকপি:
শীতের সবজির মূল আকর্ষণ কিন্তু ফুলকপি। এই আকর্ষণীয় সবজিটিতে আছে ভিটামিন কে, ভিটামিন সি, ভিটামিন বি৬, ম্যাগনিসিয়াম, ফসফরাস এবং পটাশিয়াম। যা আমাদের শরীরের মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের চাহিদা পূরণ করে থাকে। সেই সঙ্গে ফুলকপিতে রয়েছে কোলিন, যা গর্ভকালীন সময়ে খেলে গর্ভস্থ শিশুর ব্রেইন ডেভেলপমেন্ট ভালো হয়। এছাড়াও এতে রয়েছে এন্টি-ইনফ্লেমেটরি নিউট্রিয়েন্ট যা শরীরের প্রদাহজনিত সমস্যা দূর করে থাকে। তবে এই সবজিটি যাদের ইউরিক এসিড এবং ক্রিয়েটিনিন বেশি তারা এসব স্বাভাবিক মাত্রায় না আসা পর্যন্ত এড়িয়ে চলবেন।

গাজর:
প্রথমত গাজরের বিটা-ক্যারোটিন দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে। গাজর এমন একটি সবজি যা ত্বককে অনেক বেশি উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে। স্মৃতিশক্তি বাড়ায় ও রক্ত পরিস্কার রাখে গাজর।

টমেটো:
টমেটো কিন্তু শীতের সবজি, তবে সারাবছরই পাওয়া যায়। তবে শীতের টমেটোর স্বাদই আলাদা। এই টমেটোতে রয়েছে থায়ামিন ও রাইবোফ্লাভিন। যা স্নায়ুতন্ত্রের বিভিন্ন ধরনের গ্রন্থি ও পরিপাকতন্ত্রের সুস্থতা রক্ষা করে থাকে। এটি ক্যান্সার প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে থাকে। অস্ট্রিওম্যালেয়শিয়া, অস্ট্রিওপোরোসিসের মতো রোগের ঝুঁকি কমাতেও সাহায্য করে টমেটো।

ব্রকলি:
সবুজ রঙের ফুলকপির মতো দেখতে এই সবজিটির নাম ব্রকলি। এর রয়েছে শক্তিশালী কিছু এন্টিঅক্সিডেন্ট, যা ক্যান্সার প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। ব্রকলিতে রয়েছে ক্যালসিয়াম, যা হাড়ের সুস্থতা প্রদান করে থাকে। মানুষিক চাপ কমাতেও সাহায্য করে থাকে এই সবজি এবং এতে রয়েছে প্রচুর ফাইবার, যা কোলেস্টেরল কমিয়ে থাকে।

শালগম:
শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে শালগম। রক্তস্বল্পতা বা এনিমিয়ার সমস্যা দূর করতে দারুন কার্যকর এই সবজি। শুধু তাই নয়, আরথ্রাইটিসের সমস্যাও দূর করে থাকে শালগম।

পেঁয়াজকলি:
খুবই সুস্বাদু একটি পাতা এটি যা তরকারি, সবজি বা ভাজি এবং সালাদের স্বাদ বাড়তে সাহায্য করে। এটি শরীরের ব্যাথা দূর করতে সাহায্য করে থাকে। কোন ইনফেকশন দূর করতে সাহায্য করে। রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করে, হজমশক্তি ভালো রাখে এবং হার্ট সুস্থ্য রাখতেও সাহায্য করে পেঁয়াজকলি।

শীতের সবজির উপকারিতা | পুষ্টিবিদএর মতে, এসব সবজি যদি অনেক বেশি তেলে অর্থাত্‍ প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেলে অনেকক্ষণ কষিয়ে রান্না করা হয় তবে তা ওজন আরও বৃদ্ধি করে থাকে। এজন্য কম তেল ব্যবহার করে সতেজ সবজিগুলো সব মসলা মাখিয়ে জল দিয়ে ঢেকে রান্না করা যায়, কিংবা ভাব দিয়ে বাগারের মাধ্যমে রান্না করা গেলে তা হবে বেশি স্বাস্থ্যসম্মত।

Photo by FitNish Media on Unsplash

Categories
উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ খাবারের উপকারিতা

লেবুর আচার খাওয়ার উপকারিতা ও গুনাগুন

বাঙালির খাবারগুলি তার স্বাদ এবং গন্ধের জন্য পরিচিত। বেশিরভাগ মশলা খাবারে স্বাদ এবং গন্ধ যুক্ত করতে ব্যবহৃত হয়। খাবারটি যদি মশলাদার না হয় তবে আপনি তা আচারের সহ খেতে পারেন।
পুষ্টিবিদ রুজুতা দিবাকর একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টে আচার সম্পর্কিত অস্বাস্থ্যকর প্রাচীন পুরাণটি প্রকাশ করেছেন।

আচার নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন যে এগুলি ভিটামিন এ, ভিটামিন কে এবং প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়ায় সমৃদ্ধ। লেবু আচার স্বাস্থ্যকর বিকল্পগুলির মধ্যে একটি। লেবু আচার কেন আপনার ডায়েটের একটি অংশ হওয়া উচিত্‍ তা জানতে পেরে আপনি খুশি হবেন।

জেনে নিন,লেবুর আচার খাওয়ার উপকারিতা ও গুনাগুন:

রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে :

সুস্থ জীবনের জন্য ভাল রক্ত ​​প্রবাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রক্ত প্রবাহে ওঠানামা কম বেশি রক্তচাপের কারনে হতে পারে তাই উভয় অবস্থাই বিপজ্জনক। আপনার ডায়েটে অল্প পরিমাণে লেবুর আচার অন্তর্ভুক্ত করা রক্তের প্রবাহকে উন্নত করতে সহায়তা করতে পারে। এটি তামা, পটাসিয়াম, আয়রন এবং ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ।

আপনার হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতি করে :

বিশেষত মহিলাদের মধ্যে হাড়গুলি বার্ধক্যের সাথে খারাপ হতে শুরু করে। ক্যালসিয়াম এবং আয়রনের অভাবে এটির জন্য ঘটে। ক্যালসিয়াম, ভিটামিন সি, এ, পটাসিয়াম সমৃদ্ধ খাবারের ব্যবহার আপনার হাড়কে সুস্থ রাখতে সহায়ক হতে পারে।

ইমিউন সিস্টেমকে স্বাস্থ্যকর রাখে :

মহামারীটি কীভাবে আমাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী রাখতে হয় তা শিখিয়েছে। পরিপূরক গ্রহণের পাশাপাশি প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী রাখার সর্বোত্তম উপায় হ’ল স্বাস্থ্যকর খাওয়া। লেবু আচার সহ অনেকগুলি খাবার রয়েছে যা আপনার প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি করতে সহায়তা করতে পারে।

হজমের সমস্যা দূরে রাখে:

লেবুর আচারে এমন এনজাইম রয়েছে যা শরীর থেকে টক্সিনগুলি সরিয়ে ফেলে। স্বাস্থ্যকর হজম ব্যবস্থা থাকা অনেক ক্ষেত্রে যেমন পিম্পলগুলি হ্রাস করা এবং ওজন হ্রাস প্রচারকে সহায়তা করে।

Image By: Youtube

Categories
উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ খাবারের উপকারিতা

সুস্থ থাকতে চাইলে খালি পেটে ডিম খান

খালি পেটে ডিম (egg)- একাধিক গবেষণায় একথা প্রমাণিত হয়ে গেছে যে সকাল উঠেই যদি একটা করে ডিম (egg)খাওয়া যায়, তাহলে শরীরের নানা উপকারে লাগে। সেই সঙ্গে যে যে মারণ রোগগুলি এখন দাপিয়ে বেরাচ্ছে, সেগুলির প্রকোপ কমতেও সময় লাগে না। তাই তো প্রতিদিন সকালে একটা করে ডিম (egg) খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিত্‍সকেরা। আসলে প্রোটিন এবং আরও নানা সব কার্যকরী উপাদানে ঠাসা এই খাবারটি শরীরে প্রবেশ করা মাত্র যে যে কাজগুলি করে থাকে, সেগুলি হল.

১. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটে:

বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে ডিমের (egg) অন্দের উপস্থিত সেলেনিয়াম দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে এতটা শক্তিশালী করে তোলে যে, কোনও ধরনের সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়, সেই সঙ্গে ছোট-বড় কোনও রোগই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না। প্রসঙ্গত, ব্রেকফাস্টে যদি একটার জায়গায় দুটো করে ডিম খাওয়া যায়, তাহলে বেশি উপকার মেলে।

২. নিমেষে ক্ষিদে কমে যায়:

ব্রেকফাস্টে দুটো ডিমের (egg) অমলেট বা পোচ খেয়ে দেখুন তো কী হয়! দেখবেন দুপুরের আগে ক্ষিদে পাওয়ার নামই নেবে না। তাই যাদের সকাল সকাল অফিসে বেরতে হয়, তারা ব্রেকফাস্ট না করার পরিবর্তে দুটো ডিম (egg)সেদ্ধ খেয়ে বেরিয়ে পরুন। তাহলেই দেখবেন কেল্লাফতে! এমনটা করলে শরীরের অন্দরে ভাঙন তো ঘটবেই না, উল্টে ক্ষিদের জ্বালা কমবে এবং পুষ্টির ঘাটতি দূর হবে।

৩. এনার্জির ঘাটতি দূর করে:

সকাল ঘুম থেকে ওঠার পর ঠিক কোনও জিনিসটার বেশি করে প্রয়োজন পরে বলুন তো? আরে মশাই এনার্জির! একেবারেই ঠিক। তাই তো দাঁত মাজার পর টপ করে একটা ডিম সেদ্ধ খেয়ে নিতে হবে। তাহলেই দেখবেন ক্লান্তি তো দূর হবেই, সেই সঙ্গে কর্মক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে। আসলে ডিমে (egg)উপস্থিত স্বাস্থ্যকর ফ্যাট এবং অন্যান্য পুষ্টিকর উপাদান নিমেষে দেহের প্রয়োজনীয় জ্বালানির চাহিদা পূরণ করে। ফলে শরীরের চনমনে হয়ে উঠতে একেবারে সময়ই লাগে না।

৪. দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটে:

ডিমে (egg)উপস্থিত অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, লুটিন এবং জিয়েক্সসেনথিন নামে বেশ কিছু উপকারি উপাদান দৃষ্টিশক্তির উন্নতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই সঙ্গে ছানি হওয়ার আশঙ্কাও কমায়। খালি পেটে ডিম .

৫. প্রোটিনের ঘাটতি দূর করে:

ডিমে (egg)উপস্থিত অ্যালবুমিন নামে এক ধরনের প্রোটিন পেশির গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই এনার্জি বৃদ্ধির পাশাপাশি শরীরের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্যও সকাল সকাল ডিম খাওয়াটা জরুরি। প্রসঙ্গত, যারা সকালে নিয়মিত শরীরচর্চা করেন, তারা ডিম খেতে ভুলবেন না যেন! এমনটা করলে দেখবেন একাধিক রোগ আপনার ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারবে না।

৬. মস্তিষ্কের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়:

বুদ্ধির জোর বারাতে কে না চায় বলুন! আপনিও যদি সেই দলে থাকেন, তাহলে কাল সকাল থেকেই ডিম খাওয়া শুরু করুন। আসলে ডিমে উপস্থিত বেশ কিছু পুষ্টিকর উপাদান মস্তিষ্কের ক্ষমতা মারাত্মক বাড়িয়ে দেয়। ফলে একদিকে যেমন বুদ্ধির বিকাশ ঘটে, তেমনি স্মৃতিশক্তি এবং মনোযোগও বৃদ্ধি পায়। প্রসঙ্গত, ডিমে কোলিন নামে একটি উপাদান থাকে, যা এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। খালি পেটে ডিম (egg).

৭. ওজন কমতে শুরু করে:

একেবারেই ঠিক শুনেছেন। ডিম (egg) খেলে ওজন বাড়ে না। বরং কমে! পেনিংটন বায়োমেডিকাল রিসার্চ সেন্টারের করা এক গবেষণায় একথা প্রমাণিত হয়ে গেছে যে সকাল সকাল ডিম খেলে দিনের অনেকটা সময় পর্যন্ত ক্ষিদে পায় না। ফলে খাওয়ার পরিমাণ কমতে শুরু করে। সেই সঙ্গে শরীরে মাত্রাতিরিক্ত ক্যালরি জমার সম্ভাবনাও হ্রাস পায়। ফলে স্বাভাবিকবাবেই ওজন কমতে শুরু করে। তাই যারা ওবেসিটির সমস্যায় ভুগছেন, তারা নিয়ম করে ব্রেকফাস্টে ডিম খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন উপকার পাবেন। প্রসঙ্গত, পোচ অথবা সেদ্ধ ডিম খাওয়ার চেষ্টা করবেন। তাতে বেশি উপকার পাওয়া যায়। খালি পেটে ডিম .

Categories
উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ শাক সবজির উপকারিতা

করলার তেতো চা: ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে পান করুন করলা চা

করলা আমাদের প্রিয় খাদ্য না হতে পারে, কিন্তু এর পুষ্টিগুণ সম্পর্কে আমরা সকলেই জানি। বিভিন্ন স্মুদি ও সবজির জুসের পুষ্টিগুণ বৃদ্ধির জন্য করলা মেশানো হয়ে থাকে। এটি রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, লিভার পরিষ্কার করে, ওজন নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে এই করলা। করলার উপকারিতা লাভের আরও একটি উপায় হল করলার তেতো চা পান করা।

জেনে নিন করলার তেতো চায়ের পুষ্টিগুণ:

শুকনো করলার টুকরাকে জলে ভিজিয়ে রেখে এই তেতো চা তৈরি হয় এবং ওষুধ হিসেবে বিক্রি হয়। এটি গুঁড়ো বা নির্যাস হিসেবেও বাজারে পাওয়া যায়। এই চা করলার পাতা, ফল এবং বীজ দিয়েও তৈরি করা যায়।

নীচে এর কিছু উপকারিতা দেওয়া হল।

  1. রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ:
    প্রাচীনকাল থেকেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে করলার ব্যবহার হয়ে আসছে। করলার চাও এতে উপযোগী।
  2. রক্তে কোলেস্টেরল কমাতে:
    এই চা রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
  3. লিভার পরিষ্কার রাখে:
    লিভার ডিটক্স করতে সাহায্য করে ফলে বদহজম রোধ করে।
  4. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে:
    এই চায়ে উপস্থিত ভিটামিন সি কোনো ইনফেকশনের হাত থেকে রক্ষা করে ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
  5. দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করে:
    করলা চায়ে উপস্থিত ভিটামিন এ চোখ ভালো রাখে।

করলার তেতো চা তৈরির পদ্ধতি:

সহজেই বানান করলার তেতো চা। কিছু পরিমাণ শুকনো বা তাজা করলার টুকরো, জল এবং মিষ্টির জন্য স্বাদ মতো মধু নিন। করলা গাছের পাতাও ব্যবহার করা যায়, তবে করলা সহজলভ্য তাই করলা ব্যবহার করুন। জল ফুটিয়ে নিন, তার মধ্যে শুকনো করলার টুকরো দিয়ে 10 মিনিট মাঝারি আঁচে ফোটান যাতে করলার সমস্ত পুষ্টিদ্রব্য জলে মিশে যায়। আঁচ থেকে নামিয়ে আরও কিছুক্ষণ ঢেকে রাখুন। এরপর কাপে চা ছেঁকে নিন এবং মিষ্টির জন্য মধু মেশান। আপনার করলার চা তৈরি। তবে রক্তে সুগার নিয়ন্ত্রণে এই চা খেলে মিষ্টি ব্যবহার করবেন না।

Categories
উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ খাবারের উপকারিতা

সিনকারা সিরাপ এর উপকারিতা

আসসালামু আলাইকুম, আজকে আমরা জানবো সিনকারা সিরাপ এর উপকারিতা ও অপকারিতা নিয়ে।

সিনকারা সিরাপটি হামদর্দ গ্রুপের একটি পণ্য। carmina syrup সিনকারাতে আছে বিভিন্ন ভিটামিন সমৃদ্ধ গাছ-গাছড়ার নির্যাস। যা হাজারো বছর ধরে শক্তির যোগান দান করে, উদ্দীপনা এবং স্নায়ু ও পেশীর বলবর্ধক হিসেবে প্রচুর ব্যবহৃত হয় এবং বর্ত মানেও ব্যবহার হয়ে আসছে। সিনকারা সম্পূর্ণ গাছ-গাছড়া দ্বারা তৈরী করা হয়। যা দ্রুত রক্তের সাথে মিশে দেহের বিভিন্ন অঙ্গের কোষে পৌঁছে যাওয়ার ক্ষমতা রাখে। সিনকারা সিরাপ বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত করে তার পরে বাজারজাত করা হয়েছে।সিনকারা পরিবারের সকলের জন্য সব ঋতুতে একটি আদর্শক শক্তিবর্ধক ওষুধ হিসাবে সেবন করা যায়।

সিনকারা সিরাপ এর উপকারিতা

প্রথমেই বলতে হয় ক্ষুধামন্দা নিয়ে, যাদের কোন খাবারের প্রতি রুচি নেই এবং কোন স্বাদ পান না তাদের জন্য সিনকারা বিশেষ ভাবে উপকার করে থাকে।

1/ প্রতিদিন আপনি নিয়ম করে সিনকারা সেবন করলে আপনি নিজেই খাবারের পিছনে দৌড়াতে থাকবেন এটা পরিক্ষীত।

2/ যাদের দেহে রক্তের প্রবাহ কম বা রক্তচাপ কম তাদের জন্য সিনকারা উপকারী।

3/ সিনকারাতে ব্যবহৃত হয়েছে বড় এলাচ, দারুচিনি, ধনিয়া, লবঙ্গ, গোলাপ, জটামাংসী ইত্যাদি যা গর্ভকালীন মায়েদের জন্য খুবই উপকারী।

4/ মেয়েদের মাসিকের পরে সিনকারা অত্যান্ত উপকারী যা, অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরনের পরে শরীর দূর্বল হয়ে পরে তখন সিনকারা শরীরে স্বাভাবিক শক্তি বা বল ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।

5/ যে সব মায়েরা শিশুকে স্তন্যদান করেন তাদের অনেকের মাঝে দেখা যায় শিশু ঠিকমত দুগ্ধ পাই না তাই সে সব মায়েদের সিনকারা সেবন করা উচিৎ কারন সিনকারা দুগ্ধ বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।

6/ সিনকারা এমন একটি ঔষধ যা শিশুর মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষ তৈরিতে সহায়তা করে থাকে।

7/ বিশেষ পরিক্ষাতে জানা গেছে, সাধারন বাচ্চাদের থেকে সিনকারা সেবন কারী বাচ্চার মেধা বিকাশ ৪৭ শতাংশ বেশি হয়।

8/ সিনকারাতে আছে প্রচুর জিংক যা শিশু ও গর্ভবতী মায়েদের জন্য আদর্শ একটি ঔষধ। তাই প্রতিটা গর্ভবতী মায়েদের নিয়মিত সিনকারা সেবন করা উচিৎ।

9/যাদের নিয়মিত ঘুম হয় না, ঘুম কম হবার কারনে মেধা শক্তি লোপ পাওয়া, মেজাজ খিটখিটে হয়ে থাকা, মানসিক দূর্বলতা থেকে মুক্তি পেতে সিনকারা সেবনের কোন জুড়ি নেই।

10/carmina syrup সিনকারা সেবনে রক্তাল্পতার রোগীদের হিমোগ্লোবিন ও আয়রণের মাত্রা কম থাকা সমস্যা থেকে সমাধান করতে সিনকারা ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

11/ ভারতের একটি গবেষণাতে দেখা গেছে সিনকারা ধুমপানের বিরুদ্ধে কাজ করে থাকে। যারা অতিরিক্ত ধুমপান করে থাকে তাদের নিয়মিত সিনকারা সেবনের ফলে ধুমপান অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব।

12/ বৃদ্ধদের হাতের কবজিতে ব্যাথা, পায়ের পাতা ফুলে ওঠলে সিনকারা সেবন করলে অনেক টা মুক্তি পাওয়া যায়। তাছাড়া বৃদ্ধদের বার্ধ্যক্য রোধে সিনকারা ভারতে প্রচুর পরিমানে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

আরো পড়ুন: ই ক্যাপ ৪০০ খাওয়ার উপকারিতা

সিনকারা সিরাপ খাওয়ার নিয়ম

৪৫০ মিলি সিনকারা সিরাপটি সকাল ও রাতে ২ চামচ করে ২২ দিন খাওয়ার পরামর্শ দেন এবং  প্রাপ্তবয়স্কদের সকাল ও রাতে ৩/৪ চামচ করে ১৫/১২  দিন খাওয়ার পরামর্শ দেন। সে ক্ষেত্রে আপনার বয়স আপনার ডাক্তার কে জানিয়ে দিন এবং সেবন বিধি জেনে নিন। হামদার্দ ডাক্তার

সিনকারা সিরাপ দাম

৪৫০মি.লি. সিনকারা সিরাপের বোতলের দাম ২০০ টাকা এবং ১০০মি.লি. এর দাম ৬০টাকা।

সিনকারা সিরাপ খেলে কি ক্ষতি হয়

সিনকারা খেলে কিডনির বা লিভার কোন প্রকার ক্ষতির সম্ভবনা নাই। বরং সিনকারা সিরাপ লিভারের শক্তিবর্ধক। নিশ্চিতে খেতে পারেন।

#সিনকারা সিরাপ খেলে কি মোটা হওয়া যায়

সিনকারা সিরাপ আসলে মোটা হওয়ার ওষুধ নয়|এটি হচ্ছে ভিটামিন সিরাপ|এটি সব ধরনের ভিটামিনের ঘাটতি পূরন করে|ফলে রোগা ও চিকন দেহ স্বাস্থ্যবান হওয়া স্বাভাবিক|সিনকারা খেলে দেহের অভাব পূরন হবে|ফলে দেহ কিছুটা স্বাস্থ্যবান হওয়া স্বাভাবিক| carmina syrup সিনকারার সাথে ভালো খাবার খান যেমন:- মাছ,মাংস,সবজি,দুধ,ডিম ও ফলমূল ইত্যাদি|দেখবেন দেহ স্বাস্থ্যবান ও মোটা দেখাবে|

সর্বশেষে:

উপরোক্ত বিষয় গুলো ছাড়াও সিনকারা হাজারো রোগের সমস্যা সমাধান করে থাকে, যেমন মাথা ঘোরা, শরীর দূর্বল, অতিরিক্তি হার্ট স্পন্দন, রক্তচাপ, ষ্ট্রোক সমস্যা, চোখে ঝাপসা দেখা, সমঋতি শক্তি বৃদ্ধি সহ নানা রকমের সমস্যা তে সিনকারা ব্যবহৃত হয়

Categories
উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ ফলের উপকারিতা

বরই এর উপকারিতা

আসসালামু আলাইকুম, আজকে আমরা জানবো বরই এর উপকারিতা নিয়ে।

বরই  শীতে ধরে। বরই গোলাকার, আকারে ছোট, কমবেশী ২.৫ সেন্টিমিটার। ফল পাকলে রঙ হলুদ থেকে লাল বর্ণ হয়। কাচা ও পাকা উভয় খাওয়া হয়। স্বাদ টক ও কাঁচামিঠা জাতীয়।

বরই এর পুষ্টিগুণ:

প্রতি ১০০ গ্রাম খাবার উপযোগী বরইয়ে রয়েছে

  • খাদ্যশক্তি ৭৯ কিলোক্যালরি
  • শর্করা ২০.২৩ গ্রাম
  • চর্বি ০.২ গ্রাম
  • আমিষ ১.২ গ্রাম
  • জলীয় অংশ ৭৭.৮৬ গ্রাম
  • ভিটামিন এ ৪০ আইইউ
  • থায়ামিন ০.০২ মিলিগ্রাম
  • রিবোফ্লাভিন ০.০৪ মিলিগ্রাম
  • নিয়াসিন ০.৯ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন বি৬ ০.০৮১ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন সি ৬৯ মিলিগ্রাম
  • ক্যালসিয়াম ২১ মিলিগ্রাম
  • আয়রন ০.৪৮ মিলিগ্রাম
  • ম্যাগনেসিয়াম ১০ মিলিগ্রাম
  • ম্যাংগানিজ ০.০৮৪ মিলিগ্রাম
  • ফসফরাস ২৩ মিলিগ্রাম
  • পটাশিয়াম ২৫০ মিলিগ্রাম
  • সোডিয়াম ৩ মিলিগ্রাম
  • জিংক ০.০৫ মিলিগ্রাম।

আরো পড়ুন: কাঠ লিচুর উপকারিতা

বরই এর উপকারিতা:

ক্যান্সার প্রতিরোধ:

বরই এর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান বিদ্যমান, যারা টিউমারের উপর সাইটোটক্সিক প্রভাব বিস্তার করে। যার ফলে শরীরে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

রক্ত পরিশুদ্ধি:

শুকনো বরই এর মধ্যে স্যাপোনিন, অ্যাল্কালয়েড এবং ট্রাইটারপেনয়েড উপাদান থাকে যারা রক্ত পরিশুদ্ধ করে এবং হজম প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে।

দুশ্চিন্তা:

এরা অবসাদ এবং দুশ্চিন্তা দুর করে।

আরো পড়ুন: এপ্রিকট ফলের উপকারিতা

দুশ্চিন্তা বা অনিদ্রা:

বরই এর শক্তিশালী কেমিক্যালগুলো অনিদ্রা এবং দুশ্চিন্তা কমিয়ে আনতে সাহায্য করে।

রোগ প্রতিরোধ:

এর ভিটামিন সি, এ, বি২, ফাইটোকেমিক্যাল ইত্যাদি পাওয়া যায় যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

লিভারের সুরক্ষা:

বরই এর মধ্যে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় এটি লিভারকে সুরক্ষা প্রদান করে।

হাড় মজবুত :

এই ফলে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন ইত্যাদি সহ আরো অনেক ভিটামিন ও মিনারেল পাওয়া যায় যা হাড় শক্ত ও মজবুত করতে সাহায্য করে।

রক্ত সঞ্চালন:

আয়রন ও ফসফরাস শরীরে রক্ত উৎপাদন এবং রক্ত সঞ্চালনের প্রক্রিয়া বৃদ্ধি করে।

আরো পড়ুন: মাল্টার উপকারিতা

এছাড়াও বিভিন্ন দেশে পেটের সমস্যা দূর করতে, মাংসপেশি শক্তিশালী করতে এই ফলের ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

সূত্র: সময় টিভি | Photo by Youbute

Categories
উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ খাবারের উপকারিতা

লাল চিনির উপকারিতা

আসসালামু আলাইকুম, আজকে আমরা জানবো লাল চিনির উপকারিতা নিয়ে।

লাল চিনি খাওয়ার উপকারিতা লাল চিনি একটি শর্করা জাতীয় খাদ্য যা আমাদের দেহের শক্তি জোগান দেয়।সারা বিশ্বে সাদা চিনিকে white poision (সাদা বিষ) বলে মন্তব্য করে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞগণ।  পক্ষান্তরে লাল চিনি (Brown Sugar) স্বাস্থ্যসম্মত বটেই উপকারি। লাল চিনি সরাসরি আখ থেকে তৈরি অপরিশোধিত চিনি। লাল চিনিতে থাকে আখের সব উপাদান।

লাল চিনির পুষ্টিগুণ:

  • ক্যালসিয়াম ১৬০.৩২ ভাগ ।
  • পটাশিয়াম ১৪২.৯ ভাগ
  • ফসফরাস ২.৫ থেকে ১০.৭৯ ভাগ
  • আয়রন 0.৪২ থেকে ৬ ভাগ
  • ম্যাগনেশিয়াম ১৫ থেকে ৩.৮৬ ভাগ
  • সোডিয়াম   0.৬ ভাগ
লাল চিনির ছবি:

Brown Sugar

লাল চিনির উপকারিতা:

১) প্রচুর মাত্রায় ক্যালসিয়াম থাকার কারণে লাল চিনি খেলে হাড় শক্তপোক্ত হয়। সেই সঙ্গে দাঁতের স্বাস্থ্যেরও উন্নতি ঘটে। ক্যাভিটি এবং ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন হওয়ার আশঙ্কাও দূর হয়।

২) আখের অ্যাটিঅক্সিডেন্ট ক্যান্সার প্রতিরোধ করে এবং শরীরের ভিতরে উপস্থিত ক্ষতিকর টক্সিক উপাদান বের করে দেয়।

৩) লিভার সুস্থ রাখে।

৪) জন্ডিসের প্রকোপ কমায়।

৫) কোষ্ঠকাঠিন্যে দূর করে।

৬) আখে থাকা অ্যালকেলাইন প্রপাটিজ গ্যাস-অম্বলের প্রকোপ কমাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

৭) শরীরের মিনারেল তথা খনিজ পদার্থের চাহিদা পূরণ করে মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহ স্বাভাবিক রাখে যা স্ট্রোক প্রতিরোধ করে।

৮) শরীরের ভিটামিনের চাহিদা পূরণ করে।

আরও পড়ুন: খেজুরের গুড়ের উপকারিতা

লাল চিনি কতটুকু খাবেন:

একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ও মহিলাকে তার সারা দিনের গৃহীত খাদ্যশক্তির ৬-১০ শতাংশ চিনি থেকে গ্রহণ করা উচিত। তবে পুষ্টিবিদের পরামর্শ ছাড়া বেশি চিনি গ্রহণ করা উচিত নয়।

লাল চিনির দাম কত:

১ কেজি চিনির দাম ৭০ টাকা।

লাল চিনি খাওয়ার উপকারিতা:

আরও পড়ুন: গুড়ের উপকারিতা

Photo by Mashed

Categories
উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ খাবারের উপকারিতা

খেজুরের গুড়ের উপকারিতা

আসসালামু আলাইকুম, আজকে আমরা জানবো খেজুরের গুড়ের উপকারিতা নিয়ে।

চলছে শৈত্যপ্রবাহ, শীতে কাঁপছে জনজীবন। ইতিমধ্যে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে খেজুরের গুড়সহ নানা ধরনের গুড়। শীতের ঐতিহ্যের একটি অংশ হলো খেজুরের রস এবং খেজুরের গুড়।

জেনে নেই, খেজুরের গুড়ের উপকারিতা

1.খেজুরের গুড় সর্দি-কাশিও তাড়ায়। সর্দি হলে একটু গুড় খেয়ে দেখুন।

2. খেজুরেরগুড় যেহেতু লিভার থেকে টক্সিন বের করে দেয়, সেই জন্য রক্তও সাফ থাকে।

3. গুড় কোষ্ঠ সাফ করে, রক্ত সাফ রাখে।

4. যাদের মেনস্ট্রুয়েশনের (পিরিয়ড) সময় পেটে ব্যথা হয়, তারা সেই সময়ে গুড় খেয়ে দেখতে পারেন। সঙ্গে সঙ্গে স্বস্তি পাবেন!

5. খেজুরের গুড় হিমোগ্লেবিনের সংখ্যা বাড়ায়! ফলে, রক্তাল্পতা রোধে এর বিকল্প নেই বললেই চলে!

6. গুড় শরীরের মিনারেলের ঘাটতি পূরণ করে। ১০ গ্রাম গুড় প্রায় ১৬ মিলিগ্রাম মিনারেলের জোগান দেয়!

7. খেজুরের গুড় সারা শরীর তো বটেই, বিশেষ করে স্টমাক ঠাণ্ডা রাখে। ফলে, কর্মক্ষমতা বাড়ে।

8. গুড়ে সোডিয়াম আর পটাসিয়াম থাকে, যা ব্লাড প্রেসারের ভারসাম্য বজায় রাখে!

9. গুড় যেহেতু শরীর ঠাণ্ডা রাখে, সেহেতু আপনা থেকেই শ্বাসকষ্টে স্বস্তি মেলে।

10. অ্যাজমা, ব্রঙ্কাইটিসের মতো অসুখে রোজ গুড় খেলে উপকার পাওয়া যায়।

11. গাঁটের ব্যথায় গুড় স্বস্তি এনে দেয়।

12. গুড় শরীর থেকে টক্সিন বের করার পাশাপাশি মেদ গলাতেও সাহায্য করে। ফলে, রোজ গুড় খেলে শরীর ঝরঝরে থাকে।

আরো পড়ুন:শালগমের উপকারিতা

Photo by Youtube

Categories
উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ শাক সবজির উপকারিতা

শিমের বিচির উপকারিতা

আসসালামু আলাইকুম, আজকে আমরা জানবো শিমের বিচির উপকারিতা নিয়ে।

অনেকেরই পছন্দের সবজির তালিকায় আছে শিমের নাম। এটি খুবই সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। শিম, শিমের বিচি এবং শিমের পাতাও শাক হিসেবে খাওয়া যায়।

শিমের বিচির পুষ্টিগুণ:

শিমের বিচিতে রয়েছে উচ্চমানের ফাইবার প্রোটিন, যা শরীরের জন্য খুবই প্রয়োজন। এতে কোনো কোলেস্টেরল নেই। এনার্জি বা শক্তির জন্য শিমে রয়েছে শতকরা ২০ ভাগ প্রোটিন ও উচ্চমাত্রার কার্বোহাইড্রেট।

আসুন জেনে নেই, শিমের বিচির উপকারিতা:

আমিষের ঘাটতি পূরণ:

আমিষের ঘাটতি হলে শিম ও শিমের বিচি খেলে তা পূরণ হয়। শীমের বিচি স্নেহ জাতীয় পদার্থ।

বমি ভাব:

শিমের বীজ খেলে অগ্নিমান্দ্য বমি ভাব কেটে যায়।

জ্বর নিরাময়ে:

শিমের বীজ বালিতে ভেজে , খোসা ছাড়িয়ে গুঁড়ো করে নিয়ে এক কাপ গরম পানিতে ভালোভাবে নেড়ে মিশিয়ে দিনে  ৩-৪ বার করে কয়েক দিন খেলে জ্বরের ঝিমুনি ও অরুচি ভাবে কেটে যায়।

আরো পড়ুন:শালগমের উপকারিতা

ক্যান্সার প্রতিরোধ :

সম্প্রতি এক গবেষণায় বলা হয় যে শিমের বিচি কোলন ক্যান্সারে সহায়ক কোলন অ্যাডেনোমার বিপরীতে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে থাকে।

হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য :

শিমের বিচিতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি উভয় উপাদানই রয়েছে যা হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণ করে।

স্বাস্থ্য উপযোগিতা :

কালো শিমের বিচি মানবদেহে রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণ করে এবং গ্লাইকোজেন সরবরাহ করে। দেহে কার্বোহাইড্রেট এবং প্রোটিনের মাত্রা ঠিক রাখে। এছাড়া হজমে সহায়তা করে।

আরো পড়ুন: শিমের উপকারিতা ও অপকারিতা

চর্বি নিয়ন্ত্রণ :

কালো শিমের বিচিতে মোটামুটিভাবে ২-৩ শতাংশ চর্বি রয়েছে তবে কোলেস্টরেল একেবারেই নেই। এটি শরীরের অতিরিক্ত ফ্যাট নিয়ন্ত্রণ করে থাকে এবং স্বাস্থ্যোপযোগি ফ্যাট প্রদান করে থাকে।

স্নায়ুতন্ত্রের স্বাস্থ্য :

শিমের বিচিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি৬ বা ফোলেট আছে। স্নায়ুতন্ত্রের স্বাস্থ্য এই উপাদানটির উপরে নির্ভরশীল যেটি শরীরে অ্যামিনো অ্যাসিড তৈরি করে কাজ সম্পাদন করে। গর্ভবতী মহিলঅদের জন্য এই খাবারটি অত্যন্ত উপকারী।

আরো পড়ুন: ওলের উপকারিতা

Photo by Youtube

Categories
উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ ফলের উপকারিতা

এপ্রিকট ফলের উপকারিতা

আসসালামু আলাইকুম, আজকে আমরা জানবো এপ্রিকট ফলের উপকারিতা নিয়ে।

এপ্রিকট (Apricot), বাংলায় একে খুবানি বলা হয়। হলদে-কমলা রংয়ের এই ফলটি দেখতে যেমন সুন্দর তেমন উচ্চ পুষ্টিমান সম্পন্ন।  এটি প্রধানত চীনে উৎপন্ন হত।

এপ্রিকট ফলের পুষ্টিগুণ:

এপ্রিকটে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন, প্রোটিন ও উপকারী ফ্যাট ভিটামিন-বি২ভিটামিন-বি৩ভিটামিন-এ এবং ভিটামিন-সি রয়েছে।

জেনে নেয়া যাক, এপ্রিকট ফলের উপকারিতা:

দৃষ্টি ক্ষমতা বাড়ায়:

এপ্রিকটে বিদ্যমান করোটিনয়েডস ও জেন্থফিল বয়সের সাথে সম্পর্কিত চক্ষু রোগ প্রতিরোধে কাজ করে। আবার এর ভিটামিন এ চোখের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে।

হজম শক্তি বৃদ্ধি করে:

নিয়মিত এপ্রিকট আপনাকে এহেন সমস্যা থেকে পরিত্রাণ দিবে। এর উচ্চ ফাইবার আপনার হজমে সহায়তা করবে। সেই সাথে কোষ্ঠকাঠিন্য ও পেটের ফাঁপা ভাব দূর করবে।

আরো পড়ুন: কদবেলের উপকারিতা

হৃৎপিণ্ডের সুস্থতা:

অ্যাপ্রিকট শরীরের ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল কমায় ও হৃৎপিণ্ডকে সুরক্ষিত রাখে। একই সাথে, এটা শরীরে উপকারি কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ায়।

হাড়ের গঠনে সাহায্য করে:

এপ্রিকট ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ। হাড়ে ক্যালসিয়াম সঠিক শোষণে  সহায়তা করে পটাসিয়াম। এপ্রিকটে পাওয়া যাবে এই পুষ্টি উপাদানটিও। এটি আপনার হাড়ের কাঠামো শক্তিশালী করবে এবং হাড় ক্ষয় রোধ করবে।

গর্ভকালীন পুষ্টিচাহিদা পূরণে:

গর্ভকালীন সময়ে মা ও শিশুর সুস্থ্যতার জন্য বাড়ে যায় পুষ্টিচাহিদা। তাই এ সময়ে প্রয়োজন পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহন।এপ্রিকট একটি উচ্চ পুষ্টিসম্পন্ন ফল।

ত্বকের পরিচর্যায়:

এপ্রিকটে আছে ভিটামিন ই ও সি,যা সুস্থ ত্বকের জন্য প্রয়োজনীয়।

আরো পড়ুন: গুড়ের উপকারিতা

Photo by Maša Žekš on Unsplash